📄 প্রথম কারণ : রেওয়ায়েত বিল মা’না বা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসের মূল অর্থ ঠিক রেখে ভিন্ন শব্দে হাদীস বর্ণনা করা
প্রথম প্রকারে বর্ণিত কারণ সমূহ ছাড়াও সাহাবী ও তাবেয়ীগণের যুগে আরো এমন কিছু কারণ রয়েছে যেগুলোর ফলে হাদীসের বর্ণনার ভিন্নতা সৃষ্টি হয়েছে। আর এমনটি হওয়াও আবশ্যক ছিল। তার উল্লেখযোগ্য একটি কারণ হলো রেওয়ায়েত বিল-মা'না অর্থাৎ সাহাবী ও তাবেয়ীদের প্রাথমিক যুগে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে হুবহু মূল শব্দে হাদীস বর্ণনা করার প্রতি গুরুতারোপ করা হতো না। বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী নিজেদের ভাষায় বা শব্দে বর্ণনা করে দিতেন যেমন:
كما في مصنف عبد الرزاق عن ابن سيرين كنت اسمع الحديث من عشرة كلهم يختلف في اللفظ والمعنى واحد .
অর্থাৎ হযরত ইবনে সীরীন রহঃ, বলেন, আমি একই হাদীস দশ জন উস্তাদ থেকে শুনেছি যাদের প্রত্যেকেই ভিন্ন ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করেছেন কিন্তু অর্থ ছিল এক।৬৪ তাযকিরাতুল হুফফাজ নামক কিতাবে আল্লামা যাহাবী রহ. আবূ হাতেম রহ. এর নিম্মোক্ত বানী বর্ণনা করেন:
ولم ارمن المحدثين من يحفظ ويأتى بالحديث علي لفظ واحد لا يغيره سوى قبيصة
অর্থাৎ কবীসা ব্যতীত আমি অন্য কোন মুহাদ্দীসকে এমন পায়নি যারা হুবহু হাদীসের শব্দ বর্ণনা করে।৬৫ আল্লামা সূয়ূতী রহ. 'তাদরীবুর রাবী' নামক কিতাবে উক্ত বিষয়টিকে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। যেখানে উলামাগনের মতানৈক্যের ব্যাপারেও বর্ণনা করেছেন যে, রেওয়ায়েত বিল-মা'না জায়েয আছে কিনা? তবে চার ইমাম এ বিষয়ে একমত যে, বর্ণনার সকল শর্ত কারোর মধ্যে পাওয়া গেলে তার জন্য রেওয়ায়েত বিল মা'না করা জায়েয। তবরানী ও ইবনে মানদাহ রহ. এর একটি হাদীস দ্বারা উক্ত মতের সমর্থনে দলীল পেশ করেছেন যে হাদীসে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সুলাইমান রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, আমি যে শব্দে হাদীস শুনি তা হুবহু মনে রাখতে পারিনা এক্ষেত্রে আমি কি করব? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যদি অর্থ ঠিক থাকে তাহলে শব্দের পরিবর্তন করেও বর্ণনা করা জায়েয।৬৬ আর বাস্তবে পূর্ণ শব্দ মনে রাখাও কষ্টকর।
এ কারণেই যখন হযরত ওয়াছেলাহ ইবনে আসকা রা. এর কাছে মাকহুল রহ. এই আবেদন করেছিলেন যে আমাকে এমন একটি শোনান যা আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছেন এবং যার কোন ধরনের কম বেশী, ভুল-ভ্রান্তি নেই। তখন তিনি মাকহুল রহ. কে জিজ্ঞাসা করলেন যে, তোমাদের কেউ কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করেছো?
মাকহুল রহ. বললেন এমন ভালো কোন হাফেজ নেই যে তার কোন ভুল হয় না। এর পর ওয়াছেলাহ রা. বললেন যে, আল্লাহ তা'য়ালার কালাম যা তোমাদের কাছে লিখিত ও সংরক্ষিত রয়েছে, শব্দ সংরক্ষনের জন্য সীমাহীন গুরুত্ব দেওয়া হয় এরপর ও তাতে 'ওয়াও' এবং 'ফা' এর ভুল (ছোট বড় বিভিন্ন ভুল) থেকে যায়, তাহলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস হুবহু সেভাবে কি করে শুনানো যাবে? তাছাড়া হাদীসগুলো কখনো কখনো এক বারই শুনার সুযোগ হয়েছে। সুতরাং হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মূল অর্থ ঠিক থাকা-ই যথেষ্ট মনে কর।
হযরত ওয়াকী রহ. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, হাদীসের ক্ষেত্রে যদি অর্থ আদায় হয়ে যাওয়ার সুযোগ না দেওয়া হয় তাহলে উম্মাত ধ্বংস হয়ে যাবে। ইবনূল আরাবী রহ. এর মতে বর্ণনা বিল-মা'না (মূল অর্থ ঠিক রেখে ভিন্ন শব্দে বর্ণনা করা) শুধু সাহাবীগণের জন্য-ই জায়েয অন্য কারো জন্য জায়েয নেই। কিন্তু কাসেম বিন মুহাম্মাদ, ইবনে সীরীন, হাসান, জুহরী, ইবরাহীম, শা'বী ইত্যাদি ব্যক্তিবর্গের মতে বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে অন্যান্যদের জন্যও জায়েয। এই মৌলিক কারণে-ই তাবেয়ীদের একটি বড় দল বর্ণনা কে সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে সম্মন্ধ করতেন না বরং মাসয়ালা আকারে ঐ হাদীসকে শরয়ী হুকুমের অধিনে বর্ণনা করতেন।
হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহ. কর্তৃক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সরাসরি সম্বন্ধ না করার জন্য একাধিক কারণ থেকে এটাও একটি উল্লেখযোগ্য কারণ যে, শব্দ পরিবর্তন করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সম্বন্ধ করে বর্ণনা করা জঘন্য তম অন্যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ভুল সম্বন্ধ করার কঠিন ধমকীর অন্তর্ভূক্ত না হয়ে যায়। এ জন্য আকাবীর উলামাগন সর্বদা-ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সম্বন্ধ থেকে বেঁচে থাকতেন। আর এটা এজন্য যে, কোন ধরনের ভুল-ভ্রান্তি বা ভুল বুঝার সম্ভাবনা সেই হাদীসে না থাকা কঠিন বিষয়। একারণেই হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. এর মতো সম্মানিত সাহাবী যার সম্পর্কে আবূ মূছা আশয়ারী রা. বলেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এত বেশি আসা-যাওয়া করতেন যারফলে আমরা মনে করতাম যে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরিবার ভূক্ত। তিনি ঐ ব্যক্তি যার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের গোপন কথা শোনারও অনুমতি দিয়েছিলেন। তিনি ঐ ব্যক্তি যাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ জীবদ্বশায় কুরআনের ও হাদীসের উস্তাদ বানিয়েছেন। তিনি ঐ ব্যক্তি যার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইরশাদ হলো যদি আমি পরামর্শ ছাড়া কাউকে আমীর বানাতাম তাহলে ইবনে মাসউদকে আমীর বানাতাম। তিনি ঐ ব্যক্তি যাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন ধরনের বাঁধা বিপত্তি ছাড়াই আসা-যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন। ৬৭
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. এর ইলমি ফযীলত সংক্রান্ত যত কিছু বর্ণিত হয়েছে অন্যান্য সাহাবাগনের ক্ষেত্রে তা খুব কম-ই বর্ণিত হয়েছে। এজন্য ইমাম আবূ হানীফা রহ., নিজ মাযহাবের বিশেষ উৎসস্থল ইবনে মাসউদ রা. কে গ্রহণ করেছেন। যার আলোচনা যথোপযুক্ত স্থানে ইনশাআল্লাহ বর্ণনা করব। এখানে শুধু এইটুকু বলা যায় যে, এত অধিক ফযীলত, অধিক ইলম ও অধিক পরিমানে হাদীসের জ্ঞান থাকা স্বত্বেও হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি খুব কম-ই হাদীসের সম্বন্ধ করতেন। হযরত আবূ আমর শাইবানী রহ. বলেন, আমি এক বৎসর পর্যন্ত হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. এর খেদমতে উপস্থিত ছিলাম এই দীর্ঘ সময়ে আমি তাঁকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সম্বন্ধ করে কোন হাদীস বর্ণনা করতে শুনি নাই। ঘটনাক্রমে যদি কখনো قال رسول الله صلى الله عليه وسلم বলে ফেলতেন তখন শরীরে কম্পন সৃষ্টি হয়ে যেত। হযরত আনাছ রা. যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খাছ খাদেম ছিলেন তিনি বলেন যদি আমার ভুল-ভ্রান্তির ভয় না থাকত তাহলে আমি এমন অনেক হাদীস শুনাইতাম যেগুলো আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছি। কিন্তু আমার ভয় হয়, আমি ধমকীর অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাই কিনা। হযরত সুহাইব রা. বর্ণনা করেন ঐ সকল জিহাদের কথা যেগুলো আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে শরীক ছিলাম বর্ণনা করে দিব কিন্তু এভাবে বলা যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরূপ বলেছেন, এটা আমার দ্বারা সম্ভব নয়। এধরনের আরো অনেক ঘটনা আছে যেগুলোতে সাহাবাগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি সম্বন্ধ না করার কথা উল্লেখ রয়েছে। ইনশাআল্লাহ একটু ব্যাখ্যা সহকারে এ বিষয়ে ঐ স্থানে আলোচনা করবো যেখানে ইমাম আবূ হানীফা রহ. এর হাদীস কম বর্ণনা করা সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করা হবে।
এ স্থানে উল্লেখিত ঘটনাসমূহ সংক্ষিপ্ত আকারে আলোচনা করার উদ্দেশ্য হলো হুবহু শব্দ সহকারে হাদীস বর্ণনা করা যেহেতু কষ্টকর, সেহেতু রেওয়ায়েত বিল-মা'না (মূল অর্থ ঠিক রেখে ভিন্ন শব্দে হাদীস) বর্ণনা করা হয় এজন্য বুযুর্গ সাহাবাগন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সম্বন্ধ কম করতেন। আর যখন বর্ণনা বিল-মা'না (মূল অর্থ ঠিক রেখে ভিন্ন শব্দে হাদীস) প্রমানিত হলো তখন এর জন্য মতানৈক্য আবশ্যক হয়ে গেল। কেননা উপস্থপনার ভিন্নতার কারণে বর্ণনার ভিন্নতা হয়। এজন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের পর হযরত আবূ বকর রা. যে খুৎবা দিয়েছেন তাতে হাদীস বর্ণনা করতে নিষেধ করে বলেছিলেন যে, এটা উম্মাতের মাঝে মতানৈকের কারণ হবে।
টিকাঃ
৬৪. মুসান্নেফ আঃ রাজ্জাক হাদীস নং ২০৮৩৮, আন ইবনে সিরিন, ১০/৬৩২.
৬৫. তাযকিরাতুল হুফফাজ, শিরোনাম নং-৩৭০, তাহযীবুল কামাল, শিরোনাম নং- ৫৪৩২
৬৬. আল-মু'জামুল কাবীর, তবরানী রহ কর্তৃক, ৭/১১৭, মাজমাউয যাওয়ারেদ ১/১৫৪
৬৭. তিরমিযি, হাদীস নং ৩৮০৮, ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৩৮।
📄 দ্বিতীয় কারণ : কোন হুকুম রহিত হওয়ার পর সে সম্পর্কে না জানা
সাহাবী ও তাবেয়ীদের যুগে বর্ণনার ভিন্নতা হওয়ার এটাও একটি কারণ যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন একটি হুকুম দিয়েছিলেন সে সময়ে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ তা শুনে বুঝে নিয়েছেন। পরবর্তীতে সে হুকুম রহিত হয়ে গেছে। কিন্তু যারা উপস্থিত ছিলেন না তাঁরা প্রথমবার উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ থেকে শুনেছেন। আর তাঁরা যেভাবে শুনেছেন ঐ ভাবেই বর্ণনা করেছেন।
বিভিন্ন বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পাগড়ীর উপর মাছাহ করার কথা পাওয়া যায়। ৬৮ পক্ষান্তরে ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ কর্তৃক রচিত মুওয়াত্তা নামক কিতাবে বর্ণনা করেন যে, পাগড়ীর উপর মাছাহ করা সম্পর্কে আমার কাছে যতটুকু পৌছেছে তা হল এটা ইসলামের প্রথম যুগে ছিল। পরবর্তীতে তা রহিত হয়ে গেছে। ৬৯ এমনি ভাবে হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, জুমা'র গোছল প্রত্যেক বালেগ ব্যক্তির উপর ওয়াজিব। ৭০
পক্ষান্তরে হযরত ইবনে আব্বাস রা. বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উক্ত নিদের্শ ইসলামের প্রথম যুগে দিয়েছিলেন। কেননা তাঁরা নিজেরা ক্ষেত-খামারে কাজ করতেন। আর্থিক সংকীর্নতার কারণে কর্মচারী বা অন্য কাউকে রাখতে সক্ষম ছিলেন না। তাঁরা মোটা কাপড় পরিধান করতেন। বিধায় কাজ করার সময় ঘাম ইত্যাদির কারণে দুর্গন্ধ যুক্ত হয়ে যেত। তাছাড়া মসজিদ ছিলো সংকীর্ন ফলে জুমার নামাজের জন্য সবাই একত্রিত হলে ঘামের দুর্গন্ধ নামাযীদের জন্য কষ্টদায়ক হতো। এ জন্য গোছল ও সুগন্ধি ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন পরবর্তীতে আল্লাহ তা'য়ালা প্রশস্ততা দান করেন ও মসজিদ প্রশস্ত হয়ে যায়। সুতরাং তখন সেই নিদের্শ আগের মতে থাকে নি।" ৭১
এই প্রকার ভূক্ত হলো হযরত আবূ হুরায়রা রা. এর বর্ণিত হাদীস যে আগুনে পাকানো খাবার খেলে ওযু ভেঙ্গে যায়।৭২ পক্ষান্তরে হযরত জাবের রা. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সর্বশেষ আমল ছিল আগুনে পাকানো খাবার খেলে ওযু ভঙ্গ হবে না। এই হাদীসে স্পষ্টভাবে বলা হল যে, ওযুর হুকুম রহিত হয়ে গেছে। কিন্তু আবূ দাউদ রহঃ এর মতে জাবের রা. হাদীসের উদ্দেশ্য এটা নয়। এই কারণেই আমরা অন্য আরেকটি বর্ণনা পেশ করছি যাদের মতে আগুন দ্বারা পাকানো খাবারের পর যে ওযুর কথা বলা হয়েছে তার দ্বারা উদ্দেশ্য আভিধানিক ওযু। অর্থাৎ হাত-মুখ ধোয়া। পারিভাষিক ওযু নয়। ৭৩
টিকাঃ
৬৮. বুখারী, হাদীস নং ২০৫, মুসলিম, হাদীস নং ৬৩৩, তিরমিযি, হাদীস নং ১০০, নাসাঈ, হাদীস ৫৬২.
৬৯. মুওয়াত্তা ইমাম মুহাম্মাদ, পৃষ্ঠা নং ৭১.
৭০. বুখারী, হাদীস নং ৮৭৯, মুসলিম, হাদীস নং ১৯২০, আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৪১ .
৭১. আবূ দাউদ, হাদীস নং ৩৫৩।
৭২. আবূ দাউদ, হাদীস নং ১৯৪, নাসাঈ, হাদীস নং ১৭১।
৭৩. তিরমিযি, হাদীস নং ১৮৪৮।
📄 তৃতীয় কারণ : ভুল-ত্রুটি হওয়া
এ ব্যাপারে সকলেই একমত যে, সাহাবাগণ সকলেই নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। তাঁদেরকে দোষযুক্ত বা দূর্বল বলার সুযোগ নেই। সুতরাং ইসাবা নামক কিতাবে এ ব্যাপারে আহলে সুন্নাতের ঐক্যমতের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। এতদ্বসত্বেও ভুল-ত্রুটি ইত্যাদি মানবিয় আবশ্যক বিষয়। যা সবার ক্ষেত্রেই হতে পারে। এ জন্য বর্ণনার ক্ষেত্রে ভুল-ত্রুটি হওয়াও সম্ভব। তাই বর্ণনার উপর আমল কারীর জন্য এটাও খুব জরুরী যে, সেই বর্ণনকে এ ধরণের অন্যান্য বর্ণনার সাথে মিলিয়ে দেখবে যে, ইহার বিপরীত কোন বর্ণনা আছে কি না? যদি বিপরীত কোন বর্ণনা থাকে তাহলে বৈপরীত্যের কারণ তালাশ করতে হবে।
এ প্রকারের অসংখ্য উদাহরণ হাদীসের কিতাবে পাওয়া যায়। যেমনঃ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. এর বর্ণনা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রজব মাসে উমারাহ আদায় করেছেন। হযরত আয়েশা রা. যখন এ কথা শুনলেন তখন বললেন যে, ইবনে উমার ভুলে গেছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রজব মাসে কোন উমরাহ করেন নি।৭৪ হযরত ইমরান বিন হুসাইন রা. এর বাণী যা পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে তিনি বলেছেন আল্লাহর শপথ আমার এতো হাদীস মুখস্ত আছে যে, আমি দুইদিন পর্যন্ত ধারাবাহীক ভাবে হাদীস বর্ণনা করতে পারবো। কিন্তু বাঁধা হল যে, আমার ন্যায় অন্যান্য সাহাবাগণ ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে হাদীস শুনেছেন ও তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে উপস্থিত থাকতেন। এর পরও বর্ণনা করতে তাঁরা ভুল করতেন। তবে পার্থক্য এই যে, তাঁরা বুঝে-শুনে মিথ্যা বলতেন না। যদি আমিও বর্ণনা করি তাহলে আমার ভয় হয় যে, যদি আমিও তাঁদের দলভুক্ত হয়ে যাই কি না। হযরত আলী রা. হযরত আবু বকর রা. ছাড়া অন্য কারো থেকে হাদীস শুনলে তাকে এ বলে শপথ করাতেন যে, বাস্তবেই সে এরূপ শুনেছেন কি-না? এ কারণেই মুহাদ্দিসগণ প্রত্যেক ব্যক্তিকে হাদীস অনুযায়ী আমল করতে নিষেধ করেছেন যতক্ষণ পযন্ত তার এ যোগ্যতা না হবে যে সহীহকে দূর্বল, সঠিককে ভুল, বাস্তবকে অবাস্তব থেকে পৃথক করতে পারবে। (যে কেউ কোন হাদীস শুনলেই যে তার উপর আমল করবে এমনটি নয় বরং যাচাই বাছাই ও তাহকীক করার পর আমল করবে)
বর্ণনার ভিন্নতার কারণসমূহের মধ্যে উপরোক্ত কারণের কাছাকাছি আরেকটি কারণ হলো আয়ত্ব করার ভিন্নতা অর্থাৎ বর্ণনাকারীগণ ঘটনা বর্ণনা করার ক্ষেত্রে ভুল-ত্রুটি করে ফেলেছে। এটা অসম্ভব কোন বিষয়ও নয় যে, কখনো কখনো বড় থেকে বড় বুঝমান, বিবেকবান ব্যক্তি থেকেও কথা বুঝা, বর্ণনা করা ও ব্যক্ত করার ক্ষেত্রে ভুল-ত্রুটি হয়ে যাওয়া। সুতরাং আমি পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী বর্ণনা করেন যে, মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবারের কান্না-কাটি করার কারণে শাস্তি দেওয়া হয়।৭৫" হযরত আয়েশা রা. উক্ত হাদীসের বর্ণনার ক্ষেত্রে কিছুটা দোষ নির্ণয় করে বলেন, ঘটনা বর্ণনা করার ক্ষেত্রে ভুল হয়েছে। বাস্তব ঘটনা ছিলো এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার এক ইয়াহুদী মহিলার লাশের কাছ দিয়ে গেলেন আর তার পরিবারের লোকেরা তার জন্য কান্ন-কাটি করছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন এসকল লোক কান্না-কাটি করছে অথচ তাকে কবরে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। ৭৬ সুতরাং হযরত আয়েশা রা. এর মতে তাকে কবরে শাস্তি দেওয়ার কোন কারণ তাদের ক্রন্দন ছিলো না।
এমনিভাবে হযরত আবূ হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন যে, যদি গোছলের প্রয়োজন থাকাবস্থায় সুবহে সাদিক হয়ে যায় তাহলে সেদিন রোজা রাখতে পারবে না, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকেও এটা বর্ণনা করেন ও স্বয়ং তারই ফাতওয়া এর উপরই ছিল। সুতরাং 'ফাতহুল বারী' নামক কিতাবের রোজার অধ্যায়ে এসম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনাগুলো একত্রিত করা হয়েছে। ৭৭ পক্ষান্তরে হযরত আয়েশা ও হযরত উম্মে সালমা রা. বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গোসলের প্রয়োজন হতো এমন অবস্থায়ও তিনি দিনের রোজা রাখতেন। ৭৮
এক জামাত বর্ণনা করেন যে, নামাযীর সামনে দিয়ে যদি কোন মহিলা বা কোন কুকুর যায় তাহলে নামায ভেঙ্গে যায়। ৭৯ হযরত আয়েশা রা. এটা অস্বীকার করেন ও বলেন যে, এটা সঠিক না।৮০
হযরত ফাতেমা বিনতে কুইস রা. বর্ণনা যে, তিন তালাক প্রাপ্তা মহিলার ভরণ-পোষণ, বাসস্থানের ব্যায় ভার স্বামীর উপর বর্তাবে না। এ কথা যখন হযরত উমার রা. এর কাছে পৌঁছল তখন তিনি বললেন যে, আমি একজন মহিলার কথায় কোরআনের হুকুম ছাড়তে পারি না। (কুরআন ভরণ পোষণ দেওয়ার কথা বলেছে।) ৮১
মোটকথা এই যে, এধরনের আরো অনেক হাদীস পাওয়া যাবে যেগুলোর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য ও সত্যবাদী হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের থেকে ভুল হয়েছে। এ জন্যই খবরে ওহেদ (এককভাবে বর্ণিত হাদীস) এর উপর আমল করার জন্য উলামাগণ অনেক মূলনীতি সাব্যস্ত করেছেন। যাতে করে সেগুলো দ্বারা বর্ণনা যাচাই করে নিতে পারে। যদি মূলনীতি অনুযায়ী হয় তাহলে আমল করবে অন্যথায় নয়। হযরত উমার রা. এর উক্ত ঘটনার মাধ্যমে হানাফী উলামাগণের ওই মূলনীতি দৃঢ় হয় যে, তাঁরা সর্বদা ওই হাদীসকে প্রাধান্য দেয় যা কুরআনী বিষয় বস্তু অনুযায়ী হয়। যদিও বিপক্ষের হাদীসের বর্ণনাকারী পক্ষের হাদীসের বর্ণনাকারীর চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য অথবা সংখ্যাগত দিক দিয়ে বেশী হয়। আর উপরোক্ত সমস্ত ঘটনা এ কথা স্পষ্ট করে দেয় যে, হাদীস অনুযায়ী আমল করা ওই ব্যক্তির কাজ যে, (হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে) ভুল বুঝতে পারে। আফসোসের বিষয় এই যে, স্বর্ণ ক্রয়কারী পরীক্ষা করার জন্য স্বর্ণকারের মুক্ষাপেক্ষি। অথচ হাদীস অনুযায়ী আমল করার জন্য কোন যাচাই-বাছাই কারীর প্রয়োজন মনে করা হয় না। এ ক্ষেত্রে কোন অবগতি ছাড়াই নিজ জ্ঞানের উপর পরিপূর্ণ নির্ভর করে থাকে। আল্লাহ তা'আলাই সাহায্য করুন।
টিকাঃ
৭৪. বুখারী, হাদীস নং ১৭৭৬, মুসলিম, হাদীস নং ২৯৯৫, তিরমিযী, হাদীস নং২৯৯৮
৭৫. বুখারী, হাদীস-১২৮৭, মুসলিম, হাদীস-২১৪৩, তিরমিযী, হাদীস-১০০২, নাসায়ী, হাদীস-১৮৪৯, ইবনে মাজাহ, হাদীস-১৫৯৩।
৭৬. বুখারী, হাদীস নং-১২৮৯, মুসলিম, হাদীস নং ২১৫৬, তিরমিযী, হাদীস নং ১০০৬, নাসায়ী, হাদীস নং-১৮৫৭, ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৫৯৫।
৭৭. ফাতহুল বারী কিতাবুস সওম।
৭৮. বুখারী, হাদীস নং ১৯২৫।
৭৯. মুসলিম, হাদীস নং-১১৩৯, আবূ দাউদ, হাদীস নং ৭০২, তিরমিযি, হাদীস নং ৩৩৮
৮০. মুসলিম, হাদীস নং ১১৪২, আবূ দাউদ, হাদীস নং ৭১১, ৭১২, নাসাঈ, হাদীস নং ৭৫৬।
৮১. আবূ দাউদ, হাদীস নং ৩৭১০।
📄 চতুর্থ কারণ : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোন ইরশাদকে তার বাহ্যিক অর্থে প্রয়োগ করা
সাহাবাগণ যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাকীকী আন্তরিক ও বাস্তবিক আশেক ছিলেন যাদের প্রত্যেকেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রত্যেকটি কাজের উপর পরিপূর্ণভাবে উৎসর্গ হতেন।
সাহাবাগণ সম্পর্কের উদাহরণ ও বর্ণনাতীত। তবে ছোট থেকে ছোট একটি উদাহরণ হলো হযরত আনাছ রা. বর্ণনা করেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন কোন এক সাহাবীর নির্মানাধীন বাড়ীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। (যে বাড়ির একটি কামড়াও তৈরী হয়ে গিয়েছিলো) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন যে, এটা কার ? মালিক সম্পর্কে জানার পর মুখে কিছু বললেন না। পরবর্তীতে যখন ঘরের মালিক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে উপস্থিত হলেন তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালামের উত্তর দিলেন না। তিন বার এরুপ করার পর তিনি লোকদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন ও জানতে পারলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর ঘরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় জিজ্ঞাসা করেছিলেন এটা কার বাড়ী? এ কথা শুনে তিনি তৎক্ষনাত যেয়ে উক্ত কামরাসহ বাড়ীর সবকিছু ভেঙ্গে ফেললেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে যেয়ে বাড়ী ভেঙ্গে ফেলারও সংবাদ পর্যন্ত দিলেন না লজ্জা ও অপমানের কারণে। ঘটনাক্রমে দ্বিতীয় বার যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেদিক দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন বিষয়টি জানতে পারলেন। ৮২ মোটকথা তাঁরা কখনো কখনো মাহবুবের যবান থেকে নিসৃঃত শব্দের বাহ্যিক অনুযায়ী আমল করতেন। আর এটারও সম্ভাবনা আছে যে, কোন কোন সাহাবী উদ্দেশ্য ঐটাই বুঝতেন যার উপর তিনি আমল করতেন। কিন্তু এটাও অসম্ভব নয়, বরং কিছু কিছু শব্দ দ্বারা এ কথাও বুঝা যায় যে, স্বয়ং তাঁরা ও কখনো কখনো বুঝতে পারতেন যে, ইহা বাস্তব উদ্দেশ্য নয়। তারপর বাহ্যিক শব্দে যা আছে তার উপরই আমল করতেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে নববীর এক দরজার দিকে ইশারা করে বললেন যে, 'আমি এই দরজাকে মহিলাদের জন্য খাস করে দিলে ভালো হতো' এর পর থেকে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. কখনো সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করেন নি।৮৩
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রা. এর ইন্তেকালের সময় তিনি নতুন কাপড় আনিয়ে পরিধান করলেন আর বললেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছি যে, মানুষ যে কাপড়ে মৃত্যু বরণ করবে তাকে সেই কাপড়েই হাশরের ময়দানে উঠানো হবে। ৮৪
কুরআন শরীফের এই আয়াত كَمَا بَدَانَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيدُهُ এর তাফসীরে প্রসিদ্ধ বিভিন্ন বর্ণনা দ্বারা বুঝা যায় যে, মানুষকে হাশরে বিবস্ত্র অবস্থায় উঠানো হবে।৮৫ বিভিন্ন বর্ণনা দ্বারা উক্ত বিষয় প্রমাণিত। আর এটা অসম্ভব যে, হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. উক্ত হাদীসের উদ্দেশ্য বুঝতে পারেন নি। (অর্থাৎ এ হাদীসের বাস্তব উদ্দেশ্য তিনি অবশ্যই বুঝেছেন) কিন্তু এরপরও তিনি শুধু হাদীসের বাহ্যিক শব্দ অনুযায়ী আমল করার জন্য নুতন কাপড়ে এ কাজ করেছেন।
এ ধরণের উদাহরণ অনেক হাদীসে পাওয়া যায়, যদিও বাহ্যত এটা অসম্ভব মনে হয় কিন্তু যারা ভালোবাসার স্বাদ পেয়ে গেছে তারা বুঝতে পারবে যে, ভালোবাসার শব্দ সমূহ কোন লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ছাড়াই কি পরিমান সুস্বাদু! এ কারণেই সাহাবাগণ রহিত বর্ণনা সমূহ বর্ণনা করতেন অথচ কোন রহিত হুকুম বর্ণনা করার কোন প্রয়োজন থাকে না। এমনিভাবে এমন অনেক হাদীস বর্ণনা করা হয় যেগুলো স্পষ্টভাবেই রহিত।
টিকাঃ
৮২. আবু দাউদ, হাদীস নং ৫২৩৭।
৮৩. আবূ দাউদ, হাদীস নং ৪৬২।
৮৪. আবূ দাউদ কিতাবুল জানায়িয হাদীস নং ৩১১4।