📄 ‘ইসলামে মুরতাদের শাস্তি’
'ইসলামে মুরতাদের শাস্তি' এ পুস্তিকাও বর্তমান প্রেক্ষাপটে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ কাদিয়ানিদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে গুরুত্বের কারণ ব্যাখ্যা করা যায়। কাদিয়ানিদেরকে কাফের 'ঘোষণা দেওয়া'র আন্দোলনকারী মাশায়েখ ও আকাবিরগণ দ্ব্যর্থহীনভাষায় বলেন, আমরা শুধু 'তারা কাফের, মুসলমান নয়,' সরকারের এ ঘোষণাটিই দাবি করছি। তারপর অন্যান্য অমুসলিমরা যেভাবে নিজেদের অমুসলিম পরিচয়ে দেশে বসবাস করছে, তারাও সেভাবে বসবাস করবে। তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।
পুস্তিকাটি পাঠ করলে জানা যাবে, এ দাবি কুফরি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সৎকাজ করা ও অসৎকাজ থেকে বিরত থাকার অনুরোধকারীদের বক্তব্য হলেও, কোরআন-হাদিস, খোলাফায়ে রাশেদিন, পরবর্তী খলিফা ও ফিকহের ইমামগণের অনুসারীদের বক্তব্য নয়। কারণ, মুফতি সাহেব রাহিমাহুল্লাহ চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন, কোরআন-হাদিসের দ্ব্যর্থহীন সিদ্ধান্ত এবং খায়রুল কুরুনের ধারাবাহিক আমল ও সকল মাজহাবের সর্বসম্মত রায় হলো, মুরতাদের শাস্তি নির্ধারিত; আর তা মৃত্যুদণ্ড, অন্য কিছু নয়।
এ বইয়ের ১৩৫ নং পৃষ্ঠায় আসবে, মুরতাদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড না হওয়ার দাবি বস্তুত মির্জায়িদের। হজরত মুফতি সাহেব লিখেছেন, 'যখন আফগান সরকার [আল্লাহ তার মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি করুন] শরিয়তের অকাট্য সিদ্ধান্ত অনুসারে নেয়ামতুল্লাহ খান মির্জায়িকে হত্যা করে দিয়েছে, তখন মির্জায়ি ফেরকার উভয় দল তথা কাদিয়ানি ও লাহোরি, বিশেষকরে তাদের মুখপত্র “পয়গামে সুল্লহ” [শান্তির বার্তা] হুকুমটিকে মূল থেকেই অস্বীকার করার জন্য উদ্যত হয়েছে।'
কাদিয়ানিদেরকে শুধু 'কাফের ঘোষণা দেওয়া'র আন্দোলনকারী ওলামা-মাশায়েখের দাবি প্রসঙ্গে হজরত আলি রাজিয়াল্লাহু আনহুর [মৃ. ৪০ হি.] নিম্নের উক্তিটি নতুন করে স্মরণ হলো। তিনি বলেন,
إِنَّ الحَقَّ لَا يُعْرَفُ بِالرِّجَالِ، اِعْرِفِ الحَقَّ تَعْرِفُ أَهْلَهُ.
ব্যক্তিদের দ্বারা হক চেনা যায় না। হক চেনো, তাহলে হকওয়ালাদেরকে চিনবে।
হক চেনার পদ্ধতি হলো সালাফের ব্যাখ্যার আলোকে কিতাব ও সুন্নাহ অধ্যয়ন করা। সালাফের মধ্যে বিশেষভাবে রয়েছেন উম্মাহর মুজতাহিদ ফকিহ ইমামগণ। অতএব আমাদের ছোট-বড় সবাইকে দীন গ্রহণ করতে হবে মুজতাহিদ ফকিহ ইমামগণের ব্যাখ্যার আলোকে কোরআন-হাদিস অধ্যয়ন করে। খাঁটি বুযুর্গদের সোহবত গ্রহণ করব দীনের উপর চলার চেতনা ধারণ করার জন্য; কিন্তু আমল করার জন্য মাসআলা কিতাব থেকে গ্রহণ না করলে, বড় ধরনের ভুলে নিপতিত হওয়ার সমূহ আশঙ্কা আছে।
টিকাঃ
১. হাকিমুল উম্মাত হজরত মাওলানা আশরাফ আলি থানবি রাহিমাহুল্লাহ [১২৮০-১৩৬২ হি.] বলেছেন- غرض اسلام میں جمہوری سلطنت کوئی چیز نہیں (اشرف )جواب ۳ : ۳۱۹ مکتبہ عمر فاروق کراچیটা (মোট কথা, ইসলামে গণতান্ত্রিক সাম্রাজ্য বলতে কিছু নেই।)
শাইখুল ইসলাম হজরত মাওলানা হোসাইন আহমদ মাদানি রাহিমাহুল্লাহ وہاں (پاکستان) کی حکومت ایک یورپین طرز کی جمہوری - 1 . ۰۹۹-۵۹۵۶ حکومت ہے ، جس میں حسب آبادی مسلم اور غیر مسلم سب حصہ دار ہیں ، اسکو اسلامی حکوت کہنا غلط ہے ۔ (مکتوبات شیخ الاسلام ٢ : ٢٤٢) [পাকিস্তান] সরকার ইউরোপিয়ান পদ্ধতির গণতান্ত্রিক সরকার। জনসংখ্যা হিসেবে মুসলমান ও অমুসলমান সবাই তাতে অংশীদার। তাকে ইসলামি সরকার বলা ভুল।)
২৮৪ নং পৃষ্ঠায় 'পাকিস্তান দারুল ইসলাম, না দারুল হরব' শিরোনামে একটি লেখা আছে।
১. উক্তিটি আল্লামা কুরতুবি রাহিমাহুল্লাহ [মৃ. ৬৭১ হি.] উল্লেখ করেছেন সুরা বাকারার ৪২ নং আয়াতের তাফসিরে। এবং আল্লামা যামাখশারি [৪৬৭-৫৩৮ হি.] ও আবু হাইয়ান আন্দালুসি [৬৫৪-৭৪৫ হি.] রাহিমাহুমাল্লাহ উল্লেখ করেছেন সুরা কাফ-এর ১৫ নং আয়াতের তাফসিরে।
২. نَظَارَةُ مُعَلَّمٍ وَنَظَرَاتُهُ নামে প্রকাশিত এ লেখকের আরবি রোজনামচাসমগ্রের ১৯ মহররম ১৪৪০ হি. [৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ঈ.] রোববারের রোজনামচার অংশবিশেষ নিম্নরূপ-
📄 বাহিরের থেকে হক চেনার মূল্যায়ন
কাদিয়ানিদেরকে শুধু 'কাফের ঘোষণা দেওয়া'র আন্দোলনকারী ওলামা-মাশায়েখের দাবি প্রসঙ্গে হজরত আলি রাজিয়াল্লাহু আনহুর [মৃ. ৪০ হি.] নিম্নের উক্তিটি নতুন করে স্মরণ হলো। তিনি বলেন,
إِنَّ الحَقَّ لَا يُعْرَفُ بِالرِّجَالِ، اِعْرِفِ الحَقَّ تَعْرِفُ أَهْلَهُ.
ব্যক্তিদের দ্বারা হক চেনা যায় না। হক চেনো, তাহলে হকওয়ালাদেরকে চিনবে। (১)
হক চেনার পদ্ধতি হলো সালাফের ব্যাখ্যার আলোকে কিতাব ও সুন্নাহ অধ্যয়ন করা। সালাফের মধ্যে বিশেষভাবে রয়েছেন উম্মাহর মুজতাহিদ ফকিহ ইমামগণ। অতএব আমাদের ছোট-বড় সবাইকে দীন গ্রহণ করতে হবে মুজতাহিদ ফকিহ ইমামগণের ব্যাখ্যার আলোকে কোরআন-হাদিস অধ্যয়ন করে। খাঁটি বুযুর্গদের সোহবত গ্রহণ করব দীনের উপর চলার চেতনা ধারণ করার জন্য; কিন্তু আমল করার জন্য মাসআলা কিতাব থেকে গ্রহণ না করলে, বড় ধরনের ভুলে নিপতিত হওয়ার সমূহ আশঙ্কা আছে। (২)
টিকাঃ
১. উক্তিটি আল্লামা কুরতুবি রাহিমাহুল্লাহ [মৃ. ৬৭১ হি.] উল্লেখ করেছেন সুরা বাকারার ৪২ নং আয়াতের তাফসিরে। এবং আল্লামা যামাখশারি [৪৬৭-৫৩৮ হি.] ও আবু হাইয়ান আন্দালুসি [৬৫৪-৭৪৫ হি.] রাহিমাহুমাল্লাহ উল্লেখ করেছেন সুরা কাফ-এর ১৫ নং আয়াতের তাফসিরে।
২. نَظَارَةُ مُعَلَّمٍ وَنَظَرَاتُهُ নামে প্রকাশিত এ লেখকের আরবি রোজনামচাসমগ্রের ১৯ মহররম ১৪৪০ হি. [৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ঈ.] রোববারের রোজনামচার অংশবিশেষ নিম্নরূপ-
📄 অনুবাদকের রোজনামচার একটি অনুচ্ছেদ
ولا بأس أن أسجل أنني - والحمد لله - أعلنتُ في المعهد في عدة مناسبات أن هناك واجبات دينية كثيرة لا أقوم بها ، ولاسيما فيما يتعلق بذِرْوَةِ ( ذُرْوَةِ) سَنَام الإسلام : الجهاد والقتال في سبيل الله، وذلك ضَعْفٌ مني، فلا يعتقدني وأمثالي أحد نموذجا للعالم الديني. وقد بَيَّنتُ مَوْقِفي هذا لما علمت أن عددا لا يستهان به من التلاميذ والمعلمين أعربوا عن تَطَلُّعَاتِهم أن يكونوا مثلي.
নথিভুক্ত করতে কোনো সমস্যা নেই, আলহামদুলিল্লাহ আমি মাহাদে বেশ কিছু উপলক্ষ্যে ঘোষণা দিয়েছি, অনেক দীনি করণীয় আছে যা আমার করা হয় না, বিশেষকরে ইসলামের উচ্চতর কুঁজ তথা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ ও কিতালসংশ্লিষ্ট। তা আমার দুর্বলতা। তাই কেউ যেন আমাকে ও আমার মতো লোকদেরকে দীনি আলেমের নমুনা মনে না করে। আমি আমার এ অবস্থান স্পষ্ট করেছি যখন জানতে পেরেছি, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী আমার মতো হওয়ার জন্য আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছে। [দুআ করি, আল্লাহ আমাকেসহ প্রত্যেক ঈমানদারকে পরিপূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশ করার তাওফিক দিন! ২২৫ ও ২৩৭ নং পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।]
📄 মুমিনদেরকে পরিপূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশের আহ্বান
প্রসঙ্গতঃ একটি কথা হলো, আমরা ও আমাদের সরকার মুসলমান হলে, যিন্দিকদেরকে 'মুরতাদ ঘোষণা করা'র জন্য আন্দোলন তো দূরের কথা, আবেদনও করতে হবে কেন? শুধু কাদিয়ানিদেরকে নয়, বরং সকল যিন্দিককে মুরতাদ ঘোষণা করে তাদের জন্য নির্ধারিত শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা, মুসলিম সরকারের নিজেরই দায়িত্ব। আল্লাহ তাআলা ঈমানদার হওয়ার দাবিদার সকলকে ইসলামে পরিপূর্ণরূপে প্রবেশ করার তাওফিক দিন এবং আমেরিকান র্যান্ড কর্পোরেশনের বিভাজন অনুযায়ী 'ট্র্যাডিশনালিস্ট মুসলিম' হওয়া থেকে রক্ষা করুন! আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-
يَأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ .
হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইসলামে প্রবেশ করো পরিপূর্ণরূপে এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন। [সুরা বাকারা: ২০৮]
উল্লেখ্য, র্যান্ড কর্পোরেশনের পরিভাষায় পরিপূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশকারীর নাম হলো ফান্ডামেন্টালিস্ট মুসলিম বা মৌলবাদী মুসলিম। (১)
টিকাঃ
১. র্যান্ড কর্পোরেশন সকল মুসলমানকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করেছে : ১. ফান্ডামেন্টালিস্ট বা মৌলবাদী। ২. ট্র্যাডিশনালিস্ট বা ঐতিহ্যবাদী। ৩. মডারেট বা মধ্যপন্থী। ৪. সেকুলারিস্ট বা ধর্মনিরপেক্ষ। 'পরিশিষ্ট' পর্বে 'র্যান্ড কর্পোরেশনের একটি মূল্যায়ন' শিরোনামের সংলাপটি দ্রষ্টব্য।