📘 ঈমান-কুফর ও তাকফীর > 📄 ব্যাখ্যা ও অপব্যাখ্যার পার্থক্য

📄 ব্যাখ্যা ও অপব্যাখ্যার পার্থক্য


ثُمَّ التَّأْوِيلُ تَأْوِيلَانِ : تَأْوِيْلٌ لَا يُخَالِفُ قَاطِعًا مِنَ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ وَاتَّفَاقَ الْأُمَّةِ، وَتَأْوِيلُ يُصَادِمُ مَا ثَبَتَ بِقَاطِعٍ، فَذَلِكَ الزَّنْدَقَةُ.

فَكُلُّ مَنْ أَنْكَرَ رُؤْيَةَ اللَّهِ تَعَالَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ، أَوْ أَنْكَرَ عَذَابَ الْقَبْرِ وَسُؤَالَ الْمُنْكَرِ وَالنَّكِيْرِ، وَأَنْكَرَ الصِّرَاطَ وَالْحِسَابَ، سَوَاءٌ قَالَ : لَا أَثِقُ بِهِؤُلَاءِ الرُّوَاةِ، أَوْ قَالَ : أَيْقُ بِهِمْ، لَكِنَّ الْحَدِيثَ مُؤَوَّلٌ ، ثُمَّ ذَكَرَ تَأْوِيلًا فَاسِدًا لَمْ يُسْمَعْ مِنْ قَبْلِهِ، فَهُوَ الزِّنْدِيقُ.

أَوْ قَالَ : إِنَّ النَّبِيَّ ﷺ خَاتَمُ النُّبُوَّةِ، وَلَكِنَّ مَعْنَى هَذَا الكَلَامِ أَنَّهُ لَا يَجُوزُ أَنْ يُسَمَّى بَعْدَهُ أَحَدٌ بِالنَّبِيِّ؛ وَأَمَّا مَعْنَى النُّبُوَّةِ وَهُوَ كَوْنُ الإِنْسَانِ مَبْعُوْنًا مِنَ اللهِ تَعَالَى إِلَى الخَلْقِ مُفْتَرَضَ الطَّاعَةِ مَعْصُوْمًا مِنَ الذُّنُوبِ وَمِنَ الْبَقَاءِ عَلَى الْخَطَأُ فِيمَا يَرَى، فَهُوَ مَوْجُودُ فِي الْأَئِمَّةِ بَعْدَهُ، فَذَلكَ الزَّنْدِيقُ.

তারপর ব্যাখ্যা দুই প্রকার- এক প্রকার হলো, যা কোরআন- হাদিসের অকাট্য বিষয় ও উম্মাহর সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের বিরোধী নয়। দ্বিতীয় হলো, যা অকাট্যভাবে প্রমাণিত সিদ্ধান্তের সাথে সাংঘর্ষিক। সেটাই হলো যান্দাকা। তো যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা বান্দার দৃষ্টিগোচর হওয়াকে অস্বীকার করবে, অথবা কবরের আজাব এবং মুনকার-নাকিরের জিজ্ঞাসাবাদকে অস্বীকার করবে, অথবা পুলসিরাত ও হিসাব-নিকাশকে অবিশ্বাস করবে, অস্বীকার ও অবিশ্বাসের ভিত্তিরূপে যা-ই উল্লেখ করুক; যেমন বলল, এসবের বর্ণনাকারীগণের উপর আমার আস্থা নেই, অথবা আস্থা আছে, তবে হাদিসটি ব্যাখ্যাসাপেক্ষ, তারপর এমন কোনো ব্যাখ্যা উল্লেখ করল যা পূর্বে শোনা যায়নি এবং তা ভুল, তাহলে সে যিন্দিক।

অথবা বলল, হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষনবি, কিন্তু তার অর্থ হলো তাঁর পরবর্তী কাউকে নবি বলা যাবে না। তবে নবুওয়াতের মর্ম বাকি আছে। নবুওয়াতের মর্ম হলো, স্রষ্টার পক্ষ থেকে সৃষ্টিকুলের প্রতি এমন কোনো মানুষ প্রেরিত [নির্বাচিত] হওয়া, যার আনুগত্য করা জরুরি, এবং যিনি নিষ্পাপ ও নিজের সিদ্ধান্তে ভুলের উপর অবিচল থাকা থেকে পবিত্র। আর এ মর্ম পরবর্তী ইমামদের মধ্যে বিদ্যমান আছে, তাহলে সে যিন্দিক। (১)

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অবিশ্বাস করার এই ৪র্থ রূপ- যার পারিভাষিক নাম যান্দাকা ও ইলহাদ, তা মূলত মুনাফিকির একটি প্রকার। এটি সাধারণ মুনাফিকির তুলনায় অধিক ক্ষতিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তিকালের পর যখন ওহির ধারাবাহিকতা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে; ফলে কারো মনে লুকিয়ে থাকা নিফাক জানার কোনো অকাট্য মাধ্যম আমাদের নিকট নেই, তখন বর্তমানে শুধু ঐ সকল লোককেই মুনাফিক বলা যাবে, যাদের থেকে ইসলামের দাবিদার হওয়ার পাশাপাশি এমন কোনো কথা ও কাজ প্রকাশ পায়, যা তাদের মনের কুফরের ইঙ্গিত বহন করে।

যান্দাকা ও ইলহাদ তারই একটি প্রকার। এ কারণেই 'তাফসিরে ইবনে কাসির' এবং সহিহ বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'উমদাতুল কারি'তে সুরা বাকারার فِي قُلُوْبِهِمْ مَرَضٌ আয়াতের অধীনে ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহর [৯৩-১৭৯ হি.] এ উক্তি উল্লেখ করা হয়েছে-

الْمُنَافِقُ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ هُوَ الزَّنْدِيقُ الْيَوْمَ.

বর্তমান যুগের যিন্দিকই হলো রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগের মুনাফিক।

অর্থাৎ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের পর কারো মনে কুফর ও মুনাফিকি যতই লুকিয়ে থাকুক, তা জানার মাধ্যম আমাদের নিকট না থাকার কারণে আমরা তাকে কাফের ও মুনাফিক বলতে পারি না। বর্তমানে মুনাফিকির একটি প্রকারই অবশিষ্ট আছে, যাকে যান্দাকা বলা হয়। তা হলো ইসলামের দাবিদার ও শরিয়তের বিধিবিধানের অনুসরণকারী হওয়ার পাশাপাশি কোনো কুফরি বিশ্বাস লালন করা, অথবা 'জরুরিয়াতে দীনে'র অসার ব্যাখ্যা করে তার সর্বসম্মত মর্ম বিকৃত করা।

হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাজ্জালি রাহিমাহুল্লাহ(১) ইলহাদ ও যান্দাকার বিরাট ক্ষতি ও ভয়াবহতার প্রতি লক্ষ্য রেখে 'ফায়সালুত তাফরিকাতি বাইনাল ইসলামি ওয়ায যানদাকাতি(২) শিরোনামে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাতে তিনি কোরআন-হাদিস এবং উক্তি ও যুক্তির আলোকে ব্যাখ্যা ও বিকৃতির মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট করেছেন। তিনি সাব্যস্ত করেছেন, মুসলিম সমাজে যিন্দিক ও মুলহিদদের কোনো স্থান নেই। নিজেরা মুসলমান হওয়ার দাবি করলেও অকাট্য দলিলের ভিত্তিতে তারা ইসলামের সীমানা থেকে বাইরে।

ইসলামের কোনো দাবিদারকে কাফের সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে যে সতর্কতা রক্ষা করা আবশ্যক, সেদিকে লক্ষ্য রেখে গাজ্জালি রাহিমাহুল্লাহ তাঁর এ গ্রন্থে স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখার মতো একটি উপদেশ দিয়েছেন, এবং একটি নীতি পেশ করেছেন। নিম্নে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরা হচ্ছে-

فَضْلُ : ... اِعْلَمْ أَنَّ شَرْحَ مَا يُكَفَّرُ بِهِ وَمَا لَا يُكَفَّرُ بِهِ يَسْتَدْعِيْ تَفْصِيلًا طَوِيلًا يَفتَقِرُ إِلَى ذِكْرِ كُلِّ المَقَالَاتِ والمَذَاهِبِ، وَذِكْرِ شُبْهَةِ كُلَّ وَاحِدٍ ودَلِيلِهِ، وَوَجْهِ بُعْدِهِ عَنِ الظَّاهِرِ وَوَجْهِ تَأْوِيلِهِ، وَذَلِكَ لَا تَحْوِيهِ مُجَلَّدَاتُ، وَلَيْسَ يَسْمَحُ الشَّرْحِ ذلِكَ أَوْقَاتِي، فَأَقْتَنِعُ الآنَ بِوَصِيَّةٍ وَقَانُوْنٍ.

أَمَّا الوَصِيَّةُ فَأَنْ تَكُفَّ لِسَانَكَ عَنْ أَهْلِ القِبْلَةِ مَا أَمْكَنَكَ مَا دَامُوْا قَائِلِينَ : «لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللهِ» غَيْرَ مُنَاقِضِيْنَ لَهَا. والمُنَاقَضَةُ تَجْوِيزُهُمُ الْكِذْبَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ بِعُذْرِ أَوْ غَيْرِ عُذْرٍ؛ فَإِنَّ التَّكْفِيرَ فِيهِ خَطَرُ، وَالسُّكُوْتَ لَا خَطَرَ فِيْهِ.

وأَمَّا القَانُونُ فَهُوَ أَنْ تَعْلَمَ أَنَّ النَّظَرِيَّاتِ قِسْمَانِ : قِسْمُ يَتَعَلَّقُ بأُصُولِ العَقَائِدِ، وَقِسْمُ يَتَعَلَّقُ بِالفُرُوعِ، والأصول الإيمان باللهِ وَبِرَسُولِهِ وباليَوْمِ الآخِرِ، وَمَا عَدَاهُ فُرُوْعُ.

وَاعْلَمْ أَنَّ الخَطَأُ فِي أَصْلِ الإِمَامَةِ وَتَعَيُّنِهَا وَشُرُوطِهَا وَمَا يَتَعَلَّقُ بِهَا، لَا يُوْجِبُ شَيْءٌ مِنْهُ تَكْفِيرًا، فَقَدْ أَنْكَرَ ابْنُ كَيْسَانَ أَصْلَ وُجُوْبِ الإمامَةِ، ويَلْزَمُهُ تَكْفِيرُهُ. وَلَا يُلْتَفَتُ إِلَى قَوْمٍ يُعَظِّمُوْنَ أَمْرَ الإمامَةِ ويَجْعَلُوْنَ الإيمان بالإِمَامِ مَقْرُوْنًا بالإيمان بالله وبرسوله وإِلَى خُصُوْمِهِمْ المُكَفِّرِيْنَ لَهُمْ بِمُجَرَّدِ مَذْهَبِهِمْ فِي الإِمَامَةِ، فَكُلُّ ذَلِكَ إِسْرَافُ، إِذْ لَيْسَ فِي وَاحِدٍ مِنَ القَوْلَيْنِ تَكْذِيبُ الرَّسُوْلِ ﷺ أَصْلًا.

وَمَهُمَا وُجِدَ التَّكْذِيبُ وَجَبَ التَّكْفِيرُ وَإِنْ كَانَ فِي الفُرُوعِ، فَلَوْ قَالَ قائِلُ مَثَلًا : البَيْتُ الَّذِي فِي مَكَّةَ لَيْسَ هِيَ الْكَعْبَةُ الَّذِي أَمَرَ اللهُ بِحَجِّهَا، فهذَا كُفْرُ، إِذْ قَدْ ثَبَتَ تَوَاتُرًا عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ خِلَافُهُ. وَلَوْ أَنْكَرَ شَهَادَةَ الرَّسُوْلِ لِذلِكَ البَيْتِ بِأَنَّهُ الكَعْبَةُ، لَا يَنْفَعُهُ إِنْكَـارُهُ، بَلْ يُعْلَمُ قَطْعًا أَنَّهُ مُعَانِدُ فِي إِنْكَارِهِ، إِلَّا أَنْ يَكُونَ قَرِيبَ عَهْدٍ بالإسلامِ وَلَمْ يَتَوَاتَرْ عِنْدَهُ ذَلِكَ.

وكَذلِكَ مَنْ نَسَبَ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا إِلَى الفَاحِشَةِ وَقَدْ نَزَلَ القُرْآنُ بِبَرَاءَتِهَا، فَهُوَ كَافِرُ، لِأَنَّ هَذَا وَأَمْثَالَهُ لَا يُمْكِنُ إِلَّا بِتَكْذِيبٍ أَوْ إِنْكَارِ والتَّوَاتُرُ يُنْكِرُهُ الإِنسَانُ بِلِسَانِهِ، وَلَا يُمْكِنُهُ أَنْ يَجْهَلَهُ بِقَلْبِهِ. نَعَمْ، لَوْ أَنْكَرَ مَا ثَبَتَ بِأَخْبَارِ الآحَادِ، فَلَا يَلْزَمُهُ بِهِ الكُفْرُ. وَلَوْ أَنْكَرَ مَا ثَبَتَ بِالْإِجْمَاعِ فَهَذَا فِيْهِ نَظَرُ، لِأَنَّ مَعْرِفَةَ كَوْنِ الإجْمَاعِ حُجَّةً مُختَلَفُ فِيْهِ، فَهَذَا حُكْمُ الفُرُوعِ.

وَأَمَّا الأُصُولُ الثَّلَاثَةُ فَكُلُّ مَا لَمْ يَحْتَمِلِ التَّأْوِيلَ فِي نَفْسِهِ، وَتَوَاتَرَ نَقْلُه، وَلَمْ يُتَصَوَّرُ أَنْ يَقُوْمَ بُرْهَانُ عَلَى خِلَافِهِ، فَخِلَافُهُ تَكْذِيبُ مَحْضُ. وَمِثَالُهُ مَا ذَكَرْنَاهُ مِنْ حَشْرِ الأَجْسَادِ وَالْجَنَّةِ وَالنَّارِ وَإِحَاطَةِ عِلْمِ اللَّهِ تَعَالَى بِتَفَاصِيلِ الْأُمُوْرِ.

ومَا يَتَطَرَّقُ إِلَيْهِ احْتِمَالُ وَلَوْ بِالمَجَازِ البَعِيدِ، فَيُنْظَرُ فِيْهِ إِلَى بُرْهَانٍ، فَإِنْ كَانَ قَاطِعًا وَجَبَ القَوْلُ بِهِ؛ لَكِنْ إِنْ كَانَ فِي إِظْهَارِهِ مَعَ العَوَامَ ضَرَرُ لِقُصُورِ فَهْمِهِمْ فَإِظْهَارُهُ بِدْعَةٌ. وَإِنْ لَمْ يَكُنِ البُرْهَانُ قَاطِعًا يُعْلَمُ ضَرُوْرَةً فِي الدِّيْنِ ، كَنَفْي المُعْتَزِلَةِ لِلرُّؤْيَةِ عَنِ البَارِيْ تَعَالَى، فَهَذَا بِدْعَةٌ، وَلَيْسَ بِكُفْرِ. وَأَمَّا مَا يَظْهَرُ لَهُ ضَرَرُ، فَيَقَعُ فِي مَحَلَّ الْاجْتِهَادِ وَالنَّظَرِ، فَيَحْتَمِلُ أنْ يُكَفِّرَ، وَيَحْتَمِلُ أَنْ لَا يُكَفِّرَ.

(ثُمَّ قَالَ :) وَلَا يَنْبَغِي أَنْ نَظُنَّ أَنَّ التَّكْفِيرَ ونَفْيَهُ يَنْبَغِي أَنْ يُدْرَكُ قطعًا فِي كُلِّ مَقَامٍ، بَلِ التكفيرُ حُكْمُ شَرْعِيُّ يَرْجِعُ إِلَى إِبَاحَةِ المَالِ وَسَفْكِ الدَّمِ أَوْ الحُكْمِ بِالخُلُودِ فِي النَّارِ، فَمَأْخَذُهُ كَمَأْخَذِ سَائِرِ الْأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ، فَتَارَةً يُدْرَكُ بِيَقِيْنِ، وتارَةٌ بِظَنَّ غالِبٍ، وَتَارَةً يُتَرَدَّدُ فِيْهِ، وَمَهْمَا حَصَلَ التَرَدُّدُ فَالتَّوَقُفُ فِي التَّكْفِيرِ أَوْلَى، وَالمُبَادَرَةُ إِلَى التَّكْفِيْرِ إِنَّمَا يَغْلِبُ عَلَى طِبَاعِ مَنْ يَغْلِبُ عَلَيْهِ الجَهْلُ.

وَلَا بُدَّ مِنَ التَّنْبِيْهِ بِقَاعِدَةٍ أُخْرَى، فَهُوَ أَنَّ المُخَالِفَ قَدْ يُخَالِفُ نَصًّا مُتَوَاتِرًا وَيَزْعُمُ أَنه مُؤَوَّلُ، وَلكِنَّ تَأْوِيْلَهُ لَا انْقِدَاحَ لَهُ أَصْلًا فِي اللِّسَانِ؛ لَا عَلَى قُرْبٍ ولَا عَلَى بُعْدٍ، فَذلِكَ كُفْرُ وَصَاحِبُهُ مُكَذِّبُ وَإِنْ كَانَ يَزْعُمُ أَنَّهُ مُؤَوَّلٌ.

অনুচ্ছেদ : ... জেনে রাখুন, যেসকল কারণে কাউকে কাফের সাব্যস্ত করা হয় এবং যেসকল কারণে কাফের সাব্যস্ত করা হয় না, তার ব্যাখ্যা দীর্ঘ বিশ্লেষণের দাবি রাখে। এ জন্য প্রয়োজন সকল উক্তি ও মতাদর্শ উল্লেখ করা, প্রত্যেক উক্তিকারী ও মতাদর্শ অবলম্বনকারীর সন্দেহ ও দলিল তুলে ধরা, তা বাস্তবতা থেকে দূরবর্তী হওয়ার বিবরণ দেওয়া এবং সঠিক ব্যাখ্যা বর্ণনা করা। আর এ কাজের জন্য কয়েক খণ্ডের গ্রন্থও যথেষ্ট হবে না। তাছাড়া আমার এ পরিমাণ সময়ও নেই। তাই আমি এখন একটি উপদেশ ও মূলনীতি উল্লেখ করে ক্ষান্ত হচ্ছি।

উপদেশ হলো, যদ্দুর সম্ভব আহলে কিবলা(১) থেকে আপনার জিহ্বাকে সংযত রাখুন, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ' বলতে থাকে এবং তা ভঙ্গ না করে। ভঙ্গ করার অর্থ হলো, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য 'মিথ্যা বলা' সম্ভব হওয়ার ধারণা পোষণ করা। এমন ধারণা করার পেছনে তাদের কোনো ওজর থাকুক বা না থাকুক। মনে রাখবেন, কাফের সাব্যস্ত করার মধ্যে ঝুঁকি আছে। পক্ষান্তরে চুপ থাকার মধ্যে কোনো ঝুঁকি নেই।

আর মূলনীতি হলো, আপনার এ বিষয়টি জানতে হবে, আকিদার বিষয়গুলো দু প্রকার : কিছু মৌলিক। আর কিছু শাখাগত। মৌলিক হলো আল্লাহ, রাসুল ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস। এগুলো ছাড়া অন্যগুলো শাখা।

জেনে রাখুন, মূল ইমামত, তা নির্দিষ্ট হওয়া ও তার শর্তাবলি প্রভৃতি ক্ষেত্রে ভুল করা [যেমনটা খারেজি ও রাফেজিদের মধ্যে রয়েছে], এ ধরনের কোনো কারণে কেউ কাফের হয় না।(১) ইবনে কাইসান রাহিমাহুল্লাহ [মৃ. ২৯৯ হি] তো ইমাম থাকা জরুরি হওয়াকেই অস্বীকার করেছেন।(২) কাফের সাব্যস্ত করা তো তারই একটি আবশ্যক বিষয়।

ঐ সকল লোকের দিকে তাকানো হবে না, যারা ইমামতের বিষয়টিকে বড় করে দেখে এবং ইমামের প্রতি ঈমান আনাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান আনার সমস্তরের জ্ঞান করে।(৩) অদ্রুপ তাদের প্রতিপক্ষদের দিকেও তাকানো হবে না, যারা শুধু ইমামত বিষয়ে প্রতিপক্ষের অবস্থানের কারণে, তাদেরকে কাফের সাব্যস্ত করে।(১) এ সবই বাড়াবাড়ি।(২) কারণ, দুই উক্তির কোনোটির মধ্যেই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অস্বীকার করার কিছু নেই।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে 'অস্বীকার করা' যেখানে পাওয়া যাবে, কাফের সাব্যস্ত করার বিধান সেখানে প্রয়োগ হবে, যদিও তা কোনো শাখাগত বিষয় হয়। সুতরাং কেউ যদি বলে, মক্কায় যে ঘর রয়েছে তা সেই ঘর নয়, আল্লাহ যার হজ করার আদেশ করেছেন, তাহলে তা কুফরি হবে। কারণ, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে 'তাওয়াতুরে'র(৩) মাধ্যমে বিপরীত কথা বর্ণিত রয়েছে। সে যদি দাবি করে, রাসুল সেই ঘর সম্বন্ধে কাবাঘর হওয়ার সাক্ষ্য দেননি, তাহলে এই দাবি তার কোনোই কাজে আসবে না। উপরন্তু তার একগুঁয়ে হওয়া অকাট্যভাবে সাব্যস্ত হবে। অবশ্য সে যদি নতুন ইসলাম গ্রহণকারী হয় এবং তাওয়াতুরের মাধ্যমে তার নিকট তা না পৌঁছে থাকে, তাহলে ভিন্ন কথা।

অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি হজরত আয়েশা রাজিয়াল্লাহু আনহাকে অশ্লীলতার দিকে সম্পৃক্ত করল, অথচ তাঁর চারিত্রিক নিষ্কলুষতার পক্ষে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে, তাহলে সে কাফের। কারণ, এমন উক্তি করা রাসুলকে মিথ্যুক সাব্যস্ত করা বা প্রত্যাখ্যান করা ব্যতীত সম্ভব নয়। তাওয়াতুরকে মুখে কেউ অস্বীকার করতে পারে; কিন্তু এর মাধ্যমে বর্ণিত বিষয় কারো অজানা থাকা সম্ভব নয়। [তাওয়াতুরের মাধ্যমে প্রমাণিত বিষয়ের ক্ষেত্রে অজ্ঞতা গ্রহণযোগ্য নয়। -অনুবাদক।]

অবশ্য ‘খবরে ওয়াহিদ’ দ্বারা প্রমাণিত বিষয় অস্বীকার করলে ব্যক্তি কাফের হয় না।

ইজমা বা ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রমাণিত বিষয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা চিন্তার অবকাশ আছে। কারণ ইজমা শরিয়তের দলিল কি-না, তা বিতর্কিত বিষয়।

এই গেলো শাখাগত বিষয়ের আলোচনা। পক্ষান্তরে তিন মৌলিক আকিদার ক্ষেত্রে কথা হলো, যেখানে ব্যাখ্যার কোনো সম্ভাবনা নেই, এবং তা তাওয়াতুরের মাধ্যমে প্রমাণিত ও তার বিপরীতে দলিল থাকার কল্পনা করা যায় না, সে ক্ষেত্রে বিরোধিতা করা নিরেট অস্বীকার করার নামান্তর। যেমন দেহ হাশরের মাঠে সমবেত হওয়া, জান্নাত-জাহান্নাম বিদ্যমান থাকা, এবং সকল বিষয়ের খুঁটিনাটি আল্লাহ তাআলার জ্ঞানের আওতাধীন থাকা।

পক্ষান্তরে যেখানে কোনো ব্যাখ্যার সম্ভাবনা থাকে -তা দূরবর্তী রূপকভাবেই হোক না কেন- সেখানে দলিল দেখা হবে। দলিল যদি অকাট্য হয়, তার দ্বারা প্রমাণিত বিষয় স্বীকার করতে হবে। অবশ্য যদি তা প্রকাশ করার মধ্যে সাধারণ লোকদের জন্য ক্ষতির আশঙ্কা থাকে তাদের বুঝের ত্রুটির কারণে, তাহলে তা প্রকাশ করা বিদআত হবে।

আর দলিল যদি অকাট্য ও ‘জরুরিয়াতে দীনে’র অন্তর্ভুক্ত না হয়, যেমন মুতাজিলাদের আল্লাহর দিদারকে প্রত্যাখ্যান করার বিষয়টি, তাহলে তা বিদআত হবে, কুফরি হবে না। আর যে জিনিসের ক্ষতি স্পষ্ট, তা চিন্তা ও গবেষণাযোগ্য গণ্য হবে। এমন জিনিস অস্বীকার করার কারণে কাউকে কাফের সাব্যস্ত করার যেমন সম্ভাবনা আছে, তেমনি কাফের সাব্যস্ত না করারও সম্ভাবনা আছে।

[সামনে অগ্রসর হয়ে লিখেছেন,] কাফের সাব্যস্ত হওয়া না হওয়ার বিষয়টি প্রত্যেক স্থানে অকাট্যভাবে বুঝে আসবে মনে করা উচিত নয়। বরং কথা হলো, কাফের সাব্যস্ত হওয়া শরিয়তের একটি হুকুম। এর কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পদ বৈধ হয়ে যায়, তার রক্তপাত করার বিধান আসে, এবং জাহান্নামে তার স্থায়ী হওয়ার হুকুম আরোপিত হয়।

তার উৎস শরিয়তের অন্যান্য হুকুমের উৎসের মতো- কখনো তা নিশ্চিতরূপে জানা যাবে, কখনো জানা যাবে প্রবল ধারণার ভিত্তিতে, কখনো দ্বিধার সাথে। যখনই বিষয়টি দ্বিধার পর্যায়ে চলে যাবে, তখন কাফের সাব্যস্ত করা থেকে বিরত থাকা উত্তম। তাকফির তথা কাফের সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া বস্তুত ঐ সকল লোকেরা করে, যাদের স্বভাবে অজ্ঞতা প্রবল।

এখানে আরেকটি মূলনীতির ব্যাপারে সতর্ক করা জরুরি। তা হলো, বিরোধিতাকারী কখনো 'মুতাওয়াতির' নসের বিরোধিতা করে, আর মনে করে নসটি ব্যাখ্যাযোগ্য, কিন্তু ভাষায় এমন ব্যাখ্যার নিকট ও দূরের কোনো সুযোগ থাকে না। এমন ব্যাখ্যা কুফরি কাজ, এবং এমন ব্যক্তি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্তকারী, যদিও তার ধারণায় বিষয়টি ব্যাখ্যাযোগ্য হয়।

তারপর তিনি এ প্রকারের আরো কিছু অসার ব্যাখ্যা উল্লেখ করে লিখেন-

فَأَمْثَالُ هذه المَقَالَاتِ تَكْذِيْبَاتُ عُبِّرَ عَنْهَا بِالتَّأْوِيْلَاتِ.

এ ধরনের উক্তিগুলো রাসুলকে মিথ্যুক সাব্যস্ত করার নামান্তর, যাকে ব্যাখ্যা বলে ব্যক্ত করা হয়েছে।

ইমাম গাজ্জালি রাহিমাহুল্লাহর এই বিস্তারিত বর্ণনা দ্বারা স্পষ্ট হয়ে গেল, কোরআন-হাদিসের এমন ব্যাখ্যা করা, যদ্বারা সেগুলোর সর্বসম্মত মর্ম পরিবর্তন হয়ে যায়, এবং উম্মাহর সর্বজনীন আকিদার বিপরীত কোনো নতুন মর্ম আত্মপ্রকাশ করে, তাহলে এমন ব্যাখ্যাও রাসুলকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করার নামান্তর। আর তা কুফর হওয়া সুস্পষ্ট।

টিকাঃ
৩. এ যুগের যেসকল লোক সুস্পষ্ট ভাষায় জিহাদ অস্বীকার করে না, বরং জিহাদ কেয়ামত পর্যন্ত চলমান ফরজ আমল হওয়ার স্বীকৃতি প্রদান করে, যেমনটি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য হাদিসে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে [৮৪ নং পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য]। তবে বলে, তা দ্বারা অস্ত্রের জিহাদ উদ্দেশ্য নয়। অস্ত্রের জিহাদ বর্তমান সময়ে আত্মহত্যার নামান্তর। প্রচলিত নির্বাচনই হলো এ যুগের জিহাদ [১৯৯ নং পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য]। বা প্রচলিত তাবলিগই হলো এ যুগের জিহাদ [২৬৭-২৭০ নং পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য]। বা মানুষের বিরুদ্ধে কোনো জিহাদ নেই, জিহাদ হলো নফস ও শয়তানের বিরুদ্ধে। তাহলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামের জীবনে উম্মাহর ঐকমত্যে জিহাদের যে দ্ব্যর্থহীন মর্ম ছিল, তা বর্জন করে ভিন্ন মর্ম গ্রহণ করা মুসনিদুল হিন্দ হজরত শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলবি, যুগের ইমাম আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মিরি ও মুফতিয়ে আজম মাওলানা মুহাম্মদ শফি রাহিমাহুমুল্লাহ প্রমুখের ব্যাখ্যা অনুযায়ী যান্দাকা কি-না, তা চিন্তা করা জরুরি। যদি যান্দাকাই হয়, নিজের ঈমান-আকিদার হেফাজতের জন্য প্রত্যেকের সে ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। আর যান্দাকা না হলে তো কোনো সমস্যা নেই। -অনুবাদক।
১. হজরত শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলবি রাহিমাহুল্লাহর রচনাবলি থেকে সংগৃহীত।
১. তিনি মুসলিম উম্মাহর একজন সর্বজনস্বীকৃত ইমাম ছিলেন। ইসলামের দিকে সম্পৃক্ত সকল ফেরকা তাঁর ইমাম হওয়ার প্রবক্তা। খোদাবখশ কাদিয়ানি তার عَسَلُ مُصَفًّى কিতাবের ১৬৪ নং পৃষ্ঠায় ইসলামের মুজাদ্দিদগণের তালিকা উল্লেখ প্রসঙ্গে ইমাম গাজ্জালি রাহিমাহুল্লাহকে পঞ্চম শতাব্দীর মুজাদ্দিদ সাব্যস্ত করেছে। উল্লেখ্য, عَسَلٌ مُصَفًّى কিতাবটি মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানি [১৮৩৫-১৯০৮ ঈ.] শব্দে শব্দে শ্রবণ করে সত্যায়ন করেছে।
২. فَيُصَلُ التَّفْرِقَةِ بَيْنَ الإِسْلَامِ وَالزَّنْدَقَةِ .
১. «إِلَى خُصُوْمِهِمْ...» معطوف على «إلى قوم....»، فمعنى «وإلى خصومهم...» «ولا يُلتفت إلى خصومهم..... - المترجم البنغالي.
১. التعبير السائغ للمعنى المُرَاد ههنا هو التنبيه على قَاعِدَةٍ» أو «التَّنْبِيْهِ إلى قَاعِدَةٍ» أو «التَّنْبِيْهِ لِقَاعِدَة»، وليس «التَّنْبِيْهِ بقَاعِدَة». – ফؤাদ.
১. আহলে কিবলা: কাবাঘরকে কিবলা হিসেবে গ্রহণকারী। 'আহলে কিবলা' শরিয়তের একটি পরিভাষা। ৮২ নং পৃষ্ঠা থেকে এর পারিভাষিক ব্যাখ্যা শুরু হয়েছে। -অনুবাদক।
১. কতক অবস্থায় কাফের হয়, কতক অবস্থায় কাফের হয় না। ২৭৮-২৭৯ নং পৃষ্ঠায় শায়খ বিন বায রাহিমাহুল্লাহর এ সংশ্লিষ্ট ফতোয়া দেখুন। – অনুবাদক।
২. শিয়াদের ব্যাখ্যানুযায়ী যে ইমাম থাকা জরুরি, তাকে তো অস্বীকার করতেই হবে। সে অর্থে যে ব্যক্তি ইমাম থাকা জরুরি বলবে, তার নিজেরই তো ঈমান থাকার কথা নয়। ইবনে কাইসান রাহিমাহুল্লাহ হয়তো 'ইমাম' দ্বারা 'খলিফা' উদ্দেশ্য নিয়েছেন। কিন্তু নববি পদ্ধতির খেলাফত ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ ইসলামে নেই। খেলাফতব্যবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়ার জন্য উদাহরণস্বরূপ অধ্যাপক ডক্টর মুস্তফা হিলমি রাহিমাহুল্লাহ [১৯০৪-১৯৬৯ ঈ.] রচিত نِظَامُ الخِلَافَةِ في الفكر الإسلامي কিতাবটি দ্রষ্টব্য। কেউ ভুল বুঝে কি-না, এখানে খেলাফত দ্বারা তাসাউফের খেলাফত উদ্দেশ্য নয়; বরং الْخِلَافَةُ عَلَى مِنْهَاجِ النُّبُوَّةِ তথা নববি পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠিত খেলাফত উদ্দেশ্য, যার নমুনা হলো খোলাফায়ে রাশেদিনের খেলাফত। প্রাসঙ্গিক একটি প্রশ্ন, 'জিহাদ আগে, না খেলাফত প্রতিষ্ঠা আগে?' প্রশ্নটির উত্তর ২৭৫ নং পৃষ্ঠায় দেখুন। -অনুবাদক।
৩. এরা হলো ইসনা আশারিয়া ও ইসমায়িলিয়া শিয়া। তাদের বড় করে দেখার অর্থ হলো- ইমামত, নবুওয়াতের একটি সম্প্রসারিত অবস্থান, এবং ইমামের উক্তি, কর্ম ও মৌন সমর্থন শরিয়তের এমন দলিল, যা গ্রহণ করা জরুরি। তাদের আলেমদের ঐকমত্য সিদ্ধান্ত হলো, নিষ্পাপ হওয়া ও সকল বিষয়ে সঠিক ও বাস্তবতা অবগত হওয়া বিষয়ে ইমাম নবির স্তরের। পার্থক্য এটুকুই যে, তার উপর ওহি অবতীর্ণ হয় না। তিনি সেগুলো নবি থেকে গ্রহণ করেন। -অনুবাদক।
১. পূর্বের টীকায় প্রদর্শিত ও ২৭৮-২৭৯ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখিত শায়খ বিন বায রাহিমাহুল্লাহর সংশ্লিষ্ট ফতোয়াটি পাঠ করলে স্পষ্ট হয়ে যাবে, ইমামত বিষয়ে প্রতিপক্ষের একটি অবস্থান অবশ্যই কুফর এবং সে অবস্থান গ্রহণকারীরা নিঃসন্দেহে কাফের। -অনুবাদক।
২. ইমামত বিষয়ে প্রতিপক্ষের অবস্থানের কারণে তাদেরকে কাফের সাব্যস্ত করাকে 'বাড়াবাড়ি' আখ্যা দেওয়া কতটুকু সঠিক, পূর্বের টীকাগুলোর আলোকে তা পর্যালোচনাযোগ্য। -অনুবাদক।
৩. 'তাওয়াতুরে'র সংজ্ঞা ৪৭ নং পৃষ্ঠায় অতিবাহিত হয়েছে। -অনুবাদক।
১. যে হাদিস এক বা একাধিক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তা ‘মুতাওয়াতির’ ও ‘মশহুর’ হাদিসের স্তরে না পৌঁছে, তাকে ‘খবরে ওয়াহিদ’ বলে। ‘তাওয়াতুরে’র সংজ্ঞা ৪৭ নং পৃষ্ঠায় অতিবাহিত হয়েছে। ‘মশহুর’ ঐ হাদিসকে বলা হয় যা শুরুতে ‘খবরে ওয়াহিদ’ই ছিল, তবে হিজরি প্রথম শতাব্দীর পর তার বর্ণনাকারীর সংখ্যা মুতাওয়াতির হাদিসের বর্ণনাকারীর মতো হয়ে গেছে। التعريفات للجرجاني । -অনুবাদক।
২. ‘জরুরিয়াতে দীনে’র ব্যাখ্যা ৪৮ নং পৃষ্ঠায় অতিবাহিত হয়েছে। -অনুবাদক।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00