📄 ‘ঈমানভঙ্গের কারণ’ বিষয়ক দুটো বই
'ঈমানভঙ্গের কারণ' বিষয়ে বর্তমানে প্রথমে পড়ানো হয় 'কালিমায়ে তাইয়েবা : বিশ্লেষণ ও ঈমান ভঙ্গের কারণ' নামক বইটি, যা মূলত শায়খ মুহাম্মদ বিন সাঈদ কাহতানি রাহিমাহুল্লাহ [১৩৭৬-১৪৪০ হি.] রচিত ‘আল ওয়ালা ওয়াল বারা ফিল ইসলাম’ কিতাবের ভূমিকা, এবং দারুল উলুম দেওবন্দের মজলিসে শুরার আমরণ সদস্য হজরত মাওলানা মুহাম্মদ মনজুর নোমানি রাহিমাহুল্লাহ [১৩২৩-১৪১৭ হি.] রচিত ‘কালিমা তাইয়েবা কি হাকিকত’ রিসালার সরল অনুবাদ।(১)
এ বিষয়ে দ্বিতীয় পর্বে পড়ানো হয় দারুল উলুম দেওবন্দের সাবেক প্রধান মুফতি হজরত মাওলানা মুহাম্মদ শফি দেওবন্দি রাহিমাহুল্লাহ [১৩১৪-১৩৯৬ হি.] রচিত 'ঈমান-কুফরের পরিচয় ও তাকফিরের মূলনীতি' এবং 'ইসলামে মুরতাদের শাস্তি' শীর্ষক বক্ষ্যমাণ পুস্তিকাদুটি, যা মূলত তাঁর ‘মুরতাদ কি সাজা ইসলাম মে আওর ঈমান ও কুফর কুরআন কি রওশনি মে’ অনুবাদ। প্রথম রিসালাটি তাঁর 'জাওয়াহিরুল ফিকহ' রাসায়েল সমগ্রের প্রথম ভলিয়মে, এবং দ্বিতীয়টি পঞ্চম ভলিয়মে রয়েছে।
টিকাঃ
১. ২৬৭ নং পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।
📄 ‘ঈমান-কুফরের পরিচয় ও তাকফিরের মূলনীতি’
মুফতি সাহেব রাহিমাহুল্লাহ লিখেছেন [পৃ. ৫০-৫১]- কুফর হলো, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করার নাম। আর রাসুলকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করার বিভিন্ন প্রকার রয়েছে। ফলে কুফরও কয়েক প্রকারে বিভক্ত। রাসুলকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করার প্রকারগুলো নিম্নরূপ-
১. তাঁকে আল্লাহ তাআলার রাসুলই স্বীকার না করা। যেমন মূর্তিপূজারী ও ইহুদি-খ্রিস্টানদের অবস্থা।
২. রাসুল স্বীকার করা সত্ত্বেও তাঁর কিছু উক্তিকে স্পষ্ট ভাষায় ভুল বা মিথ্যা আখ্যা দেওয়া। অর্থাৎ তাঁর কিছু নির্দেশনা বিশ্বাস করা এবং কিছু নির্দেশনা অবিশ্বাস করা।
৩. অকাট্যভাবে প্রমাণিত তাঁর কোনো উক্তি বা কর্মকে এই বলে প্রত্যাখ্যান করা যে, তা তাঁর কর্ম বা উক্তি নয়। এটিও তাঁকে মিথ্যাবাদী আখ্যা দেওয়ার নামান্তর।
৪. তাঁর উক্তি বা কর্মকে স্বীকার করা। কিন্তু সেগুলোর এমন ব্যাখ্যা করা, যা কোরআন-হাদিসের অকাট্য বর্ণনার বিপরীত। এ ধরনের ব্যাখ্যাসাপেক্ষে স্বীকার করা, অস্বীকার করারই নামান্তর।
কুফর ও মিথ্যা সাব্যস্ত করার শেষোক্ত রূপটি ইসলামের দাবিদার এবং নামাজ-রোজা প্রভৃতি আমল সম্পাদনকারীদের থেকে প্রকাশ পাওয়ার কারণে, অধিকাংশ মুসলমান ভুলবশত তাদেরকে মুসলমান মনে করে। বিশেষত আলেমগণের এ সর্বসম্মত মূলনীতির কারণে যে, ব্যাখ্যাসাপেক্ষে অস্বীকার করা, অস্বীকার নয় এবং এমন ব্যক্তি কাফের নয়।
বলাবাহুল্য, যিন্দিক ও মুলহিদ লোকেরা কোরআন-হাদিস প্রত্যাখ্যান কোনো না কোনো ব্যাখ্যার আড়ালেই করে থাকে। তাই জরুরি ছিল প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে এ বিষয়টি স্পষ্ট করা যে, ইলহাদ ও ব্যাখ্যার মধ্যে পার্থক্য আছে। ব্যাখ্যাযোগ্য ক্ষেত্রে ব্যাখ্যা করা দ্বারা কেউ কাফের হয় না। কিন্তু যান্দাকা ও ইলহাদজনিত ব্যাখ্যা দ্বারা উম্মাহর সর্বসম্মত মতানুসারে ব্যক্তি কাফের হয়ে যায়।
তিনি আরও লিখেছেন [পৃ. ৮০]- সাহাবা, তাবেঈন ও ইমামগণের সুস্পষ্ট বক্তব্যগুলো দ্বারা পরিষ্কার হয়ে গেল যে, কোরআন-হাদিসের অপব্যাখ্যাকারীকে কাফের সাব্যস্ত না করার নীতিটি ব্যাপক নয়। বস্তুত 'জরুরিয়াতে দীনে'র যে ব্যাখ্যা করা হয়, তা ব্যাখ্যা নয়; বরং বিকৃতি ও ইলহাদ। তা উম্মাহর ঐকমত্যে কুফর। আল্লাহ ও রাসুলের উক্তিসমূহের অপব্যাখ্যা করলে ব্যক্তি যদি কখনোই কাফের না হয়,(২) তাহলে শয়তানও কাফের থাকে না। কারণ, সে-ও তার কর্মের ব্যাখ্যা পেশ করেছে। [মুফতি সাহেব রাহিমাহুল্লাহর উদ্ধৃতি সমাপ্ত হয়েছে।]
'ঈমান-কুফরের পরিচয় ও তাকফিরের মূলনীতি' এ পুস্তিকায় মূলত উল্লিখিত ৪র্থ প্রকার কুফরির আলোচনাই সবিস্তারে করা হয়েছে। পুস্তিকার সারনির্যাস তার সর্বশেষ শিরোনাম তথা 'কিছু সন্দেহের উত্তরসহ পুস্তিকার সারনির্যাস'-এর অধীনে এসেছে। পাঠক তা শেষে তো পাঠ করবেনই, আমার পরামর্শ হচ্ছে, শুরুতেই দু-একবার পড়ে নিন। তাহলে বইটি হৃদয়ঙ্গম করা সহজ হবে। তখন অনুমিত হবে- অনেকের নামাজ, রোজা, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, তাবলিগ, পাগড়ি প্রভৃতির আড়ালে জঘন্যতম কুফর তথা ইলহাদ ও যান্দাকা লুকিয়ে থাকা অস্বাভাবিক নয়।
টিকাঃ
১. ৪৮ নং পৃষ্ঠায় 'জরুরিয়াতে দীনে'র ব্যাখ্যা আসছে।
২. এ স্থানের উর্দু বাক্যের শাব্দিক অর্থ হলো, 'যদি কুফরি প্রতিহত করার জন্য ব্যাখ্যাকে সর্বাবস্থায় যথেষ্ট মনে করা হয়'।
৩. ২৬৭-২৭৪ নং পৃষ্ঠায় আমাদের প্রচলিত তাবলিগ জামাত সম্পর্কে একটি মূল্যায়ন এবং 'ইসলামি দাওয়াতের নববি পদ্ধতি'র বিবরণ এসেছে। যে তাবলিগ ও দাওয়াত নববি পদ্ধতিতে হবে না, তাতে যত ইখলাস ও লিল্লাহিয়াতই থাকুক, তাকে নবিওয়ালা মেহনত বলার সুযোগ নেই। কারণ, শুধু লিল্লাহিয়াত ও ইখলাস দ্বারা কোনো জিনিস দীন হয় না। সুরা যুমার-এর ৩য় আয়াত দ্রষ্টব্য। শরিয়তের নির্ধারিত পদ্ধতিতে কাজ করা আপাতত সম্ভব না হলে করণীয় হলো, তার জন্য চেষ্টা করা। কোনো বিকল্প পদ্ধতি অবলম্বন করা গ্রহণযোগ্য নয়।
📄 ‘পত্রিকার সারনির্যাসে’র সারাংশ
স্মরণ রাখতে হবে, শুধু ইলম, আমল ও আখলাক সহিহ করা দ্বারা কেউ মুসলমান হয়ে যায় না। মুসলমান হওয়ার প্রথম ভিত্তি হলো ঈমান-আকিদা সহিহ করা। কোরআন-হাদিসের তালিম ও তাবলিগ করার শিরোনামে যারা বিকৃতি, অপব্যাখ্যা ও নকলবাজি করে, দীনের লেবাস ধারণকারী সেসকল মুলহিদ ও যিন্দিকদের থেকে ঈমান- আকিদা হেফাজত করার জন্য, আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মিরি রাহিমাহুল্লাহর গবেষণার আলোকে মুফতি মুহাম্মদ শফি রাহিমাহুল্লাহ রচিত এ পুস্তিকার আন্তরিক পাঠ, অনেক সহায়ক হবে ইনশাআল্লাহ। 'পুস্তিকার সারনির্যাস' শিরোনামের লেখাটি থেকে উদ্ধৃত নিম্নের অংশটি লক্ষ্য করুন-
'বর্তমানে দীনের মূলনীতিসমূহ সম্বন্ধে অনবহিত অসংখ্য মানুষ মুলহিদদের বাহ্যিক নামাজ, রোজা প্রভৃতি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তাদেরকে কাফের আখ্যাদানকারী আলেমসমাজের উপর এ অপবাদ আরোপ করে যে, তারা মুসলমানদেরকে কাফের বানায়। কিন্তু উল্লিখিত বিবরণ দ্বারা পরিষ্কার হয়ে গেছে, আলেমগণ কাউকে কাফের বানান না। তবে যে ব্যক্তি আপন কুফরি আকিদা, আচরণ ও উচ্চারণের কারণে নিজেই কাফের হয়ে যায়, তাঁরা তার কাফের হওয়ার সংবাদ প্রদান করেন মাত্র।
মোটকথা, রাসুলকে প্রত্যাখ্যান করার আলোচ্য প্রকার -যার পারিভাষিক নাম যান্দাকা ও ইলহাদ- নিকৃষ্টতর কুফরি। ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য এ কুফরি অন্য সকল কুফরির তুলনায় অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। ইবলিসের মতো কাফের এ প্রকারের প্রত্যাখ্যান করার কারণেই কাফের সাব্যস্ত হয়েছে।
কিন্তু এই প্রত্যাখ্যান যেহেতু প্রত্যাখ্যানের রঙে প্রকাশ পায়নি, তাই মুসলমানরাও তা দ্বারা অনেক প্রতারিত হয়। বিশেষত যখন এমন ব্যক্তি ইসলামের বিশেষ প্রতীকসমূহ তথা নামাজ, রোজা, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, পাগড়ি প্রভৃতিতে অভ্যস্ত হয়।
তাই কোরআন-হাদিস ও উম্মাহর আকাবিরগণের সুস্পষ্ট উক্তিমালার আলোকে বিষয়টির মূল বাস্তবতা স্পষ্ট করা প্রয়োজন ছিল। শোকর আল্লাহর, এ পুস্তিকায় পরিপূর্ণরূপে তার ব্যাখ্যা এসেছে। পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, ইসলামের অকাট্য ও নিশ্চিত বিধানগুলো ব্যাখ্যা করে সেগুলোকে "মানসুস ও ইজমায়ি” মর্ম থেকে সরিয়ে ভিন্ন কোনো মর্ম উদ্দেশ্য নেওয়া, প্রকৃতপক্ষে রাসুলকে মিথ্যাবাদী আখ্যা দেওয়ার নামান্তর।' [উদ্ধৃত অংশ সমাপ্ত হয়েছে।]
'পুস্তিকার সারনির্যাস' শিরোনামের প্রথম অনুচ্ছেদে উল্লেখিত মুফতি সাহেব রাহিমাহুল্লাহর এ উক্তিটিও এখানে প্রণিধানযোগ্য-
'ইসলামের গণ্ডি থেকে বহির্ভূত তথা কাফের হয়ে যাওয়ার জন্য ব্যক্তির ইচ্ছা ও নিয়ত থাকা আবশ্যক নয়। বড় শয়তান ইবলিস কাফের হয়ে যাওয়ার ইচ্ছা করেনি। কিন্তু তার কর্ম তাকে কাফের বানিয়ে দিয়েছে।
কেননা ইবলিস শয়তান আল্লাহ তাআলাকে কখনো অস্বীকার করেনি; না সে আল্লাহর সত্তাকে অস্বীকার করেছে, না তাঁর কোনো গুণকে। বরং সে শুধু গায়রুল্লাহকে সিজদা করতে অস্বীকার করেছে। সে তো এ কথাও বলতে পারে, আমি সবচেয়ে বড় তাওহিদপন্থী। কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তার এ অবাধ্যাচরণকে অস্বীকারকরণের স্তরে রেখে একে সবচেয়ে বড় কুফর আখ্যা দিয়েছেন।...।'
টিকাঃ
১. মানসুস ও ইজমায়ি: কোরআন-হাদিসে বর্ণিত ও উম্মাহর সর্বসম্মত।
২. উল্লিখিত: ১. উপরে বা পূর্বে লিখিত। ২. পূর্বে উক্ত। উল্লেখিত: উক্ত।
৩. অর্থাৎ তার কর্মের কারণে সে কাফের হয়ে গেছে। এ বইয়ের ৯২ নং পৃষ্ঠার আলোচনা দ্বারা প্রতীয়মান হয়, ঈমানভঙ্গের কারণ পাওয়া গেলেই ব্যক্তি কাফের হয়ে যায়, যদিও সে কিবলামুখী হয়ে নামাজ পড়ে এবং নিজেকে মুসলমান মনে করে। কেননা উম্মাহ 'কিবলামুখী মুসল্লি'দের নাম নয়। উম্মাহ হলো ঈমানদারদের নাম। কোনো ব্যক্তির কাফের হওয়ার জন্য তার নিজের জানা জরুরি নয় যে, সে এখন কাফের, মুসলমান নয়।
📄 ‘ইসলামে মুরতাদের শাস্তি’
'ইসলামে মুরতাদের শাস্তি' এ পুস্তিকাও বর্তমান প্রেক্ষাপটে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ কাদিয়ানিদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে গুরুত্বের কারণ ব্যাখ্যা করা যায়। কাদিয়ানিদেরকে কাফের 'ঘোষণা দেওয়া'র আন্দোলনকারী মাশায়েখ ও আকাবিরগণ দ্ব্যর্থহীনভাষায় বলেন, আমরা শুধু 'তারা কাফের, মুসলমান নয়,' সরকারের এ ঘোষণাটিই দাবি করছি। তারপর অন্যান্য অমুসলিমরা যেভাবে নিজেদের অমুসলিম পরিচয়ে দেশে বসবাস করছে, তারাও সেভাবে বসবাস করবে। তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।
পুস্তিকাটি পাঠ করলে জানা যাবে, এ দাবি কুফরি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সৎকাজ করা ও অসৎকাজ থেকে বিরত থাকার অনুরোধকারীদের বক্তব্য হলেও, কোরআন-হাদিস, খোলাফায়ে রাশেদিন, পরবর্তী খলিফা ও ফিকহের ইমামগণের অনুসারীদের বক্তব্য নয়। কারণ, মুফতি সাহেব রাহিমাহুল্লাহ চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন, কোরআন-হাদিসের দ্ব্যর্থহীন সিদ্ধান্ত এবং খায়রুল কুরুনের ধারাবাহিক আমল ও সকল মাজহাবের সর্বসম্মত রায় হলো, মুরতাদের শাস্তি নির্ধারিত; আর তা মৃত্যুদণ্ড, অন্য কিছু নয়।
এ বইয়ের ১৩৫ নং পৃষ্ঠায় আসবে, মুরতাদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড না হওয়ার দাবি বস্তুত মির্জায়িদের। হজরত মুফতি সাহেব লিখেছেন, 'যখন আফগান সরকার [আল্লাহ তার মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি করুন] শরিয়তের অকাট্য সিদ্ধান্ত অনুসারে নেয়ামতুল্লাহ খান মির্জায়িকে হত্যা করে দিয়েছে, তখন মির্জায়ি ফেরকার উভয় দল তথা কাদিয়ানি ও লাহোরি, বিশেষকরে তাদের মুখপত্র “পয়গামে সুল্লহ” [শান্তির বার্তা] হুকুমটিকে মূল থেকেই অস্বীকার করার জন্য উদ্যত হয়েছে।'
কাদিয়ানিদেরকে শুধু 'কাফের ঘোষণা দেওয়া'র আন্দোলনকারী ওলামা-মাশায়েখের দাবি প্রসঙ্গে হজরত আলি রাজিয়াল্লাহু আনহুর [মৃ. ৪০ হি.] নিম্নের উক্তিটি নতুন করে স্মরণ হলো। তিনি বলেন,
إِنَّ الحَقَّ لَا يُعْرَفُ بِالرِّجَالِ، اِعْرِفِ الحَقَّ تَعْرِفُ أَهْلَهُ.
ব্যক্তিদের দ্বারা হক চেনা যায় না। হক চেনো, তাহলে হকওয়ালাদেরকে চিনবে।
হক চেনার পদ্ধতি হলো সালাফের ব্যাখ্যার আলোকে কিতাব ও সুন্নাহ অধ্যয়ন করা। সালাফের মধ্যে বিশেষভাবে রয়েছেন উম্মাহর মুজতাহিদ ফকিহ ইমামগণ। অতএব আমাদের ছোট-বড় সবাইকে দীন গ্রহণ করতে হবে মুজতাহিদ ফকিহ ইমামগণের ব্যাখ্যার আলোকে কোরআন-হাদিস অধ্যয়ন করে। খাঁটি বুযুর্গদের সোহবত গ্রহণ করব দীনের উপর চলার চেতনা ধারণ করার জন্য; কিন্তু আমল করার জন্য মাসআলা কিতাব থেকে গ্রহণ না করলে, বড় ধরনের ভুলে নিপতিত হওয়ার সমূহ আশঙ্কা আছে।
টিকাঃ
১. হাকিমুল উম্মাত হজরত মাওলানা আশরাফ আলি থানবি রাহিমাহুল্লাহ [১২৮০-১৩৬২ হি.] বলেছেন- غرض اسلام میں جمہوری سلطنت کوئی چیز نہیں (اشرف )جواب ۳ : ۳۱۹ مکتبہ عمر فاروق کراچیটা (মোট কথা, ইসলামে গণতান্ত্রিক সাম্রাজ্য বলতে কিছু নেই।)
শাইখুল ইসলাম হজরত মাওলানা হোসাইন আহমদ মাদানি রাহিমাহুল্লাহ وہاں (پاکستان) کی حکومت ایک یورپین طرز کی جمہوری - 1 . ۰۹۹-۵۹۵۶ حکومت ہے ، جس میں حسب آبادی مسلم اور غیر مسلم سب حصہ دار ہیں ، اسکو اسلامی حکوت کہنا غلط ہے ۔ (مکتوبات شیخ الاسلام ٢ : ٢٤٢) [পাকিস্তান] সরকার ইউরোপিয়ান পদ্ধতির গণতান্ত্রিক সরকার। জনসংখ্যা হিসেবে মুসলমান ও অমুসলমান সবাই তাতে অংশীদার। তাকে ইসলামি সরকার বলা ভুল।)
২৮৪ নং পৃষ্ঠায় 'পাকিস্তান দারুল ইসলাম, না দারুল হরব' শিরোনামে একটি লেখা আছে।
১. উক্তিটি আল্লামা কুরতুবি রাহিমাহুল্লাহ [মৃ. ৬৭১ হি.] উল্লেখ করেছেন সুরা বাকারার ৪২ নং আয়াতের তাফসিরে। এবং আল্লামা যামাখশারি [৪৬৭-৫৩৮ হি.] ও আবু হাইয়ান আন্দালুসি [৬৫৪-৭৪৫ হি.] রাহিমাহুমাল্লাহ উল্লেখ করেছেন সুরা কাফ-এর ১৫ নং আয়াতের তাফসিরে।
২. نَظَارَةُ مُعَلَّمٍ وَنَظَرَاتُهُ নামে প্রকাশিত এ লেখকের আরবি রোজনামচাসমগ্রের ১৯ মহররম ১৪৪০ হি. [৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ঈ.] রোববারের রোজনামচার অংশবিশেষ নিম্নরূপ-