📘 ঈমান-কুফর ও তাকফীর > 📄 একটি সন্দেহের নিরসন

📄 একটি সন্দেহের নিরসন


হাদিসের সারকথা হলো, যাকে কাফের আখ্যা দেওয়া হলো সে যদি বাস্তবে কাফের না হয়, তাহলে আখ্যাদানকারী নিজে কাফের হয়ে যাবে। কিন্তু এখানে একটি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়- কোরআন মাজিদের উক্তির আলোকে কুফরের যে সংজ্ঞা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে, তা বাহ্যত ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না, যে ভুলক্রমে কাউকে কাফের আখ্যা দিয়েছে। কারণ, এমন উক্তিকারী না আল্লাহ তাআলাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করেছে, না রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিথ্যুক বলেছে।

তাই কতিপয় ফকিহ হাদিসটিকে নিছক হুমকিদান ও ভীতিপ্রদর্শন অর্থে গ্রহণ করেছেন, যেভাবে নামাজ বর্জন করার ক্ষেত্রে فَقَدْ كَفَرَ তাহলে কাফের হয়ে গেছে/যাবে। হুমকিদানরূপে ব্যবহৃত হয়েছে। তা দ্বারা প্রকৃত কুফর উদ্দেশ্য নয়।

['ইকফারুল মুলহিদিন' কিতাবের ৫১ নং পৃষ্ঠার বর্ণনা অনুসারে] 'মুখতাসারু মুশকিলিল আসার'(১) কিতাবে এবং ইমাম গাজ্জালি রাহিমাহুল্লাহ রচিত 'ইসারুল হাক্কি আলাল খালকি'(২) কিতাবে হাদিসটির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কাউকে কাফের আখ্যা দেওয়া দ্বারা এখানে উদ্দেশ্য হলো, তার আকিদা ও চিন্তাধারা কুফর। অতএব যদি প্রকৃতপক্ষে তার আকিদায় কোনো কুফর না থাকে, বরং সকল আকিদা ঈমানের হয়, তাহলে যেন ঈমানকেই কুফর বলা হলো। বলাবাহুল্য, ঈমানকে কুফর বলা নিঃসন্দেহে আল্লাহ ও রাসুলকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করার নামান্তর। কোরআন পাকে ইরশাদ হয়েছে-

وَمَن يَكْفُرْ بِالْإِيمَانِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَسِرِينَ .

যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে কুফর করবে [যে ব্যক্তি ঈমানকে অস্বীকার করবে], তার আমল নিষ্ফল হয়ে যাবে। আর পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। [সুরা মায়িদা : ৫]

মোটকথা, যে ব্যক্তির আকিদায় কোনো কুফর নেই, আমল তার যত মন্দই হোক, তাকে কাফের বলা জায়েজ নেই। উপরন্তু এমন ব্যক্তিকে কাফের আখ্যাদান করা দ্বারা স্বয়ং আখ্যাদানকারীর ঈমান ঝুঁকিতে পড়ে যায়। কারণ, তাকে কাফের বলার ফল এটিই দাঁড়ায় যে, যেন ঈমানকেই সে কুফর অভিহিত করছে।

এ ব্যাখ্যা দ্বারা স্পষ্ট হয়ে গেল, যার মধ্যে কোনো কুফরি আকিদা থাকে, আর সে ভিত্তিতে কেউ তাকে কাফের আখ্যা দেয়, তাহলে আখ্যাদানকারী সর্বসম্মতিক্রমে কাফের হবে না। কেননা সে ঈমানকে কুফর অভিহিত করেনি। যদিও ফকিহ ও গবেষক আলেমগণ এমতাবস্থায়ও তাকে কাফের আখ্যাদানে তাড়াহুড়া করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।

বস্তুত যতক্ষণ পর্যন্ত কারো কুফরি আকিদা বা কুফরি উক্তির কোনো জায়েজ ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়, তাকে কাফের বলা ফকিহগণ জায়েজ মনে করেননি। তবুও যদি তাড়াহুড়া করে কেউ তাকে কাফের বলে ফেলে, তাহলে ফকিহগণের সর্বসম্মতিক্রমে সে কাফের হবে না।

অনুরূপভাবে যদি কোনো কারণে কারো আকিদা কুফরি হওয়ার ধারণা হয়, উদাহরণস্বরূপ কারো মনে হলো, অমুক ব্যক্তি -আল্লাহর পানাহ!- কোনো নবির অবমাননা করেছে বা আল্লাহর শানে বেয়াদবি করেছে, এমতাবস্থায় জরুরি ছিল, এই ধারণা বাস্তব কি-না, তা সে যাচাই করত এবং অবাস্তব হলে তা থেকে নিবৃত্ত হতো, কিন্তু অসতর্কতাবশত তাকে কাফের বলে ফেলেছে, এমতাবস্থায়ও এ ব্যক্তি যেহেতু ঈমানকে কুফর অভিহিত করেনি, তাই কাফের হবে না। এটি ভিন্ন বিষয় যে, সতর্কতা অবলম্বন না করার কারণে সে গুনাহগার হবে।

ফকিহ আলেমগণ এ স্তরের সতর্কতা অবলম্বন করার আদেশ করেছেন যে, যদি কারো থেকে এমন কোনো দ্ব্যর্থবোধক উক্তি প্রকাশ পায়, যার ১০০টি সম্ভাবনার মধ্যে ৯৯টি কুফরি হওয়ার পক্ষে হয়, আর সঠিক হওয়ার ১টি সম্ভাবনা থাকে, তাহলে ৯৯টি সম্ভাবনা উপেক্ষা করে ঐ ১টি সম্ভাবনার দিকে ধাবিত হওয়া, এবং তাকে কাফের আখ্যা দেওয়া থেকে বিরত থাকা মুফতির জন্য আবশ্যক। কিন্তু সে নিজেই যদি তার কোনো উক্তি বা কর্ম দ্বারা স্পষ্ট করে দেয় যে, কুফরি হওয়ার দিকটিই তার উদ্দেশ্য, তাহলে মুফতি সাহেব আর কী করবেন!

'ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি'তে এ বিষয়টিকেই এভাবে বলা হয়েছে-

টিকাঃ
১. مُخْتَصَرُ مُشْكِلِ الآثار কিতাবটি ইমাম আবু জাফর তাহাবি রাহিমাহুল্লাহ [২৩৮- ৩২১ হি.) রচিত شرح مشكل الآثار কিতাবের সংক্ষিপ রূপ। সংক্ষিপ্তকারী হলেন ইমাম ইবনে রুশদ আল-জাদ রাহিমাহুল্লাহ (মৃ. ৫২০ হি.]; মতান্তরে আল্লামা আবুল ওয়ালিদ বাজি রাহিমাহুল্লাহ (মৃ. ৪৭৪ হি.)। -অনুবাদক।
২. إيْنَارُ الحَقِّ عَلَى الخَلْقِ ..

📘 ঈমান-কুফর ও তাকফীর > 📄 সতর্কীকরণ

📄 সতর্কীকরণ


সতর্কীকরণ : জানা উচিত, মহান ফকিহগণের এ বক্তব্যের মর্ম কতক মূर्ख বুঝেছে, কোনো ব্যক্তির আকিদা ও উক্তিতে একটি আকিদা ও উক্তিও যদি ঈমানের অনুকূল থাকে, তাকে ঈমানদার মনে করতে হবে। তাদের এ বুঝ সঠিক নয়। কারণ, তা উদ্দেশ্য হলে পৃথিবীতে কোনো কাফের এমনকি ইবলিস শয়তানও কাফের থাকবে না। কেননা প্রত্যেক কাফেরের কোনো না কোনো উক্তি ও আকিদা তো ঈমানের অনুকূল অবশ্যই থাকে।

বরং ফকিহগণের উদ্দেশ্য হলো, কোনো ব্যক্তির মুখ থেকে যদি এমন কোনো শব্দ নিঃসৃত হয়, ভাষায় ও মানুষের ব্যবহারে যার বিভিন্ন অর্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যেগুলোর একটি গ্রহণ করলে শব্দটি কুফরি আকিদা থেকে বের হয়ে যায়, অন্য অর্থগুলো গ্রহণ করলে তা কুফরি আকিদা বলে বিবেচিত হয়, তাহলে মুফতি সাহেবের জন্য তার বক্তব্যের সঠিক অর্থ গ্রহণ করে তাকে ঈমানদার গণ্য করা আবশ্যক। অবশ্য সে নিজেই যদি স্পষ্ট করে বলে যে, কুফরি অর্থই তার উদ্দেশ্য, তাহলে ভিন্ন কথা।

মোদ্দাকথা, কোনো মুসলমানকে ভুলভাবে কাফের আখ্যা দেওয়াকে উল্লিখিত হাদিসে স্বয়ং আখ্যাদানকারী ব্যক্তির জন্য কুফরি সাব্যস্ত করা হয়েছে। এই কুফরি সাব্যস্ত করা চাই শুধু হুমকিদান ও ভীতিপ্রদর্শনের জন্য হোক যেমনটি কতিপয় ফকিহ বলেছেন, (১) অথবা তা দ্বারা প্রকৃত কুফরিই উদ্দেশ্য হোক, সর্বাবস্থায় হাদিস দ্বারা এ ফলাফল অবশ্যই বের হয় যে, ইসলামের দাবিদার কাউকে কাফের আখ্যা দেওয়ার ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক।

এ ভিত্তিতেই গবেষক আলেম ও ফকিহগণ এমন সব উক্তি ও আকিদার কারণে কোনো মুসলমানকে কাফের সাব্যস্ত করা জায়েজ মনে করেননি, যেগুলোর কুফরি হওয়ার ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে, অথবা ব্যাখ্যা করে সেগুলোর কোনো গ্রহণযোগ্য অর্থ নেওয়া সম্ভব হয়।

[সহিহ বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'ফায়জুল বারি'(২) কিতাবের ‘ইসতিতাবাতুল মুরতাদ্দিন'(৩) অধ্যায়ে হজরত সাইয়েদ আনওয়ার শাহ কাশ্মিরি রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন,

وَاعْلَمْ أَنَّ فِي كُتُبِ فِقْهِنَا أَنَّ مَنْ كَانَ فِيْهِ تِسْعُ وَتِسْعُوْنَ وَجْهَا مِنَ الكُفْرِ وَوَجْهُ مِنَ الْإِسْلَامِ، فَإِنَّهُ لَا يُحْكَمُ عَلَيْهِ بِالْكُفْرِ.

الْتَبَسَ هَذَا القَوْلُ عَلَى بَعْضٍ مَنْ لَا دِرَايَةَ لَهُمْ فِي الفِقْهِ، فَغَلِطُوْا فِي مُرَادِهِ، وَزَعَمُوْا أَنَّ أَحَدًا لَوْ أَتَى بِأَفْعَالِ الكُفْرِ عَدَدَ مَا ذَكَرْنَا، وَأَتَى بِفِعْلٍ وَاحِدٍ مِنَ الْإِسْلَامِ، فَإِنَّهُ لَا يَكْفُرُ.

هذَا الرَّعْمُ بَاطِلٌ ، لَيْسَ فِيْهِ أَدْنَى رَيْبٍ وَرِيْبَةٍ. كَيْفَ وَإِنَّ مُسْلِمًا لَوْ أَتَى بِفِعْلٍ مِنْ أَفْعَالِ الْكُفْرِ يَكْفُرُ، فَكَيْفَ إِذَا كَانَ جُلُّ أَفْعَالِهِ كُفْرًا!؟

وَإِنَّمَا كَانَتْ مَسْأَلَةُ الفُقَهَاءِ فِي جِنْسِ الأَقْوَالِ، فَنَقَلُوْهُ إِلَى الْأَفْعَالِ، وَمُرَادُهُمْ أَنَّ أَحَدًا لَوْ قَالَ كَلِمَةً احْتَمَلَتْ وَجْهَا مِنْ الْإِسْلَامِ، تَحْمِلُهَا عَلَيْهِ، وَلَا تَحْمِلُهَا عَلَى أَوْجُهِ الْكُفْرِ وَإِنْ كَثُرَتْ، لِأَنَّا مَا لَمْ نَتَبَيَّنِ الحَالَ وَلَمْ نَدْرِ أَنَّهُ أَرَادَ هَذَا الْاِحْتِمَالَ، لَا نَحْكُمُ عَلَيْهِ بِالْكُفْرِ بِتِلْكَ الْكَلِمَةِ المُحْتَمِلَةِ وَلَا تُبَادِرُ إِلَى الْإِكْفَارِ.

أَمَّا إِذَا تَبَيَّنَ غَيْهُ مِنْ رُشْدِهِ، وَانْفَصَلَ اللَّبَنُ عَنِ الرَّغْوَةِ، وَحَصْحَصَ الحق، وظهر الباطِلُ، وَلَمْ يَبْقَ أَمْرُهُ كَالْأَفْوَاهِ، تَنَقَّلَ مِنْ بَلَدٍ إِلَى بَلَدٍ، بَلْ أَعْلَنَ بِكُفْرِهِ عَلَى المَنَائِرِ وَالمَنَابِرِ، وَسَوَّدَ بِهِ الصَّحَائِفَ وَالدَّفَاتِرَ، فَإِنَّهُ كَافِرُ مُكَفِّرُ بِلا رَيْبٍ، وَلَا يَتَأَخَّرُ عَنْ إِكْفَارِهِ إِلَّا مُصَابُ أَوْ جَاهِلٌ.

وَلَوْ كَانَ مَعْنَى كَلَامِ الفُقَهَاءِ مَا فَهِمَ هَؤُلَاءِ المُصَابُوْنَ أَوِ الْجُهَالُ، لَمَا سَاغَ حُكْمُ الْكُفْرِ عَلَى أَحَدٍ أَبَدَ الدَّهْرِ، وَمَنْ يَعْجَزُ عَنِ إِخْرَاجِ احْتِمَالٍ ضَعِيف؟

জেনে রাখুন, আমাদের ফিকহের কিতাবসমূহে আছে- 'যে ব্যক্তির মধ্যে কুফরির ৯৯টি দিক আছে, আর ঈমানের ১টি দিক আছে, তার কাফের হওয়ার হুকুম দেওয়া হবে না।'

যাদের ফিকহের জ্ঞান নেই, তাদের কতকের নিকট উক্তিটি অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে। ফলে মর্ম বুঝতে তারা ভুল করেছে। তারা মনে করেছে, কোনো ব্যক্তি যদি উল্লিখিত সংখ্যক কুফরি কর্ম করে, আর একটিমাত্র ইসলামের কর্ম করে, তাহলে সে কাফের হবে না।

তাদের এ ধারণা বাতিল। এতে সামান্যতম সংশয় ও সন্দেহ নেই। এমন ধারণা কীভাবে সঠিক হয় যখন বাস্তবতা হলো, কোনো মুসলমান একটিমাত্র কুফরি কাজ করলেও কাফের হয়ে যায়। এমতাবস্থায় কেমন পরিণতি হবে ঐ ব্যক্তির, যার অধিকাংশ কর্ম কুফরি!?

বস্তুত ফকিহগণের বিষয়টি ছিল উক্তিসংশ্লিষ্ট। কিন্তু তারা একে কর্মের ক্ষেত্রে স্থানান্তর করেছে। (১) ফকিহগণের উদ্দেশ্য হলো, যদি কোনো ব্যক্তি এমন কোনো উক্তি করে, যা ইসলামের অনুকূল হওয়ার একটি সম্ভাবনা থাকে, আমরা তার সে অর্থ গ্রহণ করব। উক্তিটি কুফরি হওয়ার অনেক সম্ভাবনা থাকলেও সে অর্থ গ্রহণ করব না, যতক্ষণ না অবস্থা যাচাইপূর্বক জানব যে, সে উক্ত সম্ভাবনা গ্রহণ করেছে। এই যাচাই করার পূর্বে তাড়াহুড়া করে তাকে কাফের বলব না।

তবে যখন কারো গোমরাহি তার হেদায়েত থেকে সুস্পষ্টরূপে পৃথক হয়ে যাবে, দুধ ফেনা থেকে আলাদা হবে, সত্য প্রতিভাত হবে, মিথ্যা প্রকাশ পাবে, তার বিষয়টি মুখের কথার মতো থাকবে না, এক দেশ থেকে অন্য দেশে স্থানান্তরিত হবে, বরং সে মিনার ও মিম্বরে তার কুফরের ঘোষণা করবে, কুফর লিখে লিখে কাগজ-পত্র ও খাতা-খতিয়ান কালো করবে, তাহলে সে নিঃসন্দেহে কাফের আখ্যা পাওয়ার যোগ্য কাফের। তাকে কাফের বলা থেকে শুধু সে-ই পিছিয়ে থাকবে, যে মূর্খ বা (মস্তিস্কবিকৃতির) শিকার।

ফকিহগণের উক্তির অর্থ যদি সেটাই হত যা এসকল মূর্খ বা (মস্তিস্কবিকৃতির) শিকার লোকগুলো বুঝেছে, তাহলে কখনও কারো উপর কুফরের হুকুম আরোপিত হত না। কারণ, কে এমন আছে, যে (তার উক্তি বা কর্ম সঠিক হওয়ার) কোনো দুর্বল সম্ভাবনা দেখাতে অক্ষম হবে? -অনুবাদক।]

টিকাঃ
১. اليَوَاقِيْتُ لِلشَّعْرَانِي ..
২. فَيْضُ البَارِي ..
৩. اسْتِتَابَةُ المُرْتَدَّيْنَ ..
১. 'আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস' বিলুপ্ত করে তার স্থলে 'ধর্মনিরপেক্ষতা' প্রতিস্থাপন করা ও বলবৎ রাখা কর্ম না উক্তি, পাঠক ভেবে দেখুন। -অনুবাদক।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00