📄 খতমে নুবুওয়াত সংশ্লিষ্ট একটি আলোচনা
ঈমান ও ঈমানদারের সংজ্ঞার অধীনে আলোচ্য আয়াতে সূক্ষ্মভাবে এ কথা বলে দেওয়া হয়েছে যে, নবুওয়াত, রিসালাত ও ওহির ধারা হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সমাপ্ত হয়ে গেছে। কারণ, তাতে হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি অবতীর্ণ ওহির উপর ঈমান আনয়ন করার সাথে, শুধু পূর্ববর্তী নবিগণ ও তাঁদের ওহির উপর ঈমান আনয়ন করার আদেশ রয়েছে। পরবর্তী কোনো নবির আলোচনা আসেনি। যদি তাঁর পর কোনো নবি আগমন করার বিষয় থাকত, তাহলে যেভাবে পূর্ববর্তী নবিগণের ওহি বিশ্বাস করা ঈমানের অংশ সাব্যস্ত করা হয়েছে, পরবর্তী নবিগণের প্রতি ঈমান আনয়ন করাও অনুরূপভাবে উল্লেখ করা আবশ্যক ছিল।
বরং এক দৃষ্টিতে পরবর্তী নবিগণের প্রসঙ্গ উল্লেখ থাকা পূর্ববর্তী নবিগণের প্রসঙ্গ উল্লেখ থাকার তুলনায় অধিক প্রয়োজন ছিল। কেননা পূর্ববর্তী নবিগণের বিবরণ তো স্বয়ং কোরআনেও এসেছে। আরো বেশি এসেছে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে। এ বিষয়ে উম্মাহর পথভ্রষ্ট হওয়ার কোনো আশঙ্কা ছিল না। পরবর্তী সময়ে আবির্ভূত নবির বিষয়টি ভিন্ন। কারণ, তার অবস্থা ও লক্ষণ সম্পর্কে উম্মাহ অবগত নয়। তার সাথে উম্মাহর সরাসরি সাক্ষাত হওয়ার বিষয় ছিল। তাকে মান্য করা বা অমান্য করার উপর উম্মাহর মুক্তি বা ধ্বংস নির্ভরশীল ছিল।
এমতাবস্থায় আগত নবির পূর্ণ অবস্থা, ধরণ ও লক্ষণ আল্লাহর অবতীর্ণ শেষ কিতাবে, এবং দয়ালু ও মেহেরবান নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসে সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় উল্লেখ হওয়া আবশ্যক ছিল। তার প্রতি ও তার উপর অবতীর্ণ ওহির প্রতি ঈমান আনয়ন করা এবং তাকে মান্য করার বিষয়টি পরিষ্কার ভাষায় বারবার কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত হওয়া জরুরি ছিল।
কিন্তু তার পরিবর্তে বাস্তবে যা ঘটেছে তা হলো, কোরআন মাজিদ যেখানে ঈমানের প্রধান বিষয়গুলোর আলোচনা করেছে, সেখানে পূর্ববর্তী নবিগণ ও তাঁদের ওহির প্রতি ঈমান আনয়ন করাকে ঈমানের অংশ সাব্যস্ত করেছে। পক্ষান্তরে পরবর্তীতে প্রেরিত কোনো নবি বা রাসুলের বা তার ওহির প্রসঙ্গও উল্লেখ করেনি। স্থান শুধু এটিই একটি নয়। পবিত্র কোরআনের ১০টিরও বেশি স্থানে হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্বে প্রেরিত ওহির উপর ঈমান আনয়ন করার তাগিদ এসেছে। কিন্তু পরবর্তী কোনো ওহি বা নবির আলোচনা একবারও আসেনি। [উপরন্তু সুরা আহযাবের ৪০ নং আয়াতে অকাট্য ভাষায় হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শেষনবি হওয়ার ঘোষণা এসেছে। -অনুবাদক।]
তা এ বিষয়ে কোরআন পাকের একটি সুস্পষ্ট সাক্ষ্য যে, হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর কোনো নবি প্রেরিত হবেন না। শেষ যুগে শুধু হজরত ঈসা আলাইহিস সালাম আগমন করবেন, যিনি পূর্বে প্রেরিত হয়েছেন এবং যার প্রতি মুসলিম উম্মাহ শুরু থেকেই ঈমান রেখে আসছে। অতএব নতুনভাবে জন্মগ্রহণকারী কোনো ব্যক্তি এ উম্মাহকে নিজের নবুওয়াত ও ওহির দিকে আহ্বান জানিয়ে উম্মাহর মুক্তিদাতা হতে পারে না। বস্তুত সঠিক বিষয় বোঝার তাওফিকদাতা ও সাহায্যকারী একমাত্র আল্লাহ।
📄 কতিপয় পরিভাষার ব্যাখ্যা
মুমিন ও কাফেরের পরিচয় এবং কুফরের প্রকারভেদ এ বিষয়ের সংক্ষিপ্ত ধারণা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। তা সত্ত্বেও পরিপূর্ণ স্পষ্ট হওয়ার জন্য এখানে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। পূর্বে উল্লেখিত আয়াতগুলোই বর্তমান আলোচনার ভিত্তি। ঈমান ও কুফরের সংজ্ঞায় কয়েকটি পারিভাষিক শব্দ ব্যবহৃত হয়। তাই প্রথমে শব্দগুলোর ব্যাখ্যা উল্লেখ করা হচ্ছে।
📄 ঈমান
ঈমান : প্রত্যেক ঐ ক্ষেত্রে হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আন্তরিকভাবে সত্যায়ন করাকে ঈমান বলা হয়, যা অকাট্য ও সুস্পষ্টভাবে তাঁর থেকে প্রমাণিত রয়েছে। এ সত্যায়নের সঙ্গে আনুগত্যের স্বীকৃতি থাকা শর্ত।
📄 ইসলাম
ইসলাম : ইসলাম হলো, আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য ও মান্যতার স্বীকৃতি প্রদানের নাম। এ স্বীকৃতির সঙ্গে ঈমান তথা অন্তরের সত্যায়ন থাকা শর্ত।