📄 দ্বিতীয় কারণ : কোন হুকুম রহিত হওয়ার পর সে সম্পর্কে না জানা
সাহাবী ও তাবেয়ীদের যুগে বর্ণনার ভিন্নতা হওয়ার এটাও একটি কারণ যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন একটি হুকুম দিয়েছিলেন সে সময়ে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ তা শুনে বুঝে নিয়েছেন। পরবর্তীতে সে হুকুম রহিত হয়ে গেছে। কিন্তু যারা উপস্থিত ছিলেন না তাঁরা প্রথমবার উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ থেকে শুনেছেন। আর তাঁরা যেভাবে শুনেছেন ঐ ভাবেই বর্ণনা করেছেন।
বিভিন্ন বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পাগড়ীর উপর মাছাহ করার কথা পাওয়া যায়। ৬৮ পক্ষান্তরে ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ কর্তৃক রচিত মুওয়াত্তা নামক কিতাবে বর্ণনা করেন যে, পাগড়ীর উপর মাছাহ করা সম্পর্কে আমার কাছে যতটুকু পৌছেছে তা হল এটা ইসলামের প্রথম যুগে ছিল। পরবর্তীতে তা রহিত হয়ে গেছে। ৬৯ এমনি ভাবে হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, জুমা'র গোছল প্রত্যেক বালেগ ব্যক্তির উপর ওয়াজিব। ৭০
পক্ষান্তরে হযরত ইবনে আব্বাস রা. বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উক্ত নিদের্শ ইসলামের প্রথম যুগে দিয়েছিলেন। কেননা তাঁরা নিজেরা ক্ষেত-খামারে কাজ করতেন। আর্থিক সংকীর্নতার কারণে কর্মচারী বা অন্য কাউকে রাখতে সক্ষম ছিলেন না। তাঁরা মোটা কাপড় পরিধান করতেন। বিধায় কাজ করার সময় ঘাম ইত্যাদির কারণে দুর্গন্ধ যুক্ত হয়ে যেত। তাছাড়া মসজিদ ছিলো সংকীর্ন ফলে জুমার নামাজের জন্য সবাই একত্রিত হলে ঘামের দুর্গন্ধ নামাযীদের জন্য কষ্টদায়ক হতো। এ জন্য গোছল ও সুগন্ধি ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন পরবর্তীতে আল্লাহ তা'য়ালা প্রশস্ততা দান করেন ও মসজিদ প্রশস্ত হয়ে যায়। সুতরাং তখন সেই নিদের্শ আগের মতে থাকে নি।" ৭১
এই প্রকার ভূক্ত হলো হযরত আবূ হুরায়রা রা. এর বর্ণিত হাদীস যে আগুনে পাকানো খাবার খেলে ওযু ভেঙ্গে যায়।৭২ পক্ষান্তরে হযরত জাবের রা. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সর্বশেষ আমল ছিল আগুনে পাকানো খাবার খেলে ওযু ভঙ্গ হবে না। এই হাদীসে স্পষ্টভাবে বলা হল যে, ওযুর হুকুম রহিত হয়ে গেছে। কিন্তু আবূ দাউদ রহঃ এর মতে জাবের রা. হাদীসের উদ্দেশ্য এটা নয়। এই কারণেই আমরা অন্য আরেকটি বর্ণনা পেশ করছি যাদের মতে আগুন দ্বারা পাকানো খাবারের পর যে ওযুর কথা বলা হয়েছে তার দ্বারা উদ্দেশ্য আভিধানিক ওযু। অর্থাৎ হাত-মুখ ধোয়া। পারিভাষিক ওযু নয়। ৭৩
টিকাঃ
৬৮. বুখারী, হাদীস নং ২০৫, মুসলিম, হাদীস নং ৬৩৩, তিরমিযি, হাদীস নং ১০০, নাসাঈ, হাদীস ৫৬২.
৬৯. মুওয়াত্তা ইমাম মুহাম্মাদ, পৃষ্ঠা নং ৭১.
৭০. বুখারী, হাদীস নং ৮৭৯, মুসলিম, হাদীস নং ১৯২০, আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৪১ .
৭১. আবূ দাউদ, হাদীস নং ৩৫৩।
৭২. আবূ দাউদ, হাদীস নং ১৯৪, নাসাঈ, হাদীস নং ১৭১।
৭৩. তিরমিযি, হাদীস নং ১৮৪৮।
📄 তৃতীয় কারণ : ভুল-ত্রুটি হওয়া
এ ব্যাপারে সকলেই একমত যে, সাহাবাগণ সকলেই নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। তাঁদেরকে দোষযুক্ত বা দূর্বল বলার সুযোগ নেই। সুতরাং ইসাবা নামক কিতাবে এ ব্যাপারে আহলে সুন্নাতের ঐক্যমতের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। এতদ্বসত্বেও ভুল-ত্রুটি ইত্যাদি মানবিয় আবশ্যক বিষয়। যা সবার ক্ষেত্রেই হতে পারে। এ জন্য বর্ণনার ক্ষেত্রে ভুল-ত্রুটি হওয়াও সম্ভব। তাই বর্ণনার উপর আমল কারীর জন্য এটাও খুব জরুরী যে, সেই বর্ণনকে এ ধরণের অন্যান্য বর্ণনার সাথে মিলিয়ে দেখবে যে, ইহার বিপরীত কোন বর্ণনা আছে কি না? যদি বিপরীত কোন বর্ণনা থাকে তাহলে বৈপরীত্যের কারণ তালাশ করতে হবে।
এ প্রকারের অসংখ্য উদাহরণ হাদীসের কিতাবে পাওয়া যায়। যেমনঃ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. এর বর্ণনা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রজব মাসে উমারাহ আদায় করেছেন। হযরত আয়েশা রা. যখন এ কথা শুনলেন তখন বললেন যে, ইবনে উমার ভুলে গেছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রজব মাসে কোন উমরাহ করেন নি।৭৪ হযরত ইমরান বিন হুসাইন রা. এর বাণী যা পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে তিনি বলেছেন আল্লাহর শপথ আমার এতো হাদীস মুখস্ত আছে যে, আমি দুইদিন পর্যন্ত ধারাবাহীক ভাবে হাদীস বর্ণনা করতে পারবো। কিন্তু বাঁধা হল যে, আমার ন্যায় অন্যান্য সাহাবাগণ ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে হাদীস শুনেছেন ও তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে উপস্থিত থাকতেন। এর পরও বর্ণনা করতে তাঁরা ভুল করতেন। তবে পার্থক্য এই যে, তাঁরা বুঝে-শুনে মিথ্যা বলতেন না। যদি আমিও বর্ণনা করি তাহলে আমার ভয় হয় যে, যদি আমিও তাঁদের দলভুক্ত হয়ে যাই কি না। হযরত আলী রা. হযরত আবু বকর রা. ছাড়া অন্য কারো থেকে হাদীস শুনলে তাকে এ বলে শপথ করাতেন যে, বাস্তবেই সে এরূপ শুনেছেন কি-না? এ কারণেই মুহাদ্দিসগণ প্রত্যেক ব্যক্তিকে হাদীস অনুযায়ী আমল করতে নিষেধ করেছেন যতক্ষণ পযন্ত তার এ যোগ্যতা না হবে যে সহীহকে দূর্বল, সঠিককে ভুল, বাস্তবকে অবাস্তব থেকে পৃথক করতে পারবে। (যে কেউ কোন হাদীস শুনলেই যে তার উপর আমল করবে এমনটি নয় বরং যাচাই বাছাই ও তাহকীক করার পর আমল করবে)
বর্ণনার ভিন্নতার কারণসমূহের মধ্যে উপরোক্ত কারণের কাছাকাছি আরেকটি কারণ হলো আয়ত্ব করার ভিন্নতা অর্থাৎ বর্ণনাকারীগণ ঘটনা বর্ণনা করার ক্ষেত্রে ভুল-ত্রুটি করে ফেলেছে। এটা অসম্ভব কোন বিষয়ও নয় যে, কখনো কখনো বড় থেকে বড় বুঝমান, বিবেকবান ব্যক্তি থেকেও কথা বুঝা, বর্ণনা করা ও ব্যক্ত করার ক্ষেত্রে ভুল-ত্রুটি হয়ে যাওয়া। সুতরাং আমি পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী বর্ণনা করেন যে, মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবারের কান্না-কাটি করার কারণে শাস্তি দেওয়া হয়।৭৫" হযরত আয়েশা রা. উক্ত হাদীসের বর্ণনার ক্ষেত্রে কিছুটা দোষ নির্ণয় করে বলেন, ঘটনা বর্ণনা করার ক্ষেত্রে ভুল হয়েছে। বাস্তব ঘটনা ছিলো এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার এক ইয়াহুদী মহিলার লাশের কাছ দিয়ে গেলেন আর তার পরিবারের লোকেরা তার জন্য কান্ন-কাটি করছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন এসকল লোক কান্না-কাটি করছে অথচ তাকে কবরে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। ৭৬ সুতরাং হযরত আয়েশা রা. এর মতে তাকে কবরে শাস্তি দেওয়ার কোন কারণ তাদের ক্রন্দন ছিলো না।
এমনিভাবে হযরত আবূ হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন যে, যদি গোছলের প্রয়োজন থাকাবস্থায় সুবহে সাদিক হয়ে যায় তাহলে সেদিন রোজা রাখতে পারবে না, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকেও এটা বর্ণনা করেন ও স্বয়ং তারই ফাতওয়া এর উপরই ছিল। সুতরাং 'ফাতহুল বারী' নামক কিতাবের রোজার অধ্যায়ে এসম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনাগুলো একত্রিত করা হয়েছে। ৭৭ পক্ষান্তরে হযরত আয়েশা ও হযরত উম্মে সালমা রা. বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গোসলের প্রয়োজন হতো এমন অবস্থায়ও তিনি দিনের রোজা রাখতেন। ৭৮
এক জামাত বর্ণনা করেন যে, নামাযীর সামনে দিয়ে যদি কোন মহিলা বা কোন কুকুর যায় তাহলে নামায ভেঙ্গে যায়। ৭৯ হযরত আয়েশা রা. এটা অস্বীকার করেন ও বলেন যে, এটা সঠিক না।৮০
হযরত ফাতেমা বিনতে কুইস রা. বর্ণনা যে, তিন তালাক প্রাপ্তা মহিলার ভরণ-পোষণ, বাসস্থানের ব্যায় ভার স্বামীর উপর বর্তাবে না। এ কথা যখন হযরত উমার রা. এর কাছে পৌঁছল তখন তিনি বললেন যে, আমি একজন মহিলার কথায় কোরআনের হুকুম ছাড়তে পারি না। (কুরআন ভরণ পোষণ দেওয়ার কথা বলেছে।) ৮১
মোটকথা এই যে, এধরনের আরো অনেক হাদীস পাওয়া যাবে যেগুলোর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য ও সত্যবাদী হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের থেকে ভুল হয়েছে। এ জন্যই খবরে ওহেদ (এককভাবে বর্ণিত হাদীস) এর উপর আমল করার জন্য উলামাগণ অনেক মূলনীতি সাব্যস্ত করেছেন। যাতে করে সেগুলো দ্বারা বর্ণনা যাচাই করে নিতে পারে। যদি মূলনীতি অনুযায়ী হয় তাহলে আমল করবে অন্যথায় নয়। হযরত উমার রা. এর উক্ত ঘটনার মাধ্যমে হানাফী উলামাগণের ওই মূলনীতি দৃঢ় হয় যে, তাঁরা সর্বদা ওই হাদীসকে প্রাধান্য দেয় যা কুরআনী বিষয় বস্তু অনুযায়ী হয়। যদিও বিপক্ষের হাদীসের বর্ণনাকারী পক্ষের হাদীসের বর্ণনাকারীর চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য অথবা সংখ্যাগত দিক দিয়ে বেশী হয়। আর উপরোক্ত সমস্ত ঘটনা এ কথা স্পষ্ট করে দেয় যে, হাদীস অনুযায়ী আমল করা ওই ব্যক্তির কাজ যে, (হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে) ভুল বুঝতে পারে। আফসোসের বিষয় এই যে, স্বর্ণ ক্রয়কারী পরীক্ষা করার জন্য স্বর্ণকারের মুক্ষাপেক্ষি। অথচ হাদীস অনুযায়ী আমল করার জন্য কোন যাচাই-বাছাই কারীর প্রয়োজন মনে করা হয় না। এ ক্ষেত্রে কোন অবগতি ছাড়াই নিজ জ্ঞানের উপর পরিপূর্ণ নির্ভর করে থাকে। আল্লাহ তা'আলাই সাহায্য করুন।
টিকাঃ
৭৪. বুখারী, হাদীস নং ১৭৭৬, মুসলিম, হাদীস নং ২৯৯৫, তিরমিযী, হাদীস নং২৯৯৮
৭৫. বুখারী, হাদীস-১২৮৭, মুসলিম, হাদীস-২১৪৩, তিরমিযী, হাদীস-১০০২, নাসায়ী, হাদীস-১৮৪৯, ইবনে মাজাহ, হাদীস-১৫৯৩।
৭৬. বুখারী, হাদীস নং-১২৮৯, মুসলিম, হাদীস নং ২১৫৬, তিরমিযী, হাদীস নং ১০০৬, নাসায়ী, হাদীস নং-১৮৫৭, ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৫৯৫।
৭৭. ফাতহুল বারী কিতাবুস সওম।
৭৮. বুখারী, হাদীস নং ১৯২৫।
৭৯. মুসলিম, হাদীস নং-১১৩৯, আবূ দাউদ, হাদীস নং ৭০২, তিরমিযি, হাদীস নং ৩৩৮
৮০. মুসলিম, হাদীস নং ১১৪২, আবূ দাউদ, হাদীস নং ৭১১, ৭১২, নাসাঈ, হাদীস নং ৭৫৬।
৮১. আবূ দাউদ, হাদীস নং ৩৭১০।
📄 চতুর্থ কারণ : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোন ইরশাদকে তার বাহ্যিক অর্থে প্রয়োগ করা
সাহাবাগণ যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাকীকী আন্তরিক ও বাস্তবিক আশেক ছিলেন যাদের প্রত্যেকেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রত্যেকটি কাজের উপর পরিপূর্ণভাবে উৎসর্গ হতেন।
সাহাবাগণ সম্পর্কের উদাহরণ ও বর্ণনাতীত। তবে ছোট থেকে ছোট একটি উদাহরণ হলো হযরত আনাছ রা. বর্ণনা করেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন কোন এক সাহাবীর নির্মানাধীন বাড়ীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। (যে বাড়ির একটি কামড়াও তৈরী হয়ে গিয়েছিলো) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন যে, এটা কার ? মালিক সম্পর্কে জানার পর মুখে কিছু বললেন না। পরবর্তীতে যখন ঘরের মালিক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে উপস্থিত হলেন তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালামের উত্তর দিলেন না। তিন বার এরুপ করার পর তিনি লোকদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন ও জানতে পারলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর ঘরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় জিজ্ঞাসা করেছিলেন এটা কার বাড়ী? এ কথা শুনে তিনি তৎক্ষনাত যেয়ে উক্ত কামরাসহ বাড়ীর সবকিছু ভেঙ্গে ফেললেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে যেয়ে বাড়ী ভেঙ্গে ফেলারও সংবাদ পর্যন্ত দিলেন না লজ্জা ও অপমানের কারণে। ঘটনাক্রমে দ্বিতীয় বার যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেদিক দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন বিষয়টি জানতে পারলেন। ৮২ মোটকথা তাঁরা কখনো কখনো মাহবুবের যবান থেকে নিসৃঃত শব্দের বাহ্যিক অনুযায়ী আমল করতেন। আর এটারও সম্ভাবনা আছে যে, কোন কোন সাহাবী উদ্দেশ্য ঐটাই বুঝতেন যার উপর তিনি আমল করতেন। কিন্তু এটাও অসম্ভব নয়, বরং কিছু কিছু শব্দ দ্বারা এ কথাও বুঝা যায় যে, স্বয়ং তাঁরা ও কখনো কখনো বুঝতে পারতেন যে, ইহা বাস্তব উদ্দেশ্য নয়। তারপর বাহ্যিক শব্দে যা আছে তার উপরই আমল করতেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে নববীর এক দরজার দিকে ইশারা করে বললেন যে, 'আমি এই দরজাকে মহিলাদের জন্য খাস করে দিলে ভালো হতো' এর পর থেকে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. কখনো সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করেন নি।৮৩
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রা. এর ইন্তেকালের সময় তিনি নতুন কাপড় আনিয়ে পরিধান করলেন আর বললেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছি যে, মানুষ যে কাপড়ে মৃত্যু বরণ করবে তাকে সেই কাপড়েই হাশরের ময়দানে উঠানো হবে। ৮৪
কুরআন শরীফের এই আয়াত كَمَا بَدَانَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيدُهُ এর তাফসীরে প্রসিদ্ধ বিভিন্ন বর্ণনা দ্বারা বুঝা যায় যে, মানুষকে হাশরে বিবস্ত্র অবস্থায় উঠানো হবে।৮৫ বিভিন্ন বর্ণনা দ্বারা উক্ত বিষয় প্রমাণিত। আর এটা অসম্ভব যে, হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. উক্ত হাদীসের উদ্দেশ্য বুঝতে পারেন নি। (অর্থাৎ এ হাদীসের বাস্তব উদ্দেশ্য তিনি অবশ্যই বুঝেছেন) কিন্তু এরপরও তিনি শুধু হাদীসের বাহ্যিক শব্দ অনুযায়ী আমল করার জন্য নুতন কাপড়ে এ কাজ করেছেন।
এ ধরণের উদাহরণ অনেক হাদীসে পাওয়া যায়, যদিও বাহ্যত এটা অসম্ভব মনে হয় কিন্তু যারা ভালোবাসার স্বাদ পেয়ে গেছে তারা বুঝতে পারবে যে, ভালোবাসার শব্দ সমূহ কোন লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ছাড়াই কি পরিমান সুস্বাদু! এ কারণেই সাহাবাগণ রহিত বর্ণনা সমূহ বর্ণনা করতেন অথচ কোন রহিত হুকুম বর্ণনা করার কোন প্রয়োজন থাকে না। এমনিভাবে এমন অনেক হাদীস বর্ণনা করা হয় যেগুলো স্পষ্টভাবেই রহিত।
টিকাঃ
৮২. আবু দাউদ, হাদীস নং ৫২৩৭।
৮৩. আবূ দাউদ, হাদীস নং ৪৬২।
৮৪. আবূ দাউদ কিতাবুল জানায়িয হাদীস নং ৩১১4।
📄 হাদীস অন্বেষণকারীদের জন্য কিছু আদব
ইলম হাদীস নিয়ে চিন্তা গবেষণা করা এবং সে বিষয়ে পাণ্ডিত্য অর্জন করা, বর্ণনা বা লেখালেখি করার ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসীন এর চেয়েও বেশী শক্ত সীমারেখা নির্ধারণ করেছেন। যদিও অনিচ্ছাকৃতভাবে বিষয়বস্তু দীর্ঘ হয়ে যাচ্ছে। তবে যুগের দাবি পূরণ করতে গিয়ে হযরত ইমাম বুখারী (রহ.) এর একটা অতি আশ্চর্য ঘটনা এখানে উল্লেখ করছি। যা দ্বারা আন্দাজ করা যাবে যে, ইল্মে হাদীস হাসিল করার জন্য এবং তার তালেব হওয়ার জন্য পূর্ববর্তী বুযুর্গগণ কি পরিমাণ কঠিন মেহনতের কথা বলেছেন। মুহাদ্দিস ও শায়খুল হাদীস হওয়া তো আরো অনেক পরের কথা।
হযরত মুহাম্মদ ইবনে আহমদ (রহ.) বলেন, হযরত ওলীদ ইবনে ইবরাহীম (রহ.) 'রিই'ই' নামক স্থান থেকে বিচারকের পদ থেকে বরখাস্ত হয়ে যখন বুখারায় আসলেন তখন আমার উস্তাদ হযরত আবু ইবরাহীম খাত্তালী আমাকে সহ তাঁর খেদমতে হাজির হলেন এবং তাঁর কাছে নিবেদন করলেন, যে সমস্ত হাদীস আপনি আমাদের মাশায়েখ ও উস্তাদগণ থেকে শুনেছেন তা বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, হাদীসের বর্ণনা তো আমি শুনি নি। আমার উস্তাদ খুব আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি এতবড় ফক্বীহ ও অভিজ্ঞ আলেম হওয়ার পরও এমন কথা বললেন? উত্তরে তিনি তাঁর এক কাহিনী শুনালেন। তিনি বলেন, বালেগ হওয়ার পর হাদীস পড়ার আমার খুব আগ্রহ হল। তখন আমি হযরত ইমাম বোখারী রহ. এর খেদমতে হাজির হয়ে আমার উদ্দেশ্য ব্যক্ত করলাম। তখন তিনি আমাকে আদরের সাথে বললেন, বৎস! তুমি যখন কোন কাজ করার ইচ্ছা করবে তখন সর্বপ্রথম ঐ কাজের আনুষঙ্গিক বিষয়াদি ও অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করে নিবে। এরপর তার সীমারেখা ও নিয়ম কানুন জানার পর ঐ কাজ শুরু করবে।
এখন শুন! কোন মানুষ ঐ পর্যন্ত কামেল মুহাদ্দেস হতে পারবে না যতক্ষণ না সে (১) চারটি জিনিসকে অন্য চারটি জিনিসের সাথে এমনভাবে লিখবে যেমন চারটি জিনিস অন্য চারটি জিনিসের সাথে (২) চারটি জিনিস চারটি জামানার মধ্যে (৩) চারটি অবস্থার সাথে চার স্থানে (৪) চারটি জিনিসের উপর চার প্রকার মানুষ থেকে।
আর তা চার উদ্দেশ্যের জন্য হবে। আর এই চার বিষয় ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণতা লাভ করবে না যতক্ষণ না এমন চারটি জিনিস হাসিল করা হবে যা অন্য চারটি জিনিসের সাথে হবে। এসব জিনিস যখন পরিপূর্ণ হয়ে যাবে তখন তার জন্য চারটি জিনিস সহজ হয়ে যাবে এবং চারটি বিপদে সে লিপ্ত হয়ে যাবে। কিন্তু এগুলোর উপর সবর করলে আল্লাহ পাক তাঁকে চারটি জিনিস দ্বারা দুনিয়াতে সম্মানিত করবেন এবং চারটি পুরস্কার পরকালে দান করবেন।
তখন আমি বললাম, হযরত! আল্লাহ পাক আপনার উপর রহম করুন। এবার এই চারটি বিষয়ের একটু ব্যাখ্যা করে বলুন। তিনি বললেন, শুন! ঐ চারটি জিনিস যা লেখার প্রয়োজন হয় তা হল,
(১) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বর্ণিত হাদীস ও তাঁর আদেশ নিষেধ লেখা।
(২) সাহাবাগণের বাণী ও তাঁদের ইলমী মর্যাদা অর্থাৎ কোন সাহাবী কোন্ স্তরের ছিলেন তা লেখা।
(৩) তাবেঈনগণের বাণী ও তাঁদের ব্যক্তিমর্যাদা অর্থাৎ কে নির্ভরযোগ্য আর কে নির্ভরযোগ্য নয় তা লেখা।
(৪) হাদীস বর্ণনাকারী সকলের জীবনী ও তাঁদের জন্ম তারিখ লেখা।
চারটি জিনিস লিখতে হয় চারটি জিনিসের সাথে তা হল (১) হাদীস বর্ণনাকারীর নাম (২) তাঁদের উপনাম (৩) তাঁদের বাসস্থান (৪) তাঁদের জন্ম ও মৃত্যু তারিখ। যার দ্বারা এটা বুঝা যাবে যে, তাঁরা যাদের থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাঁদের সাথে তাঁদের সাক্ষাৎ হয়েছে কি না। এগুলো এমন জরুরী বিষয় যেমন বক্তৃতার জন্য হামদ ও সানা হওয়া জরুরী এবং রাসূলগণের প্রতি দুরুদ শরীফ পড়া এবং সূরার সাথে বিসমিল্লাহ পড়া ও নামাযের শুরুতে তাকবীর বলা জরুরী।
আর চারটি জিনিস চার জামানায় লেখা দ্বারা উদ্দেশ্য হল (১) মুছনাদ (২) মুরছাল (৩) মাওকূফ (৪) মাকুতু। এসব ইল্মে হাদীসের চার প্রকারের নাম।
চার জামানার মধ্যে লেখা দ্বারা উদ্দেশ্য হল, (১) বাল্যকালে (২) প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার কাছাকাছি সময়ে (৩) প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরে (৪) বার্ধক্যের পূর্ব পর্যন্ত।
চার অবস্থার অর্থ হল (১) কর্ম ব্যস্ততার সময় (২) কর্ম মুক্ততার সময় (৩) দরিদ্রতার সময় (৪) ধনাঢ্যের সময়। মোটকথা সবসময় এরই মধ্যে লেগে থাকবে।
চার জায়গার উদ্দেশ্য হল (১) পাহাড়ের উপর (২) নদীর মধ্যে (৩) শহরে (৪) জঙ্গলে। মোটকথা হাদীসের উস্তাদ যে স্থানেই পাওয়া যায় সেথায় হাদীস হাসিল করা।
চারটি জিনিসের উপরের অর্থ হল (১) পাথরের উপর (২) ঝিনুকের উপর (৩) চামড়ার উপর (৪) হাড়ের উপর। মোটকথা কাগজ বা এ জাতীয় লেখার উপযোগী কোন কিছু পাওয়ার আগ পর্যন্ত এসকল জিনিসের উপর লিখতে হবে। যাতে করে হাদীসসমূহ মেধা থেকে হারিয়ে যেতে না পারে।
চারজন থেকে হাসিল করবে তা হল, (১) নিজের চেয়ে বড় থেকে (২) নিজের চেয়ে ছোট থেকে (৩) নিজের সমসাময়িকদের থেকে (৪) আপন পিতার কিতাব থেকে যদি তাঁর লেখা বুঝা সম্ভব হয়। মোটকথা ইল্ম হাসিল করতে অলসতা করবে না। নিজের সমসাময়িক ও ছোটদের থেকেও ইলম হাসিল করতে লজ্জাবোধ করবে না।
চারটি উদ্দেশ্যের জন্য তা হল, (১) আল্লাহ পাককে রাজিখুশী করার জন্য। কারণ মনিবের সন্তুষ্টির প্রতি লক্ষ্য রাখা গোলামের জন্য ফরজ (২) কোরআন পাকের অনূকুলে যত বিষয় আছে তার উপর আমল করার জন্য (৩) আগ্রহী তালেবদের কাছে পৌঁছানোর জন্য (৪) ইল্ম কিতাবাকারে লেখার জন্য যাতে করে পরবর্তী প্রজন্মদের জন্য তাতে হেদায়েতের ধারা চালু থাকে।
উল্লেখিত জিনিসগুলো হাসিল করতে হলে এর পূর্বে আরো চারটি জিনিস অবশ্যই হাসিল করতে হবে। আর এগুলো মানুষের আওতাধীন জিনিস। কষ্ট মেহনত করে যা অর্জন করতে হয়। (১) ইলমে কেতাবাত অর্থাৎ লেখার যোগ্যতা অর্জন করা (২) ইলমে লোগাত যার দ্বারা শব্দের আভিধানিক সঠিক অর্থ বুঝা যাবে। (৩) ইলমে সরফ বাক্যের গঠন প্রণালী বুঝা যায় (৪) ইলমে নাহু যেগুলো দ্বারা শব্দের শুদ্ধতা ও অশুদ্ধতা বুঝা যাবে।
এই বিদ্যাগুলো আবার এমন চারটি জিনিসের উপর নির্ভর করে যেগুলো পুরোপুরি ভাবে আল্লাহ পাকের দান। বান্দার চেষ্টা মেহনতের উপর তা নির্ভরশীল নয়। আর তা হল (১) সুস্থতা (২) শক্তি (৩) শিক্ষার প্রতি আগ্রহ (৪) স্মরণশক্তি।
এসব জিনিস যখন মানুষের হাসিল হয় তখন ইল্ম হাসিল করতে চারটি জিনিসের গুরুত্ব তার কাছে মূল্যহীন হয়ে যায়। অর্থাৎ (১) পরিবার (২) সন্তান (৩) অর্থ-সম্পদ (৪) ঘর-বাড়ী।
এরপর চারটি বিপদে সে লিপ্ত হয়ে যায় (১) বিপদের সময় দুশমনদের পক্ষ থেকে আনন্দের হাসা-হাসি (২) দোস্তদের পক্ষ থেকে তিরস্কার ও নিন্দাবাদ (৩) মূর্খ ও জাহেল লোকদের পক্ষ থেকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ (৪) ওলামাগণের পক্ষ থেকে হিংসা ও জ্বলন-পোড়ন এবং শত্রুতা ও অনিষ্ট কামনা।
পরে মানুষ যখন এগুলোর উপর সবর করে তখন আল্লাহ পাক তাঁকে চারটি জিনিস দুনিয়ায় দান করেন, আর চারটি জিনিস আখেরাতে দান করেন। দুনিয়ায় যে চারটি জিনিস দান করেন তা হল, (১) অল্পে তুষ্ট হওয়া এবং সম্মানিত হওয়া (২) পূর্ণ একীনের সাথে গাম্ভীর্যতা ও মাহাত্ম্য (৩) ইল্মের স্বাদ ও মজা (৪) দায়েমী যিন্দেগী।
আর পরকালে যে চারটি জিনিস দান করেন তা হল, (১) শাফায়াতের অধিকার, যার জন্যই তিনি চাইবেন তার জন্য শাফায়াত করতে পারবেন (২) আরশের নীচে ছায়া, যেদিন আরশের ছায়া ব্যতীত অন্য কোন ছায়া থাকবে না (৩) হাউজে কাওসারের অধিকার, অর্থাৎ যার জন্য তিনি চাইবেন তাকে হাউজে কাওসার থেকে পান করাতে পারবেন (৪) আম্বিয়াগণের সাথে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান পাওয়া।
সুতরাং হে বৎস! আমি আমার উস্তাদ ও পীর মাশায়েখগণের থেকে বিক্ষিপ্তভাবে যা কিছু শুনেছিলাম তার সবই সংক্ষিপ্তভাবে তোমাকে বলে দিলাম। এবার তোমার জন্য স্বাধীনতা রয়েছে যে, ইচ্ছা হলে তুমি হাদীসশাস্ত্র নিয়ে গবেষণা করতে পারো আর না চাইলে না করতে পারো। ৮৬
উপরোক্ত এই উসূল ও মূলনীতিগুলো ইমাম বুখারী রহ. ওই সমস্ত ব্যক্তির জন্য একত্রিত করেছেন যে মুহাদ্দিস বা হাদীসের আলেম হওয়ার ইচ্ছা পোষন করে। আমাদের জন্য বাস্তবিক অর্থে-ই ইমাম বুখারী রহ. এর উক্ত নসীহত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত ও মজবুত ভাবে তা আকড়ে ধরা উচিত। বাস্তবে তো ইলমে হাদীস এর চেয়েও বেশী কঠিন। আর বর্তমান অলসতার যুগে যেখানে মানুষের ইলম অর্জনের শেষ সীমা মনে করা হয় সিহাহ সিত্তার কয়েকটি কিতাব যেগুলো পড়ে নিজেকে মুহাদ্দিস বা ইলমে হাদীসের ফাযেল মনে করতে থাকে। বাস্তবে মুর্খতার এই যুগে আমাদের মতো অর্ধ মৌলভীদের দ্বারা ইলমে দ্বীনের যে, পরিমান ক্ষতি হচ্ছে এর উদাহরণ সম্ভবত তালাশ করলে পূর্বের কোন যুগে তা পাওয়া যাবে না। যার অনেক কারণ হতে একটি কারণ হলো নিজ ফযীলতের উপর আস্থা, নিজ অসম্পূর্ণ জ্ঞানের প্রতি ভরসা অথচ মৃতাআখখিরীন ফকীহগণ নিজ রায় অনুযায়ী ফাতওয়া দেওয়াকেও এই যুগে অনুমতি দেন নি বরং উহার সাদৃশ্য পূর্বের কোন ফাতওয়া থেকে বর্ণনা করার অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে মাসআলা মাসায়েল তো অনেক দূরের বিষয় বড় বড় ইলমি তাহকীক নিজ যোগ্যতা, নিজ বুঝ অনুযায়ী হয়ে থাকে
মোটকথা এই আলোচ্য বিষয় নিজ প্রয়োজন থাকা স্বত্তেও মূল আলোচ্য বিষয় থেকে বহির্ভূত রেখে আমি পূর্বের আলোচ্য বিষয়ের দিকে ফিরে আসছি। অর্থাৎ দ্বিতীয় শতাব্দিতে বর্ণনার ভিন্নতার অনেক কারণ থেকে উদাহরণ হিসেবে উপরোক্ত চারটি কারণের উপর ক্ষান্ত করছি। সামনে এগুলো অর্থাৎ এর পর সাহাবী, তাবে তাবেয়ী, আইম্মায়ে মুজতাহিদীন, আইম্মায়ে মুহাদ্দিসীন। মোট কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগ থেকে যতই দূর হয়েছে ততই বর্ণনার ভিন্নতার কারণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর বৃদ্ধি আবশ্যক ও ছিল। কেননা যত মুখ তত কথা। উক্ত কারণ বাস্তবে অনেক কারণের সমষ্টি সংক্ষিপ্ততার উদ্দেশ্যে সবগুলোকে একটির মধ্যে অন্তর্ভূক্ত করে বর্তমানের পঞ্চম কারণ সাব্যস্ত করেছি যাতে আলোচ্য বিষয় দীর্ঘায়িত না হয়।
টিকাঃ
৮৫. বুখারী, হাদীস নং ৪৭৪০, মুসলিম, হাদীস. নং ৭২০১, তিরমিযি, হাদীস নং ২৪২৩ নাসাঈ, হাদীস নং ২০৮৪।
৮৬. তাদরীবুর রাবী, তাহযীবুল কামাল, খণ্ড-৬/২৩৬