📘 ঈমান-কুফর ও তাকফীর > 📄 ব্যাঙ কর্পোরেশনের একটি মূল্যায়ন

📄 ব্যাঙ কর্পোরেশনের একটি মূল্যায়ন


সাদ : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
যুবায়ের: ওয়া আলাইকুমুস সালামু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
সাদ : আমি জেনেছি, আমেরিকায় 'র‍্যান্ড কর্পোরেশন' নামে একটি প্রতিষ্ঠান আছে। এটি আসলে কী ধরনের প্রতিষ্ঠান? এ বিষয়ে আমাকে কিছু বলুন, ভাইয়া!
যুবায়ের : এটি একটি গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান বা থিংকট্যাঙ্ক। এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মার্কিন সশস্ত্রবাহিনীকে বিভিন্ন তথ্য, গবেষণা ও বিশ্লেষণ সরবরাহ করার জন্য। প্রতিষ্ঠানটি আমেরিকা ও অন্যান্য সরকার, যেমন ইসরাইলের সহযোগিতায় কাজ করে এবং তাদের সহায়তা করে।
সাদ : আমি শুনেছি, প্রতিষ্ঠানটি মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে। অনুগ্রহপূর্বক আমাকে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলুন।
যুবায়ের : র‍্যান্ড কর্পোরেশন অসংখ্য প্রাচ্যবিদদের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি মুসলমানদের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে আমেরিকা ও অন্যান্য কাফের রাষ্ট্রের রণকৌশল ও স্ট্র্যাটেজির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। সমকালীন সময়ে আমেরিকা ও ইসলামের অন্যান্য শত্রুরা এই প্রতিষ্ঠানের গবেষণার ফলাফল ও প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়ন করছে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে।
সাদ : আমি 'উইকিপিডিয়া' থেকে জেনেছি, প্রাচ্যবিদ বলা হয় সেই পশ্চিমা পণ্ডিতকে, যিনি প্রাচ্য-সংশ্লিষ্ট জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং প্রাচ্যের ভাষা ও সাহিত্যের বিষয়ে গভীর জ্ঞান রাখেন। তো প্রাচ্যবিদদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কী?
যুবায়ের: এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন সিরিয়ার বিশিষ্ট গবেষক আলেম ডক্টর মুস্তফা সিবাঈ রাহিমাহুল্লাহ [১৩৩৩-১৩৮৪ হি.] তাঁর فِي التَّشْرِيعِ الْإِسْلَامِيّ السُّنَّةُ وَمَكَانَتُهَا পুস্তিকায় প্রাচ্যবিদদের ইসলাম-গবেষণার নেপথ্যের যে লক্ষ্যগুলো তুলে ধরেছেন, তার অন্যতম হলো-
১. হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতের সত্যতা বিষয়ে সংশয় সৃষ্টি করা।
২. ইসলাম আল্লাহর পক্ষ হতে প্রেরিত দীন হওয়া বিষয়ে মানুষকে সন্দিহান করে তোলা।
৩. রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের বিশুদ্ধতা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করা।
৪. ইসলামি ফিকহের স্বতন্ত্র গুরুত্বের বিষয়ে অবিশ্বাসের বীজ বপন করা।
৫. বৈজ্ঞানিক উন্নয়নের সাথে আরবিভাষার তাল মিলিয়ে চলার সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা।
শায়খ মুস্তফা সিবাঈ রাহিমাহুল্লাহ তাঁর اَلْإِسْتِشْرَاقُ وَالْمُسْتَشْرِقُوْنَ পুস্তিকায় প্রাচ্যবিদদের সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেছেন। পুস্তিকাটি বাংলাদেশের একাধিক প্রকাশনী থেকেও মুদ্রিত হয়েছে।
সাদ : আল্লাহ তাআলা প্রাচ্যবিদ ও তাদের সহযোগীদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করুন এবং মুসলমানদের রক্ষা করুন। আমি অবশ্যই পুস্তিকাটি পাঠ করব এবং মুসলমানদের সামনে তাদের ষড়যন্ত্র ও দুষ্কৃতির মুখোশ উন্মোচন করব ইনশাআল্লাহ।
এখন আমরা আমাদের র‍্যান্ড কর্পোরেশন বিষয়ক আলোচনায় ফিরে আসি। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কিছু বলুন।
যুবায়ের: প্রতিষ্ঠানটি ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বরের পর মুসলমানদেরকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করেছে।
সাদ : এই শ্রেণি-বিভাজন সম্পর্কে জানব। তবে আগে বলুন, আপনার কথার উৎস কী; যেন আপনার বক্তব্যের সত্যতার বিষয়ে আমি নিশ্চিত হতে পারি; আমার ভিতরে কোনো সংশয় না থাকে এবং নিশ্চিন্ত মনে আপনার কথা গ্রহণ করে নিতে পারি।
যুবায়ের : আমার কথার উৎস প্রতিষ্ঠানটিরই একটি প্রতিবেদন, যা 'সিভিল ডেমোক্রেটিক ইসলাম : পার্টনার্স, রিসোর্সেস, অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিস' শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে। তুমি নিজেই তা দেখে নিতে পার। আমি তোমাকে শুধু আমার উপর ভরসা করে গ্রহণ করার কথা বলব না। কেননা আল্লাহ তাআলা তাঁর নবির ভাষায় বলেছেন, 'বলে দিন, এই হলো আমার পথ, আমি আল্লাহর দিকে অন্তর্দৃষ্টির সাথে দাওয়াত দিই, আমি এবং আমার অনুসারীরা। আল্লাহ পবিত্র। আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। [সুরা ইউসুফ: ১০৮]
তবে আমি বলব, শত্রুর ব্যাপারে শত্রুর মূল্যায়ন প্রকৃত সত্য ও বাস্তবতা নির্ভর হয়ে থাকে। তাই আমাদের উচিত, শত্রুর মূল্যায়ন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা এবং সেই আলোকে নিজেদের করণীয় নির্ধারণ করা। আমি মনে করি, আমাদের সম্পর্কে র‍্যান্ডের মূল্যায়ন, আমাদের কর্মপন্থা নির্ধারণে সহায়তা করবে। তদ্রূপ আমরা কিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে চার শ্রেণির কোন শ্রেণির হয়ে দাঁড়াতে চাই- তা বুঝতেও সাহায্য করবে।
সাদ : আমি আপনার কথার উৎসের ব্যাপারে আস্বস্ত হয়েছি। এখন র‍্যান্ড কর্পোরেশন মুসলমানদের যে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করেছে, তা বলুন।
যুবায়ের : তারা প্রথম শ্রেণির নাম দিয়েছে ফান্ডামেন্টালিস্ট, অন্যভাষায় মৌলবাদী। র‍্যান্ড তা দ্বারা ঐ সকল মুসলমানকে বুঝিয়েছে, যারা গণতন্ত্র ও সমকালীন পশ্চিমা সংস্কৃতি প্রত্যাখ্যান করে; নববি পদ্ধতিতে ইসলামি খেলাফত প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে কার্যকর করার স্বপ্ন দেখে। এবং এ লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। কোরআন মাজিদের সুরা বাকারার ২০৮ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঈমানদারদেরকে ইসলামে পরিপূর্ণরূপে প্রবেশ করার আদেশ করেছেন। তো যারা আল্লাহর এ আদেশ পালন করে পুরোপুরিভাবে ইসলামে প্রবেশ করে; যারা ইসলামকে শাসনব্যবস্থা, সমাজব্যবস্থা ও অর্থায়নব্যবস্থাও মনে করে; এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে না, র‍্যান্ডের পরিভাষায় তারা হলো ফান্ডামেন্টালিস্ট বা মৌলবাদী।
র‍্যান্ড কর্পোরেশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ফান্ডামেন্টালিস্ট তথা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশকারী মুসলমানরা পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের প্রথম ও প্রধান শত্রু। পশ্চিমারা নিজেদের বিরোধী কোনো জীবনব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠিত দেখতে মোটেও প্রস্তুত নয়। তাই পশ্চিমাদের প্রতি র‍্যান্ডের পরামর্শ হলো, যেকোনো উপায়ে এ শ্রেণির মুসলমানদের নিশ্চিহ্ন করুন; কারণ, তারাই পাশ্চাত্য সভ্যতা ও আন্তর্জাতিক পশ্চিমা শাসনব্যবস্থার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।
সাদ : দ্বিতীয় শ্রেণি কারা?
যুবায়ের : র‍্যান্ড দ্বিতীয় শ্রেণির নাম দিয়েছে ট্র্যাডিশনালিস্ট বা ঐতিহ্যবাদী মুসলমান। এ শব্দ দ্বারা তারা ইসলামের ঐতিহ্য ধারণকারী ঐসকল মুসলিম ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে বুঝিয়েছে; যাদের তৎপরতা মসজিদের ইমামতি, জুমার খুতবা প্রদান, শিক্ষাদান, ফতোয়া প্রদান ইত্যাদির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এ ছাড়া তাঁদের তেমন কোনো কাজ করতে হবে। বস্তুত নববি পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠিত খেলাফতব্যবস্থা ব্যতীত পূর্ণাঙ্গ ইসলামি জীবনব্যবস্থা কার্যকর করা কিছুতেই সম্ভব নয়। বিদ্যমান পতন থেকে মুসলিম উম্মাহর উত্তরণের পথ জানার জন্য হজরত আলি মিয়াঁ নাদাবি রাহিমাহুল্লাহ রচিত 'মুসলিম উম্মাহর পতনে বিশ্বের কী ক্ষতি হলো?' গ্রন্থটি অবশ্যই যেন উম্মাহর ভবিষ্যত কাণ্ডারীদের অধ্যয়ন ও আত্মস্থ হয়ে যায়। আল্লাহ সহজ করুন! প্রাসঙ্গিক একটি প্রশ্ন, 'জিহাদ আগে, না খেলাফত প্রতিষ্ঠা আগে?' প্রশ্নটির উত্তর ২৭৫-২৭৬ নং পৃষ্ঠায় দেখুন। নেই। অন্য ভাষায়, যারা ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা মনে করেন না; বরং শুধু কিছু বিশ্বাস এবং কতিপয় ইবাদত ও রুসম-রেওয়াজের সমষ্টি মনে করেন।
র‍্যান্ডের পর্যবেক্ষণ বলছে, এরা পাশ্চাত্য সভ্যতার জন্য মৌলিকভাবে হুমকি নয়। উপরন্তু র‍্যান্ডের প্রত্যাশা, এরা পশ্চিমাদের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
সাদ : এর অর্থ কি এই, র‍্যান্ড এ সকল মুসলিম ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত! র‍্যান্ড তাদেরকে ভয় করে না?!
যুবায়ের : না, র‍্যান্ড কর্পোরেশন এদের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত নয়। তাই র‍্যান্ড একইসাথে এ ব্যাপারেও সতর্ক করেছে, ফান্ডামেন্টালিস্ট ও ট্র্যাডিশনালিস্টদের মধ্যে ঐক্য হতে দেওয়া যাবে না। কারণ, ট্র্যাডিশনালিস্টরা যদি ফান্ডামেন্টালিস্টদের সঙ্গে মিলিত হয়, তাহলে তাঁদের পূর্ণাঙ্গ মুসলমান হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তখন তারা সাহাবায়ে কেরামের অনুকরণে ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে কার্যকর করার চেষ্টা করবে। আর তা পশ্চিমাদের জন্য ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনবে।
র‍্যান্ড ঐতিহ্যবাদী মুসলিম ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত না থাকার কারণ হলো, সাধারণ মানুষের মাঝে তাঁদের বিরাট প্রভাব রয়েছে। তাঁদের জন্য জনসাধারণের নিকট পৌঁছা খুবই সহজ। মানুষ তাঁদের বক্তব্য নিরবে মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করে। একটি ছোট্ট মাহফিল বা ক্ষুদ্র সমাবেশের আয়োজন করা কত কঠিন! স্থান নির্ধারণ করা, পোস্টার মুদ্রণ, দেয়ালে সাঁটানো ইত্যাদি কতকিছু! কিন্তু জনসাধারণ গোসল করে গায়ে সুগন্ধি মেখে নিজেদের কাছে থাকা সর্বোত্তম পোশাকটি পরিধান করে, সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে ঐতিহ্যবাদী ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সামনে বসে তাঁদের বক্তব্য শ্রবণ করে।
সাদ : তাহলে মার্কিন সরকারের জন্য র‍্যান্ডের প্রস্তাব কী?
যুবায়ের : মার্কিন সরকার ও তার মিত্রদের প্রতি র‍্যান্ডের প্রস্তাব ও পরামর্শ হচ্ছে, পূর্ণাঙ্গ ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন লালনকারী মুসলমানদের থেকে ঐতিহ্যবাদী আলেমদেরকে দূরে রাখতে হবে। ঐতিহ্যবাদী আলেমদেরকে বিভিন্ন ফিকহি ও মাযহাবগত বিতর্কে লিপ্ত রাখতে হবে এবং ক্রমাগত এজাতীয় বিতর্কের নতুন নতুন বিষয় আবিষ্কার করতে হবে।
সাদ : তৃতীয় শ্রেণি কারা?
যুবায়ের : র‍্যান্ডের পরিভাষা অনুযায়ী তৃতীয় শ্রেণি হলো মডারেট মুসলমান। এরা হলো মুসলমান নামধারী ঐ সকল লোক, যারা চায়- মুসলিম বিশ্ব বৈশ্বিক আধুনিকতার অংশ হয়ে যাক এবং নবি ও সাহাবিগণের জীবনে প্রতিষ্ঠিত ইসলাম থেকে মুসলমানগণ সম্পর্কহীন হয়ে পড়ুক, যেন মুসলমান পরিচয় ধারণ করলেও দেশের জনগণ পশ্চিমা আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে।
সাদ : এ শ্রেণির 'মুসলমান'দের ব্যাপারে র‍্যান্ডের কোনো পরামর্শ আছে কি?
যুবায়ের: হ্যাঁ, অবশ্যই। এ ব্যাপারে মার্কিন প্রশাসন ও তার মিত্রদের প্রতি র‍্যান্ডের পরামর্শ হচ্ছে, মডারেট মুসলিমদের সহযোগিতা করতে হবে এবং আর্থিকভাবে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। এছাড়াও প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ-সুবিধা তাদেরকে প্রদান করতে হবে।
র‍্যান্ডের আরও সুপারিশ হচ্ছে, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে তাদের প্রশংসা ফলাও করে প্রচার করতে হবে। কেননা সাধারণ মুসলমানদের মাঝে তাদের উল্লেখযোগ্য কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। তাই মিডিয়ার মাধ্যমে তাদের উপস্থিতিকে বড় করে দেখানো উচিত; যেন তারা সাধারণ মানুষের নিকট সহজে পৌঁছতে পারে।
কারণ, জনসাধারণের নিকট পৌঁছার জন্য তাদের কাছে অন্য কোনো মাধ্যম নেই। তাদেরকে ইমাম হিসেবে মসজিদে কে প্রবেশ করতে দিবে? তাদের পেছনে কে নামাজ পড়বে? কে তাদের খুতবা শোনবে? জুতা মারা শুরু হয়ে যাবে না! তাই মডারেটদের ব্যাপারে র‍্যান্ডের পরামর্শ হচ্ছে, তাদেরকে মিডিয়ায় নিয়ে আসা। এর উপরই বর্তমানে আমল চলছে।
সাদ : মুসলমানদেরকে মডারেট বানানোর লক্ষ্যে র‍্যান্ডের বিশেষ কোনো তৎপরতা আছে কি?
যুবায়ের : বলো কি! সে এক ভয়ংকর তৎপরতা। তাদের এ বিষয়ক ভয়াবহ এজেন্ডা ও ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের বিবরণ এসেছে 'বিল্ডিং মডারেট মুসলিম নেটওয়ার্কস শিরোনামে ২০০৭ সালে প্রকাশিত প্রতিষ্ঠানটির এক اِسْتِرَاتِيجِيَّاتُ غَرْبِيَّةٌ لِاحْتِوَاءِ الإسلام : قِرَاءَةُ فِي تَقْرِيرِ رَانْدْ ٢٠٠٧ নামে প্রতিবেদনটির আরবিভাষায় একটি পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ প্রকাশিত রয়েছে। তাতে র‍্যান্ডের আলোচ্য পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রায়োগিক নীতি ও কলাকৌশল ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণসহ তুলে ধরা হয়েছে।
সাদ : চতুর্থ শ্রেণি কারা?
যুবায়ের : চতুর্থ শ্রেণি হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষবাদীরা। এরা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের ইসলামের বিধানগুলো অস্বীকার করে। তাদের মতে রাষ্ট্র ধর্মের প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে পরিচালিত হওয়া আবশ্যক। তারা মনে করে, ইসলামধর্ম কিছু বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠানের সমষ্টি ছাড়া কিছুই নয়। এ শ্রেণির লোকেরা পূর্ব থেকেই পশ্চিমাদের পকেটস্থ হয়ে আছে।
সাদ : র‍্যান্ড কর্পোরেশন তার অর্থায়নকারীদের কী পরামর্শ দেয়?
যুবায়ের : ইসলামের সাথে সভ্যতার যুদ্ধে বিজয়ী থাকার জন্য অর্থায়নকারী ও সমগ্র পশ্চিমা বিশ্বের প্রতি র‍্যান্ডের পরামর্শ হচ্ছে, তারা যেন মডারেট ও ধর্মনিরপেক্ষদেরকে সকল ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে; আর ফান্ডামেন্টালিস্টদের কঠোরভাবে মোকাবেলা করে। পাশাপাশি ট্র্যাডিশনালিস্টদেরকে তাদের ফিকহি ও মাজহাবগত বিতর্কে লিপ্ত রাখে। র‍্যান্ড কর্পোরেশনের মতে মুসলমানদের উপর পশ্চিমাদের বিজয় লাভের এটিই একমাত্র পন্থা।
সাদ : র‍্যান্ড কর্পোরেশন কখনো তার ষড়যন্ত্রে সফল হবে না, ইনশাআল্লাহ।
যুবায়ের: হ্যাঁ, অবশ্যই। সফল হওয়া তাদের পক্ষে কীভাবে সম্ভব, যখন আল্লাহ তাআলা ইসলামের হেফাজতের দায়িত্ব নিজেই নিয়েছেন! ইরশাদ করেছেন, [অর্থ] 'নিশ্চয় আমিই অবতীর্ণ করেছি যিকর [কোরআন] এবং আমিই তার হেফাজতকারী ।' [সুরা হিজর : ৯]
তবে আমাদের দায়িত্ব হলো, সাধারণ মানুষের সামনে প্রতিষ্ঠানটির মুখোশ উন্মোচন করা এবং তাঁদেরকে কোরআন পাকের এই আয়াত শোনানো ও বুঝানো- [অর্থ] 'হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইসলামে প্রবেশ করো পরিপূর্ণরূপে এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন।' [সুরা বাকারা : ২০৮]
সাদ : শুকরান, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
যুবায়ের : আফওয়ান, ওয়া আলাইকুমুস সালামু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

টিকাঃ
১. Civil democratic Islam: partners, resources, and strategies [নাগরিক গণতান্ত্রিক ইসলাম : অংশীদার, সম্পদ ও কৌশল] الإسلامُ الَّذِي يُرِيدُهُ الغَرْبُ : دِرَاسَةٌ تَحْلِيْلِيَّةً نَقْدِيَّةٌ لِتَقْرِيرِ مُؤَسَّسَةِ رَائِدُ : إسلام حَضَارِيٌّ دِيمُقراطِيُّ شُرَكَاءُ وَمَوَارِدُ وَاسْتِرَاتِيْجِيَّاتُ ৩৩০ পৃষ্ঠায় একটি পর্যালোচনা প্রকাশিত হয়েছে। পর্যালোচনাটি মূলত মক্কা মুকাররমায় অবস্থিত উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের الدَّعْوَةُ وَأَصُوْلُ الدَّيْنِ অনুষদ থেকে মাস্টার্সডিগ্রি লাভের থিসিসরূপে তৈরি হয়েছে। সৌদিআরবের مَرْكّز الفِكْرِ المُعَاصِرِ নামক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে তা প্রকাশিত হয়েছে।
১. পরিপূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশ করার জন্য সঠিক আকিদাসমূহের জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি ইসলামের শরিয়াব্যবস্থা, শাসনব্যবস্থা, সমাজব্যবস্থা, অর্থায়নব্যবস্থা- এককথায় পূর্ণাঙ্গ ইসলামি জীবনব্যবস্থার জ্ঞানার্জন করতে হবে। সর্বোপরি নববি পদ্ধতিতে খেলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য প্রত্যেকের নিজ নিজ অবস্থান থেকে চেষ্টা করতে হবে। বস্তুত নববি পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠিত খেলাফতব্যবস্থা ব্যতীত পূর্ণাঙ্গ ইসলামি জীবনব্যবস্থা কার্যকর করা কিছুতেই সম্ভব নয়। বিদ্যমান পতন থেকে মুসলিম উম্মাহর উত্তরণের পথ জানার জন্য হজরত আলি মিয়াঁ নাদাবি রাহিমাহুল্লাহ রচিত 'মুসলিম উম্মাহর পতনে বিশ্বের কী ক্ষতি হলো?' গ্রন্থটি অবশ্যই যেন উম্মাহর ভবিষ্যত কাণ্ডারীদের অধ্যয়ন ও আত্মস্থ হয়ে যায়। আল্লাহ সহজ করুন! প্রাসঙ্গিক একটি প্রশ্ন, 'জিহাদ আগে, না খেলাফত প্রতিষ্ঠা আগে?' প্রশ্নটির উত্তর ২৭৫-২৭৬ নং পৃষ্ঠায় দেখুন।
১. 'পশ্চিমাদের গণতন্ত্র' বলা হয়েছে, গণতন্ত্র পশ্চিমাদের আবিষ্কার হওয়ার কারণে। এটা কতিপয় মুসলিম নামধারী মানুষের তথাকথিত 'ইসলামি গণতন্ত্রে'র বিপরীতে বলা হয়নি। ইসলামে কোনো গণতন্ত্র নেই। 'আকাবির- আসলাফের দৃষ্টিতে গণতন্ত্র' শীর্ষক সংলাপ দ্রষ্টব্য।
১. 'মিডিয়া: প্রতারক চিন্তানৈতিক অভিযান' সংলাপের ১৩তম প্রোটোকলের অন্তর্ভুক্ত আলোচনাটি পাঠ করলে মুসলমানদেরকে 'পশ্চিমা আধুনিকতা'র রঙে রঙিন করার কিছু ষড়যন্ত্র জানা যাবে। ২৪৮-২৪৯ নং পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।
১. Building Moderate Muslim networks
২. اِسْتِرَاتِيجِيَّاتُ غَرْبِيَّةٌ لِاحْتِوَاءِ الإسلام : قِرَاءَةُ فِي تَقْرِيرِ رَانْدْ ٢٠٠٧ নামে প্রতিবেদনটির আরবিভাষায় একটি পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ প্রকাশিত রয়েছে।
১. আরবি পর্যালোচনাটি প্রকাশ করেছে মিশরের রাজধানী কায়রোর অবস্থিত المركز العربي للدراسات الإنسانية নামক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান।

📘 ঈমান-কুফর ও তাকফীর > 📄 মিডিয়া : প্রতারক চিন্তানেতির অভিযান

📄 মিডিয়া : প্রতারক চিন্তানেতির অভিযান


শারাফাতুল্লাহ : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
সাইফুল্লাহ : ওয়া আলাইকুমুস সালামু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
শারাফাতুল্লাহ: ভাইয়া! মিডিয়া সম্পর্কে কিছু বলো।
সাইফুল্লাহ : মিডিয়ার আলোচনা অনেক বিস্তৃত। মিডিয়া বা গণমাধ্যম বলতে এখানে আমার উদ্দেশ্য পশ্চিমা মিডিয়া। বর্তমানে এই পশ্চিমা মিডিয়াই পুরোবিশ্বে প্রভাব বিস্তার করছে ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে চলেছে। মিডিয়া বলতে বুঝায় বইপত্র, রেডিও- টেলিভিশন, পত্রপত্রিকা, সিনেমা ও বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপ ইত্যাদি।
শারাফাতুল্লাহ : দয়া করে, একটু খুলে বলো।
সাইফুল্লাহ : পশ্চিমা মিডিয়া বস্তুত এমন এক মাধ্যম, যাকে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ, মুসলমানদের অভিন্ন মিত্রতাকে একাধিক জাহিলি মিত্রতায় বিভক্ত করার জন্য ব্যবহার করে চলেছে। কেননা যখন ইসলামের প্রতি মুসলমানদের মিত্রতা বাকি থাকবে না, তখন তাদেরকে যেকোনো চিন্তা ও পরিস্থিতি গেলানো সহজ হবে; তাতে তাদের যতই বশ্যতা ও পরাজয় থাকুক।
শারাফাতুল্লাহ : সাম্রাজ্যবাদ মানে কি? একটু বলবে?
সাইফুল্লাহ : সাম্রাজ্যবাদ হলো কোনো দেশ বা দলের নিজেদের স্বার্থে কোনো জাতির উপর প্রভাব বিস্তার করা, তাদের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ ও সম্পদ ব্যবহার করা।
শারাফাতুল্লাহ: ভাইয়া! পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের লক্ষ্য কী?
সাইফুল্লাহ : শায়খ মুহাম্মদ আল-গাযালি রাহিমাহুল্লাহর [১৩৩৫- ১৪১৬ হি.) মতে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের লক্ষ্য হলো এমন এক প্রজন্ম গড়ে তোলা, যারা নিজেদের মুসলিম পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করবে, এবং ইসলামের কোনো হুকুম পালন করা অবস্থায় কেউ তাদেরকে দেখুক, তা অপছন্দ করবে; বিশেষত উচ্চশিক্ষিত ও ঐ শ্রেণির সন্তানদেরকে এভাবে গড়ে তোলা তাদের লক্ষ্য, যারা ভবিষ্যতে দেশের শাসন ও কর্তৃত্ব গ্রহণ করতে প্রস্তুত হচ্ছে।
শারাফাতুল্লাহ : সাম্রাজ্যবাদীরা তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কী কী উপায় গ্রহণ করে?
সাইফুল্লাহ : এ বিষয়ে 'ইসলামে শত্রুতা-মিত্রতা' গ্রন্থের তৃতীয় অধ্যায়ে বিস্তারিত বর্ণনা এসেছে, সাম্রাজ্যবাদীরা নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য যেসব উপায় গ্রহণ করে, সেসবের অন্যতম হলো- ১. শিক্ষাদীক্ষা, ২. মিডিয়া, ৩. প্রাচ্যবিদদের বইপত্র প্রচার-প্রসার করা, ৪. মুসলমানদের মাঝে দেশাত্মবোধ ও জাতীয়তাবাদ এবং বিশ্বজনীনতা ও মানবতাবাদ ইত্যাদি অনৈসলামিক মতবাদগুলোর ব্যাপক প্রচারণা চালানো।
শারাফাতুল্লাহ : এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা কোথায় পাব?
সাইফুল্লাহ : আমার আগের কথা থেকে স্পষ্ট, 'ইসলামে শত্রুতা-মিত্রতা' গ্রন্থের তৃতীয় অধ্যায়ে এ বিষয়ে কিছুটা ব্যাখ্যা- বিশ্লেষণ এসেছে। তুমি ওখানে দেখে নিতে পার।
শারাফাতুল্লাহ : ভাইয়া! মিডিয়ার কর্মকাণ্ড সম্বন্ধে কিছু বলো।
সাইফুল্লাহ : সমাজের সকল স্তরে মিডিয়ার বিরাট ও গভীর প্রভাব রয়েছে। ইসলামের শত্রুরা এর গুরুত্ব ও প্রভাব সম্বন্ধে পূর্ব থেকেই অবগত থাকার কারণে তার উপর নিজেদের আধিপত্যবিস্তার সুদৃঢ় করেছে; এবং এর মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহকে ধ্বংস ও ইসলাম থেকে বের করার নীলনকশা এঁকেছে।
শারাফাতুল্লাহ : মিডিয়ার প্রভাব সম্পর্কে আরো কিছু জানতে চাই।
সাইফুল্লাহ : পশ্চিমা মিডিয়া মুসলিম দেশগুলোতে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে তীব্র যুদ্ধ ও ব্যাপক প্রোপাগান্ডা চালিয়েছে; যা এখনো অব্যাহত আছে। পশ্চিমা মিডিয়া কাফেরদের সঙ্গে মুসলমানদের মিত্রতার বিষয়টি সুন্দর ও প্রিয় করে তোলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং মুসলমানদের মাঝে অশ্লীলতা প্রসারের প্রতিও সচেষ্ট আছে।
শারাফাতুল্লাহ : মিডিয়া যেসব মিশন বাস্তবায়নে মনোযোগী হয়েছে, সে সম্পর্কে কিছু বলবে!
সাইফুল্লাহ : পশ্চিমা মিডিয়া বিশেষত যেসব মিশনে মনোযোগী হয়েছে, তা হলো- অশ্লীলতা-উলঙ্গপনা ছড়ানো, পাপ-অন্যায়ের প্রতি প্ররোচিত করা, ঈমান-আকিদার ভিত নড়বড় করা ও আখলাক-চরিত্র ধ্বংসের লক্ষ্যে পৃথিবীতে বিশৃংখলা সৃষ্টি করা। যখন মৌলিক ভিত্তিদুটো তথা ঈমান ও আখলাক ধ্বংস হয়ে যাবে, তখন কীভাবে একটি জাতির আপন ঈমান-আখলাকের উপর সুদৃঢ় থাকার আশা করা যায়?!
শারাফাতুল্লাহ : মিডিয়া সম্পর্কে তোমার সর্বশেষ মূল্যায়ন কী?
সাইফুল্লাহ : পশ্চিমা মিডিয়া সম্পর্কে আমার যা বলার আছে, তা সংক্ষেপে এই- তা অন্যায় কাজকে ন্যায় হিসেবে প্রচার করে এবং মানুষকে তাতে লিপ্ত হতে উদ্বুদ্ধ করে। আবার ভালোকে মন্দরূপে প্রকাশ করে এবং মানুষকে তা থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত করে।
শারাফাতুল্লাহ : তোমার এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ আছে?
সাইফুল্লাহ : তোমার কি 'জায়নবাদী দার্শনিকদের প্রোটোকলস' সম্পর্কে কোনো ধারণা আছে?
শারাফাতুল্লাহ : না, ভাইয়া! এ বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই। যদি কিছু বলতে!
সাইফুল্লাহ : 'প্রোটোকলস' শব্দের অর্থ 'মূলনীতিসমূহ'। আর 'জায়ন' অর্থ দুর্গ। 'জায়ন' মূলত ঐ দুই টিলার একটি টিলার নাম, যেই টিলাদুটির উপর প্রাচীন 'জেরুজালেম' নগরী অবস্থিত। 'জায়নবাদী দার্শনিকদের প্রোটোকলস' দ্বারা ইহুদিদের প্রস্তুতকৃত একটি গোপন নথি উদ্দেশ্য, যাতে সারাবিশ্বে তাদের অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এ নথিতে ২৪টি মূলনীতি রয়েছে।
শারাফাতুল্লাহ : আচ্ছা! আলোচ্য গোপন নথিটি কখন কোথায় প্রকাশ পেয়েছে?
সাইফুল্লাহ : শোনো, উইকিপিডিয়ায় 'জায়নবাদী দার্শনিকদের প্রোটোকলস' শীর্ষক প্রবন্ধে এসেছে, 'জায়নবাদী দার্শনিকদের প্রোটোকলস' যাকে অন্যভাষায় বলে 'বিশ্ব অভিযানের জন্য ইহুদি প্রোগ্রাম', সর্বপ্রথম ১৯০১ সালে প্রকাশিত হয়। রাশিয়ার ২য় বৃহত্তম শহর সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে প্রকাশিত 'যানামিয়া' পত্রিকা প্রথমে তা প্রকাশ করেছে।
শারাফাতুল্লাহ : এর অর্থ কি এই, ইহুদিদের এসকল প্রোটোকল ১৯০১ সালের পূর্বেই তৈরি করা হয়েছে?
সাইফুল্লাহ : বিষয়টি দিবালোকের মতো স্পষ্ট।
শারাফাতুল্লাহ : আগের প্রশ্নে ফিরে আসি। তুমি বলেছ, মিডিয়া অন্যায় কাজকে ভালো হিসেবে প্রমোট করে, আর ন্যায়কে অন্যায়রূপে পেশ করে। এ দাবির পক্ষে তোমার কাছে কোনো প্রমাণ আছে?
সাইফুল্লাহ : আমার এতোক্ষণের আলোচনা ছিল ভূমিকাস্বরূপ। এখন তোমার এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যায়।
শারাফাতুল্লাহ : দয়া করে, বলো। আল্লাহ তোমাকে উত্তম বিনিময় দান করুন!
সাইফুল্লাহ : যে ব্যক্তি 'জায়নবাদী দার্শনিকদের প্রোটোকলস' ভালো করে পাঠ করবে, সে মিডিয়া সম্পর্কে অক্ষরে অক্ষরে আমার মন্তব্যের প্রমাণ পেয়ে যাবে।
শারাফাতুল্লাহ : এ বিষয়ে 'জায়নবাদী দার্শনিকদের প্রোটোকলস'-এ কী এসেছে?
সাইফুল্লাহ : নথিটির ১৩তম প্রোটোকলে এসেছে- 'অইহুদি কোনো জাতি যেন আমাদের কোনো নতুন কর্মপন্থার মুখোশ নিজ উদ্যোগে উন্মোচন করতে না পারে, সে জন্য আমরা তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের বিনোদন ও খেলায় ব্যস্ত রেখে ভুলিয়ে রাখব।' 'বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের প্রতি মানুষকে আহ্বান করে অচিরেই আমরা পত্রপত্রিকায় শিল্প, খেলাধুলা ইত্যাদি বিভিন্ন পরিকল্পনার বিজ্ঞাপন দেওয়া আরম্ভ করব।'
'এই নতুন প্রমোদ-বিনোদন অইহুদি জনসাধারণের মেধাকে নিশ্চিতরূপে সেসব বিষয় থেকে ভুলিয়ে রাখবে, যেসব বিষয়ে তাদের সঙ্গে আমাদের মতানৈক্য রয়েছে। আর জনসাধারণ যখন ধীরেধীরে স্বাধীন চিন্তাশক্তির ক্ষমতা হারিয়ে বসবে, তখন আমাদের সঙ্গে সকলেই অভিন্ন সুরে শ্লোগান দিবে- আমরা ঐ অনন্য সমাজের অংশ হব, যারা নব চিন্তার জগতে প্রাগ্রসর।
বুঝতে পেরেছো, শারাফাতুল্লাহ! উঠতি বয়সি কিশোর-কিশোরী ও যুবক-যুবতীদের জন্য মিডিয়ায় সম্প্রচারিত আকর্ষণীয় এসব প্রমোদ-বিনোদন, খেলাধুলা ও টুর্নামেন্ট প্রভৃতির লক্ষ্য কী?!
শারাফাতুল্লাহ : আল্লাহ! কী ভয়াবহ বাস্তবতা শুনালে!! এ তো শুধু কিছু প্রমোদ-বিনোদন, খেলাধুলা বা টুর্নামেন্ট নয়; বরং আল্লাহর ক্রোধভাজন ইহুদিদের ঐসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশবিশেষ, যেগুলো তারা অনেক আগেই অর্থাৎ কমপক্ষে সোয়া শতাব্দি পূর্বে প্রচলিত মিডিয়ার উদ্ভাবন ও আবিষ্কারের যুগেই করে ফেলেছে!
আচ্ছা, এখন বলো, ইহুদিরা কীভাবে তাদের এই পরিকল্পনা মুসলমানদের মাঝে বাস্তবায়ন করছে?
সাইফুল্লাহ : তারা মুসলিম সমাজে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য এ সমাজেরই এমন কিছু মানুষকে নির্বাচন করছে, তাদের প্রতি যাদের বন্ধুত্ব ও মিত্রতার ব্যাপারে তাদের বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।
শারাফাতুল্লাহ : তুমি কি মনে কর, ইহুদিরা তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সফল হয়েছে?
সাইফুল্লাহ : আমি তোমার এ প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর দেব না। তবে আমি একটু আগে তাদের নথির ১৩তম প্রোটোকলের কিছু কথা শুনিয়েছিলাম। তারই আরেকটি অংশ বলছি। শোনো। তারা লিখেছে- 'বিবেকশূন্য নিরক্ষর মাথাগুলো সমাজতন্ত্রের দিকে নিয়ে যেতে আমরা পরিপূর্ণ সফল হয়েছি। এখন এই নিরক্ষরদের মাঝে এমন কোনো বিবেক নেই, যা বুঝতে সক্ষম হবে যে, সর্বাবস্থায় “প্রগতি” শব্দের আড়ালে লুকিয়ে আছে বিভ্রান্তি ও বিচ্যুতি এবং ধোঁকা ও প্রতারণা।'
শারাফাতুল্লাহ : শয়তানের বন্ধু ও দলের উপর আল্লাহর অভিশাপ!! আল্লাহ আমাদেরকে তাদের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করুন। ইহুদিদের চেয়ে ধূর্ত আর কোনো জাতি আমি দেখিনি! আচ্ছা, আমার একটি প্রশ্ন আছে; এই হঠকারী শত্রুদের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের জন্য আমাদের সমাজেরই কিছু মানুষ কেনো এত উঠেপড়ে লেগেছে?
সাইফুল্লাহ : বিষয়টা খুবই দুঃখজনক ভাই আমার! ইহুদিদের এই চিন্তানৈতিক অভিযানে বিদ্বেষ, দুষ্ট অভিজ্ঞতা ও কূট পরিকল্পনার পাশাপাশি সময়ানুবর্তিতা ও উপযোগী বিষয়ের যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি আকর্ষক বিভিন্ন গুণও আছে; পার্থিব অনেক সুযোগ-সুবিধা তো আছেই। তাই আমাদের সমাজের অনেক নামধারী মুসলমান এসকল গুণে মুগ্ধ হয়ে ও সুবিধার প্রলোভনে পড়ে তাদের পরিচালিত মিডিয়ায় কাজ করে।
এরা ইহুদি কুলাঙ্গারদের চক্রান্তগুলো বুঝতে না পারার কারণ হলো, মুসলমান নাম ধারণ করলেও ইসলামি জীবনব্যবস্থার শ্রেষ্ঠত্বের বিশ্বাস তাদের মধ্যে অনুপস্থিত, এবং দীনি আত্মমর্যাদাবোধ থেকে তারা বহু দূরে। আর আল্লাহ তাআলা কোনো জাতি থেকে তাঁর নেয়ামত ততক্ষণ পর্যন্ত উঠিয়ে নেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেরাই নিজেদের অবস্থা বদলে ফেলে।
শারাফাতুল্লাহ : ভাইয়া! যদি কিছু উপদেশ দিতে! যখন মিডিয়ায় প্রমোদ-বিনোদন, খেলাধুলা ও বিভিন্ন টুর্নামেন্ট সম্পর্কিত কোনো বিজ্ঞাপন আমার চোখে পড়বে, তখন আমার করণীয় কী হবে?
সাইফুল্লাহ : হ্যাঁ, আমার উপদেশ হলো, তুমি মিডিয়ার উদ্ভাবন ও প্রচলন করার লক্ষ্য সম্পর্কিত মিডিয়া আবিষ্কারক ও প্রবর্তক ইহুদিদের বক্তব্য স্মরণ রাখবে। আল্লাহর কাছে পানাহ চাইবে এবং গুনাহের উপকরণ থেকে দূরে থাকবে। গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য খাঁটি মনে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনার পর, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির তুলনায়ও ফলদায়ক বিষয় হলো, গুনাহের আসবাব ও উপকরণ থেকে দূরে থাকা। আল্লাহ তাওফিকদাতা। তিনিই সুপথ দেখান।
তোমার জন্য আমার উপদেশ এ-ও যে, তুমি মসজিদের মিম্বর এবং মাহফিল-সমাবেশ ইত্যাদির মঞ্চ থেকে যুবকদের জাগিয়ে তুলবে, ইহুদিদের পরিকল্পনা সম্বন্ধে তাদেরকে সতর্ক করবে, এবং এই কুলাঙ্গারদের বিছানো ফাঁদে না পড়তে আহ্বান করবে। আল্লাহ আমাকে, তোমাকে ও সকল মুসলমানকে শয়তান ও তার বন্ধুদের সকল ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করুন; এবং মুমিনদের বিরুদ্ধে শয়তান ও তার বন্ধুমহলের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ করুন। আমিন!
শারাফাতুল্লাহ : দাওয়াতের কাজে মিডিয়াকে ব্যবহার করা আমাদের পক্ষে সম্ভব কি?
সাইফুল্লাহ : হুম, প্রিয় ভাই আমার! দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে ইন্টারনেট বিশেষত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা অবশ্যই সম্ভব এবং তার ভূমিকা অপরিসীম। তবে তা হতে হবে কোনো অন্তরালোকসম্পন্ন মুসলিহ-মুযাক্কি আলেমের তত্ত্বাবধানে। তাফাক্কুহ ফিদ্দীন [দীনের বুঝ ও সমঝ] অর্জন অব্যাহত রেখে এমন কারো তত্ত্বাবধানে এসব মাধ্যমেও লিখে ও বলে আল্লাহর শত্রুদের ষড়যন্ত্র সম্বন্ধে উম্মাহকে সতর্ক করো, স্বচ্ছ আকিদা ও আখলাকের দিকে ফিরিয়ে আনো, এবং আল্লাহর শত্রুদের বিরুদ্ধে জয় লাভের স্থায়ী পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করো। আল্লাহ আমাকে, তোমাকে এবং উম্মাহর সকল কাণ্ডারীকে তাওফিক দান করুন!
শারাফাতুল্লাহ: ভাইয়া! 'প্রযুক্তি' কী জিনিস?
সাইফুল্লাহ : প্রযুক্তি হলো কিছু প্রায়োগিক কৌশল, যা মানুষ তার পরিবেশের উন্নয়নকার্যে ব্যবহার করে। প্রযুক্তি হলো জ্ঞান ও যন্ত্রের ব্যবহার কৌশল, যা মানুষ নিজেদের জীবন সহজ করার প্রয়োজনে ব্যবহার করে। এ বিষয়ে الْمُوَطَّأُ فِي العَرَبِيَّةِ الوَظيفِيَّةِ কিতাবে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা আছে। তোমার সঙ্গে কোনো সুযোগে এ সম্বন্ধে কথা বলব ইনশাআল্লাহ।
শারাফাতুল্লাহ : কিভাবে মিডিয়া সম্পর্কে এমন দুর্লভ তথ্যভাণ্ডার আমার কাছে পেশ করা তোমার জন্য সহজ হলো? তুমি তো ভারি বিচক্ষণ!!
সাইফুল্লাহ : মিডিয়া সম্পর্কে তোমার প্রশ্নের উত্তরে আমি যা বলেছি, তার বড় একটা অংশ শায়খ মুহাম্মদ বিন সাঈদ কাহতানি রাহিমাহুল্লাহ রচিত ‘আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা ফিল ইসলাম' [ইসলামে শত্রুতা-মিত্রতা] কিতাবের তৃতীয় অধ্যায়ে এসেছে। কিতাবটি ‘মাহাদুশ শায়খ ফুয়াদ লিদ্দিরাসাতিল ইসলামিয়া ঢাকা’য় ১৪৪০-৪১ শিক্ষাবর্ষে আমি দরসে পড়েছি। তাই আমার পক্ষে তোমার প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া সহজ হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ আমার এ বিষয়ের উস্তাদজিকে উত্তম বিনিময় দান করুন। আমিন!
শারাফাতুল্লাহ : আল্লাহ আমাকে তোমার পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করার ও কিতাবটি থেকে অধিক উপকৃত হওয়ার তাওফিক দিন। এবার নির্জনে তাকওয়া অবলম্বন বিষয়ে আমাকে কিছু উপদেশ দাও।
সাইফুল্লাহ : 'কালিমায়ে তাইয়েবা : বিশ্লেষণ ও ঈমান ভঙ্গের কারণ' বইয়ে 'নির্জনে তাকওয়া অবলম্বনে কিছু পদক্ষেপ' শিরোনামের অধীনে এই উপদেশগুলো দেওয়া হয়েছে-
■ আনন্দ-ফুর্তির অবসানকারী মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করা।
■ আল্লাহ তাআলার হাজির-নাজির হওয়ার কথা স্মরণ রাখা। অর্থাৎ তাঁর সর্বত্র বিরাজমান থাকা ও সবকিছু দেখার অনুভূতি জাগ্রত রাখা।
■ সৎসঙ্গ গ্রহণ করা।
■ নিজের আমলের মুহাসাবা বা আত্মসমালোচনা করা।
■ প্রতিদিন আখলাক ও তাকওয়া বিষয়ে অন্ততপক্ষে ১ টি উপদেশ শোনা বা কিতাবে পড়া।
■ গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রতিদিন চোখের অশ্রু প্রবাহিত করা।
■ গুনাহের আশঙ্কার মুহূর্তগুলোতে একাকি না থাকা।
■ বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহার না করা।
اللَّهُمَّ اجْعَلْ سَرِيرَتِي خَيْرًا مِنْ عَلَانِيَتِي وَاجْعَلْ عَلَانِيَتِي صَالِحَةً.
হে আল্লাহ! তুমি আমার গোপন অবস্থাকে প্রকাশ্য অবস্থার তুলনায় উত্তম বানাও এবং আমার প্রকাশ্য অবস্থাকে ভালো বানাও! [সুনানে তিরমিযি : ৩৬৬৭]
শারাফাতুল্লাহ : অনেক অনেক শুকরিয়া ভাইয়া! আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
সাইফুল্লাহ : ঠিক আছে। ওয়া আলাইকুমুস সালামু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

টিকাঃ
১. كِفَاحُ دِین পৃ. ১৪৭, তৃতীয় সংস্করণ। দারুল কুতুবিল হাদিসা, মিশর।
২. টীকাটি ২৮২-২৮৪ নং পৃষ্ঠায় পাঠ করুন।
৩. টীকাটি ২৮২ নং পৃষ্ঠায় পাঠ করুন।
১. প্রকাশ থাকে যে, তাদের আলোচ্য উক্তিটি বর্তমানের নয়; কমপক্ষে ১২০ বছর পূর্বের। কারণ, আমরা এখন ২০২০ ঈসায়িতে আছি। আর প্রোটোকলগুলো প্রকাশিত হয়েছে ১৯০১ ইসায়িতে।
১. بُرُوتُوكُوْلَاتُ حُكَمَاءِ صِهْيَوْنِ পৃ. ১৬৮, চতুর্থ সংস্করণ। আরবি অনুবাদক : মুহাম্মদ খলিফা তিউনিসি। আরো দেখুন মায়দানি রচিত مَكَائِدُ يَهُودِيَّةٌ ৩৪৬।
১. নিরক্ষর দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য সকল অইহুদি।
১. 'আল্লাহর শত্রুদের বিরুদ্ধে জয় লাভ করার স্থায়ী পদ্ধতি' শিরোনামে দারুল উলুম দেওবন্দের মহান উস্তাদ মাওলানা নূর আলম খলিল আমিনি হাফিজাহুল্লাহর একটি প্রবন্ধ আছে। المُوَطَّأُ فِي العَرَبِيَّةِ الوَظِيفِيَّةِ কিতাবের প্রথম সংস্করণের ৩৬৩-৩৭৭ নং পৃষ্ঠায় প্রবন্ধটির সংলাপরূপ দ্রষ্টব্য।

📘 ঈমান-কুফর ও তাকফীর > 📄 ইসলাম শান্তি, সমতা ও স্বাধীনতার ধর্ম, না সত্য ও ন্যায়পরায়ণতার ধর্ম?

📄 ইসলাম শান্তি, সমতা ও স্বাধীনতার ধর্ম, না সত্য ও ন্যায়পরায়ণতার ধর্ম?


দাঈ ইলাল্লাহ ডক্টর ইয়াদ কুনাইবি

আমরা মুসলিম ভাইদেরকে অনেক বলতে শুনি, 'ইসলাম শান্তির ধর্ম।' বিশেষকরে এ কথাটা ইউরোপের মুসলিমগণ বলেন, যখন তারা অন্য ধর্মাবলম্বীদের সামনে ইসলামের প্রতিরক্ষার চেষ্টা করেন। তারা বলেন, 'ইসলাম শান্তির ধর্ম।' অমুসলিমরা জবাবে বলে, 'তোমরা কীভাবে ইসলামকে শান্তির ধর্ম বল, অথচ তোমাদের কোরআনে এমন অনেক আয়াত আছে যেখান বলা হয়েছে- তোমরা কাফেরদের সাথে যুদ্ধ করো!?'
তখন এমন এক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় যে, মুসলমানরা যেন অন্যদেরকে ধোঁকা দিচ্ছে এবং নিজেদের দীনের কিছু জিনিস লুকানোর চেষ্টা করছে। অন্যদের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে তারাও প্রত্যুত্তরে বলে, ‘তোমাদের ধর্মগ্রন্থেও তো হত্যা ও যুদ্ধের কথা আছে।'
আমার ভাইয়েরা! আমাদের দীনে সঙ্কোচ করার মতো কোনো বিষয় নেই। আমাদের স্পষ্টভাষী হওয়া উচিত। দীনের বাস্তবতা প্রথমত আমাদের বুঝতে হবে; তা নিয়ে আমাদের মধ্যে গর্ববোধ থাকতে হবে। তবেই আমরা সঙ্কোচ ও ইতস্ততা ছাড়া পুরো পৃথিবীর সামনে ইসলাম নিয়ে গর্ব করতে পারব।
আপনি যখন বলবেন, ইসলাম অমুক মূল্যবোধের ধর্ম, তখন সেই মূল্যবোধ ইসলামের সকল শিক্ষায় উপস্থিত থাকা জরুরি। একটি আয়াত বা একটি হাদিসও তার বিরোধী থাকতে পারবে না।
তাই আমরা যদি এক বাক্যে ইসলামের পরিচয় দিতে চাই, তাহলে কখনই তাকে 'শান্তির ধর্ম' অভিহিত করা ঠিক হবে না। কেননা ইসলাম কিছু ক্ষেত্রে কার্যত যুদ্ধের নির্দেশ দেয়। বরং আমরা মানুষের মধ্যে প্রচার করতে পারি যে, 'ইসলাম সত্য ও ন্যায়পরায়ণতার ধর্ম।'
এই মূল্যবোধদুটি [সত্য ও ন্যায়পরায়ণতা] ইসলামের সকল শিক্ষায় এবং প্রত্যেক আয়াত, হাদিস ও বিধানে বিদ্যমান। আপনি একটি আয়াতও পাবেন না, যা সত্যের বিপরীতে বাতিলের পক্ষে কথা বলে। অনুরূপভাবে একটি আয়াত, হাদিস ও বিধানও পাওয়া অসম্ভব, যা ন্যায়পরায়ণতার আদেশ না করে জুলুমের আদেশ দেয়। অসম্ভব! সত্য ও ন্যায়পরায়ণতা এমন দুটি মূল্যবোধ, যা ইসলামের সকল বিধানে বিদ্যমান আছে কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-
اللهُ الَّذِي أَنزَلَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ وَالْمِيزَانَ.
আল্লাহই সেই সত্তা, যিনি অবতীর্ণ করেছেন সত্যসহ কিতাব ও তুলাদণ্ড। [সুরা শুরা : ১৭]
তুলাদণ্ড দ্বারা ন্যায়পরায়ণতা বুঝানো হয়েছে।
আরো ইরশাদ করেছেন-
وَبِالْحَقِّ أَنزَلْنَاهُ وَبِالْحَقِّ نَزَلَ.
আমি সত্যসহই তা [কোরআন] অবতীর্ণ করেছি এবং সত্যসহই তা অবতীর্ণ হয়েছে। [সুরা বনি ইসরাঈল : ১০৫]
আরো ইরশাদ করেছেন-
لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ .
নিশ্চয় আমি আমার রাসুলদের নিদর্শনাদি দিয়ে প্রেরণ করেছি এবং তাদের সঙ্গে নাযিল করেছি কিতাব ও তুলাদণ্ড, যাতে মানুষ ন্যায়নীতির উপর কায়েম থাকে। [সুরা হাদিদ : ২৫]
এ বিষয়ে আরো অনেক আয়াত রয়েছে।
পক্ষান্তরে কাফেরদের সাথে সন্ধি ও সমঝোতা করা কিছু ক্ষেত্রে জুলুম ও অন্যায়। তাদের সাথে জিহাদ চালিয়ে যাওয়াই সত্য ও ন্যায়পরায়ণতার দাবী।
স্বাধীনতার বিষয়টিও এমন। ঢালাওভাবে বলা ঠিক হবে না যে, 'ইসলাম স্বাধীনতার ধর্ম।' কারণ, তখন প্রশ্ন আসবে, ইসলাম যদি স্বাধীনতার ধর্ম হয়, তাহলে কেনো তোমরা সমকামিতার স্বাধীনতার স্বীকৃতি দিচ্ছ না? বরং আমরা বলব, ‘অনেক স্বাধীনতা এমন আছে যেগুলো বাতিল ও অন্যায়। ইসলাম সেগুলো সমর্থন করে না।'
ঢালাওভাবে এটি বলাও ঠিক হবে না যে, 'ইসলাম সমতার ধর্ম।' কারণ, তখন প্রশ্ন আসবে, ইসলাম যদি সমতার ধর্ম হয়, তাহলে কেনো সামাজিক সকল বিষয়ে এবং কর্তব্য ও অধিকার প্রভৃতি প্রতিটি ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমঅধিকার নেই? বরং আমরা বলব, 'কিছু সমঅধিকার আছে যা জুলুম ও অন্যায়।'
আচ্ছা, সকল বিষয়ে আমরা সত্য ও ন্যায়পরায়ণতা কীভাবে চিনতে পারব? আমরা তা চিনতে পারব আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য ও তাঁর দাসত্বের মাধ্যমে। প্রবৃত্তির দাসত্ব করা যাবে না। গণতন্ত্র ও অধিকাংশের মতামতের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ক্ষমতাসীন, ধনকুবের ও মিডিয়ার মালিকদেরও দাসত্ব করা যাবে না।
এভাবে যখন আমরা ইসলামকে তার আসল আকৃতিতে চিনতে শিখব এবং মানুষের সামনে তার প্রকৃতরূপ উপস্থাপন করব, তখন কেউ কোরআনের কোনো আয়াত কিংবা ইসলামের কোনো বিধান নিয়ে আমাদের মুখোমুখি হলে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়ব না।
এটি পাশ্চাত্যে অবস্থানরত অমুসলিমদের সাথে চলাফেরাকারী আমাদের সকল মুসলিম ভাইয়ের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপদেশ। তারা যেন এ সমস্ত বিষয়ে স্পষ্টভাষী থাকেন। অমুসলিমদের সাথে আলোচনার সময় তাদের শিরোনাম যেন হয়, 'ইসলাম সত্য ও ন্যায়পরায়ণতার ধর্ম।' আল্লাহ তাআলা সত্য ও ন্যায়ের প্রতি মানুষের অন্তরে ও স্বভাবে আকর্ষণ সৃষ্টি করেছেন। অতএব যে ব্যক্তি ইসলাম যথাযথ গ্রহণ করবে, তাকে স্বাগতম। আর যে তা প্রত্যাখ্যান করবে, তা হবে তার বিকৃত স্বভাব ও কুপ্রবৃত্তির অনুসরণের কারণে। আল্লাহ তাআলা নবিকে বলেছেন-
إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَن يَشَاءُ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ.
আপনি যাকে চাইবেন তাকেই সৎপথে আনতে পারবেন না, কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সৎপথে আনেন। আর তিনিই ভালো জানেন, কারা সৎপথে আসবে। [সুরা কাসাস : ৫৬]
ইসলামকে কোনো যুগের প্রচলিত কোনো শ্লোগানের অনুগত করা কখনই ঠিক হবে না। আপনি দেখবেন, এ শ্লোগানদানকারীরা নিজেদের শ্লোগানগুলোরই কঠিন বিরোধিতা করে। তাদের কয়েকটি শ্লোগান হলো- 'শান্তি', 'সমতা' ও 'স্বাধীনতা'। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এ সকল শ্লোগান দেয়। কিন্তু বৈশ্বিক রাজনীতিতে নিজেরা সেগুলো লঙ্ঘন করে।
অবশেষে বলতে চাই, আপনি ওহির মাধ্যমে সংরক্ষিত ধর্ম তথা ইসলাম ছাড়া অন্য কিছুকে কখনই দেখবেন না যে, তা সত্যিকার শান্তি, সমতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।
কবি আহমদ শাওকি সুন্দর বলেছেন-
রাসুল কত সম্মানজনক যুদ্ধে লড়েছিলেন!
তাতে সত্য প্রতিষ্ঠিত হতো নতুবা উচ্চকিত।
তাতে আল্লাহর সৈনিকেরা ছিলেন কঠোর।
কিন্তু তাঁরা পৃথিবীকে উপহার দিয়েছিলেন কোমলতা।
তাঁরা অজ্ঞতার উপর এমন আঘাত হেনেছিলেন,
যা মূর্খতা ও পথভ্রষ্টতাকে করে দিয়েছিল নিশ্চিহ্ন।
তাঁরা যুদ্ধ করতেন শান্তির পক্ষ হয়ে।
রক্ত ঝরত, কিন্তু তা দমিয়ে রাখত রক্তের প্লাবন।
আল্লাহ অধিক অবগত। ওয়াসসালাম।

টিকাঃ
১. তাই জিহাদ একটি দায়েমি [বিরামহীন] ফরজ। ৮৪ ও ২০২ নং পৃষ্ঠার টীকায় হাদিস দ্রষ্টব্য। -অনুবাদক।
১. বক্তব্যের লিংক : https://youtu.be/SKPsjA_R68Y

📘 ঈমান-কুফর ও তাকফীর > 📄 ‘তাকফিরু আহলিশ শাহাদাতাইন’ কিতাব সম্পর্কে একজন সৌদি আলেমের মন্তব্য

📄 ‘তাকফিরু আহলিশ শাহাদাতাইন’ কিতাব সম্পর্কে একজন সৌদি আলেমের মন্তব্য


কয়েকজন আল্লাহওয়ালা আলেম বলেছেন, বর্তমানে যেসকল কিতাব আকিদা বিষয়ে উদাসীনদের উদাসীনতা ও সরলদের সরলতা বৃদ্ধি করছে, সেগুলোর মধ্যে সৌদি আলেম ডক্টর শরিফ হাতিম আওনি রচিত 'তাকফিরু আহলিশ শাহাদাতাইনি' কিতাবটি অন্যতম। এ কিতাব সম্পর্কে অপর সৌদি আলেম ডক্টর জিয়াব বিন সাদ গামিদি লিখেছেন-
...পরকথা, আমি সম্প্রতি 'তাকফিরু আহলিশ শাহাদাতাইন' শিরোনামে হাতিম আওনি রচিত একটি নতুন কিতাব সম্পর্কে অবগত হয়েছি। কিতাবটি আদ্যোপান্ত পাঠ করে আমি লেখককে একজন মোহগ্রস্থ পেয়েছি। তিনি দলিল-প্রমাণের অপব্যাখ্যা ও সেগুলোর মর্মার্থকে অকার্যকর সাব্যস্ত করেছেন। কিতাবটিতে তিনি সুস্পষ্ট ভাষায় [বহু কথার] সহিংসতাপূর্ণ পুনরাবৃত্তি করেছেন এবং [বহু বিষয়ে] শীতল দ্বন্দ্ব করেছেন। [অবস্থা বোঝার জন্য] এতটুকু জানাই আপনার জন্য যথেষ্ট হবে যে, লেখক কিতাবটিতে ৮টি অন্যায় করেছেন-
* সীমালঙ্ঘনকারী মুরজিয়াদের কর্মপদ্ধতিকে বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে দৃঢ়মূল করেছেন। দলিলগুলোর বাহ্যিক অবস্থা হলো- বাড়াবাড়িকারী শিয়া, দীনের নিদর্শনগুলো উপহাসকারী ও ইসলামের বিধিবিধান পরিবর্তনকারী প্রমুখ কাফের ও যিন্দিকদের প্রতি দয়া প্রদর্শন। আর অভ্যন্তরীণ অবস্থা হলো, মুসলমানদের আকিদা-বিশ্বাসের মাঝে বিকৃতিসাধন।
* শরিয়তের সুস্পষ্ট বাণীসমূহের বিরোধী ও আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তগুলোর সাথে সাংঘর্ষিক বহু নীতি ও শর্ত থাকার উদার দাবির মাধ্যমে, অজ্ঞ মুসলমানদের জন্য কুফরি ও গোমরাহির কারণসমূহে জড়িয়ে পড়ার বৈধতা দিয়েছেন।
* শরিয়তের নীতিমালা ও ইসলামের ভিত্তিমূলের সাথে সাংঘর্ষিক এমন কিছু ওজর আবিষ্কার করেছেন, যা রাফেজি ও শিয়া নেতৃবৃন্দকে নিজেদের কুফরির কারণসমূহের উপর বহাল থাকা এবং তাদের গোমরাহি ও পথভ্রষ্টতায় অব্যাহত থাকার বৈধতা প্রদান করে। তাদের গোমরাহি ও কুফরির কয়েকটি উদাহরণ নিম্নরূপ- কোরআন বিকৃত হওয়ার আকিদা পোষণ করা, বড় বড় সাহাবিকে কাফের সাব্যস্ত করা এবং উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা সিদ্দিকা রাজিয়াল্লাহু আনহাকে অপবাদ দেওয়া।
* মুশরিক রাফেজি ও দীনের প্রতীকসমূহের বিদ্রূপকারী যিন্দিকদেরকে এমন কিছু যৌক্তিক দলিল সরবরাহ করেছেন, যা কুফরি, সীমালঙ্ঘন ও আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের দলিল- প্রমাণের সাথে ধৃষ্টতা প্রদর্শন ছাড়া তাদের কিছুই বৃদ্ধি করে না।
* বিভিন্ন উপায়ে আধুনিক, যুক্তিবাদী ও তাদের তল্পীবাহক পরাজিত লোকদের কর্মপদ্ধতিকে দৃঢ়মূল করেছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন [অর্থ]- হাঁ, তোমরা এরূপ যে, পার্থিব জীবনে তো তাদের পক্ষ থেকে জবাবদিহি করলে, কিন্তু কিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে তাদের পক্ষ হয়ে কে জবাবদিহি করবে? কিংবা কে তাদের কার্যনির্বাহক হবে? [সুরা নিসা: ১০৯]
* তাকফিরি ও ইরহাবিদের মানহাজের ব্যাপারে সতর্ক করার দাবি করে মুশরিক রাফেজি ও দীনের বিধিবিধান উপহাসকারীদের সাথে সমঝোতা ও তাদেরকে তোষামোদ করার প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন।
* তিনি তার এ কিতাব ও অন্যান্য কিতাবে আহলুস সুন্নাহ, বিশেষকরে দাওয়াতের নাজদি, ইমামগণের প্রতি অবিচার করেছেন। শায়খ মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহর আদর্শ গ্রহণ করার কারণে আকারে-ইঙ্গিতে সৌদি সরকারের নীতির সমালোচনা করেছেন। তার কলঙ্কজনক একটি প্রতারণা হলো তার এ উক্তি- 'আইএস হলো দাওয়াতের ইমামদের কিতাবাদি ও আদ-দুরারুস সানিয়‍্যার গ্রাজুয়েট।' আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন [অর্থ]- এটি গুরুতর কথা যা তাদের মুখ থেকে বের হয়। তারা শুধু মিথ্যাই বকে। [সুরা কাহাফ : ৫]
যে ব্যক্তি ইতিহাস, বিশেষকরে আধুনিক ইতিহাস পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে বিশ্লেষণ করবে, সে নিশ্চিতরূপে জানবে যে, আইএস ও অন্যান্য সীমালঙ্ঘনকারী খারেজিদের বিদ্রোহের সবচেয়ে বড় কারণ হলো, বাড়াবাড়িকারী মুরজিয়াদের আত্মপ্রকাশ, বিশেষকরে আধুনিক মুরজিয়াদের।
* বইটির ভাষায় লেখকের বড়ত্ব ও অহংকার এবং আত্মমুগ্ধতা ও সীমালঙ্ঘনের প্রকাশ ঘটেছে। আল্লাহ জালিমদের ব্যাপারে সবিশেষ অবগত আছেন।
...আওনির একটি বিশেষ অন্যায় হলো, চেচনিয়া সম্মেলনে [ইসলামের ক্ষতিসাধনকারী সম্মেলনে] তার সাম্প্রতিক অংশগ্রহণ। [ডক্টর জিয়াব বিন সাদ গামেদি-র বক্তব্য সমাপ্ত হয়েছে।]
চেচনিয়া সম্মেলন সম্পর্কে জানার জন্য নিম্নের লিংকগুলো দ্রষ্টব্য-
https://www.youtube.com/watch?v=JsZXLUM7bjM
https://www.youtube.com/watch?v=30jbKmJ05Vw
https://www.youtube.com/watch?v=v3RcAFFwPng
উল্লিখিত লেখাটির মূল আরবি নিম্নরূপ-
... وبعد، فقد وَقَفتُ مُؤَخَّرًا على كتاب جديد بعنوان «تكفير أهل الشهادتين» لحاتم العوني، فقرأته من بابه إلى محرابه، فوجدتُ صاحبه رجلا مفتونا، قد جمع بين تأويل الأدلة وتعطيل الدلالة، ففيه مُنَاكَفَةٌ ظاهرة ومنازعة باردة. وحسبك أن كتابه المذكور قد جمع ثماني بوائق :
* لقد أَصل منهج غُلاةِ المرجئة بأدلة ظاهرُها الرحمة بأهل الكفر والزندقة - كغُلاة الشيعة والمستهزئين بشعائر الدين والمبدلين لأحكام الإسلام، وباطنُها تحريفُ لعقائد المسلمين।
* لقد سَوَّغ للجهلة من المسلمين مُوجِباتِ الكفر والضلال، من خلال توسعه في دعوى الضوابط والقيود التي عارَضَ بها ظواهر النصوص الشرعية، وخالف فيها إجماعات أهل السنة والجماعة।
* لقد ابتدع جُملةً من الأعذar التي تُسَوّغ لأئمة الرفض والتشيع البقاء على مُوجِبات كفرهم والتمادي في غيّهم وضلالهم، مما يخالف قواعد الشرع وأصول الإسلام، كاعتقادهم تحريف القرآن وتكفير سادات الصحابة وقذف عائشة أم المؤمنين।
* لقد زَوَّد الرافضة المشركين والزَّنَادِقة المستهزئين بشعائر الدين بجملة من الحُجَج العقلية التي لا تزيدهم إلا كفرًا وطغيانا وتطاولا على حُجَج أهل السنة والجماعة।
* لقد أَصل مَنْهَجَ العصرانيين والعقلانيين ومَنْ أَخَذ بأذنابهم من المنهزمين بطريق أو آخر। قال الله تعالى : هَأَنتُمْ هَؤُلَاءِ جَدَلْتُمْ عَنْهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فَمَن يُجَدِلُ اللهَ عَنْهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَم مَّن يَكُونُ عَلَيْهِمْ وَكِيلًا. (النساء : ١٠٩)
* لقد رَكَنَ إلى مُسَالمَةِ وملايَنةِ الرافضة المشركين والزنادقة المستهزئين بأحكام الدين بدعوى التحذير من منهج التكفيريين والإرهابيين।
* لقد تحامل - في هذا الكتاب وغيره - على أهل السنة، لا سيما أئمة الدعوة، والتعريض (أي : عَرَّضَ ) بسياسة الدولة السعودية في تبنيها لمنهج الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله. قلت : فكان من تدليساته الفاضحة قوله بأنّ (قوله : إِنَّ) الدَّوَاعِش خريجي (خريجو) كتب أئمة الدعوة و«الدرر السَّنِيَّة»! قال الله تعالى : كَبُرَتْ كَلِمَةً تَخْرُجُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ إِن يَقُولُونَ إِلَّا كَذِبًا (الكهف : ٥) ومَن استقرأ التاريخ - لا سِيمَا المُعَاصِرِ منه - علم يقينًا بأن أعظم أسباب خروج الخوارج والغلاة كالدواعش وغيرهم، هو ظهور غلاة المرجئة لا سيما مرجئة العصرا.
* لقد تظاهَرَت لغة الكتاب بالعُلُوّ والتعالي والعُجب والتمادي، والله عليم بالظالمين।
... ومِن بَوَائِق العَوْنِي مُشاركته الأخيرة في «مؤتمر الشيشان» (مؤتمر ضرار).

টিকাঃ
১. المَوْقِعُ الرَّسْمِيُّ لفضيلة الشيخ الدكتور ذياب بن- سعد آل حمدان الغامدي
১. 'ইরহাবি' শব্দটি আরবি إِرْهَابِي শব্দের বাংলা উচ্চারণ। অর্থ, ভীতিপ্রদর্শনকারী। إِزْهَاب শব্দ থেকে নির্গত تُرْهِبُونَ ক্রিয়া ব্যবহার করে কোরআন পাকের সুরা আনফালের ৬০ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুসলমানদেরকে আদেশ করেছেন- وَأَعِدُّوا لَهُم مَّا اسْتَطَعْتُم مِّن قُوَّةٍ وَمِن رِبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِ عَدُوَّ اللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ وَاخَرِينَ مِن دُونِهِمْ لَا تَعْلَمُونَهُمُ اللَّهُ يَعْلَمُهُمْ وَمَا تُنفِقُوا مِن شَيْءٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ يُوَفَّ إِلَيْكُمْ وَأَنتُمْ لَا تُظْلَمُونَ .
আর কাফেরদের [সাথে মোকাবেলার জন্য তোমাদের সাধ্যানুযায়ী শক্তি এবং প্রতিপালিত অশ্বাদি প্রস্তুত রাখ, যদ্বারা তোমরা আল্লাহর শত্রু, তোমাদের শত্রু এবং তাদের ব্যতীত অন্য লোকদেরকেও ভীতিপ্রদর্শন করবে, যাদেরকে তোমরা জান না, আল্লাহ তাদেরকে জানেন। আর তোমরা আল্লাহর রাস্তায় যা কিছুই ব্যয় করবে, তা-র সওয়াব। তোমাদেরকে পুরোপুরি দেওয়া হবে এবং তোমাদের প্রতি অবিচার করা হবে না।
১. চেচনিয়া রাশিয়ার একটি প্রজাতন্ত্র। এটি উত্তর ককেসাসে পূর্ব ইউরোপের সর্বদক্ষিণ অংশে অবস্থিত। প্রজাতন্ত্রটির রাজধানী গ্রোজনি শহর। ককেসাস বা ককেসিয়া ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যবর্তী সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত একটি অঞ্চল।
.. ناكفه الكلام : ١. عاوَدَهُ إيَّاه في عُنف وقابَلَهُ بمثل كلامه. يقال : ناكف الزوجان «وناگفَ الطفل أمه». ٢. أزعَجَه وضايقه. يقال : «ناكف والده بكثرة سؤاله - فؤاد
.۱. عطفُ الغُلاة» على «الخوارج» من قبيل عطف الخاص على العام، فإن المراد بالغلاة ههنا الخوارج الغلاة، وبتعبير آخر الغلاة من الخوارج.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00