📘 ইমামগণের মতবিরোধ কি ও কেন > 📄 নবম কারণ : কিছু হুকুম মেধা শক্তি তীক্ষ্ণ করার উদ্দেশ্যে

📄 নবম কারণ : কিছু হুকুম মেধা শক্তি তীক্ষ্ণ করার উদ্দেশ্যে


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবার থেকে কখনো কখনো কিছু হুকুম "মেধা শক্তি তীক্ষ্ণ করা” অর্থাৎ চিন্তা-ফিকির করার জন্য প্রকাশ পেয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে টাখনুর নিচে লুঙ্গি ঝুলন্ত অবস্থায় নামায আদায় করতে দেখলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে পুণরায় ওযু ও দ্বিতীয়বার নামায পড়তে বললেন। ৪৮ অন্য এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে খুব তাড়াহুড়া করে নামায আদায় করলেন। নামাজ শেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন যাও পুনরায় নামায আদায় কর তোমার নামায হয়নি। সে দ্বিতীয় বার নামায আদায় করে দরবারে উপস্থিত হলে আবার একই নির্দেশ দিলেন। যাও পুনরায় নামাজ আদায় করো। তৃতীয় বার সে আরজ করল আমাকে বুঝিয়ে দিন আমার বুঝে আসছে না, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে স্থীর ও শান্তভাবে নামায আদায় করার কথা বললেন। ৪৯ এসকল স্থানে মতানৈক্য হওয়া আবশ্যক কেননা যে প্রত্যেক শ্রবনকারী এটাকে স্ব স্ব স্থানেই রাখবেন এটা আবশ্যক নয়। যদিও এ ধরণের মাসয়ালা কম কিন্তু এটা মতানৈক্যের কারণ সমূহের একটা কারণ।

টিকাঃ
৪৮. আবূ দাউদ, হাদীস নং ৬৩৮
৪৯. বুখারী, হাদীস নং ৭৫৭, তিরমিযি, হাদীস নং ৩০৩, নাসাঈ, হাদীস নং ৮৮৫, ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১০৬০.

📘 ইমামগণের মতবিরোধ কি ও কেন > 📄 দশম কারণ : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কিছু নির্দেশ চিকিৎসা শাস্ত্র আর কিছু নির্দেশ ইসলাহে নফস বা আত্মশুদ্ধির জন্য হওয়া

📄 দশম কারণ : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কিছু নির্দেশ চিকিৎসা শাস্ত্র আর কিছু নির্দেশ ইসলাহে নফস বা আত্মশুদ্ধির জন্য হওয়া


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেমন উম্মতের জন্য প্রেরিত নবী তেমন খাদেমদের জন্য শারীরিক চিকিৎসক আর আশেকদের জন্য আত্মিক চিকিৎসক আবার প্রজাদের জন্য আমীর ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পিতা-মাতার চাইতে অধিক দয়ালু ও মেহেরবান। উস্তাদ ও শায়েখের চাইতে অধিক তরবিয়্যত ও শিষ্টাচার শিক্ষা দানকারী ছিলেন। যদি দয়া মমতাময় সংক্রান্ত অসংখ্য হুকুম পাওয়া যায় তাহলে কঠোরতা ও সতর্কতার ভিত্তিতে অসংখ্য হুকুম পাওয়া যাবে। এটা এমন বিষয় যে ব্যাপারে সামান্যতম সন্দেহ ও সংশয় নেই। সকলের কাছেই এটা স্পষ্ট। একারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনেক নির্দেশ ও ইরশাদ কোন এক প্রেক্ষিতে অবর্তীন হলেও অন্য আরেক অবস্থার সাথে তা মিলে যাওয়া আবশ্যক ছিল। যদিও এগুলো এমন বিষয় যে, সেগুলোর প্রত্যেকটিকে সতন্ত্র একটি কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করা যায়। কিন্তু আলোচনা অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও দীর্ঘ হয়ে যাচ্ছে এর গুরুত্ব উপরোক্ত আলোচনার চেয়েও বেশী। কিন্তু পাঠকদের বিরক্তির দিকে লক্ষ্য করে যা অধিকাংশ সময় দীর্ঘায়িত করার কারণে হয়ে থাকে এসব কারণগুলো একটি কারণের হিসেবে উল্লেখ করা হলো। আর সংক্ষিপ্তভাবে নিম্নে কয়েকটি উদাহরণ দিয়ে এই আলোচনা শেষ করছি।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুস্তাহাযা মহীলা অর্থাৎ যে মহিলার ধারাবাহীকভাবে রক্ত বের হয় তার ব্যাপারে বলেছেন সে যোহর, আসরের জন্য একবার গোসল করবে মাগরিব, ইশার জন্য দ্বিতীয়বার আর ফজরের জন্য তৃতীয়বার গোসল করবে।৫০ উলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে মতানৈক্য করেছেন যে, উক্ত হাদীসে গোছলের হুকুম শরয়ী ছিল নাকি চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ছিল? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে লজ্জাস্থান স্পর্শ করার কারণে ওযু করার হুকুম বর্ণিত আছে।৫১ এ ব্যাপারে এটাও বর্ণিত আছে যে, লজ্জাস্থান হলো দেহের অন্যান্য অঙ্গের ন্যায় একটি অঙ্গ, যেমনিভাবে অন্যান্য অঙ্গ স্পর্শ করলে ওযু করতে হয় না তেমনিভাবে লজ্জাস্থান স্পর্শ করলেও ওযু করতে হবে না।৫২

আল্লামা শা'রানী রহঃ বলেন যে, দ্বিতীয় হুকুমটি সাধারন মুসলমানদের জন্য আর প্রথমক্তো হুকুমটি উম্মাতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের জন্য। এমনিভাবে আরো বর্ণিত হয়েছে যে, মহিলাকে স্পর্শ করলে ওযুভঙ্গ হয়ে যাবে।৫৩ তবে এ সংক্রান্ত অন্যান্য বর্ণনা দ্বারা বোঝা যায় যে ওযু ভঙ্গ হবে না।৫৪ উলামায়ে কেরামের মাঝে এব্যাপারেও মতানৈক্য রয়েছে এবং বিভিন্ন পদ্ধতিতে উভয়ের মাঝে প্রাধান্য দেওয়া বা সমন্বয় করা হয়েছে।

আল্লামা শা'রানী রহঃ এর মতে এক্ষেত্রেও একটি হুকুম উম্মাতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের জন্য আর অন্যটি সাধারন উম্মাতের জন্য। এমনিভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী এক জিহাদ সম্পর্কে مَنْ قَتَلَ قَتِيلًا فَلَهُ سَلَبُه যে কোন কাফেরকে হত্যা করবে সে নিহত কাফেরের সাথে থাকা সমস্ত সামানা পেয়ে যাবে।৫৫" কোন কোন ইমামের মতে উক্ত হুকুম সিয়াসী ও ব্যবস্থাপনা মূলক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শাসক হিসেবে উক্ত নির্দেশ দিয়েছিলেন এ জন্য আমীরের এই স্বধীনতা আছে যে জিহাদে ভালো মনে হবে সে জিহাদে এ ঘোষনা দিতে পারবে। অন্যদের মতে উক্ত হুকুম শরয়ী ছিল। সুতরাং সর্বদার জন্য ইহা আমলযোগ্য। আমীর কর্তৃক ঘোষনার উপর স্থগিত নয়। জিহাদের অধ্যায়ে মতানৈক্য সংক্রান্ত অনেক হাদীস রয়েছে।

এমনিভাবে বর্গাচাষের নিষেধাজ্ঞার যে হাদীসগুলো আছে যেগুলোর কারণ হিসেবে বলা হয় যে, এ নিষেধাজ্ঞা কৃষকদের উপর দয়ার উদ্দেশ্যেই বলা হয়েছে। অনেকের কাছেই স্পষ্ট বিষয়।

এমনিভাবে রোজার অধ্যায়ে অনেককে অধিক সংখ্যায় রোজা রাখতে নিষেধাজ্ঞার কারণ ছিল তাঁদের উপর দয়া করা। হযরত আব্দুল্লাহ হইনে উমার রা. বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন আমাকে অবগত করানো হয়েছে যে, তোমরা নিয়মিত রোজা রাখ ও রাত ভর নফল নামায পড়। তাঁরা আরয করলেন, জি হ্যাঁ। তিনি বললেন এমন করো না। কখনো রোজা রাখবে আবার কখনো রোজা রাখবে না। এমনিভাবে রাতের কিছু অংশ নফল নামায আদায় করবে আর কিছু অংশ ঘুমাবে। কেননা তোমাদের উপর শরীরেরও হক্ব আছে। এরূপ করলে শরীরে ক্লান্তি আসবে না। তোমার উপর পরিবার পরিজনদেরও কিছু হকু আছে তাই দিন ও রাতে তাদের জন্য কিছু সময় থাকা উচিত। বন্ধু-বান্ধব ও সাক্ষাত প্রার্থীদেরও হক্ক রয়েছে। প্রত্যেক মাসে তিনটি রোজা ও এক মাসে এক খতমই যথেষ্ট। আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার তো এর চেয়েও বেশী সামার্থ্য আছে (তিনবার আরয করার পর) ইরশাদ করলেন যে, ঠিক আছে সওমে দাউদের চেয়ে বেশি রাখার অনুমতি নেই একদিন রোজা রাখা আর একদিন রোজা না রাখাকে সওমে দাউদ বলা হয়। এমনিভাবে সাত রাতের চেয়ে কম রাতে কুরআন খতম করার অনুমতি দেন নি। ৫৬ উক্ত বর্ণনার শব্দের মাঝে হাদীসের কিতাব সমূহে ভিন্নতা রয়েছে। এই হাদীস অনুযায়ী মেশকাত শরীফে বুখরী ও মুসলিমের উদ্ধৃতে যে হাদীস বর্ণনা করা হয়েছে যে, সর্বদা রোজা রাখতে প্রথম থেকেই নিষেধ। এমনিভাবে হাদীসের শেষে দাউদী রোজার চেয়ে বেশি রোজা রাখার নিষেধাজ্ঞা এগুলো সব তাঁর উপর স্নেহ ছাড়া আর কি হতে পারে? এ জন্য হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. স্বীয় বার্ধক্য ও দূর্বলতার সময় আক্ষেপ করে বলতেন হায় কতই না উত্তম হতো যদি সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দেওয়া রুখসত গ্রহণ করতাম! ৫৭ এমনিভাবে সতর্কতা ও কঠোরতার প্রকারভূক্ত অনেক বর্ণনা হাদীসের কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইরশাদ لاصوم من صام الدهر যে সারা জীবন রোজা রাখে তার রোজা কিছুই নয়।৫৮ একদল উলামার মতে এই ইরশাদ সর্তকতা ও সাবধানতা অর্থাৎ ধমকী হিসেবে বলা হয়েছে। এই উদ্দেশ্য নয় যে, সে রোজার কোন সওয়াব পাবে না অথবা তার রোজা একেবারে হবেই না। এমনিভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী ব্যভিচার ব্যভিচারের সময়, চোর চুরির সময় মুমিন থাকে না। এমনিভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইরশাদ মদখোরের নামায চল্লিশ দিন পর্যন্ত কবুল হয় না।৫৯ تلك عشرة كاملة )এ মোট দশটি পূর্ণ হল(

উদাহরণ হিসেবে কয়েকটি কারণ বর্ণনা করা হলো। অন্যথায় কারণগুলো উক্ত কয়েকটির মাঝে সীমিত নয়। বরং শুধু এ কথা স্পষ্ট করা উদ্দেশ্য ছিল যে, বর্ণনার ভিন্নতার মূলে এমন কিছু কারণ রয়েছে যার থেকে মতানৈক্য সৃষ্টি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। আর হওয়া উচিতও ছিল।

মতানৈক্যের কারণ সমূহ কোন সংক্ষিপ্ত লেখা বা রচনায় সীমাবদ্ধ করা সম্ভব না আর আমার মত অধমের দ্বারা সীমিত করা সম্ভবও নয়। এ ক্ষেত্রে মূল যে উদ্দেশ্য ছিল তা পূর্বোক্ত আলোচনা গুলোর দ্বারা সংক্ষিপ্তভাবে আদায় হয়ে গেছে। আর তা হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বর্ণনার ভিন্নতা বাস্তবেই বিভিন্ন কারণে হয়েছে। আর সে কারণগুলো অনেক। উদাহরণ স্বরূপ কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হলো। এর পর দ্বিতীয় যুগে অর্থাৎ সাহাবীদের যুগে উপরোক্ত কারণ ছাড়াও এমন অনেক কারণ ছিল যার ফলে বর্ণনার ভিন্নতা সৃষ্টি হয়েছে। সেগুলোরও কয়েকটি উদাহরণ এখানে পেশ করছি। কিন্তু এখানে অতিরিক্ত একটি প্রশ্ন হতে পারে এজন্য প্রথমেই সে প্রশ্ন উল্লেখ করছি এরপর দ্বিতীয় যুগের কারণ সম্পর্কে আলোচনা শুর করবো।

প্রশ্নঃ এখানে একটি প্রশ্ন উত্থাপিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেহেতু উম্মাতকে শিক্ষা দেওয়ার জন্যই প্রেরীত হয়েছিলেন আর যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগমনের উল্লেখযোগ্য একটি উদ্দেশ্যও ছিল। তাহলে তিনি কেন সমস্ত হুকুম আহকাম বিস্তারিত ও স্পষ্ট করে শিক্ষা দিলেন না? তাহলে এই সমস্যা হতো না ও কোন ধরনের মতানৈক্য সৃষ্টি হতো না।

উত্তরঃ বাহ্যিকভাবে শুনলে তো মনে হয় যে এ প্রশ্ন যথার্থ। বাস্তবে এমনটি নয়। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মাতের উপর সীমাহীন দয়ালু ছিলেন। যারফলে শাখাগত মাসআলার সবগুলোর নিদৃষ্ট কোন নিয়ম বলে যান নি। যদ্বারা উম্মাতের কষ্ট হয়। বরং দ্বীনি আহকামগুলোকে নিম্নোক্ত দুইভাগে বিভক্ত করে গেছেন। (১) এমন সব মাসয়ালা যেগুলোর ক্ষেত্রে চিন্তা-ফিকির ও তর্ক-বিতর্ক করাকে অপছন্দনীয় সাব্যস্ত করেছেন। (২) এমন সব মাসয়ালা যেগুলোতে মতনৈক্য করাকে রহমত হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন এবং উম্মাতের সহজতার জন্য প্রত্যেকটি কর্মকে চাই তা ভূল-ই হোক না কেন প্রতিদান ও সওয়াবের ওসিলা হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, তবে এই শর্তে যে যদি তা বেপরওয়ায়ী হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত না হয়। অন্যভাবে বলা যায় যে, শরীয়ত হুকুম আহকামকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। তন্মেধ্যে এক প্রকার হলো অকাট্য, যেগুলো পালন করার ক্ষেত্রে পালনকারীদের জন্য চিন্তা-ফিকির করার কোন সুযোগ রাখা হয় নাই এবং স্পষ্ট ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে। সেগুলোতে ব্যাখ্যা ও মতামত দাড় করানোর কোন সুযোগ রাখা হয় নাই। বরং ব্যাখ্যাকারীকেও ভুল ও গোমরাহ বলা হয়েছে।

দ্বিতীয় ঐ সমস্ত হুকুম আহকাম যেগুলোতে শরীয়ত সংকীর্ণতা রাখে নাই। বরং উম্মাতের দূর্বলতার প্রতি লক্ষ্য রেখে উম্মাতের সহজতার প্রতি দৃষ্টি রেখেছে। সেগুলোতে নিজের পক্ষ থেকে যুক্তি সংগত কারণে এবং ব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়ে আমল না করলে ভুল ও বদ্দীন বলে আখ্যায়িত করা হয় নাই। প্রথম প্রকারকে إعتقادیه ইতিকদিয়‍্যাহ (আকীদা বিশ্বাস) বলে আর দ্বিতীয় প্রকারকে জুযইয়ি‍্যাহ, ফরইয়্যাত, (শাখাগত মাসয়ালা) ইত্যাদি ইত্যাদি নামে আখ্যায়িত করা হয়। দ্বিতীয় প্রকারের ক্ষেত্রে বাস্তব কথা হলো শরীয়তই এটাকে সংকীর্ণতা রাখেনি। সুতরাং শরিয়তের পক্ষ থেকে যদি এগুলো বিস্তারিত ব্যাখ্যার সাথে বর্ণিত হতো তাহলে এ দ্বিতীয় প্রকারও প্রথম প্রকারের মতো হয়ে উম্মাতের জন্য কষ্টের কারণ হয়ে যেতো। আর বাস্তবতা হলো এই যে, তখনও মতানৈক্য থেকে মুক্ত থাকা মুশকিল হতো। কেননা সকল বিষয় তো শব্দের মাধ্যমেই বর্ণিত হতো আর শব্দের প্রয়োগস্থল বিভিন্ন হওয়ার সম্ভবনা আছে। মোটকথা পবিত্র শরীয়ত সমস্ত আহকামকে উসূল, ফুরু (মূল, শাখাগত) ও নির্দেশে বন্টন করে প্রথম বিষয়ে মতানৈক্য করাকে কঠিনভাবে নিষেধ করেছে যেমন নিম্নোক্ত شَرَعَ لَكُمْ مِّنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَ الَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَ مَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ (سورة الشورى - ١٣)

অর্থাৎ তিনি তোমাদের জন্যে দ্বীনের ক্ষেত্রে সে পথই নির্ধারিত করেছেন, যার আদেশ দিয়েছিলেন নূহকে, যা আমি প্রত্যাদেশ করেছি আপনার প্রতি এবং যার আদেশ দিয়েছিলাম ইব্রাহীম, মুসা ও ঈসাকে এই মর্মে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত কর এবং তাতে অনৈক্য সৃষ্টি করো না। (সূরা শুরা-১৩)

এ আয়াতে দ্বীনি বিষয়ে মতানৈক্য সৃষ্টি করতে নিষেধ করা হয়েছে। আর দ্বিতীয় প্রকারে মতানৈক্য করাকে উম্মাতের জন্য রহমত বলা হয়েছে আর এ কারণে-ই এ প্রকারের মতানৈক্যের ব্যাপারে নবীর যুগেরও এমন অনেক ঘটনা রয়েছে যেগুলোতে কঠোরতা আরোপ করা হয় নি।

উদাহরণ হিসেবে দুইটি ঘটনার প্রতি ইশারা করা হলো। নাসাঈ রহ. হযরত তারেক ইবনে শিহাব রা. এর সূত্রে দুই সাহাবীর ঘটনা বর্ণনা করেছেন আর তা হলো দুই জন জুনুবী (গোসল ফরজ হয়েছে এমন) সাহাবী তাদের একজন পানি না পাওয়ার কারণে নামায আদায় করেন নি (সম্ভবতঃ তায়াম্মুমের আয়াত তখন নাযিল হয় নি অথবা নাযিল হলেও তাঁর কাছে এর সংবাদ পৌঁছে নাই) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে সঠিক বললেন আর এক সাহাবী তায়াম্মুম করে নামায আদায় করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকেও সঠিক বললেন। ৬০

এমনিভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক জামাতকে বনু কুরায়জায় পৌঁছে আসর নামায আদায় করার নির্দেশ দেন। এই নির্দেশ পেয়ে ঐ জামাতের কিছু লোক সেখানেই আসর নামায আদায় করার হুকুমকে মূল হুকুম হিসেবে মনে করেন এবং পথিমধ্যে নামায আদায় করলেন না। নামায বিলম্ব হলেও তাঁরা বাহ্যিক নির্দেশ পালনকে আবশ্যক মনে করেছেন। তাদের কেউ উক্ত নির্দেশের মূল উদ্দেশ্য দ্রুত পৌছা মনে করে পথিমধ্যেই তাঁরা আসর নামায যথা সময়ে আদায় করেনে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উভয় দলকে কোন প্রশ্ন করেননি। বুখারীতে উক্ত ঘটনা বিস্তারিত রয়েছে।৬১" এ ধরনের আরো অনেক ঘটনা রয়েছে।

সুতরাং শাখাগত মাসয়ালায় মতানৈক্য আর মৌলিক (উসূলী) মাসয়ালায় মতানৈক্য ভিন্ন বিষয়। যে সকল ব্যক্তি উক্ত মতানৈক্যকে উসূলী মতানৈক্যের মতো মনে করে এমন আয়াত ও হাদীস এ ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে চায় যে সমস্ত আয়াত ও হাদীস নিন্দনীয় মতানৈক্য সংক্রান্ত। এটা তাদের অজ্ঞতা ও ধোকা মাত্র। এতে সামান্য সন্দেহ নেই যে, পবিত্র শরীয়ত উক্ত শাখাগত মাসয়ালার মতানৈক্যকে বড় প্রশস্তাও সহজ করে দিয়েছে। যদি এরুপ না হতো তাহলে উম্মাতের সাধ্যের বাহিরে হয়ে যেতো। এ কারণে-ই হযরত হারুন আররশীদ যখনই ইমাম মালেক রহঃ এর কাছে এই আবেদন করলেন যে, হযরত ইমাম মালেক যেন 'মুওয়াত্তা ইমাম মালেক' বায়তুল্লাহ শরীফে টানিয়ে দেন যাতে করে সমস্ত মানুষ উহা পাঠ করে সে অনুযায়ী আমল করতে পারে এবং কোন মতানৈক্য না থাকে। হযরত ইমাম মালেক রহ. উক্ত আবেদন কোন অবস্থায় গ্রহণ করেন নি এবং তিনি সর্বদা এই উত্তর দিতেন যে, সাহাবাগন ফরয়ী (শাখাগত) মাসআলায় মতানৈক্য করতেন আর তাঁরা সঠিক ছিলেন এর বিভক্তির ক্ষেত্রে উভয় দলের মত ও পথ আমলযোগ্য ছিল। এমনিভাবে যখন মানসূর হজ্জ করল তখন হযরত ইমাম মালেকের রহ. কাছে আবেদন করল যে, আপনি আপনার পান্ডলিপি সমূহ আমাকে দিয়ে দিন যাতে করে আমি সেগুলোর কপি সকল মুসলিম শহরে প্রচার করতে পারি এবং مسلمانوں কে নিদেশ দিয়ে দিবো যে, তাঁরা যেন ইহা লংঘন না করে। তখনও হযরত ইমাম মালেক রহ. উত্তরে বললেন আমীরুল মু'মেনীন আপনি কক্ষনই এমন করবেন না। মানুষের কাছে রাসূলের হাদীস ও বাণী সমূহ পৌঁছে গেছে ও সে অনুযায়ী আমল করছে আর তাঁদেরকে সে অনুযায়ী আমল করতে দিন। ইহাই ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিম্নোক্ত বাণীর উদ্দেশ্য "আমার উম্মাতের মতানৈক্য রহমত স্বরুপ"। ৬২ আর ইহাই সেই স্পষ্ট রহমত যা চোখে দেখা যাচ্ছে।

বর্তমানে প্রত্যেক ইমামের নিকট মতানৈক্যপূর্ণ মাসয়ালা রয়েছে, প্রয়োজন বশতঃ অন্য ইমামের মাযহাবের উপর ফাতওয়া দেওয়া জায়েয আছে। পক্ষান্তরে যদি এই মতানৈক্য না হতো তাহলে কোন প্রয়োজন বশতঃ ও ইজমা অথবা ঐক্যমতপূর্ণ মাসয়ালা বর্জন করা জায়েয হতো না। মোটকথা ইমামগনের এই মতানৈক্য শরীয়তের কাম্য ছিল। যাতে শুধু উল্লেখিত একটি মাত্র ফায়দা-ই নয় বরং আরো অনেক ফায়দা রয়েছে। যদি সময় হয় তাহলে ইনশাআল্লাহ "তৃতীয় যুগের" আলোচনায় সামনে আসবে। এখানে তা আলোচনা করা উদ্দেশ্য নয়। এখানে শুধু ইহা প্রয়োজন ছিল যে, যারা ফেকহী মাসআলা সমূহের উপর সামান্যও ধারণা রাখে তারা ইহার উপকারিতা খুব সহজেই বুঝতে পারবে।

আল্লামা শা'রানী রহ. রচিত "আল- মিযান" নামক কিতাবে বর্ণনা করেছেন যে, প্রিয় বৎস! যদি তুমি ইনসাফের দৃষ্টিতে দেখ তাহলে দেখবে যে, এবং স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, চার ইমাম ও তাঁদের অনুসারীরা সকলেই হেদায়েতের উপর ছিলেন এরপর কোন ইমামের কোন অনুসারীর উপর আপত্তি আসবে না। এই বিষয় স্পষ্টভাবে বুঝে আসবে যে চার ইমামের কর্মপন্থা পবিত্র শরীয়তের আলোকেই ও তাঁদের মতানৈক্য পূর্ন বিভিন্ন উক্তি উম্মাতের জন্য রহমত স্বরুপ হয়েছে। আল্লাহ তা'য়ালা যিনি সর্বজ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময় তাঁর নির্দেশের দাবী ছিল উক্ত কল্যাণ। যদি আল্লাহ তা'য়ালার এটা পছন্দনীয় না হতো তাহলে এটাকে হারাম করে দিতেন যেভাবে হারাম করে দিয়েছেন দ্বীনের উসূল (মৌলিক মাসয়ালা) সম্পর্কে মতানৈক্যকে। প্রিয় বৎস! তোমার কাছে এ বিষয় সাদৃশ্য হয়ে যেতে পারে যে, ইমামগনের ফরয়ী (শাখাগত মাসয়ালায়) মতানৈক্যকে উসূলী মতানৈক্যের সাদৃশ্য ও তার হুকুম ভূক্ত মনে করবে যে কারণে তুমি ধ্বংসের দিকে চলে যাবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই উম্মতের ফরয়ী (শাখাগত মাসয়ালার) মতানৈক্যকে রহমত সাব্যস্ত করেছেন।

বাস্তবে ইমামগনের সমস্ত মতানৈক্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেরাগদানী (হাদীস ভান্ডার) থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। তবে ইমামগনের মতানৈক্য ও বিভিন্ন উক্তির মাঝে এতটুকু ব্যবধান রয়েছে যে, কোন শরয়ী হুকুমকে কোন ইমাম আসল হুকুম ও আযীমত (দৃড়ভাবে পালনীয়) সাব্যস্ত করেছেন। অন্য ইমাম সেটাকে রুখসত (করার সুযোগ) সাব্যস্ত করেছেন। এর উদ্দেশ্য এই নয় যে, আমি ইমামগনের বিভিন্ন মতের ক্ষেত্রে ইচ্ছাধিকারের কথা বলছি যে যার মন চাবে কোন হুকুমকে আযীমত হিসেবে আমল করবে আর যার মন চাবে সে রুখসতের উপর আমল করবে। উক্ত আলোচনা দ্বারা কোন ইলম অন্বেষনকারীর এই ধারণা হতে পারে, না, না কক্ষনো এরুপ নয়। কেননা তাহলে তো দ্বীনকে নিয়ে খেলা করা বরং প্রত্যেক ইমাম ঐ দুই পদ্ধতীর মধ্য থেকে একটিকে নির্বাচন করেছেন। কিন্তু যা নির্বাচিত তা তাঁর অনুসারীদের জন্য আবশ্যকীয় পদ্ধতি। আমি উপরে যে কয়েকটি মত সাব্যস্ত করেছি তা শুধু মাত্র ইমামগনের প্রতি সুধারণার কারণেই নয় বরং প্রত্যেক ইমামের বাণীসমূহ ও সেগুলোর উৎস স্থল ও দলীলসমূহ তালাশ করার পর নির্বাচন করেছি। যে ব্যক্তি আমার এই কথা বিশ্বাস না করে সে যেন আমার المنهج المبين في ادلة المجتهدين নামক কিতাবে দেখে নেয়। দেখার পর সে আমার কথা মেনে নিবে। কেননা আমি তাতে প্রত্যেক ইমামের দলীলগুলো একত্রিত করেছি আর উহার পর এই সিদ্ধান্ত সাব্যস্ত করেছি যে, তাঁরা সকলেই হেদায়েতের উপর ছিলেন।

বাস্তবতা হলো যে, যতক্ষন পর্যন্ত কোন কামেল শায়েখের সংস্পর্শে সুলুকের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম না করবে উহার বাস্তবতা যথাযথভাবে স্পষ্ট হবে না। সুতরাং যদি তুমি উহার স্বাদ গ্রহণ করতে চাও তাহলে কোন কামেল পীরের কাছে যেয়ে রিয়াজত করো যাতে উহার বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে যায়। আমি এতে সামান্যতম বাড়িয়ে বলি নি বরং এ ব্যাপারে মাশায়েখের কথায় উহার সমর্থন পাওয়া যায়। সুতরাং শায়খুল মাশায়েখ মহীউদ্দীন ইবনে আরবী "ফতুহাতে মক্কিয়া" নামক কিতাবে লেখেন যে, "মানুষ যখন কোন বিশেষ মাযহাবের অনুসারী হয়ে বিভিন্ন ধাপে উন্নিত হয় তখন শেষ পর্যায়ে সে এমন সমুদ্রে পৌছে যা সমস্ত ইমামদের দ্বারা ভরপুর তখন তার সমস্ত ইমামগনের মাযহাব হক্ক হওয়ার বিশ্বাস হবে। এর উদাহরণ ঠিক রাসূল গণের মত যখন ওহীর প্রত্যক্ষ দর্শণ হতো সে সময় পূর্ণ শরীয়তের প্রত্যক্ষ দর্শণ হয়ে যেত। (সংক্ষিপ্ত)

আল্লামা শা'রানী উক্ত বিষয়টি যা প্রায় ১০০ পৃষ্টা ব্যাপী যা স্বর্ণ অক্ষরে লিখে রাখার উপযুক্ত। বাস্তবে এই উদ্দেশ্যে অসংখ্য কল্যাণ ও উপকারীতা রয়েছে। তা অনুবাদ করে সতন্ত্রভাবে ছাপানো উচিত। এখানে শুধু এ পরিমান ইঙ্গিত করা উদ্দেশ্য যে, বাস্তবে ইমামগনের এই মতানৈক্য বাহ্যিকভাবে ভিন্নতা বুঝা যায় কিন্তু হাকীকতে এতে কোনো ভিন্নতা বা বিভক্তি নেই। আর এর যে পর্যায়ে আছে সে পর্যায়েই থাকা এক অত্যাবশ্যক বিষয় যা না হলে উম্মাতের জন্য খুবই সংকীর্ণতার কারণ হতো। আর যেহেতু এই মতানৈক্য বর্ণনার ও হাদীস সমূহের ভিন্নতার ফলাফল। এ জন্য এটাও দ্বীনি কল্যানের দাবী ছিল যে, সেগুলোকে সংক্ষিপ্ত ভাবে বর্ণনা করা হোক। যদি সেগুলোকেও শরয়ী আকীদার মত অকাট্য আকারে অবতীর্ণ করা হতো তাহলে ইমামগনের মতানৈক্যের কোন সুযোগ থাকত না। আর তখন মতানৈক্য করা পথভ্রষ্টতার কারণ হতো। মতানৈক্য না থাকায় উম্মাতের জন্য সংকীর্ণতার কারণ হতো কিন্তু এর অর্থ এটাও নয় যে, প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ নিজ বুঝ অনুযায়ী দলীল সমূহ থেকে মাসয়ালা বের করে সে অনুযায়ী আমল করবে চাই তার সেই যোগ্যতা থাকুক বা না থাকুক। এটা গোমরাহ হওয়ার অন্যতম কারণ। আর এই মতানৈক্য প্রশংসীতও নয়। বরং প্রশংসীত মতানৈক্য হল যা শরয়ী নীতিমালা ও মূলনীতি অনুযায়ী হয়। জানাবাতের গোছল সম্পর্কীয় ঘটনা শুধু নিজ বুঝ অনুযায়ী মাসয়ালা বেরকারীকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মূর্খ বলে আখ্যায়িত করেছেন। ৬০

فله الحمد علي ما يسر لنا الدين فإنه لطيف خبير رءوف بعباده بصير.

টিকাঃ
৫০. আবূ দাউদ, হাদীস নং ২৯৪, নাসাঈ, হাদীস নং ৩৬০।
৫১. আবূ দাউদ, হাদীস নং ১৮১
৫২. আবূ দাউদ, হাদীস নং ১৮২, তিরমিযি, হাদীস নং ৮৫, নাসাঈ, হাদীস নং ১৬৫।
৫৩. মুয়াত্তা লিল ইমাম মালেক, পৃষ্ট ১৫
৫৪. আবূ দাউদ, হাদীস নং ১৭৮, তিরমিযি, হাদীস নং ৮৬ ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৫০২
৫৫. বুখারী, হাদীস নং ৩১৪২, মুসলিম, হাদীস নং ৪৫৬৮, আবূ দাউদ, হাদীস নং ২৭১৭, তিরমিযি, হাদীস নং ১৫৬২।
৫৬. বুখারী, হাদীস নং ১৯৭৫, মুসলিম, হাদীস নং ২৭২৯
৫৭. বুখারী, হাদীস নং ১৯৭৯, মুসলিম, হাদীস নং ২৭৩৪
৫৮. বুখারী, হাদীস নং ২৪৭৫, মুসলিম, হাদীস নং ২০২, আবু দাউদ, হাদীস নং ২৬৮৯, তিরমিযি, হাদীস নং ২৬২৫, নাসাঈ, হাদীস নং ৪৮৭৪, ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৯৩৬
৫৯. আবূ দাউদ, হাদীস নং ৩৬৮০, তিরমিযি, হাদীস নং১৮৬২, ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৩৭৭
৬০. নাসাঈ, হাদীস নং ৪৩৫।
৬১. বুখারী, হাদীস নং ৪১১৯
৬২. ফয়জুল কাদীর, ১/২১২
৬৩. আবূ দাউদ, হাদীস নং ২৩৬, ৩৩৭, ইবনে, হাদীস নং ৫৭৬.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00