📘 ঈমান-কুফর ও তাকফীর > 📄 বাহিরের থেকে হক চেনার মূল্যায়ন

📄 বাহিরের থেকে হক চেনার মূল্যায়ন


কাদিয়ানিদেরকে শুধু 'কাফের ঘোষণা দেওয়া'র আন্দোলনকারী ওলামা-মাশায়েখের দাবি প্রসঙ্গে হজরত আলি রাজিয়াল্লাহু আনহুর [মৃ. ৪০ হি.] নিম্নের উক্তিটি নতুন করে স্মরণ হলো। তিনি বলেন,
إِنَّ الحَقَّ لَا يُعْرَفُ بِالرِّجَالِ، اِعْرِفِ الحَقَّ تَعْرِفُ أَهْلَهُ.
ব্যক্তিদের দ্বারা হক চেনা যায় না। হক চেনো, তাহলে হকওয়ালাদেরকে চিনবে। (১)
হক চেনার পদ্ধতি হলো সালাফের ব্যাখ্যার আলোকে কিতাব ও সুন্নাহ অধ্যয়ন করা। সালাফের মধ্যে বিশেষভাবে রয়েছেন উম্মাহর মুজতাহিদ ফকিহ ইমামগণ। অতএব আমাদের ছোট-বড় সবাইকে দীন গ্রহণ করতে হবে মুজতাহিদ ফকিহ ইমামগণের ব্যাখ্যার আলোকে কোরআন-হাদিস অধ্যয়ন করে। খাঁটি বুযুর্গদের সোহবত গ্রহণ করব দীনের উপর চলার চেতনা ধারণ করার জন্য; কিন্তু আমল করার জন্য মাসআলা কিতাব থেকে গ্রহণ না করলে, বড় ধরনের ভুলে নিপতিত হওয়ার সমূহ আশঙ্কা আছে। (২)

টিকাঃ
১. উক্তিটি আল্লামা কুরতুবি রাহিমাহুল্লাহ [মৃ. ৬৭১ হি.] উল্লেখ করেছেন সুরা বাকারার ৪২ নং আয়াতের তাফসিরে। এবং আল্লামা যামাখশারি [৪৬৭-৫৩৮ হি.] ও আবু হাইয়ান আন্দালুসি [৬৫৪-৭৪৫ হি.] রাহিমাহুমাল্লাহ উল্লেখ করেছেন সুরা কাফ-এর ১৫ নং আয়াতের তাফসিরে।
২. نَظَارَةُ مُعَلَّمٍ وَنَظَرَاتُهُ নামে প্রকাশিত এ লেখকের আরবি রোজনামচাসমগ্রের ১৯ মহররম ১৪৪০ হি. [৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ঈ.] রোববারের রোজনামচার অংশবিশেষ নিম্নরূপ-

📘 ঈমান-কুফর ও তাকফীর > 📄 অনুবাদকের রোজনামচার একটি অনুচ্ছেদ

📄 অনুবাদকের রোজনামচার একটি অনুচ্ছেদ


ولا بأس أن أسجل أنني - والحمد لله - أعلنتُ في المعهد في عدة مناسبات أن هناك واجبات دينية كثيرة لا أقوم بها ، ولاسيما فيما يتعلق بذِرْوَةِ ( ذُرْوَةِ) سَنَام الإسلام : الجهاد والقتال في سبيل الله، وذلك ضَعْفٌ مني، فلا يعتقدني وأمثالي أحد نموذجا للعالم الديني. وقد بَيَّنتُ مَوْقِفي هذا لما علمت أن عددا لا يستهان به من التلاميذ والمعلمين أعربوا عن تَطَلُّعَاتِهم أن يكونوا مثلي.
নথিভুক্ত করতে কোনো সমস্যা নেই, আলহামদুলিল্লাহ আমি মাহাদে বেশ কিছু উপলক্ষ্যে ঘোষণা দিয়েছি, অনেক দীনি করণীয় আছে যা আমার করা হয় না, বিশেষকরে ইসলামের উচ্চতর কুঁজ তথা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ ও কিতালসংশ্লিষ্ট। তা আমার দুর্বলতা। তাই কেউ যেন আমাকে ও আমার মতো লোকদেরকে দীনি আলেমের নমুনা মনে না করে। আমি আমার এ অবস্থান স্পষ্ট করেছি যখন জানতে পেরেছি, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী আমার মতো হওয়ার জন্য আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছে। [দুআ করি, আল্লাহ আমাকেসহ প্রত্যেক ঈমানদারকে পরিপূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশ করার তাওফিক দিন! ২২৫ ও ২৩৭ নং পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।]

📘 ঈমান-কুফর ও তাকফীর > 📄 মুমিনদেরকে পরিপূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশের আহ্বান

📄 মুমিনদেরকে পরিপূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশের আহ্বান


প্রসঙ্গতঃ একটি কথা হলো, আমরা ও আমাদের সরকার মুসলমান হলে, যিন্দিকদেরকে 'মুরতাদ ঘোষণা করা'র জন্য আন্দোলন তো দূরের কথা, আবেদনও করতে হবে কেন? শুধু কাদিয়ানিদেরকে নয়, বরং সকল যিন্দিককে মুরতাদ ঘোষণা করে তাদের জন্য নির্ধারিত শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা, মুসলিম সরকারের নিজেরই দায়িত্ব। আল্লাহ তাআলা ঈমানদার হওয়ার দাবিদার সকলকে ইসলামে পরিপূর্ণরূপে প্রবেশ করার তাওফিক দিন এবং আমেরিকান র‍্যান্ড কর্পোরেশনের বিভাজন অনুযায়ী 'ট্র্যাডিশনালিস্ট মুসলিম' হওয়া থেকে রক্ষা করুন! আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-
يَأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ .
হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইসলামে প্রবেশ করো পরিপূর্ণরূপে এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন। [সুরা বাকারা: ২০৮]
উল্লেখ্য, র‍্যান্ড কর্পোরেশনের পরিভাষায় পরিপূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশকারীর নাম হলো ফান্ডামেন্টালিস্ট মুসলিম বা মৌলবাদী মুসলিম। (১)

টিকাঃ
১. র‍্যান্ড কর্পোরেশন সকল মুসলমানকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করেছে : ১. ফান্ডামেন্টালিস্ট বা মৌলবাদী। ২. ট্র্যাডিশনালিস্ট বা ঐতিহ্যবাদী। ৩. মডারেট বা মধ্যপন্থী। ৪. সেকুলারিস্ট বা ধর্মনিরপেক্ষ। 'পরিশিষ্ট' পর্বে 'র‍্যান্ড কর্পোরেশনের একটি মূল্যায়ন' শিরোনামের সংলাপটি দ্রষ্টব্য।

📘 ঈমান-কুফর ও তাকফীর > 📄 যিনদিকদেরকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া বিষয়ক কর্মশালার মূল্যায়ন

📄 যিনদিকদেরকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া বিষয়ক কর্মশালার মূল্যায়ন


যাই হোক, এ পুস্তিকা পাঠ করলে আমরা জানতে পারব, হত্যা প্রত্যেক মুরতাদের শাস্তি। মুরতাদ হওয়ার পর যারা দারুল ইসলামের ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে, এ শাস্তি তাদেরও; যারা কোনো প্রকার বিদ্রোহের ইচ্ছাও করে না, এ শাস্তি তাদেরও। [১৪৮ নং পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।] শাসক-শাসিত যারাই মুসলমান হওয়ার দাবিদার, সকলের উপর আবশ্যক হলো, ইসলামে পরিপূর্ণরূপে প্রবেশ করা।
এক মাদরাসায় কাদিয়ানিদেরকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার পদ্ধতি বিষয়ক একটি কর্মশালা হয়েছিল। তখন একজন আলেম বললেন, কাদিয়ানিদেরকে যদি মুরতাদ মনে করেন, তাহলে আমার মন্তব্য হলো, 'তাদের ব্যাপারে কিতাবে যা আছে তা আমরা করছি না, এবং যা করছি তা কিতাবে নেই।' তাঁর এ মূল্যায়ন শ্রবণ করে সেখানকার প্রধান শায়েখ তাঁকে কঠিনভাবে শাসিয়েছেন। তার ব্যবহৃত একটি বাক্য ছিল, 'আপনি বুঝতে চান না, বরং বুঝাতে চান।' এ পরিস্থিতিতে এ পুস্তিকাটি অনুবাদ করা আশা করি আমার সার্থক হয়েছে। শোকর, আলহামদুলিল্লাহ। প্রসঙ্গত এ বইয়ের ২৮০ নং পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00