📘 ইমামগণের মতবিরোধ কি ও কেন > 📄 অষ্টম কারণ : হাদীসের কিতাবে মুআনিদ (ইসলামের শত্রু) দের পক্ষ থেকে হস্তক্ষেপ

📄 অষ্টম কারণ : হাদীসের কিতাবে মুআনিদ (ইসলামের শত্রু) দের পক্ষ থেকে হস্তক্ষেপ


বর্ণনাকারী নিজে গ্রহণযোগ্য, সত্যবাদী কিন্তু তার কিতাবে কোন মুআনিদ ও ভ্রান্ত মতবাদের অধিকারীর পক্ষ থেকে এমন কোন হস্তক্ষেপ হয়েছে যদ্বারা বর্ণনার মাঝে ভিন্নতা তৈরী হয়। বর্ণনাকারী যেহেতু গ্রহণযোগ্য সেহেতু তার বর্ণনাকে প্রত্যাখ্যান করা যায় না অন্যদিকে হস্ত ক্ষেপ কারীর কথা চিন্তা করলে মূল বর্ণনার গঢ়-বঢ় হয়ে গেছে। অতএব উসূলবিদগণ স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, হাম্মাদ বিন সালামাহ রহ. এর কিতাবে তাঁর এক ভাতিজা যে রাফেযী হয়ে গিয়েছিলো এক হাদীস অন্ত র্ভূক্ত করে দিয়েছিলো। এই কারণ ও অন্যান্য আরো এমন কিছু কারণ আছে যেগুলো জন সাধারণের সামনে ব্যাখ্যা করার যোগ্য নয়। কেননা এসব বিষয় বুঝতে তাদের বুঝ শক্তি অক্ষম। তারা এ সব ঘটনা দ্বারা এবং নিজেদের কম বুঝ ও ত্রুটিপূর্ণ ইলমের কারণে হাদীসের সকল কিতাব ও বর্ণনা সম্পর্কে মন্দ-ধারণা করবে। এজন্য আমি এ বিষয়টি সংক্ষেপ করেছি। বাস্তবে এই বিষয়গুলো এমন সাধারণ নয় যে, সকলের সামনে এটা প্রকাশ করা যাবে। আর না প্রত্যেক শ্রেণীর মানুষ তা বুঝতে পারবে। এ কারণেই মাশায়েখগন জন সাধারনের সামনে বিশেষ বিশেষ মাসয়ালা আলোচনা করাকে নিষেধ করেছেন। আর এ সকল কারণেই ইল্ম শিক্ষা করাকে জরুরী সাব্যস্ত করেছিলেন। যদ্বারা তার যোগ্যতা অর্জন হয়ে যায়। বিশেষ করে উসূলে ফেকাহ ও উসূলে হাদীসের ইলম যাতে করে কথা বুঝা ও যাচাই করার যোগ্যতা হয়ে যায়। যায়েন ইরাকী রহ. এর কথা একটু আগেই উল্লেখ করেছি যে, ওয়ায়েজদের বিপদ-আপদ থেকে অন্যতম হলো জন সাধারণের সামনে এমন সব বিষয় বর্ণনা করা যা তারা বুঝতে পারে না। যদ্বারা তাদের আকীদা বিশ্বাস নষ্ট হয়ে যায়। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বর্ণনা করেন যখন তুমি কোন সম্প্রদায়ের কাছে এমন হাদীস বর্ণনা করো যেখানে তাদের আকল পৌঁছে না তখন তা তাদের জন্য ফেৎনার কারণ হবে। হযরত ইমাম মুসলিম রহ.ও স্বীয় কিতাবের মুকাদ্দামায় উক্ত হাদীস উল্লেখ করেছেন।৯১” বুখারী শরীফে ইমাম বুখারী রহ. হযরত আলী রা. থেকেও এ ধরনের বাণী বর্ণনা করেছেন।

যদিও বর্তমানে এই বিষয়টি ভয়ঙ্কর নেই যেহেতু হাদীসের ইমামগণ সহীহ, ভুল, বর্ণনা সমূহ যাচাই করে দিয়েছেন। অগ্রহণযোগ্য থেকে গ্রহণযোগ্যকে পৃথক করে দিয়েছেন। একারণে ইমাম বুখারী রহ. স্বীয় "বুখারী শরীফে" ৬ লক্ষ হাদীস থেকে, ইমাম মুসলিম রহ. তিন লক্ষ হাদীস থেকে এবং ইমাম আবু দাউদ রহ. ৫ পাঁচ লক্ষ হাদীস থেকে নির্বাচন করেছেন।

যাহোক আমরা এখানে দ্বিতীয় যুগের আলোচনা শেষ করছি এই জন্য যে, আলোচনার শুরু থেকে এই পর্যন্ত যা বর্ণনা করা হলো তা দ্বারা বুঝানো উদ্দেশ্য এই ছিলো যে, হাদীসের বর্ণনার ক্ষেত্রে ভিন্নতার একাধিক কারণ তৈরী হয়েছিল। আর এগুলো ছাড়াও এটা স্পষ্ট হওয়া যুক্তি যুক্তও ছিলো।

সেই অনেক কারণ থেকে ১৮ (আঠার) কারণ প্রথম যুগে ও ৮ (আট) কারণ এই দ্বীতিয় যুগে আলোচনা করেছি। এগুলো ছাড়াও যতো বেশী মাধ্যম বৃদ্ধি পেয়েছে ততো বেশী ভিন্নতা ও দুর্বলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণেই ইমাম বুখারী রহ. এর কিতাবে যঈফ (দুর্বল) বর্ণনা খুবই কম। এমনকি একেবারেই নেই। এ জন্য যে, তাঁর যুগ ছিলো দ্বিতীয় শতাব্দির শেষ দিকে। দারাকুতনী কিতাবে অনেক বেশী যঈফ (দুর্বল) বর্ণনা এসে গেছে এ জন্য যে, তাঁর যুগ বুখারী থেকে অনেক পরে। আর এ কারণে আইম্মায়ে মুজতাহিদদের যুগ ইমাম বুখারী রহ. থেকেও আগে ছিলো। তাই আইম্মায়ে আরবাআর বর্ণনায় দুর্বলতা খুব কম এসেছে। সর্বশেষ ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. এর যুগ। আর তিনিও ইমাম বুখারী রহ. এর আগের। এ চার ইমামের যুগ পর্যন্ত বর্ণনায় যতটা দুর্বলতা আসে নাই তার চেয়ে বেশী দূর্বলতা এসেছে তাঁদের পরবর্তী যুগে।

সারকথা হলো উপরোক্ত ভিন্নতার কারণ ও বর্ণনার দূর্বলতার কারণে আইম্মায়ে ফেকাহ ও হাদীসের জন্য সেগুলোর যাচাই-বাছাই করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, গ্রহনযোগ্য বর্ণনাকে আগ রেখেছেন, অগ্রহনযোগ্য ও মিথ্যা বর্ণনাকে বাদ দিয়েছেন। অতপর গ্রহনযোগ্য বর্ণনা থেকে প্রাধান্য ও অপ্রাধান্য, রহিত ও রহিত নয় এমন হাদীসগুলোকে পৃথক করেছেন।

কিন্তু এরপরও এ সকল বিষয় এমন ছিলো যে, এদের মাঝে ভিন্নতা হয়েছিলো। কারণ এটা জরুরী নয় যে, আমার নিকট যে ব্যক্তি গ্রহণযোগ্য সে সকলের কাছেই গ্রহণযোগ্য হবে অথবা আমার নিকট যে দ্বীনদার হবে সে অন্য সকলের কাছে এমনই হবে। এ ভিত্তিতেই ইমামগনের মাঝে মতানৈক্য হয়েছে। আর হওয়া উচিত ছিলো। কেননা এটা সৃষ্টিগত বিষয়। এজন্য আমরা এখন সংক্ষিপ্ত আকারে সেগুলোর আলোচনা করছি।

টিকাঃ
৯۱. মুকাদ্দামায়ে সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৪,

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00