📄 সতর্কীকরণ
সতর্কীকরণ : সাহাবা, তাবেঈ ও ইমামগণের সুস্পষ্ট বক্তব্যগুলো দ্বারা পরিষ্কার হয়ে গেল, কোরআন-হাদিসের অপব্যাখ্যাকারীকে কাফের সাব্যস্ত না করার নীতিটি ব্যাপক নয়। বস্তুত দীনের 'জরুরি' বিষয়গুলোতে যে ব্যাখ্যা করা হয়, তা ব্যাখ্যা নয়, বরং বিকৃতি ও ইলহাদ। তা উম্মাহর ঐকমত্যে কুফর। আল্লাহ ও রাসুলের উক্তিসমূহে ব্যাখ্যা করলে ব্যক্তি যদি কখনোই কাফের না হয়, (৩) তাহলে শয়তানও কাফের হবে না। কারণ, সে-ও তার কর্মের ব্যাখ্যা পেশ করেছে; বলেছে-
خَلَقْتَنِي مِن نَّارٍ وَخَلَقْتَهُ مِن طِينٍ.
আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন আগুন থেকে। আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে। (১)
তদ্রূপ মূর্তিপূজক মুশরিকরাও কাফের হবে না। কারণ, স্বয়ং কোরআন মাজিদে তাদের ব্যাখ্যা বর্ণিত হয়েছে-
مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى.
আমরা তো তাদের [মূর্তিগুলোর] উপাসনা কেবল এ জন্য করি, যেন তারা আমাদেরকে আল্লাহর ঘনিষ্ঠ করে দেয়। [সুরা যুমার : ৩]
এ থেকে পরিষ্কার হয়ে গেল, যে ব্যাখ্যা কোরআন-হাদিসের কোনো সুস্পষ্ট উক্তির বা উম্মাহর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত বা জরুরিয়াতে দীনের বিপরীত হয়, তা ব্যাখ্যা নয়; বরং বিকৃতি ও রাসুলকে মিথ্যুক সাব্যস্ত করার নামান্তর। তার অপর নাম ইলহাদ ও যান্দাকা।
টিকাঃ
১. الشفا
২. পৃ. ১২১
৩. এ স্থানের উর্দু বাক্যের শাব্দিক অর্থ হলো, 'যদি কুফরি প্রতিহত করার জন্য ব্যাখ্যাকে সর্বাবস্থায় যথেষ্ট মনে করা হয়'।
১. সুরা সোয়াদ: ৭৬