📄 লেখকের অবতরণিকা
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ الْحَمْدُ للهِ وَكَفَى، وَسَلَامٌ عَلَى عِبَادِهِ الَّذِينَ اصْطَفَى خُصُوصًا عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ المُصْطَفَى وَمَنْ بِهَدْيِهِ اهْتَدَى.
ঈমান, ইসলাম, কুফর- শব্দগুলো সকল শ্রেণির মানুষের মধ্যে পরিচিত। প্রত্যেক ফেরকার মূর্খ লোকেরাও এগুলো জানে। কিন্তু তা সত্ত্বেও এগুলোর এমন সংজ্ঞা দেওয়া দুষ্কর, যা দ্বারা তার কোনো একটি শাখা যেমন বাদ পড়বে না, তদ্রূপ বহির্ভূত কিছুও তার অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে না।
এটি শুধু কুফর ও ঈমানের অবস্থা নয়। টুপি, জামা, পাজামা, জুতা, বাড়ি, টেবিল, চেয়ার, বদনা, গ্লাস প্রভৃতি শব্দগুলো সর্বজন পরিচিত এবং সকলের মুখে মুখে ব্যবহৃত। এগুলোর মর্ম বুঝতে শিশুদেরও কষ্ট হয় না। কিন্তু যদি কোনো একটি শব্দের এমন সংজ্ঞা দেওয়ার প্রশ্ন আসে, যার মধ্যে তার প্রতিটি শাখা অন্তর্ভুক্ত থাকবে, কোনো একটি শাখা বাদ পড়বে না, তাহলে বড় বড় পণ্ডিতদেরও মাথা ঘোরা শুরু হয়ে যাবে, এবং পূর্ণ চিন্তা-ফিকির করে যে সংজ্ঞা তৈরি করবে, তাতেও এ আশঙ্কা থাকবে যে, হয়ত তার কোনো একটি শাখা ছুটে গেছে, বা বহির্ভূত কোনো শাখা তার অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে।
উম্মাহর পূর্বসূরি তাফসির বিশারদ, ফিকহ বিশারদ ও আকিদাশাস্ত্রবিদ আলেমগণ ঈমান ও ইসলামের পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা, কুফরের সংজ্ঞা ও তার প্রকারভেদ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন এবং স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন। এই শেষ যুগে ইসলামি জ্ঞানের বাতিঘর, আলেমকুলের ভরসা, উস্তাদগণের উস্তাদ, আমার মুরুব্বি ও উস্তাদ, দারুল উলুম দেওবন্দের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক, হজরত আল্লামা মাওলানা মুহাম্মদ আনওয়ার শাহ কাশ্মিরি কুদ্দিসা সিররুহু, এ বিষয়ে إِكْفَارُ الْمُلْحِدِينَ নামে অত্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ও বিশদ একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন।
রচনার প্রেক্ষাপট: একটি বিশেষ প্রকারের কুফরের নাম হলো যান্দাকা বা ইলহাদ। এটিই বর্তমান সময়ের মুনাফিকির কুফর। এই ইলহাদ ও যান্দাকাকে ইসলাম ও ঈমান থেকে পৃথক করা এবং মুসলমান ও যিন্দিকের মধ্যে পার্থক্য করা সর্বকালেই গভীর চিন্তার দাবিদার বিষয় থেকেছে। কোরআন-হাদিসের জ্ঞানবিজ্ঞানের ব্যাপক অজ্ঞতার কারণে বিষয়টি বর্তমান সময়ে আরো বেশি জটিল হয়ে পড়েছে। ওদিকে মুলহিদ ও যিন্দিকদের দৌরাত্ম্য এ পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে যে, তারা ইসলামের পোশাক ধারণ করে নিকৃষ্টতর কুফর প্রচার করে যাচ্ছে, এবং মুসলমানদের আস্তিনের সাপ হয়ে তাদেরকে দংশন করে যাচ্ছে।
অনেক ভালো মুসলমানও এ ফিতনার শিকার হচ্ছে যে, তারা ইসলামের প্রত্যেক দাবিদারকে মুসলমান গণ্য করা উচিত মনে করছে, তার আকিদা ও আমল যেমনই হোক। বর্তমানে একে 'রাজনৈতিক বুদ্ধিমত্তা' বলে ব্যক্ত করা হয়। এর আবশ্যক পরিণতি হচ্ছে, ইসলাম কোনো বাস্তবতা বা আকিদার নাম নয়। বরং এক অর্থহীন শব্দমাত্র। যেন যে কেউ নিজস্ব আকিদা, চিন্তাধারা ও কর্মে অবিচল থাকাবস্থায় মুসলমান হতে পারে। ইসলাম যেন তার উপর কিছুই আবশ্যক করে না।
এ ফিতনার ভয়ঙ্কর পরিণতিগুলো ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য কী পরিমাণ ধ্বংসাত্মক, তা ব্যাখ্যাযোগ্য ছিল। তাই কুফরের এ প্রকারটি -যা ইসলামের পোশাক ধারণ ও ইসলামের দাবির সাথে আত্মপ্রকাশ করেছে- পরিপূর্ণ স্পষ্ট করা সময়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হয়ে পড়েছিল।
বিশেষত এ ক্ষেত্রে দুটি বিষয় এমন ছিল যে, সাধারণদের অতিক্রম করে কতক বিশিষ্ট আলেমও সংশয়ের শিকার হতে পারতেন।
১. ফিকহশাস্ত্রবিদ আলেমগণের সুস্পষ্ট বিবৃতি ব্যাপকভাবে রয়েছে যে, কেউ ব্যাখ্যাসাপেক্ষে কোনো কুফরি আকিদা পোষণ করলে তাকে কাফের বলা হবে না। ওদিকে ইসলামের দাবিদার যে কেউ কোনো কুফরি আকিদা ও উক্তি গ্রহণ করে, তা কোনো না কোনো ব্যাখ্যার আড়ালেই করে। এর ফল এটাই হয় যে, ইসলামের দাবিদার কোনো ব্যক্তিকে কাফের আখ্যা দেওয়া জায়েজ থাকে না। অথচ কোরআন-হাদিসের বর্ণনা এর বিপরীত সাক্ষ্য প্রদান করে। তাই ফিকহ ও আকিদাশাস্ত্রবিদগণের উল্লিখিত মূলনীতিটি সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন করা আবশ্যক ছিল।
২. একটি নির্ভরযোগ্য ও সুস্পষ্ট হাদিসের ভিত্তিতে আলেম ও ফকিহগণের সর্বজনমান্য উক্তি হলো, কোনো আহলে কিবলাকে কাফের বলা যাবে না। বাহ্যত এর ফল এ-ই দাঁড়ায় যে, ইসলামের দাবিদার যে ব্যক্তি কাবাঘরকে নিজের কিবলারূপে গ্রহণ করে, আল্লাহ ও রাসুল সম্পর্কে সে যতই গলদ আকিদা পোষণ করুক, এবং আল্লাহ ও রাসুলকে যত অবমাননাই করুক, তাকে কাফের আখ্যা দেওয়া যাবে না।
এ সংশয় দুটো ইলমের প্রলেপমিশ্রিত হওয়ার কারণে প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরা আরো বেশি প্রয়োজন ছিল। তাই হজরাতুল উস্তাদ হজরত শাহ ছাহেব কুদ্দিসা সিররুহু এ বিষয়ে কলম ধরেছেন, এবং এমন দৃষ্টান্তহীন গ্রন্থ রচনা করেছেন যে, পূর্বের কোনো গ্রন্থে এতটা সমৃদ্ধি দৃষ্টিগোচর হয়নি।
📄 রচনার পটভূমি
কিন্তু এখানে দুটি দিক আছে। প্রথমত গ্রন্থটি রচিত হয়েছে আরবিভাষায়। দ্বিতীয়ত তা হজরত শাহ ছাহেব কুদ্দিসা সিররুহুর সেই জ্ঞানগত উচ্চতার প্রতিচ্ছবি, যার নাগাল পাওয়ার জন্যও প্রয়োজন স্বতন্ত্র এক বড় ইলমের। ফল এই দাঁড়িয়েছে যে, সাধারণ লোক তো বটেই, ইলমের ক্রমঃঅবনতির ফলে অধিকাংশ আলেমও তা হতে উপকৃত হওয়া থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছে। তাই গ্রন্থটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই অনেক গুণীজনের দাবি ছিল, এর বিষয়গুলোকে সহজ বিন্যাসে বিন্যস্ত করে সাবলীল উর্দুভাষায় লেখা হোক। অনেক বন্ধু অধমকেও এ প্রয়োজনের দিকে আকৃষ্ট করেছে। নিজের মধ্যেও এ অনুভূতি শুরু থেকে ছিল।
কিন্তু ভাগ্যের ফয়সালা, কাজটি অদ্যাবধি আটকে আছে। এখন পাকিস্তানে কাদিয়ানি ফেতনা যখন নতুনভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে, (১) এবং কুফর ও ইসলামের মধ্যে অস্পষ্টতা সৃষ্টিকারী পুরাতন শিকারি নতুন জাল নিয়ে মাঠে নেমেছে, তখন মুসলমানদের জন্য তা নতুনভাবে আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে, এবং অনুভূতির প্রয়োজনীয়তা দ্বিগুণ হয়ে পড়েছে। তাই আল্লাহর নামে এ রচনার কাজ শুরু করলাম।
এ পুস্তিকায় শ্রদ্ধাভাজন উস্তাদের আলোচনার সকল উপাত্ত ও গবেষণা পূর্ণরূপে আনা হয়েছে। তবে বিন্যাস ও বর্ণনা সব এ অধমের। শ্রদ্ধাভাজন উস্তাদের বর্ণনাধারা ছিল একটি বিশেষ ফেতনা ও বিশেষ কিছু প্রশ্নের উত্তরে। তাই ইসলাম, ঈমান বা কুফর ও তার প্রকারভেদের পূর্ণ বিবরণ তাঁর রচনায় ছিল না। অধম তা সংযোজন করেছে এবং কোনো ফেরকার আকিদা ও চিন্তাধারাকে আলোচনার উপলক্ষ্য স্থির না করে, সাধারণ ও সামগ্রিক বিচারে ইসলাম ও কুফরের বিষয়টি পরিষ্কার করার প্রয়াস পেয়েছে। এখন আল্লাহর তাওফিকে এ পুস্তিকায় কুফর ও ইসলামের সকল প্রয়োজনীয় আলোচনা সন্নিবেশিত হয়ে গেছে, এবং সংশ্লিষ্ট সংশয়সমূহ দূরীভূত হওয়ার জন্য যথেষ্ট হয়েছে। বস্তুত আল্লাহই তাওফিকদাতা এবং তিনিই তাওফিকদানের উপযুক্ত।
رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا، إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ.
বান্দা মুহাম্মদ শফি আফাল্লাহু আনহু মুকিম, করাচি, লাহোর নিবাস জুমাদাল উলা ১৩৭৩ হিজরি জানুয়ারি ১৯৫৪ ঈসায়ি
টিকাঃ
১. পাঞ্জাবের অনুসন্ধানী আদালতে মুসলমান ও কাফের এবং ইসলাম ও কুফরের পরিচয় বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে।
📄 কুফর ও কাফেরের প্রকারভেদ
এ পুস্তিকার মূল আলোচ্য বিষয় এ অধ্যায়টিই, যেমনটি অবতরণিকায় বলা হয়েছে।
পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে জানা গেছে, কুফর হলো রাসুলকে মিথ্যাবাদী আখ্যা দেওয়ার নাম। মিথ্যাবাদী আখ্যা দেওয়ার বিভিন্ন রূপ রয়েছে। এর ফলে কুফরও কয়েক প্রকারে বিভক্ত। ইমাম গাজ্জালি রাহিমাহুল্লাহ তাঁর 'ফায়সালুত তাফরিকাতি বাইনাল ইসলামি ওয়ায যানদাকাতি(১) ও 'আল-ইকতিসাদু ফিল-ইতিকাদি’(২) কিতাবদ্বয়ে, হজরত শাহ আবদুল আজিজ দেহলবি রাহিমাহুল্লাহ [১১৫৯-১২৩৯ হি.] তাঁর ফতোয়ায়, এবং ইমাম বাগাবি রাহিমাহুল্লাহ [৪৩৩-৫১৬ হি.] إِنَّ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا سَوَاءٌ عَلَيْهِمْ - আয়াতোর তাফসিরে প্রকারগুলো সবিস্তারে লিপিবদ্ধ করেছেন। অনুরূপভাবে আকিদা ও কালাম শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'শারহুল মাওয়াকিফ' ও (৩) 'শারহুল মাকাসিদে'ও (৪) প্রকারগুলো বিস্তারিতভাবে সন্নিবেশিত হয়েছে।
টিকাঃ
১. فَيْصَلُ التَّفْرِقَةِ بَيْنَ الإِسْلَامِ وَالزَّنْدَقَةِ .
২. الاقتصاد في الاعتقاد .
৩. الْمَوَاقِفُ কিতাবটি মূলত মহান আশআরি আলেম আজদুদ্দিন ইজি (عَضْدُ الدِّيْنِ الإِنْبِيُّ) রাহিমাহুল্লাহ [৬৮০-৭৫৬ হি.]-এর রচনা। شَرْحُ الْمَوَاقِفِ হলো সাইয়েদ শরিফ জুরজানি রাহিমাহুল্লাহ [৭৪০-৮১৬ হি.] রচিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ। -অনুবাদক।
৪. شَرْحُ المَقَاصِدِ فِي عِلْمِ الكَلَامِ . সাদুদ্দিন মাসউদ তাফতাযানি রাহিমাহুল্লাহ [৭২২-৭৯১ হি.]। -অনুবাদক।
📄 সতর্কতার দ্বিতীয় দিক
পূর্বের আলোচনায় পরিষ্কার হয়েছে, যেভাবে কোনো শাখাগত মতপার্থক্যের কারণে, অথবা কোনো একাধিক অর্থের সম্ভাবনাময় ও অস্পষ্ট উক্তির কারণে, অথবা কুফর হওয়ার ব্যাপারে আলেমদের মতপার্থক্যপূর্ণ কোনো আকিদা ও উক্তির কারণে কোনো মুসলমানকে কাফের আখ্যা দেওয়া ভারি অসতর্কতা ও নিজের ঈমানকে ঝুঁকিতে ফেলার নামান্তর, কেননা তখন ঈমানকে কুফর আখ্যা দেওয়া আবশ্যক হয়, তদ্রূপ কোনো নিশ্চিত কাফেরকে মুসলমান আখ্যা দেওয়াও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অপরাধ এবং নিজের ঈমানকে ঝুঁকিতে ফেলার নামান্তর। কেননা তখন কুফরকে ঈমান বলা আবশ্যক হয়ে যায়। বলাবাহুল্য, যদি ঈমানকে কুফর অথবা কুফরকে ঈমান বলা স্বজ্ঞানে ও ইচ্ছাপূর্বক হয়, তাহলে তা নিঃসন্দেহে কুফর। অন্যথায় কুফরের ঝুঁকি থেকে তো অবশ্যই মুক্ত নয়। (১)
তাছাড়া কোনো কাফেরকে মুসলমান বলে দেওয়া শুধু একটি শব্দের উদারতা নয়, বরং সমগ্র মুসলিম উম্মাহ ও ইসলামি সমাজের উপর বিরাট অবিচার। কারণ, তাতে পুরো উম্মাহর উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিবাহ, বংশ, উত্তরাধিকার, কোরবানি, ইমামতি, সালাত এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার- সবগুলোর উপর প্রভাব পড়ে।
এ ক্ষেত্রে সামান্য অসতর্কতা (২) একজন প্রকৃত মুসলমানকে ইসলাম থেকে বহিষ্কার করতে পারে। (৩) অনুরূপভাবে (৪) ইসলামের একজন শত্রুকে ইসলামি সমাজের আস্তিনের সাপ ও কপট বন্ধু বানাতে পারে। আর এ উভয় ঝুঁকি উম্মাহর জন্য অনেক ভয়ঙ্কর, এবং সেগুলোর ফলাফল ও পরিণতি সুদূরপ্রসারী।
উল্লিখিত বিবরণ অনুসারে কুফরির যে রূপকে (১) শরিয়তের পরিভাষায় যান্দাকা ও ইলহাদ বলা হয়, যার মধ্যে একজন ব্যক্তি আল্লাহ ও রাসুলের অনুগত হওয়ার মৌখিক ও আন্তরিক স্বীকৃতিও প্রদান করে; সালাত, সিয়াম, হজ, জাকাত- ইসলামের প্রভৃতি প্রতীকের অনুসরণও করে, তবে সেগুলোর পাশাপাশি কিছু কুফরি আকিদাও পোষণ করে, অথবা 'জরুরিয়াতে দীনে'র অসার ব্যাখ্যা করার মাধ্যমে ইসলামের বিধিবিধান বিকৃত করে, তার বিষয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপদসঙ্কুল। (২)
টিকাঃ
১. অর্থাৎ যদি ঈমানকে কুফর এবং কুফরকে ঈমান আখ্যা দেওয়া স্বজ্ঞানে ও ইচ্ছাপূর্বক না হয়, তাহলেও তা কুফরির ঝুঁকি থেকে মুক্ত নয়। -অনুবাদক।
২. কাফের আখ্যাদানকারী ব্যক্তির সামান্য অসতর্কতা। -অনুবাদক।
৩. পরিপূর্ণ নিশ্চিত না হয়ে কাফের আখ্যা দিলে একজন প্রকৃত মুসলমান ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত গণ্য হওয়ার আশঙ্কা আছে। -অনুবাদক।
৪. অর্থাৎ পরিপূর্ণ নিশ্চিত না হয়ে মুসলমান আখ্যা দিলে ...। -অনুবাদক।
১. 'উল্লিখিত বিবরণ অনুসারে' থেকে 'ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপদসঙ্কুল' পর্যন্ত অনুচ্ছেদটি মূল উর্দু কিতাবে 'এ ক্ষেত্রে' থেকে শুরু হওয়া অনুচ্ছেদের পূর্বে ছিল। অবশ্য মূল উর্দুতে শুরুতে 'তাই' শব্দসহ উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ 'তাই উল্লিখিত বিবরণ অনুসারে'। কিন্তু আমাদের মনে হয়েছে, 'এ ক্ষেত্রে' থেকে শুরু হওয়া অনুচ্ছেদের বক্তব্যটি 'তাছাড়া কোনো কাফেরকে...' অনুচ্ছেদের সাথে যুক্ত। তাই স্থান পরিবর্তনের কাজটি করা হয়েছে। সচেতন পাঠকের নিকট যদি মূল কিতাবের বিন্যাসটিই অধিক উপযোগী মনে হয়, তিনি সেভাবেই বুঝে নিবেন। -অনুবাদক।
২. কারণ, সে যদি তাওবা করে ঈমান নবায়ন না করে, তাহলে চির জাহান্নামি হবে। -অনুবাদক।