📄 হজরত ওমর রা.-এর দৃষ্টিতে মুরতাদ হওয়া
১. আপনি জেনে এসেছেন, উল্লিখিত সকল ঘটনায় ফারুকে আজম রাজিয়াল্লাহু আনহুও সিদ্দিকে আকবার রাজিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গে ছিলেন এবং তাঁর পরামর্শে অংশীদার ছিলেন।
২. ফারুকে আজম রাজিয়াল্লাহু আনহু কয়েকজন মুরতাদ সম্পর্কে নিজের লোকদেরকে বলেছেন, তাদেরকে যেন তিন দিন পর্যন্ত ইসলামের দাওয়াত দেওয়া হয় এবং প্রতিদিন একটি করে রুটি দেওয়া হয়। তিন দিনের উপদেশের পরও যদি ইরতিদাদ [ইসলাম ধর্মত্যাগ] থেকে তাওবা না করে, তখন যেন হত্যা করে দেওয়া হয়। (২)
টিকাঃ
২. কাজি ইয়াজ প্রণীত 'শিফা'।
📄 হজরত উসমান গনি রা.-এর দৃষ্টিতে মুরতাদ হওয়া
১. উল্লিখিত হাদিসগুলোতে অতিবাহিত হয়েছে, হজরত উসমান রাজিয়াল্লাহু আনহু 'মুরতাদ হত্যা'কে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদেশ মনে করতেন এবং লোকদের দ্বারা তা সত্যায়ন করাতেন।
২. 'বাইহাকি'র সূত্রে 'কানজুল উম্মাল' কিতাবে বর্ণিত হয়েছে, হজরত উসমান রাজিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন,
مَنْ كَفَرَ بَعْدَ إِيْمَانِهِ طَائِعًا فَإِنَّهُ يُقْتَلُ.
যে ব্যক্তি ঈমান আনয়নের পর স্বেচ্ছায় কাফের হয়ে যাবে, তাকে হত্যা করা হবে। (১)? হাদিসের স্তর
৩. সুলাইমান বিন মুসা রাহিমাহুল্লাহ [মৃ. ১১৯ হি.] হজরত উসমান রাজিয়াল্লাহু আনহুর স্থায়ী কর্মপদ্ধতি এটিই বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মুরতাদকে তিনবার তাওবা করার জন্য বলতেন। এরপর যদি ইসলাম কবুল না করত, হত্যা করে দিতেন। (২)
৪. হাদিসের ইমাম আবদুর রাজ্জাক রাহিমাহুল্লাহ [মৃ. ২১১ হি.] উল্লেখ করেছেন, একবার এক মুরতাদকে হজরত যিনুরাইন রাজিয়াল্লাহু আনহুর নিকট উপস্থিত করা হয়েছে। তিনি তাকে তিনবার তাওবা করার আহ্বান করেছেন। সে গ্রহণ করেনি। তখন তাকে হত্যা করে দিয়েছেন। (৩)
৫. হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাজিয়াল্লাহু আনহু একদা একদল ইরাকি মুরতাদকে গ্রেফতার করে তাদের শাস্তি বিষয়ে পরামর্শ চেয়ে হজরত উসমান রাজিয়াল্লাহু আনহুর নিকটে চিঠি লিখেছেন। উত্তরে তিনি লিখেছেন,
اِعْرِضْ عَلَيْهِمْ دِينَ الحَقِّ، فَإِنْ قَبِلُوا فَخَلُّوا سَبِيلَهُمْ، وَإِنْ لَّمْ يَقْبَلُوا فَاقْتُلْهُمْ.
তাদের সামনে সত্য ধর্ম পেশ করুন। যদি গ্রহণ করে নেয়, তাহলে তাদেরকে ছেড়ে দিন। অন্যথায় হত্যা করুন। (১)
টিকাঃ
১. কানজুল উম্মাল, ১ : ৭৯
২. কানজুল উম্মাল, ১ : ৭৯
৩. কানজুল উম্মাল, ১ : ৭৯
১. কানজুল উম্মাল।
📄 হজরত আলি রা.-এর দৃষ্টিতে মুরতাদ হওয়া
১. ইমাম বুখারি রাহিমাহুল্লাহ উল্লেখ করেছেন, হজরত আলি রাজিয়াল্লাহু আনহু কয়েকজন মুরতাদকে হত্যা করেছেন। (২)
২. হজরত আবুত তুফাইল রাজিয়াল্লাহু আনহু [৩-১০২ হি.] বলেন, হজরত আলি রাজিয়াল্লাহু আনহু নাজিয়া গোত্রের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য বাহিনী প্রেরণ করেছেন। তাতে আমিও শরিক ছিলাম। আমরা দেখলাম, তাদের মধ্যে তিনটি দল ছিল- কিছু লোক প্রথমে খ্রিস্টান ছিল। তারপর মুসলমান হয়ে ইসলামের উপর অবিচল রয়েছে। কিছু লোক খ্রিস্টান ছিল এবং ঐ ধর্মের উপরই আছে। কিছু লোক ছিল এমন, যারা প্রথমে খ্রিস্টান ধর্ম বর্জন করে মুসলমান হয়ে গিয়েছিল। তারপর খ্রিস্টান ধর্মের দিকে ফিরে গেছে। আমাদের দলপতি এই তৃতীয় দলকে বললেন, নিজেদের চিন্তা থেকে তাওবা করে পুনরায় মুসলমান হয়ে যাও। তারা তা প্রত্যাখ্যান করল। তখন দলপতি আমাদেরকে আদেশ করলেন, আমরা তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লাম। পুরুষদেরকে হত্যা করলাম এবং শিশুদেরকে গ্রেফতার করলাম।
৩. আবদুল মালিক বিন উমায়ের রাহিমাহুল্লাহ [৩৩-১৩৬ হি.] বর্ণনা করেন, আমি হজরত আলি রাজিয়াল্লাহু আনহুর নিকট উপস্থিত ছিলাম, যখন মাসতুর বিন কাবিসাকে গ্রেফতার করে আনা হলো। সে ইসলাম ত্যাগ করে মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল। আলি রাজিয়াল্লাহু আনহু পায়ের তলা বা গোড়ালি দিয়ে লাথি মেরে তাকে হত্যা করার আদেশ করলেন। হাওলা
এই হলো ঐসকল খোলাফায়ে রাশেদিনের আমল, যাদের অনুসরণ করার জন্য মুসলিম উম্মাহকে আদেশ করা হয়েছে। তাঁদের সম্পর্কে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
عَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الْمَهْدِيِّينَ الرَّاشِدِينَ.
তোমাদের জন্য আমার সুন্নাহ এবং হেদায়েত ও সুপথপ্রাপ্ত খলিফাদের সুন্নাহ অনুসরণ করা জরুরি। (১)
টিকাঃ
২. সহিহ বুখারি।
১. সুনানে আবি দাউদ, হাদিস নং ৪৬০৯