📘 ইমামগণের মতবিরোধ কি ও কেন > 📄 হযরত মাওলানা মুহাম্মদ ত্বলহা সাহেব দা.বা. এর বাণী ও দোয়া

📄 হযরত মাওলানা মুহাম্মদ ত্বলহা সাহেব দা.বা. এর বাণী ও দোয়া


আমি এই মাত্র জানতে পারলাম যে, মাওঃ মুহাম্মাদ আফফান ও মাওঃ মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক তারা দুজনে 'ইখতেলাফুল আইম্মাহ' নামক কিতাবের উপর মেহনত করে এই কিতাবে উল্লেখিত হাদীসগুলোর হাওলা বের করে কিতাবের নিচে টিকা আকারে সংযোজন করে দিয়েছে এবং এই কিতাবের আলোচনা ও বিষয়বস্তুগুলোর শিরোনাম দিয়েছে। আল্লাহ তা'য়ালা তাদের এ খেদমতকে কবুল করুন, উম্মতের জন্য উপকারী বানান, তাদের কলমে আরো শক্তি দান করুন, তাদেরকে উম্মতের খেদমত করার তৌফিক দান করুন এবং উম্মতকে তাদের থেকে উপকৃত হওয়ার তৌফিক দান করুন। আল্লাহ তা'য়ালা তাদেরকে ইখলাসের নেয়ামত দান করে ধন্য করুন, উঁচু সাহসিকতা ও দ্বীনের আরো বেশী খেদমত করার তৌফিক দান করুন। এবং তাদেরকে বদ নযর থেকে হেফাজত করুন, আমীন।

ইতি মুহাম্মাদ তুলহা বান্দলবী ২৪/০৫/১৪২৫ হিঃ

📘 ইমামগণের মতবিরোধ কি ও কেন > 📄 হযরত মাওলানা নেয়ামতুল্লাহ সাহেব (দা.বা.) এর ভূমিকা

📄 হযরত মাওলানা নেয়ামতুল্লাহ সাহেব (দা.বা.) এর ভূমিকা


الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَي سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ وَعَلَي الهِ وَأَصْحَابِهِ أَجْمَعِينَ ، أَمَّا بَعْدُ!

আল্লাহ তা'য়ালা দুনিয়া পরীক্ষার কেন্দ্র বানিয়েছেন এবং ভালো-মন্দ, সঠিক-ভুল সকল বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছেন। আর আল্লাহ তাআলা চান মানুষ যেন নিজ ইচ্ছায় সঠিক পথ গ্রহণ করে। তাই সঠিক পথে চলার জন্য আল্লাহ তাআলা মানুষকে জ্ঞান বুদ্ধির মতো মহামূল্যবান সম্পদ দান করেছেন। নবীগণকে পাঠিয়েছেন। আসমানী কিতাব নাযিল করেছেন এগুলো ছাড়া আরো অনেক উপায় উপকরণ দান করেছেন। মানুষের জন্য দলীল প্রমাণ পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। কিন্তু এর পরও মতানৈক্য সৃষ্টি হয়েছে, ইরশাদ হচ্ছে وَلَا يَزَالُونَ مُخْتَلِفِينَ إِلَّا مَنْ رَّحِمَ رَبُّكَ অর্থ : মানুষ সর্বদা মতানৈক্যের শিকার হবে তবে ঐ সমস্ত লোক যাদের প্রতি আল্লাহ তা'য়ালা দয়া করেন তারা ব্যতিত।

সুতরাং দলীল প্রমাণ পরিপূর্ণ হওয়ার পর যে সমস্ত বিধিবিধান দলীল নির্ভর সেগুলোতে মতানৈক্য না হওয়া উচিত। কেননা দলিল সমূহে মতানৈক্যকারীদের একদল হয় প্রশংসিত আরেক দল হয় নিন্দিত। আল্লাহ তা'য়ালা বলেনঃ
وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا اقْتَتَلَ الَّذِينَ مِنْ بَعْدِهِمْ مِّنْ بَعْدِ مَا جَاءَتُهُمُ الْبَيِّنَتُ وَ لكِنِ اخْتَلَفُوْا فَمِنْهُمْ مَنْ آمَنَ وَ مِنْهُمْ مِّنْ كَفَرَ (سورة البقرة - ٢٥٣)

অর্থঃ আর আল্লাহ যদি ইচ্ছা করতেন, তাহলে পরিস্কার নির্দেশ এসে যাবার পর পয়গম্বরদের পেছনে যারা ছিল তারা লড়াই করতো না। কিন্তু তাদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়ে গেছে। অতঃপর তাদের কেউ তো ঈমান এনেছে, আর কেউ হয়েছে কাফের। (সুরা, বাকারা-২৫৩)

অন্যত্র আল্লাহ তাআলা বলেন,
. وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ تَفَرَّقُوا وَاخْتَلَفُوا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْبَيِّنَتُ وَأُولَبِكَ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ (سورة ال عمران - ١٠٥)

অর্থঃ আর তাদের মত হয়ো না, যারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং নিদর্শন সমূহ আসার পরও বিরোধিতা করতে শুরু করেছে-তাদের জন্যে রয়েছে ভয়ঙ্কর আযাব। (সুরা, আল ইমরান-১০৫)

এমনিভাবে রহমত প্রাপ্তরা মতানৈক্য থেকে মুক্ত থাকবে, যেমন আল্লাহ তা'য়ালা বলেছেন, وَلَا يَزَالُونَ مُخْتَلِفِينَ إِلَّا مَنْ رَّحِمَ رَبُّكَ অর্থাৎ মানুষ সর্বদা মতানৈক্যের শিকার হবে তবে যাদের প্রতি আল্লাহ তা'য়ালা দয়া করেন তারা ব্যতিত।

আর যে সকল হুকুম আহকাম দলিল ভিত্তিক নয় সেগুলোতে মতানৈক্য হওয়া আল্লাহ তা'য়ালার ইচ্ছানুযায়ী। এধরনের মতানৈক্যে প্রত্যেক দল-ই প্রশংসিত হবে যদি তারা পরস্পরে জুলুম না করে। যেমনঃ আল্লাহ তা'য়ালা বলেন,
مَا قَطَعْتُمْ مِّنْ لِيْنَةٍ أَوْ تَرَكْتُمُوهَا قَائِمَةً عَلَى أُصُولِهَا فَبِإِذْنِ اللَّهِ وَلِيُخْزِيَ الْفَسِقِينَ (سورة الحشر - ٥)

অর্থৎ তোমরা যে কিছু কিছু খর্জুর বৃক্ষ কেটে দিয়েছ এবং কতক না কেটে ছেড়ে দিয়েছ, তা তো আল্লাহরই আদেশ এবং যাতে তিনি অবাধ্যদেরকে লাঞ্ছিত করেন। (সুরা হাশর-৫) অর্থাৎ এক দল গাছ কেটেছে আর অন্য দল বিরত থাকছে এদের কোন দলকেই আল্লাহ তাআলা ভুল করেছে বলে আখ্যায়িত করেন নি। অন্যত্র ইরশাদ করেন:
وَ دَاوُدَ وَ سُلَيْمَنَ إِذْ يَحْكُمْنِ فِي الْحَرْثِ إِذْ نَفَشَتْ فِيْهِ غَنَمُ الْقَوْمِ وَكُنَّا لِحُكْمِهِمْ شُهِدِينَ فَفَهَّمْنَاهَا سُلَيْمْنَ ، وَكَلَّا آتَيْنَا حُكْمًا وَ عِلْمًا (سورة الانباء - ۷۸-۷۹)

অর্থঃ এবং স্মরণ করুন দাউদ ও সুলাইমানকে, যখন তাঁরা শস্যক্ষেত্র সম্পর্কে বিচার করেছিলেন। তাতে রাত্রিকালে কিছু লোকের মেষ ঢুকে পড়েছিল। তাদের বিচার আমার সম্মুখে ছিল। অতঃপর আমি সুলাইমানকে সে ফায়সালা বুঝিয়ে দিয়েছিলাম এবং আমি উভয়কে প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দিয়েছিলাম। (সূরা, আম্বিয়া-৭৮,৭৯)

এ আয়াতে আল্লাহ তা'য়ালা শুধু সুলাইমান আ. কে বুঝ শক্তি দান করার কথা বলেছেন। কিন্তু দাউদ ও সুলাইমান আ. উভয়ের প্রশংসা করেছেন, অদ্রুপ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বনু কুরাইযার দিন ইরশাদ করেছেন:
لَا يُصَلِّنَّ أَحَدُكُمُ الْعَصْرَ إِلَّا فِي بَنِي قُرَيْظَةَ

অর্থঃ তোমাদের কেউ যেন বনী কুরাইযায় ব্যতীত আছরের নামাজ না পড়ে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ কথা বলার পর সাহাবাদের এক জামাত বনু কুরাইযায় পৌঁছার আগেই যেহেতু আছরের সময় হল তাই আসরের নির্ধারিত সময়ে তারা আসরের নামাজ আদায় করে নিলেন। আর আরেক জামাত বনু কুরাইযায় যেয়ে যেহেতু আছরের নামায আদায় করতে বলা হয়েছে তাই তারা নামাজ আদায় করাকে বিলম্ব করে বনু কুরাইযায় যেয়ে আদায় করলেন। এরপর তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আসলেন, তিনি তাদের কোন জামাতের কাজকে অপছন্দ করেননি বরং উভয় জামাতের কাজকে সঠিক বললেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
إذا اجتهد الحاكم فاصاب فله اجران واذا اجتهد أخطأ فله اجر (الابانة الكبري لابن بطة - رقم الحديث - ۷۰۲، دلائل النبوة للبيهقي - ۳۱۰۹)

অর্থৎ যদি হাকিম ইজতেহাদ করে এবং সঠিক সিদ্ধান্তে উপনিত হতে পারে তাহলে তার জন্য দুইটি ছাওয়াব রয়েছে। আর যদি ইজতেহাদ করতে যেয়ে ভুল করে তাহলে তার জন্য একটি ছাওয়াব। (ইবানাতুল কুবরা, নং-৭০২, দালাইলুন নবুওয়া, নং-৩১০৯)

আর যদি এধরনের মতানৈক্যের ক্ষেত্রে এক দল অন্য দলের উপর বাড়াবাড়ি করে তাহলে তা নিন্দনীয় হবে এবং আল্লাহ তাআলার ঐ বাণীর অন্ত র্ভূক্ত হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, إِلَّا مَنْ رَّحِمَ رَبُّكَ অর্থাৎ (মানুষ সর্বদা মতানৈক্যের শিকার হবে) তবে যাদের প্রতি আল্লাহ তা'য়ালা দয়া করেন তারা ব্যতিত। (যারা বাড়াবাড়ি করে তাদের প্রতি দয়া করা হবে না।)

আর ইমামগণের মতানৈক্য আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে রহমত। উভয় দল প্রশংসিত। তবে যে দল অন্য দলের উপর বাড়াবাড়ি করবে, চাই তা মৌখিক ভাবে হোক, যেমন অন্য দলকে কাফের ও ফাসেক বলা অথবা কার্যত হোক যেমন প্রহার করা, হত্যা করা, যুদ্ধ-বিগ্রহ করা তারা আল্লাহ তাআলার ঐ বাণীর অন্তর্ভূক্ত হবে, ইরশাদ করেন,
وَمَا اخْتَلَفَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَبَ إِلَّا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ (سورة ال عمران - (۱۹)

অর্থৎ যাদের প্রতি কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের নিকট প্রকৃত জ্ঞান আসার পরও তারা মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছে, শুধুমাত্র পরস্পর বিদ্বেষবশত। (সুরা, আল ইমরান-১৯)

কারণ তারা পরস্পরে অন্যায় বাড়াবাড়ি ও বিদ্বেষ পোষণ ও ধর্মের মাঝে বিভক্তি করেছে। যেমন আল্লাহ তা'য়ালা বলেন,
إِنَّ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا لَّسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ إِنَّمَا أَمْرُهُمْ إِلَى اللَّهِ ثُمَّ يُنَبِّئُهُمْ بِمَا كَانُوا يَفْعَلُونَ (سورة الانعام - ١٥٩)

অর্থৎ নিশ্চয় যারা স্বীয় ধর্মকে খন্ড-বিখন্ড করেছে এবং অনেক দল হয়ে গেছে, তাদের সাথে আপনার কোন সম্পর্ক নেই। তাদের ব্যাপার আল্লাহ তা'আয়ালার নিকট সমর্পিত। অতঃপর তিনি বলে দেবেন যা কিছু তারা করে থাকে। (সুরা-আনয়াম, ১৫৯)

ইসলামের দাবিদার অনেক ব্যক্তি এমন রয়েছে যারা শাখাগত এমন বিষয়ে মতানৈক্য করে - যেগুলো ধর্মের বিষয়ে কোন বিভক্তির বিষয় নেই- সেগুলোর কারণে যুলুম, বাড়াবাড়ি ও বিদ্বেষ করে দ্বীনের মাঝে বিভক্তি ও দল ভারি করে থাকে বা করার চেষ্টা করে তখন প্রত্যেক যুগের উলামাগণ সে সকল সন্দেহ দূর করার জন্য এবং উম্মতকে ঐ নিন্দনীয় মতানৈক্য থেকে রক্ষা করার জন্য ইমামগণের পরস্পরের মতানৈক্যের কারণ বলে দিয়েছেন, আবার কখনো এ ব্যাপারে সতন্ত্র কিতাবও লিখেছেন। বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তালবিয়া কোথা থেকে শুরু করেছেন সে বর্ণনাগুলোর ক্ষেত্রে সর্ব প্রথম আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. মতানৈক্যের কারণ বর্ণনা করেছেন। পরবর্তীতে আল্লামা ইবনে তাহিমিয়া (রহঃ) رفع الملام عن الائمة الاعلام নামক একটি কিতাব লিখেছেন যা অনেক প্রসিদ্ধ ও সহজলভ্য। এমনিভাবে কাযী ইবনে রুশদ রহ. ‘বিদায়াতুল মুজতাহিদ’ নামক কিতাবে মতানৈক্যের কারণ বর্ণনা করেছেন। আমাদের হিন্দুস্থানের উলামা কেরামের মধ্যে হযরত মাওলানা শাহ ওয়ালি উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহ.)‘হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা’ নামক কিতাবে বিস্তারিত ভাবে মতানৈক্যের কারণ বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি এ বিষয়ে একটি সতন্ত্র কিতাবও লিখেছেন।

সাহারানপুরে মাযাহিরুল উলুম মাদ্রাসার শায়খুল হাদীস হযরত মাওঃ মুহাম্মদ যাকারিয়া সাহেব (রহ.) একটি সংক্ষিপ্ত কিতাব লিখেছেন, যা দ্বিতীয় বার আমার দেখার সুযোগ হয়নি তারপরও এই কিতাব খানা খুবই উপকারী ও গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় হযরতের সাথে সম্পর্কিত ব্যক্তিবর্গ হুবহু সেভাবেই কিতাবটি ছেপে দিয়েছেন। হযরত এ কিতাবে সে সকল হাদীস বর্ণনা করেছেন অধিকাংশ স্থানেই সেগুলোর হাওয়ালা উল্লেখ ছিল না, যদিও হযরতের ব্যক্তিত্বের কারণে সেগুলোর ব্যাপারে কোন দুর্বলতা ছিল না কিন্তু তদুপরি সে সকল হাদীসের উৎসস্থল ও হাদীসের কিতাবের হাওয়ালা এই কিতাবের উপকারীতা ও নির্ভর-যোগ্যতার ব্যাপারে বর্তমান যুগের একটি আবশ্যকীয় দাবী ছিল।

সেই প্রয়োজন অনুভব করে স্নেহের মাওলানা মুহাম্মাদ আফফান ও মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক (দা.বা.) -যারা দারুল উলুম দেওবন্দের (تخصص في الحديث )হাদীস বিভাগ) অধ্যায়নরত রয়েছে তাঁরা- সে সমস্ত হাদীসের উৎসস্থল বের করে এই কিতাবে সংযোগ করে দিয়েছে, যদিও এটা তাঁদের ছাত্রাবস্থার কাজ তারপর এটা এমন সুন্দর ও উত্তম হয়েছে যা দেখলে মনে হবে যে, ইহা কোন অভিজ্ঞ ব্যক্তির কাজ।

আল্লাহ তা'য়ালা তাঁদেরকে ইলমী উন্নতি ও লেখা-লেখির শক্তি বৃদ্ধি করে দিন এবং তাঁদের এই কাজকে ব্যাপকভাবে কবুল করে এটাকে উভয় জগতের সৌভাগ্যের ওসিলা বানান, আমীন।

(মুহাদ্দিস হযরত মাওলানা) নেয়ামাতুল্লাহ (দা. বা.) খাদেম দারুল উলুম দেওবন্দ ১০ জুমা' সানী ১৪২৫ হিঃ

📘 ইমামগণের মতবিরোধ কি ও কেন > 📄 শায়খুল হাদীস হযরত মাঃ মুহঃ যাকারিয়া (রহ.) এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

📄 শায়খুল হাদীস হযরত মাঃ মুহঃ যাকারিয়া (রহ.) এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি


নাম, বংশ: শায়েখ হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ যাকারিয়া বিন মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া বিন মাওলানা ইসমাইল বিন সিদ্দীকী কান্দলভী।

জন্ম: ১৩১৫ হিঃ ১১ই রমযান মুতাবেক ১৮৯৮ খ্রীঃ ২রা ফেব্রুয়ারী রোজ বুধবার ইলমের কেন্দ্রস্থান 'কান্দালা' (জেলা মুযাকযার নগর, ইউপি) এর পুরাতন ও প্রসিদ্ধ ইলমী বংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, যা দাওয়াত ও তাবলীগের খুব প্রসিদ্ধ স্থান ছিল।

শিক্ষা-দিক্ষা: কুরআন মজীদ, বেহেস্তী জেওর ফারসীর প্রাথমিক কিতাবসমূহ ও দ্বীনী কিতাবী নিজ চাচা হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ইলয়াস সাহেব কান্দলবী (রহ.) (মৃত্যু ১৩৬৪ হিঃ) এর নিকট পড়েন। আরবীর প্রাথমিক কিতাবগুলো পিতা হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া সাহেব (রহ.) এর নিকট পড়েন। এরপর আরবী মাধ্যমিক কিতাব পড়ার জন্য ১৩৬৯ হিঃ সনে জামেয়া মাযাহিরুল উলুম সাহরান পুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। যেখানে তিনি অন্যান্য শ্রদ্ধাভাজনদের তত্ত্ববধান ছাড়াও নিজ পিতা এবং বিশেষ মুরুব্বী হযরত মাওলানা খলীল আহমাদ সাহরানপুরী (রহ.) (মৃত্যু ১৩৪৬ হিঃ) থেকে বিশেষভাবে ফয়েয হাসিল করেন। তিনি ১৩৩৪ হিজরীতে জামেয়া মাযাহিরুল উলুম থেকে ফযীলতের সনদ হাসিল করেন।

শিক্ষাদানঃ শায়েখ হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ যাকারিয়া (রহ.) ফারেগ হওয়ার পর পরই ১৩৩৫ হিজরী ১লা মুহাররম মাসে মাসিক ১৫ রুপি ভাতায় মাযাহিরুল উলূম মাদরাসায় প্রাথমিক স্তরের উস্তাদ হিসেবে নিয়োগ পান। সেখানে চেষ্টা ও মেহনতে মাত্র দশ বছরেরও কম সময়ে ১৩৪৫ হিজরীতে শায়খুল হাদীসের মতো সম্মানিত ও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান লাভ করেন। সে বছরই তিনি মদীনা মুনাওয়ারায় সফর করে নিজ শায়েখ হযরত মাওলানা খলীল আহমাদ সাহারানপুরীর কাছে বায়আত করার অনুমতি পান, খেলাফত পান।

হাদীস শাস্ত্রে যোগ্যতা: শায়েখ হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ যাকারিয়া (রহ.) জামেয়া মাযাহিরুল উলূমে থাকাকালীন হাদীস শরীফের যে উত্তম খেদমত আঞ্জাম দিয়েছেন তা কারো কাছে অস্পষ্ট নেই। হাদীস শাস্ত্রে তাঁর যোগ্যতা নিন্মক্ত কথা দ্বারাই ভালোভাবে আনুমান করা যায়, তিনি মাযাহিরুল উলূমে ধারাবাহিক ৪৩ বছর হাদীসের দরস দান করেছেন। তখন তিনি আবু দাউদ প্রায় ৩০ বার, বুখারী শরীফ ১ম খন্ড ২৫ বার এবং পূর্ণাঙ্গ বুখারী শরীফ ১৬ বার দরস দান করেছেন। এগুলো ছাড়া দীর্ঘদিন মেশকাত, নাসায়ী, মুওয়াত্তা মুহাম্মাদ, মুওয়াত্তা মালেকসহ অন্যান্য কিতাবের দরস দান করেছেন। শায়েখ হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ যাকারিয়া (রহ.) এ যোগ্যতা ও সঠিক সিদ্ধান্ত দাতা হওয়ায় ১৩৭০ হিজরী থেকে ১৩৮২ হিজরী পর্যন্ত মাদ্রাসার প্রাণকেন্দ্র দারুল উলূমের মজলিসে শুরার একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন।

ইন্তেকাল: ২রা শা'বান হিজাযী (১লা শা'বান হিন্দী) ১৪০২ হিজরী মুতাবেক ২৪ মে ১৯৮২ খ্রীষ্টাব্দে মদীনা মুনাওয়ারায় ইন্তেকাল করেন। সেখানেই নিজ শায়েখ মাওলানা খলীল আহমাদ সাহরানপুরী (রহ.) এর পাশে জান্নাতুল বাকীতে দাফন হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন।

মাওঃ শাব্বীর আহমাদ যাযাবী কান্দলবী (রহ.( دردنامه حسرت নামে শায়েখ (রহ.) এর দীর্ঘ একটি কবিতা পেশ করেন, যে কবিতায় তিনি পংক্তির প্রথম অংশে হিজরী ও দ্বিতীয় অংশে খ্রীষ্টাব্দ সনের দিকে ইশারা করেছেন,
شیخ کامل در بقیع آباد باد در حضور شوق دلها شاد باد ১৯৮২ খ্রীষ্টাব্দ ১৪০২ হিজরী
دردنامه حسرت ص - ۳۱ )

শায়েখের ইন্তেকালের তারিখ "عبد مغفور" )১৪০২ হিঃ) থেকে বুঝা যায়।

📘 ইমামগণের মতবিরোধ কি ও কেন > 📄 ভূমিকা

📄 ভূমিকা


نَحْمَدُهُ وَنُصَلِّي عَلَي رَسُوْلِهِ الْكَرِيمِ وَأَلِهِ وَ أَصْحَابِهِ وَ أَتْبَاعِهِ وَحَمَلَةِ لِلدِّيْنِ الْقَوِيمِ

মাযাহিরে উলুম মাদরাসার পক্ষ থেকে ১৩৪৬ হিঃ রমযান মাস হতে উক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক ও জামেয়া আশরাফিয়া লাহোর এর মুফতী মাওলানা জামিল আহমাদ সাহেব দাঃ বাঃ এর তত্ত্বাবধানে মাসিক 'আল মুযাহের' নামক একটি পত্রিকা প্রকাশ হতে থাকে। তাঁর অনেক পিড়াপিড়ির পর আমি নিজে অযোগ্য ও অক্ষম হওয়া স্বত্বেও ইমামগণের মতানৈক্যের বিষয়ে সে পত্রিকায় একটা লেখা দিতে থাকি, যতদিন পর্যন্ত তা প্রকাশ হয়েছিল ততদিন পর্যন্ত নিজের অনেক ব্যস্ত তা থাকা স্বত্বেও প্রত্যেক মাসে তাতে দুই-চার পৃষ্টা করে লিখতে ছিলাম। কিন্তু বিভিন্ন বাধা-বিপণ্ডির কারণে প্রায় ১৩/১৪ মাস পর উক্ত পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায় ফলে আমার উক্ত বিষয়ও প্রকাশ করা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর যদিও অনেক বন্ধুবান্ধব ও বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলি উক্ত বিষয়টি পরিপূর্ণ করার প্রতি পিড়াপিড়ি করতে থাকেন, আর মাওলানা জামিল আহমাদ সাহেব যেহেতু একই মাদরাসার শিক্ষক ছিলেন এবং সর্বদা কাছেই থাকতেন সেহেতু বারংবার তাগাদা করে কিছু লিখিয়ে নিতেন, কিন্তু পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আমার আগ্রহ ও বন্ধুবান্ধবের পিড়াপিড়ি সত্ত্বেও তা পূর্ণ করার সুযোগ হয় নি। ইচ্ছা ছিল তাতে অনেক বিস্তারিত ও অন্যান্য বিষয় বস্তু জমা করার। কিন্তু ইলমী ব্যস্ততা ও লেখা- লেখি বাড়তেই থাকে, এ জন্য তা পূর্ণ করা সম্ভব হয় নি। কোন কোন বন্ধু এ ব্যাপারে পিড়াপিড়ি করল যে, যতটুকু প্রকাশিত হয়েছে ততটুকুই প্রথম খন্ড হিসেবে ছাপানো হোক। উক্ত বিষয়ের বিষয়বস্তু একেবারেই সংক্ষেপ ও অপূর্ণাঙ্গ ছিল তাই আমার খেয়াল হলো যে, আরো কিছু অংশ হলে ছাপানো হবে, কিন্তু বর্তমানে তো সে ইচ্ছাও নেই। কেননা বিভিন্ন অসুস্থতা আমাকে একেবারেই মাযূর ও বেকার বানিয়ে দিয়েছে। এ অবস্থায় স্নেহের মাওলানা শাহেদ ও আমার অন্যান্য ঘনিষ্ট বন্ধুবর্গ পিড়াপিড়ি করলেন যে, যতটুকু লেখা হয়েছে ততটুকুও ফায়দা থেকে খালি নয়, তাই স্নেহের মাওলানা শাহেদ তা ছাপানোর ইচ্ছা করেলেন, আল্লাহ তা'য়ালা বরকত দান করুন, উম্মতকে উপকৃত করুন এবং স্নেহের শাহেদকে উভয় জাহানে উন্নতি দান করুন, আমীন।

وما توفيقى الا بالله عليه توكلت واليه انيب

(হযরত মাওলানা) মুহাম্মাদ যাকারিয়া রহ. ১৫ জুমাদুল উলা ১৩৯১ হিঃ

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00