📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 ইমাম মালিক ইবনে আনাস

📄 ইমাম মালিক ইবনে আনাস


ইমাম মালিক ইবনে আনাস (৯৩ হিজরী থেকে ১৭৯ হিজরী)

নামঃ মালিক, উপনাম আবু আবদুল্লাহ। তাঁর বংশপরম্পরা হল, মালিক ইবনে আনাস ইবনে মালিক ইবনে আবু আমির ইবনে আমর ইবনে হারিস ইবনে গায়মান খুসাইল আল আসবাহী। ৫৮৫ ৫৮৬

জন্মঃ বিশুদ্ধ মতে ইমাম মালিক রহ. এর জন্ম সন ৯৩ হিজরী। ৫৮৭ তিনি পিতা আনাস ইবনে মালিক রহ. এর কাছে মদীনায় প্রতিপালিত হন। ৫৮৮ তাঁর দাদা আবু আনাস মালিক রহ. প্রসিদ্ধ তাবেয়ী ছিলেন। ৫৮৯

ইলম অর্জনঃ ইমাম মালিক রহ. শৈশবকাল থেকেই দ্বীনী ইলম চর্চা শুরু করেন। তাঁর মমতাময়ী মা তাঁকে শিক্ষার প্রেরণা যোগান। ৫৯০ তিনি মদীনার প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস এবং ফকীহগণের নিকট থেকে শিক্ষালাভ করেন।

উস্তাদগণঃ ইমাম মালিক রহ. নয়শ'র অধিক শায়েখের কাছে থেকে হাদীসের শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। ৫৯১ বিশেষ করে ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে মুসলিম আয যুহরী রহ, ইমাম নাফি মাওলা ইবনে উমর রহ. প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। ৫৯২ ৫৯৩ তিনি হাদীস অর্জনের জন্য অত্যন্ত পরিশ্রম করেছেন। ৫৯৪

ছাত্রবৃন্দঃ হাফেয যাহাবী রহ. উল্লেখযোগ্য ১৬৬ জনের নাম বর্ণনা করেছেন। ৫৯৫ খতীবে বাগদাদী রহ. তাঁর ৯৯৩ জন ছাত্রের নাম উল্লেখ করেছেন। ৫৯৬ উল্লেখযোগ্য হলেন ইমাম আশ শাফেয়ী রহ, ইমাম সুফিয়ান ইবনে উয়ায়নাহ রহ, ইমাম আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহ. প্রমুখ। ৫৯৭

ইমাম মালেক রহ. সম্পর্কে মনীষীদের মন্তব্যঃ (এক) ইমাম শাফিয়ী বলেন, ‘ইলমের আকাশে মালিক রহ. এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।’ ৫৯৮ ৫৯৯ (দুই) ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল বলেন, ‘তিনি হাদীস ও ফিকহ শাস্ত্রের ওপর বিরল পাণ্ডিত্যের অধিকারী।’ ৬০০

গ্রন্থাবলীঃ (এক) আল মুওয়াত্ত্বা: কিতাবুল্লাহর পরই সর্বাধিক বিশুদ্ধ গ্রন্থ হিসাবে এটি স্বীকৃত। (দুই) রিসালাতু আদাব ইলার রাশীদ। (তিন) আল মুদাওয়ানাতুল কুবরা। (৪) আহকামুল কোরআন। (৫) রিসালাতু মালিক ইবনে মুতরিফ। (৬) রিসালাতু মালিক ইবনে ওয়াহহাব। (৭) কিতাবুল মানাসিক। (৮) তাফসিরু গারীবুল কোরআন। (৯) কিতাবুল মাজালিস আন মালিক। (১০) রিসালাতু ফির রাদ্দি আলাল কাদরিয়া।

মুয়াত্তা মালেকের বৈশিষ্ট্যঃ ১. এটি পুরোপুরিভাবে মদীনাবাসীদের বর্ণনার ভিত্তিতে রচিত। ২. এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা ও কাজ, সাহাবাদের কথা এবং তাবেয়ীদের ফাতওয়া ক্রমানুসারে সাজানো হয়েছে। ৩. শাহ্ উলিউল্লাহর মতে এটি বিশুদ্ধতার দিক থেকে অনন্য। ৪. এতে এমন চারটি হাদীস রয়েছে যার মতন অন্য কোথাও নেই। ৫. মদীনাবাসীদের ইজমা ও মতবিরোধের প্রতি ইশারা করা হয়েছে। ৬. এই গ্রন্থটি ইমাম মালিক রহ. নিজে হাতে লিখেছেন। ৭. এর বর্ণনাকারীর সংখ্যা প্রায় ১০০০ জন। ৮. এর প্রায় ৩০০ এর বেশি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে।

ব্যাখ্যাগ্রন্থের তালিকাঃ (১) আল মুনতাকা: আবুল ওয়ালিদ রাযী রহ.। (২) কিতাবুত তামহীদ: ইবনে আবদুল বার রহ.। (৩) আল মাওয়িব: আবুল ওয়ালিদ রহ.। (৪) শরহুল মুয়াত্তা: ইমাম খাত্তাবী রহ.। (৫) আল মুকতাবাস: আবু বকর ইবনুল আরাবী রহ.। (৬) কাশফুল মুগাত্তা: জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহ.। (৭) শরহুল মুয়াত্তা: মুহাম্মদ যুরকানী রহ.। (৮) আল মুসাফফা: শাহ্ উলিউল্লাহ রহ.। (৯) আওজাযুল মাসালেক: আল্লামা যাকারিয়া রহ.। (১০) আল মুহালা বি আসরারিল মুয়াত্তা: আল্লামা সলিমুল্লাহ রহ.।

মৃত্যুঃ ইমাম মালিক রহ. ১৭৯ হিজরী সনে মাদীনা মুনাওয়ারায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে মাদীনার কবরস্থান 'বাকী আল গারকাদে” দাফন করা হয়। ৬০২

টিকাঃ
৫৮৫. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৮/৪৮)
৫৮৬. শরহুয যুরকানী আলাল মুয়াত্ত (১/৫৩)
৫৮৭. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৮/৪৯)
৫৮৮. মানহাজু ইমাম মালিক (২২ পৃষ্ঠা)
৫৮৯. তারতীবুল মাদারিক (১/১১৩)
৫৯০. তারতীবুল মাদারিক (১/১৩০)
৫৯১. শরহুয যুরকানী আলাল মুয়াত্তা (১/৫৫)
৫৯২. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৮/৪৯-৫১)
৫৯৩. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৫/৯৭)
৫৯৪. তারতীবুল মাদারিক (১/১৩৪)
৫৯৫. তাযকিরাতুল হুফ্ফায় (১/১৫৪)
৫৯৬. তারতীবুল মাদারিক (১/২৫৪)
৫৯৭. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৮/৫২-৫৪)
৫৯৮. তারতীবুল মাদারিক (১/৭৬)
৫৯৯. তারতীবুল মাদারিক (১/১৪৯)
৬০০. তারতীবুল মাদারিক (১/১৪৯)
৬০১. তারতীবুল মাদরিক (১/১৯১-১৯৬)
৬০২. তারতীবুল মাদারিক (২/২৪১)

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 ইমাম মুহাম্মদ

📄 ইমাম মুহাম্মদ


ইমাম মুহাম্মদ ইবনে হাসান (১৩২ হিজরী থেকে ১৮৯ হিজরী)

নামঃ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে হাসান ইবনে ফারকাদ আশ শায়বানী। ৬০৩

জন্মঃ ইমাম মুহাম্মদ রহ. ১৩২ হিজরী সনে ইরাকের ওয়াসিত শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ৬০৪

ইলম অর্জনঃ চৌদ্দ বছর বয়সে তিনি ইমাম আযম আবু হানীফা রহ. এর খিদমতে হাযির হন। তিনি ইমাম আবু ইউসুফ রহ. এর নিকট থেকেও ইলম অর্জন করেন। তিনি পৈতৃক সূত্রে পাওয়া পনের হাজার দিরহাম আরবী ব্যাকরণ ও কাব্য শিক্ষায় এবং পনের হাজার দিরহাম হাদীস ও ফিকহ জ্ঞান অর্জনে ব্যয় করেন। ৬০৫

উস্তাদগণঃ ইমাম আযম আবু হানীফা রহ, ইমাম আবু ইউসুফ রহ, সুফয়ান সাওরী রহ, ইমাম মালিক ইবনে আনাস রহ. প্রমুখ। ৬০৬

ছাত্রবৃন্দঃ উল্লেখযোগ্য হলেন ইমাম শাফেয়ী রহ, আবু সুলাইমান জুযাজানী রহ, আবু উবাইদুল কাসেম ইবনে সালাম প্রমুখ। ৬০৭ ৬০৮

ইমাম মুহাম্মদ রহ. সম্পর্কে মনীষীদের মন্তব্যঃ (এক) ইমাম শাফেয়ী বলেন, ‘ইমাম মুহাম্মাদ রহ. যখন কোন মাসআলা বর্ণনা করতেন তখন মনে হত যেন ওহী অবতীর্ণ হচ্ছে।’ ৬০৯ তিনি আরো বলেন, ‘আমি ইমাম মুহাম্মাদ রহ. অপেক্ষা এতো বড় মেধাবী ও বুদ্ধিমান লোক আর দেখিনি।’ ৬১০ (দুই) ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম মাসআলার জ্ঞান ইমাম মুহাম্মাদ রচিত গ্রন্থসমূহ থেকে অর্জন করেছিলেন। ৬১১ (তিন) ইবনে মুঈন বলেন, ‘আমি ইমাম মুহাম্মদ রহ. থেকে জামেউস সাগীর লিখেছি।’ ৬১২

গ্রন্থাবলীঃ ১. আল মুয়াত্তা। ২. আল মাবসূত। ৩. আল জামিউল কাবীর। ৪. আল জামিউস সাগীর। ৫. আস সিয়ারুল কাবীর। ৬. আস সিয়ারুস সাগীর। ৭. আল জুরজানিয়্যাত। ৮. আয যিয়াদাত। ৯. আল কায়সানিয়্যাত। ১০. আর রুকায়্যাত।

মুয়াত্তা মুহাম্মাদের বৈশিষ্ট্যঃ (এক) এখানে কোন মাওযু (জাল) হাদীস নেই। (দুই) প্রত্যেক পরিচ্ছেদে হাদীস বর্ণনা করার পর ইমাম মুহাম্মদ নিজের মতামত বর্ণনা করেন। (তিন) তাকরারে হাদীস নেই। (৪) কোথাও কোথাও তিনি ইমাম মালিক রহ. এর মাযহাবও উল্লেখ করেছেন। (৫) বিশেষ অর্থ বুঝাতে পারিভাষিক শব্দ ব্যবহার করেছেন।

ব্যাখ্যাগ্রন্থের তালিকাঃ মোল্লা আলী কারী রহ. 'ফতহুল মুগতিসা শারহিত মুয়াত্ত' রচনা করেন। ইবরাহীম বীরীযাদা এবং মাওলানা আব্দুল হাই লখনবী রহ. ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন।

মৃত্যুঃ ইমাম মুহাম্মদ রহ. ১৮৯ হিজরী সনে ইন্তিকাল করেন। মৃত্যু সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। ৬১৩

টিকাঃ
৬০৩. তারিখে বাগদাদ (২/৫৬১)
৬০৪. তারিখে বাগদাদ (২/৫৬১)
৬০৫. তারিখে বাগদাদ (২/৫৬১)
৬০৬. তারিখে বাগদাদ (২/৫৬১)
৬০৭. তারিখে বাগদাদ (২/৫৬১)
৬০৮. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৯/১৩৫)
৬০৯. তারিখে বাগদাদ (২/৫৬১)
৬১০. তারিখে বাগদাদ (২/৫৬১)
৬১১. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৯/১৩৬)
৬১২. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৯/১৩৫)
৬১৩. তারিখে বাগদাদ (২/৫৬২)

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 ইমাম ত্বহাবী

📄 ইমাম ত্বহাবী


ইমাম আবু জাফর ত্বহাবী (২৩৯ হিজরী থেকে ৩৩১ হিজরী)

নামঃ ইমাম হাফেয আবু জাফর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ ইবনে আবদুল মালিক আল আযদী, আল হাজারী আল মিসরী আত ত্বহাবী আল হানাফী। ৬১৪

জন্মঃ তিনি মিসরের 'ত্বহা' নামক প্রাচীন গ্রামে ২৩৯ হিজরীর যিলকদ মাসে জন্মগ্রহণ করেন।

ইলম অর্জনঃ তাঁর শিক্ষা জীবনের সূচনা হয় তাঁর মামা আবু ইবরাহীম মুযানী রহ. এর নিকট। তিনি সিরিয়া, বায়তুল মুকাদ্দাস, ইয়ামান, হিজায ইত্যাদি শহর সফর করেছেন।

উস্তাদগণঃ উল্লেখযোগ্য হলেন আবু ইবরাহীম মুযানী, আহমদ ইবনে আবু ইমরান হানাফী প্রমুখ। ৬১৫

ছাত্রবৃন্দঃ উল্লেখযোগ্য হলেন ইউসুফ ইবনে কাসেম আল মায়ানাযী রহ, আবুল কাসেম আত তাবরানী রহ. প্রমুখ।

মাযহাবঃ প্রথম দিকে ইমাম ত্বহাবী রহ. শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি হানাফী মাযহাবের দলিলগুলো অধিক মযবুত মনে হওয়ায় হানাফী মাযহাব গ্রহণ করেন। ৬১৬ ইমাম ত্বহাবী রহ. অসাধারণ ধীশক্তি ও তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী ছিলেন।

গ্রন্থাবলীঃ ১. শরহু মায়ানিল আসার। ২. মুশকিলুল আসার। ৩. আল মুখতাসারু ফিল ফিকহ। ৪. শরহু জামেউল কাবীর। ৫. শরহু জামেউস সাগীর। ৬. মুখতাসারুল কাবীর। ৭. মুখতাসারুস সাগীর। ৮. তারিখে কাবীর। ৯. মুখতাসারুত ত্বহাবী। ১০. আকিদাতুত ত্বহাবী।

শরহু মায়ানিল আসার (ত্বহাবী শরীফ) এর বৈশিষ্ট্যঃ ১. হাদীসের আলোকে ফিক্‌হী মাসয়ালার বিবরণ পেশ করা হয়েছে। ২. অনেক বিরল হাদীস এতে রয়েছে। ৩. এতে কোন দুর্বল সনদের হাদীস নেই। ৪. মাসয়ালা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। ৫. সাহাবী ও তাবেয়ীদের বিশেষ বাণী এতে রয়েছে। ৬. মুহাদ্দিসদের অসংখ্য উক্তি পেশ করা হয়েছে। ৭. ইমামদের মতভেদসহ উভয় পক্ষের দলিল বর্ণিত হয়েছে। ৮. এটি ফিক্হ শাস্ত্রের গ্রন্থাবলি অনুযায়ী বিন্যস্ত। ৯. হানাফী মাযহাবের প্রাধান্য দিয়ে বিরুদ্ধবাদীদের দলিলও বর্ণনা করা হয়েছে। ১০. একই সনদের অসংখ্য হাদীস আনা হয়েছে। ১১. ফিক্‌হবিদদের উক্তি এবং জারহ ও তাদীল এর বর্ণনা করা হয়েছে।

ব্যাখ্যাগ্রন্থের তালিকাঃ ১. আল হাভী ফি তাখরিজ আহাদিস আত্ তাহাবী: হাফেয আব্দুল কাদের কুরশী রহ.। ২. আমানিল আখবার: আল্লামা আইনী রহ.। ৩. নুখবাতুর আখবার: আল্লামা আইনী রহ.।

মৃত্যুঃ ইমাম আবু জাফর ত্বহাবী রহ. ৩১১ হিজরী সনে যিলকদ মাসে ৯২ বছর বয়সে মিসরে ইন্তিকাল করেন।

টিকাঃ
৬১৪. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৫/২৭)
৬১৫. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৫/২৮)
৬১৬. তাযকিরাতুল হুফ্ফায (৩/২১)

ফন্ট সাইজ
15px
17px