📘 ঈমান-কুফর ও তাকফীর > 📄 সতর্কীকরণ

📄 সতর্কীকরণ


সতর্কীকরণ : জানা উচিত, মহান ফকিহগণের এ বক্তব্যের মর্ম কতক মূर्ख বুঝেছে, কোনো ব্যক্তির আকিদা ও উক্তিতে একটি আকিদা ও উক্তিও যদি ঈমানের অনুকূল থাকে, তাকে ঈমানদার মনে করতে হবে। তাদের এ বুঝ সঠিক নয়। কারণ, তা উদ্দেশ্য হলে পৃথিবীতে কোনো কাফের এমনকি ইবলিস শয়তানও কাফের থাকবে না। কেননা প্রত্যেক কাফেরের কোনো না কোনো উক্তি ও আকিদা তো ঈমানের অনুকূল অবশ্যই থাকে।

বরং ফকিহগণের উদ্দেশ্য হলো, কোনো ব্যক্তির মুখ থেকে যদি এমন কোনো শব্দ নিঃসৃত হয়, ভাষায় ও মানুষের ব্যবহারে যার বিভিন্ন অর্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যেগুলোর একটি গ্রহণ করলে শব্দটি কুফরি আকিদা থেকে বের হয়ে যায়, অন্য অর্থগুলো গ্রহণ করলে তা কুফরি আকিদা বলে বিবেচিত হয়, তাহলে মুফতি সাহেবের জন্য তার বক্তব্যের সঠিক অর্থ গ্রহণ করে তাকে ঈমানদার গণ্য করা আবশ্যক। অবশ্য সে নিজেই যদি স্পষ্ট করে বলে যে, কুফরি অর্থই তার উদ্দেশ্য, তাহলে ভিন্ন কথা।

মোদ্দাকথা, কোনো মুসলমানকে ভুলভাবে কাফের আখ্যা দেওয়াকে উল্লিখিত হাদিসে স্বয়ং আখ্যাদানকারী ব্যক্তির জন্য কুফরি সাব্যস্ত করা হয়েছে। এই কুফরি সাব্যস্ত করা চাই শুধু হুমকিদান ও ভীতিপ্রদর্শনের জন্য হোক যেমনটি কতিপয় ফকিহ বলেছেন, (১) অথবা তা দ্বারা প্রকৃত কুফরিই উদ্দেশ্য হোক, সর্বাবস্থায় হাদিস দ্বারা এ ফলাফল অবশ্যই বের হয় যে, ইসলামের দাবিদার কাউকে কাফের আখ্যা দেওয়ার ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক।

এ ভিত্তিতেই গবেষক আলেম ও ফকিহগণ এমন সব উক্তি ও আকিদার কারণে কোনো মুসলমানকে কাফের সাব্যস্ত করা জায়েজ মনে করেননি, যেগুলোর কুফরি হওয়ার ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে, অথবা ব্যাখ্যা করে সেগুলোর কোনো গ্রহণযোগ্য অর্থ নেওয়া সম্ভব হয়।

[সহিহ বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'ফায়জুল বারি'(২) কিতাবের ‘ইসতিতাবাতুল মুরতাদ্দিন'(৩) অধ্যায়ে হজরত সাইয়েদ আনওয়ার শাহ কাশ্মিরি রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন,

وَاعْلَمْ أَنَّ فِي كُتُبِ فِقْهِنَا أَنَّ مَنْ كَانَ فِيْهِ تِسْعُ وَتِسْعُوْنَ وَجْهَا مِنَ الكُفْرِ وَوَجْهُ مِنَ الْإِسْلَامِ، فَإِنَّهُ لَا يُحْكَمُ عَلَيْهِ بِالْكُفْرِ.

الْتَبَسَ هَذَا القَوْلُ عَلَى بَعْضٍ مَنْ لَا دِرَايَةَ لَهُمْ فِي الفِقْهِ، فَغَلِطُوْا فِي مُرَادِهِ، وَزَعَمُوْا أَنَّ أَحَدًا لَوْ أَتَى بِأَفْعَالِ الكُفْرِ عَدَدَ مَا ذَكَرْنَا، وَأَتَى بِفِعْلٍ وَاحِدٍ مِنَ الْإِسْلَامِ، فَإِنَّهُ لَا يَكْفُرُ.

هذَا الرَّعْمُ بَاطِلٌ ، لَيْسَ فِيْهِ أَدْنَى رَيْبٍ وَرِيْبَةٍ. كَيْفَ وَإِنَّ مُسْلِمًا لَوْ أَتَى بِفِعْلٍ مِنْ أَفْعَالِ الْكُفْرِ يَكْفُرُ، فَكَيْفَ إِذَا كَانَ جُلُّ أَفْعَالِهِ كُفْرًا!؟

وَإِنَّمَا كَانَتْ مَسْأَلَةُ الفُقَهَاءِ فِي جِنْسِ الأَقْوَالِ، فَنَقَلُوْهُ إِلَى الْأَفْعَالِ، وَمُرَادُهُمْ أَنَّ أَحَدًا لَوْ قَالَ كَلِمَةً احْتَمَلَتْ وَجْهَا مِنْ الْإِسْلَامِ، تَحْمِلُهَا عَلَيْهِ، وَلَا تَحْمِلُهَا عَلَى أَوْجُهِ الْكُفْرِ وَإِنْ كَثُرَتْ، لِأَنَّا مَا لَمْ نَتَبَيَّنِ الحَالَ وَلَمْ نَدْرِ أَنَّهُ أَرَادَ هَذَا الْاِحْتِمَالَ، لَا نَحْكُمُ عَلَيْهِ بِالْكُفْرِ بِتِلْكَ الْكَلِمَةِ المُحْتَمِلَةِ وَلَا تُبَادِرُ إِلَى الْإِكْفَارِ.

أَمَّا إِذَا تَبَيَّنَ غَيْهُ مِنْ رُشْدِهِ، وَانْفَصَلَ اللَّبَنُ عَنِ الرَّغْوَةِ، وَحَصْحَصَ الحق، وظهر الباطِلُ، وَلَمْ يَبْقَ أَمْرُهُ كَالْأَفْوَاهِ، تَنَقَّلَ مِنْ بَلَدٍ إِلَى بَلَدٍ، بَلْ أَعْلَنَ بِكُفْرِهِ عَلَى المَنَائِرِ وَالمَنَابِرِ، وَسَوَّدَ بِهِ الصَّحَائِفَ وَالدَّفَاتِرَ، فَإِنَّهُ كَافِرُ مُكَفِّرُ بِلا رَيْبٍ، وَلَا يَتَأَخَّرُ عَنْ إِكْفَارِهِ إِلَّا مُصَابُ أَوْ جَاهِلٌ.

وَلَوْ كَانَ مَعْنَى كَلَامِ الفُقَهَاءِ مَا فَهِمَ هَؤُلَاءِ المُصَابُوْنَ أَوِ الْجُهَالُ، لَمَا سَاغَ حُكْمُ الْكُفْرِ عَلَى أَحَدٍ أَبَدَ الدَّهْرِ، وَمَنْ يَعْجَزُ عَنِ إِخْرَاجِ احْتِمَالٍ ضَعِيف؟

জেনে রাখুন, আমাদের ফিকহের কিতাবসমূহে আছে- 'যে ব্যক্তির মধ্যে কুফরির ৯৯টি দিক আছে, আর ঈমানের ১টি দিক আছে, তার কাফের হওয়ার হুকুম দেওয়া হবে না।'

যাদের ফিকহের জ্ঞান নেই, তাদের কতকের নিকট উক্তিটি অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে। ফলে মর্ম বুঝতে তারা ভুল করেছে। তারা মনে করেছে, কোনো ব্যক্তি যদি উল্লিখিত সংখ্যক কুফরি কর্ম করে, আর একটিমাত্র ইসলামের কর্ম করে, তাহলে সে কাফের হবে না।

তাদের এ ধারণা বাতিল। এতে সামান্যতম সংশয় ও সন্দেহ নেই। এমন ধারণা কীভাবে সঠিক হয় যখন বাস্তবতা হলো, কোনো মুসলমান একটিমাত্র কুফরি কাজ করলেও কাফের হয়ে যায়। এমতাবস্থায় কেমন পরিণতি হবে ঐ ব্যক্তির, যার অধিকাংশ কর্ম কুফরি!?

বস্তুত ফকিহগণের বিষয়টি ছিল উক্তিসংশ্লিষ্ট। কিন্তু তারা একে কর্মের ক্ষেত্রে স্থানান্তর করেছে। (১) ফকিহগণের উদ্দেশ্য হলো, যদি কোনো ব্যক্তি এমন কোনো উক্তি করে, যা ইসলামের অনুকূল হওয়ার একটি সম্ভাবনা থাকে, আমরা তার সে অর্থ গ্রহণ করব। উক্তিটি কুফরি হওয়ার অনেক সম্ভাবনা থাকলেও সে অর্থ গ্রহণ করব না, যতক্ষণ না অবস্থা যাচাইপূর্বক জানব যে, সে উক্ত সম্ভাবনা গ্রহণ করেছে। এই যাচাই করার পূর্বে তাড়াহুড়া করে তাকে কাফের বলব না।

তবে যখন কারো গোমরাহি তার হেদায়েত থেকে সুস্পষ্টরূপে পৃথক হয়ে যাবে, দুধ ফেনা থেকে আলাদা হবে, সত্য প্রতিভাত হবে, মিথ্যা প্রকাশ পাবে, তার বিষয়টি মুখের কথার মতো থাকবে না, এক দেশ থেকে অন্য দেশে স্থানান্তরিত হবে, বরং সে মিনার ও মিম্বরে তার কুফরের ঘোষণা করবে, কুফর লিখে লিখে কাগজ-পত্র ও খাতা-খতিয়ান কালো করবে, তাহলে সে নিঃসন্দেহে কাফের আখ্যা পাওয়ার যোগ্য কাফের। তাকে কাফের বলা থেকে শুধু সে-ই পিছিয়ে থাকবে, যে মূর্খ বা (মস্তিস্কবিকৃতির) শিকার।

ফকিহগণের উক্তির অর্থ যদি সেটাই হত যা এসকল মূর্খ বা (মস্তিস্কবিকৃতির) শিকার লোকগুলো বুঝেছে, তাহলে কখনও কারো উপর কুফরের হুকুম আরোপিত হত না। কারণ, কে এমন আছে, যে (তার উক্তি বা কর্ম সঠিক হওয়ার) কোনো দুর্বল সম্ভাবনা দেখাতে অক্ষম হবে? -অনুবাদক।]

টিকাঃ
১. اليَوَاقِيْتُ لِلشَّعْرَانِي ..
২. فَيْضُ البَارِي ..
৩. اسْتِتَابَةُ المُرْتَدَّيْنَ ..
১. 'আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস' বিলুপ্ত করে তার স্থলে 'ধর্মনিরপেক্ষতা' প্রতিস্থাপন করা ও বলবৎ রাখা কর্ম না উক্তি, পাঠক ভেবে দেখুন। -অনুবাদক।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00