📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 ইমাম নাসায়ী

📄 ইমাম নাসায়ী


ইমাম নাসায়ী রহ. (২১৫হিঃ থেকে ৩০৩হিঃ)

নামঃ ইমাম নাসায়ী রহ. এর নাম আহমাদ, পিতার নাম শোয়াইব। উপাধি আল ইমামুল হাফেয, আল হাফেযুল হুজ্জাহ। উপনাম হল, আবু আব্দুর রহমান। তাঁর নসবনামা হল, আবু আব্দুর রহমান আহমদ ইবনে শোয়াইব ইবনে আলী ইবনে সিনান ইবনে বাহার আল খোরাসানী আন নাসায়ী। ৪৩৫ ৪৩৬

জন্মঃ ইমাম নাসায়ী রহ. ২১৫ হিজরী মুতাবেক ৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে মতান্তরে ২১৪ হিজরীতে খোরাসানের 'নাসা' নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন।

ইলম অর্জনঃ ইমাম নাসায়ী রহ. পনের বছর বয়স পর্যন্ত স্বদেশেই পবিত্র কোরআন হিফয ও প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। ২৩০ হিজরীতে তিনি হাদীসের জ্ঞান অর্জনের জন্য কুতায়বা ইবনে সাঈদের নিকট গমন করেন এবং তাঁর সান্নিধ্যে এক বছর দু'মাস অবস্থান করেন। ৪৩৭ ৪৩৮ তিনি খুরাসান, হিজায, ইরাক, জাযীরা, শাম, মিশর ভ্রমণ করে অনেক বড় বড় শায়েখদের সান্নিধ্য লাভ করেন। ৪৩৯ ৪৪০ ৪৪১ ৪৪২

উস্তাদগণঃ ইমাম নাসায়ী রহ. অসংখ্য মনীষী থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য শিক্ষকের মধ্যে রয়েছেন কুতায়বা ইবনু সাঈদ, ইসহাক ইবনু রাহওয়াই, মুহাম্মাদ ইবনে নযর, আলী ইবনে হাজার, ইউনুস ইবনে আব্দুল আলা, মুহাম্মাদ বিন বাশার, ইমাম আবু দাউদ সিজিস্তানী প্রমুখ। ৪৪৩ ৪৪৪ ৪৪৫

ছাত্রবৃন্দঃ তাঁর ছাত্রদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন, ইবনুস সুন্নী, আহমদ ইবনুল হাসান আর রাযী, আবু জাফর আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ আন নাহবী, আবু জাফর আহমাদ আত তাহাবী প্রমুখ। ৪৪৬ ৪৪৭

চরিত্র ও তাক্বওয়াঃ ইমাম নাসায়ী রহ. নির্মল চরিত্র মাধুর্য্যের অধিকারী মুত্তাকী আল্লাহভীরু মুহাদ্দিস ছিলেন। তিনি একদিন পরপর সারা বছর নফল সিয়াম পালন করতেন। ৪৪৮ ৪৪৯

ইমাম নাসায়ী রহ. সম্পর্কে মনীষীদের মতামতঃ (এক) হাফেয আলী ইবনে উমর বলেন, ‘ইমাম নাসায়ী রহ. সমকালীন মিসরীয় মনীষীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ফকীহ ছিলেন।’ ৪৫০ (দুই) হাফেয যাহাবী রহ. বলেন, ‘হিজরী তৃতীয় শতকের প্রারম্ভে ইমাম নাসায়ী রহ. এর চেয়ে হাদীসের অধিক সংরক্ষক অন্য কেউ ছিল না।’ ৪৫১ ৪৫২ (তিন) ইমাম তাহাবী বলেন, ‘ইমাম আবু আব্দুর রহমান আন নাসায়ী রহ. হাদীস শাস্ত্রের ইমামগণের মধ্যে অন্যতম ইমাম ছিলেন।’ ৪৫৩ (৪) হাফেয আবু আলী আন নীশাপুরী বলেন, ‘আমি স্বদেশে ও বিদেশে চারজন প্রখ্যাত মুহাদ্দিসকে দেখেছি... মিসরে ইমাম নাসায়ী রহ.।’ ৪৫৪ ৪৫৫ (৫) ইমাম দারা কুতনী রহ. বলেন, ‘ইমাম নাসায়ী রহ. তাঁর সময়ের মুহাদ্দিসগণের সকলের উপরে অগ্রগামী ছিলেন।’ ৪৫৬ (৬) মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদ আল বারুদী বলেন, ‘ইলমে হাদীসের তিনি একজন ইমাম বা ইমাম হওয়ার যোগ্য।’ ৪৫৭ (৭) হাফেয আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মানদাহ বলেন, ‘যাঁরা সহীহ হাদীস সংকলন করেছেন... তাঁরা হলেন চার জন... ইমাম আবু আব্দুর রহমান আন নাসায়ী রহ. অন্যতম।’ ৪৫৮ (৮) আবু সাঈদ ইবনে ইউনুস বলেন, ‘ইমাম নাসায়ী রহ. ইলমে হাদীসের ইমাম, নির্ভরযোগ্য, বিশ্বস্ত ও হাফেয ছিলেন।’ ৪৫৯ (৯) আল্লামা তাজ উদ্দীন সুবকী বলেন, ‘ইমাম মুসলিম ও ইমাম নাসায়ীর মধ্যে ইমাম নাসায়ী রহ. অধিক সংরক্ষক ছিলেন।’ ৪৬০ (১০) আবু আবদির রহমান মুহাম্মাদ আস সুলামী বলেন, ‘ইমাম নাসায়ী রহ. এর হাদীস অত্যন্ত সুদৃঢ় ও মুত্তাছিল।’ ৪৬১ (১১) ইমাম হাকেম রহ. বলেন, ‘সুনানে নাসায়ীর মনোহরী কথামালা দেখে মানুষ বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে যায়।’ ৪৬২

ফিকহী মসলকঃ ইমাম নাসাঈ রহ. কোন নির্দিষ্ট মাযহাবের অনুসারী ছিলেন এ ব্যাপারে ওলামায়ে কেরামের মাঝে মতভেদ রয়েছে। অনেকে তাঁকে শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী বলেছেন। ৪৬৩ ৪৬৪ আবার কিছু হানাফী আলেমদের মতে তিনি হাম্বলী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। ৪৬৫

গ্রন্থাবলীঃ ১. আস সুনানুল কুবরা। ২. আস সুনানুস সুগরা। ৩. মুসনাদে আলী রা.। ৪. কিতাবুল আসমা ওয়াল কুনা। ৫. কিতাবুল মুদাল্লিসীন। ৬. কিতাবুয যু'আফা ওয়াল মাতরূকীন। ৭. ফাযায়িলুছ ছাহাবা। ৮. কিতাবুত তাফসীর। ৯. কিতাবুল জুম'আ। ১০. কিতাবুল খাসায়িস। ১১. কিতাবু আমালিল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাতি।

সুনানে নাসায়ী সংকলনঃ ইমাম নাসাঈ রহ. প্রথমে ‘আস সুনানুল কুবরা’ নামে একটি বৃহৎ হাদীসগ্রন্থ সংকলন করেন। অতঃপর একে সংক্ষেপ করে ‘আস-সুনানুস সুগরা’ বা ‘আল মুজতাবা’ সংকলন করেন। ৪৬৬ ৪৬৭ ৪৬৮ ৪৬৯

সুনানে নাসায়ীর সত্যায়ন ও মূল্যায়নঃ ইমাম নাসায়ী রহ. বলেছেন, ‘মুজতাবা তথা সুনানে নাসায়ীতে নির্বাচিত সব হাদীসই সহীহ।’ ৪৭০ ৪৭১ ৪৭২ ৪৭৩ ৪৭৪ ৪৭৫

হাদীছ গ্রহণে ইমাম নাসায়ী রহঃ এর শর্তাবলীঃ ইমাম নাসায়ী রহ. হাদীস গ্রহণের ব্যাপারে বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। ৪৭৬ ৪৭৭ ৪৭৮ ৪৭৯

সুনানে নাসায়ীর বৈশিষ্ট্যঃ (এক) প্রায় তাকরার বা দ্বিরুক্তিমুক্ত। (দুই) হাদীসের দুর্বোধ্য শব্দের ব্যাখ্যা। ৪ ৮০ ৪৮১ (তিন) দীর্ঘ সনদ বিশিষ্ট হাদীসের উল্লেখ। ৪৮২ (চার) ফিকহী বিন্যাস। (পাঁচ) জীবনের সকল দিক সম্পর্কিত হাদীসের সন্নিবেশ। (ছয়) শিরোনাম নির্ধারণ করে হাদীসের ইল্লত (ত্রুটি) বর্ণনা। ৪৮৩ (সাত) অনুচ্ছেদ বিন্যাসে ইমাম বুখারীর ফিকহী ধারা অনুসরণ। (আট) স্বল্পসংখ্যক তা'লীক হাদীস। (নয়) হাদীসের মান ও স্তর বর্ণনা। ৪৮৪ ৪৮৫ ৪৮৬ (দশ) সনদের অবস্থা বর্ণনা। ৪৮৭ ৪৮৮ (এগারো) একাধিক সনদ উল্লেখ। (বার) আহকাম সম্বলিত হাদীস। ৪৮৯ (তের) রাবীর বংশপরিক্রমা উল্লেখ। (চৌদ্দ) কোরআনের আয়াতের উদ্ধৃতি। ৪৯০ (পনের) নাসিখ-মানসূখ দৃষ্টিকোণে অনুচ্ছেদ প্রণয়ন। ৪৯১

ব্যাখ্যাগ্রন্থের তালিকাঃ (এক) জহরুর রবা আলাল মুজতাবা: আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ুতী রহ.। (দুই) উরফু জহরির রবা আলাল মুজতাবা: আলী ইবনে সুলাইমান আত দামনাতী। (তিন) আল ইম'আন ফী শরহি সুনানি আন নাসায়ী: আবুল হাসান আলী ইবনে আবদুল্লাহ আনসারী। (৪) জাওয়াইদুন নাসায়ী: আল্লামা ইবনে মুলাক্কিন রহ.।

শীয়া অপবাদ আরোপঃ ইমাম নাসায়ী রহ. হযরত আলী রা. ও তাঁর পরিবারের প্রশংসায় 'কিতাবুল খাসায়িস' রচনা করেছিলেন। দামেশকে বনী উমাইয়ার পক্ষের কিছু লোক তাঁকে আমীর মুয়াবিয়া রা. সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বিরূপ উত্তর দেননি, তবুও তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। ৪৯২ মূলতঃ ইমাম নাসায়ী রহ. কখনোই শীয়া ছিলেন না। ৪৯৩ ৪৯৪ ৪৯৫ ৪৯৬

মৃত্যু ও দাফনঃ শীয়া অপবাদের অভিযোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মক্কায় বা ফিলিস্তীনে মৃত্যুবরণ করেন। ৪৯৭ হাফেয যাহাবী লিখেছেন, তিনি ৩০৩ হিজরীর সফর মাসের ১৩ তারিখ ফিলিস্তীনে মৃত্যুবরণ করেন। ৪৯৮ ৪৯৯ মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। ৫০০

টিকাঃ
৪৩৫. বুসতানুল মুহাদ্দিসীন (২৪৪)
৪৩৬. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৪/১২৫)
৪৩৭. হায়াতুল মুসান্নিফীন (৬২ পৃষ্ঠা)
৪৩৮. তারিখে বাগদাদ (২/৪৯৮)
৪৩৯. বুস্তানুল মুহাদ্দীসীন পৃষ্ঠা (২৪৪)
৪৪০. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১১/১৪০)
৪৪১. তাহযিবুল কামাল (১/৩২৯)
৪৪২. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৪/১২৭)
৪৪৩. আ'লামুল মুহাদ্দিসীন (২৫২)
৪৪৪. আ'লামুল মুহাদ্দিসীন (২৫২)
৪৪৫. আন নাসায়ী ফি সুনানিল কুবরা (২৩ পৃষ্ঠা)
৪৪৬. রুবাইয়্যাতুল ইমাম আন নাসায়ী (২৫২)
৪৪৭. তাহযিবুল কামাল (১৪/৩২৯)
৪৪৮. তাহযিবুল কামাল (১/৩৩৫)
৪৪৯. মিফতাহুল উলুম ওয়াল ফুনুন (পৃষ্ঠা ৬৬)
৪৫০. তাযকিরাতুল হুফ্ফায (১/৩৩৮)
৪৫১. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১/৮৩)
৪৫২. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৪/১২৭)
৪৫৩. তাহযিবুল কামাল (১/৩৩৩)
৪৫৪. তাহযিবুত তাহযিব (১/৩৭)
৪৫৫. তাহযিবুত তাহযিব (১/৩৭)
৪৫৬. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৪/১৩১)
৪৫৭. তাহযিবুত তাহযিব (১/৩৭)
৪৫৮. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৪/১৩৫)
৪৫৯. তাহযিবুল কামাল (১/৩৪০)
৪৬০. তাহযিবুল কামাল (টিকা-১/৩৪০)
৪৬১. তাহযিবুল কামাল (১/৩৩৪-৩৩৫)
৪৬২. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৪/১৩০)
৪৬৩. বুস্তানুল মুহাদ্দিসীন (২৪৪)
৪৬৪. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৪/১৩০)
৪৬৫. মুকাদ্দামাতু তুহফাতুল আহওয়াযী (১/২৮০)
৪৬৬. আল হাদীস ওয়াল মুহাদ্দীসুন (৪০৯ পৃষ্ঠা)
৪৬৭. তাহযিবুল কামাল (১/১৭২)
৪৬৮. মুকাদ্দামা তুহফাতুল আহওয়ায়ী (১/১০৫)
৪৬৯. আ'লামুল মুহাদ্দিসীন (২৫৯)
৪৭০. আল হাদীস ওয়াল মুহাদ্দীসুন (৪০৯ পৃষ্ঠা)
৪৭১. আ'লামুল মুহাদ্দিসীন (৪০৯)
৪৭২. আল হাদীস ওয়াল মুহাদ্দিসুন (৪১০)
৪৭৩. আল হাদীস ওয়াল মুহাদ্দীসুন (৪১০)
৪৭৪. মুকাদ্দামতু যাহরীর রুবা আলাল মুজতাবা (৪ পৃষ্ঠা)
৪৭৫. আল হাদীস ওয়াল মুহাদ্দীসুন (৪১০ পৃষ্ঠা)
৪৭৬. মুকাদ্দামতু যাহরীর রুবা আলাল মুজতাবা (৩ পৃষ্ঠা)
৪৭৭. আল হাদীস ওয়াল মুহাদ্দীসুন (৪১০পৃষ্ঠা)
৪৭৮. কাশফুয যুনুন (২/১০০৬)
৪৭৯. উম্মাহাতুল কুতুবিল হাদীস (১২৪ পৃষ্ঠা)
৪৮০. সুনানে নাসায়ী (২৪)
৪৮১. সুনানে নাসায়ী (৫৩)
৪৮২. সুনানে নাসায়ী (৯৯৬)
৪৮৩. মুকাদ্দামতু যাহরীর রুবা আলাল মুজতাবা (পৃষ্ঠা ৪)
৪৮৪. সুনানে নাসায়ী (১৭৮২)
৪৮৫. সুনানে নাসায়ী (২১৫১)
৪৮৬. সুনানে নাসায়ী (৩২১৫)
৪৮৭. সুনানে নাসায়ী (৪৩৮)
৪৮৮. সুনানে নাসায়ী (১৩৮০)
৪৮৯. আ'লামুল মুহাদ্দিসীন (২৬৩)
৪৯০. সূরা মায়েদাহ (৫/৬)
৪৯১. আ'লামুল মুহাদ্দিসীন (২৭৩)
৪৯২. বুসতানুল মুহাদ্দিসীন (২৪৫), তাহযিবুত তাহযিব (১/২৮)
৪৯৩. বুসতানুল মুহাদ্দিসীন (২৪৫)
৪৯৪. বুসতানুল মুহাদ্দিসীন (২৪৫)
৪৯৫. রুবাইয়্যাতুল ইমাম আন নাসায়ী (১৮ পৃষ্ঠা)
৪৯৬. রুবাইয়্যাতুল ইমাম আন নাসায়ী (১৮ পৃষ্ঠা)
৪৯৭. বুসতানুল মুহাদ্দিসীন (২৪৫)
৪৯৮. তাযকিরাতুল হুফ্ফায (২/১৯৫)
৪৯৯. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১১/১৪১)
৫০০. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১১/১৪১)

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 ইমাম আবু দাউদ

📄 ইমাম আবু দাউদ


ইমাম আবু দাউদ রহ. (২০২হিঃ থেকে ২৭৫হিঃ)

নামঃ আবু দাউদ ইবনুল আশআস আল আযদী আস সিজিস্তানী। তাঁর বংশধারা হল, সুলায়মান ইবনুল আশআস ইবনে ইসহাক ইবনে বাশীর ইবনে সাদ্দাদ ইবনে আমর ইবনে ইমরান। ডাকনাম হল, আবু দাউদ।

জন্মঃ ইমাম আবু দাউদ রহ. ২০২ হিজরী মোতাবেক ৮১৭ খ্রিস্টাব্দে সিজিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন। ৫০১

ইলম অর্জনঃ ইমাম আবু দাউদ রহ. তাঁর নিজ গ্রামেই প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। তিনি হাদীসের জ্ঞান অর্জনের জন্য বসরা, খুরাসান, কূফা, মিসর, সিরিয়া, হিজাজ ইত্যাদি শহরে ভ্রমণ করেন। ৫০২

উস্তাদগণঃ ইমাম আবু দাউদ রহ. প্রায় তিনশত উস্তাদের নিকট হাদীস শ্রবণ করেছেন। উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন, আল কানাবী, আব্দুল্লাহ ইবনে রাযা, সুলাইমান ইবনে হারব, উসমান ইবনে আবী শায়বা, ইয়াহইয়া ইবনে মুঈন প্রমুখ। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. ও তাঁর উস্তাদ ছিলেন।

ছাত্রবৃন্দঃ তাঁর উল্লেখযোগ্য ছাত্ররা হলেন ইমাম তিরমিযি রহ, ইমাম নাসায়ী রহ, আবু আলী লুলুয়ী, আবু সাঈদ ইবনুল আরাবী প্রমুখ। ৫০৩

খোদাভীতিঃ ইমাম আবু দাউদ রহ. একজন আবিদ ও যহিদ ছিলেন। তিনি হাদীসের পাণ্ডুলিপি রাখার সুবিধার জন্য জামার একটি হাত প্রশস্ত তৈরি করেছিলেন। ৫০৪

ফিকহী সৃজনীশক্তিঃ ইমাম আবু দাউদ রহ. এর মধ্যে অগাধ ফিকহী প্রতিভা ছিল। ইমাম গাযালী রহ. বলেছেন, ‘মুজতাহিদদের জন্য শুধু এই একটি কিতাবই (সুনানে আবু দাউদ) যথেষ্ট।’ ৫০৫ ৫০৬

বিরে বুযায়া স্বচক্ষে দেখার বর্ণনাঃ ইমাম আবু দাউদ রহ. সুনানে আবু দাউদে বুযায়া কূপটি স্বচক্ষে দেখার এবং তার প্রস্থ পরিমাপের বর্ণনা দিয়েছেন।

ইমাম আবু দাউদ রহ. সম্পর্কে মনীষীদের মতামতঃ হাফেয মুসা ইবনে হারুন রহ. বলেন, ‘আবু দাউদ রহ. দুনিয়াতে হাদীসের জন্য এবং আখিরাতে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি হয়েছেন।’ ৫০৭ মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আস সাগানী বলেন, ‘হযরত দাউদ আলাইহিস সালামের জন্য লোহাকে যেমন নরম করে দেয়া হয়েছিল, তেমনি আবু দাউদ এর জন্য হাদীসকে সহজ করে দেয়া হয়েছে।’ ৫০৮ ইমাম হাকীম রহ. তাঁকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ইমাম বলেছেন। ৫০৯ ৫১০ হাফেয যাহাবী বলেন, ইমাম আবু দাউদ রহ. তাকওয়া ও আখলাকের দিক থেকে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. এর সাদৃশ্য ছিলেন। ৫১১

সাহল ইবনে আবদুল্লাহ তুসতারী রহ. এর আকস্মিক ঘটনাঃ প্রসিদ্ধ সুফী সাহল ইবনে আবদুল্লাহ তুসতারী ইমাম আবু দাউদ রহ. এর নিকট আবেদন করেছিলেন যে তিনি যেন তাঁর জিহ্বাটি বের করেন, কারণ তা দিয়ে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস বর্ণনা করেন। অতঃপর তিনি সেই জিহ্বায় চুমু দিলেন। ৫১২

ফিকহী মসলকঃ ইমাম আবু দাউদ রহ. এর ফিকহী মসলক নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। অনেকে তাঁকে শাফেয়ী বলেছেন, ৫১৩ ৫১৪ ৫১৫ আবার অনেকে তাঁকে হাম্বলী মাযহাবের অনুসারী হিসেবে গণ্য করেছেন। ৫১৬ সুনানে আবু দাউদ পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে তিনি অনেক ক্ষেত্রে হাম্বলী মাযহাবের মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

গ্রন্থাবলীঃ ১. সুনানে আবু দাউদ। ২. কিতাবুল মারাসীল। ৩. আর রদ্দু আলাল কাদরিয়‍্যাহ। ৪. আন নাসিখ ওয়াল মানসূখ। ৫. মা তাফাররাদা বিহী আহলুল আমসার। ৬. ফাযায়িলুল আনসার। ৭. মুসনাদে মালিক ইবনে আনাস। ৮. আল মাসাইল। ৯. মারিফাতুল আওকাত। ১০. কিতাবু বাদউল ওহী। ১১. আদ দোয়া। ৫১৭ ১২. ইবতিদা। ৫১৮ ১৩. আখবারুল খাওয়ারিজ। ৫১৯ ১৪. আত তাফারুদু ফিস সুনান। ৫২০ ১৫. দালাইয়েলুল নবুওয়াহ। ৫২১

ইমাম আবু দাউদ রহ. এর নির্ধারিত চারটি হাদীসঃ ইমাম আবু দাউদ রহ. বলেছেন যে একজন মানুষের দ্বীনের ওপর চলার জন্য চারটি হাদীসই যথেষ্ট। ১. নিয়ত অনুযায়ী আমল ২. অনর্থক কথাবার্তা পরিহার ৩. নিজের ভাইয়ের জন্য তা পছন্দ করা যা নিজের জন্য পছন্দ করে ৪. হালাল ও হারাম স্পষ্ট হওয়া এবং এর মাঝে সন্দেহযুক্ত বস্তু থাকা। ৫২২

ইমাম আবু দাউদ রহ. এর হাদীস গ্রহণে শর্তঃ তাঁর শর্ত ছিল এমন বর্ণনাকারীর হাদীস বর্ণনা করা, যাকে বাদ দেওয়ার ওপর ইজমা হয়নি এবং সনদটি মুত্তাসিল হওয়া। ৫২৩

সুনানে আবু দাউদ রচনা ও বৈশিষ্ট্যঃ ইমাম আবু দাউদ রহ. এ গ্রন্থটি প্রণয়ন করে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. এর খিদমতে পেশ করেছিলেন। (এক) এতে বর্ণনাকারীদের মতানৈক্য ও শব্দের পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। (দুই) একই হাদীসের একাধিক সনদ উল্লেখ করা হয়েছে। (তিন) তরজামতুল বাবের মাধ্যমে বিরোধ নিরসনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। (চার) মাতরুক রাবীর হাদীস বর্ণনা করা হয়নি। (পাঁচ) উচ্চ সনদের অধিকারীকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। (ছয়) তরজমাতুল বাব প্রমাণের জন্য সাধারণত একটি রেওয়ায়েত আনা হয়েছে। (সাত) দীর্ঘ হাদীসের প্রয়োজনীয় অংশটুকু বর্ণনা করা হয়েছে। (আট) এতে ফিকহী হাদীসের বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে। ৫২৪

সুনানে আবু দাউদের নুসখাসমূহঃ চারটি নুসখা সবচেয়ে প্রসিদ্ধ—১. আবু আলী মুহাম্মদ লুলুয়ী রহ.। ২. আবু বকর ইবনে দাসাহ রহ.। ৩. হাফেয আবু ঈসা আর রামলী রহ.। ৪. হাফেয আবু সাঈদ ইবনুল আরাবী রহ.।

সুনানে আবু দাউদের ব্যাখ্যাগ্রন্থের তালিকাঃ (এক) মুয়ালিমুস সুনান: ইমাম খাত্তাবী রহ.। (দুই) ইনতিহাউস সুনান: হাফেয শিহাবুদ্দীন রহ.। (তিন) মিরকাতুস সুউদ: আল্লামা সুয়ূতী রহ.। (৪) দারাজাতু মিরকাতিস সুউদ: আলী ইবনে সুলাইমান দিমনাতী। (৫) শরহু সুনানি আবী দাউদ: ইবনুল মুলাক্কিন রহ.। (৬) ওলী উদ্দীন আল ইরাকী রহ. এর শরহ। (৭) শিহাব উদ্দীন আর রামলী এর শরহ। (৮) কুতুবুদ্দীন আল ইয়ামানী এর শরহ। (৯) হাফেয মুগলতাঈ এর শরহ। (১০) তাহযিবুস সুনান: আল্লামা ইবনুল কায়্যিম রহ.। (১১) আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী রহ. এর শরহ। (১২) আল মানহালুল আযবিল মাওরূদ: মাহমুদ মুহাম্মদ খাত্তাব। (১৩) আওনুল মাবুদ: আল্লামা শরফুল হক আযিমাবাদী। (১৪) আত তালীকুল মাহমূদ: ফাখরুল হাসান গাঙ্গুহী। (১৫) বাযলুল মাযহুদ: খলীল আহমদ সাহারানপুরী।

সর্বশেষ বসরায় অবস্থানঃ জীবনের শেষ দিকে তিনি বসরার আমীরের অনুরোধে সেখানে হিজরত করেন। ৫২৫

মৃত্যুঃ ইমাম আবু দাউদ রহ. ২৭৫ হিজরী সনের ১৬ ই শাওয়াল জুমার দিন বসরায় ইন্তিকাল করেন।

টিকাঃ
৫০১. ওয়াফইয়াতুল আ'ইয়ান (২/৪০৫)
৫০২. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৩/২০৪)
৫০৩. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৩/২০৫)
৫০৪. ওয়াফইয়াতুল আ'ইয়ান (২/৪০৪)
৫০৫. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১১/৫৫)
৫০৬. শরহুল ইলমাম (১/৪২)
৫০৭. তাযকিরাতুল হুফ্ফায (২/১২৭)
৫০৮. তাহযিবুত তাহযিব (৪/১৭২)
৫০৯. তাহযিবুত তাহযিব (৪/১৭২)
৫১০. তাহযিবুত তাহযিব (৪/১৭২)
৫১১. তাযকিরাতুল হুফফায (২/১২৮)
৫১২. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৩/২১৩)
৫১৩. বুসতানুল মুহাদ্দিসীন (২৮৮)
৫১৪. যফরুল মুহাসসিলীন (১০২)
৫১৫. আল হিত্তাহ ফি যিকরীস সিহাহীস সিত্তাহ (২২৮)
৫১৬. বুসতানুল মুহাদ্দিসীন (২৮৮)
৫১৭. তাহযিবুত তাহযিব (১/৬)
৫১৮. তাহযিবুত তাহযিব (১/৬)
৫১৯. তাহযিবুত তাহযিব (১/৬)
৫২০. হাদিয়াতুল আরিফীন (১/৩৯০)
৫২১. তাহযিবুত তাহযিব (১/৬)
৫২২. কাশফুয যুনূন (২/১০০৫)
৫২৩. কাশফুল বারী মুকাদ্দামা
৫২৪. কাশফুল বারী বাংলা (১/৩৭২-৩৭৩)
৫২৫. মুয়ালিমুস সুনান (১/৭-৮)

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 ইমাম তিরমিযি

📄 ইমাম তিরমিযি


ইমাম আবু তিরমিযি রহ. (২০৯হিঃ থেকে ২৭৯হিঃ)

নামঃ মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আত তিরমিযি। কুনিয়াতঃ আবু ঈসা। তাঁর বংশধারা হলঃ মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরা ইবনে মুসা ইবনে আয যাহহাক আস সুলামী আয যারীর আল বুগি আত তিরমিযি।

জন্মঃ ইমাম তিরমিযি রহ. ২০৯ হিজরীতে (৮২৪/৮২৫ খ্রিস্টাব্দে) তিরমিয শহরে জন্মগ্রহণ করেন।

ইলম অর্জনঃ ২০ বছর বয়সে তিনি হাদিস শিক্ষা শুরু করেন। তিনি বুসরা, কুফা, ইরাক, খোরাসান, হিযায সফর করে হাদিস সংগ্রহ করেছেন। ৫২৬ ইমাম তিরমিযি রহ. বিস্ময়কর স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন। জনৈক উস্তাদ তাঁকে পরীক্ষা করার জন্য ৪০টি হাদীস শুনিয়েছিলেন, যা তিনি একবার শুনেই হুবহু শুনিয়ে দিয়েছিলেন। ৫২৭

উস্তাদগণঃ উল্লেখযোগ্য হলেন ইমাম বুখারী রহ, কুতায়বা ইবনে সাঈদ, ইসহাক ইবনে রাহওয়াই প্রমুখ। ৫২৮

ছাত্রবৃন্দঃ উল্লেখযোগ্য হলেন আবু বকর আহমদ ইবনে ইসমাঈল আস সামারকান্দী, হাম্মাদ ইবনে শাকের প্রমুখ। ৫২৯

ইমাম তিরমিযি রহ. সম্পর্কে মনীষীদের মন্তব্যঃ ১. ইবনে হিব্বান বলেন, ‘তিনি হাদীস সংগ্রহকারী ও সংরক্ষকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন।’ ৫৩০ ২. ইমাম হাকিম বলেন, ‘ইমাম বুখারী ইন্তিকালের পর খুরাসানে আবু ঈসা রহ. এর অনুরূপ আর কেউ ছিল না।’ ৫৩১ ৩. আল্লামা আবু ইয়ালা বলেন, ‘তিনি আমানতদারী এবং জ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ ছিলেন।’ ৫৩২ ৪. ইমাম যাহাবী বলেন, ‘জামি গ্রন্থটি তাঁর আমানত ও হিফযের প্রমাণ।’ ৫৩৩ ৫. আল্লামা ইবনে আসীর বলেন, ‘তাঁর জামেউল কাবীর সবচেয়ে অসাধারণ।’ ৫৩৪ ৬. ইবনে খাল্লিকান বলেন, ‘তিনি হাদীসশাস্ত্রের একজন অনুসরণীয় ইমাম।’ ৭. ইমাম মিয্যি বলেন, ‘তিনি মহান ইমামদের একজন।’ ৫৩৫ ৮. হাফেয ইবনে কাসীর বলেন, ‘তিনি সমকালীন মাহাত্ম্যপূর্ণ ইমাম ছিলেন।’ ৫৩৬ ৯. ইমাম বুখারী তাঁকে বলেছিলেন, ‘তুমি যতটুকু আমার থেকে উপকৃত হয়েছ, তার চেয়ে বেশি আমি তোমার থেকে হয়েছি।’ ৫৩৭ ১০. শাহ্ আব্দল আযিয বলেন, ‘তিনি ইমাম বুখারীর প্রকৃত উত্তরাধিকারী ছিলেন।’ ৫৩৮

গ্রন্থাবলীঃ ১. জামে তিরমিযি। ২. আশ শামায়েলুন নাবাবিয়্যাহ। ৩. আল ইলালুল কাবীর। ৪. আল ইলালুস সাগীর। ৫. কিতাবুয যুহুদ। ৬. কিতাবুত তারীখ। ৭. আসমাউস সাহাবা। ৮. কিতাবুল আসমা ওয়াল কুনা। ৯. কিতাবু ফিল আসারীর মাওকুফাহ।

জামে তিরমিযি ও তার বৈশিষ্ট্যঃ ইমাম তিরমিযি রহ. বলেছেন, ‘এই হাদীস গ্রন্থটি যার ঘরে থাকবে, তার ঘরে যেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কথা বলছেন।’ ৫৩৯ ৫৪০ ৫৪১ (এক) এই গ্রন্থটি একই সাথে জামে ও সুনান। (দুই) হাদীসের তাকরার বা পুনরাবৃত্তি নেই। (তিন) ফুকাহায়ে কেরামের মৌলিক প্রমাণাদি সঙ্কলন করা হয়েছে। (চার) ফুকাহায়ে কেরামের মতামত ও মতবিরোধ বর্ণনা করা হয়েছে। ৫৪২ ৫৪৩ (পাঁচ) সাহাবায়ে কেরামদের ফিকহী মতবিরোধ উল্লেখ করা হয়েছে। ৫৪৪ ৫৪৫ (ছয়) কোন বিষয়ে অন্যান্য সাহাবীদের রেওয়ায়েতের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। ৫৪৬ (সাত) প্রতিটি হাদীসের সনদের স্তর উল্লেখ করা হয়েছে। (আট) দুর্বল রাবীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ৫৪৭ (নয়) সনদে গারাবত বা অপ্রসিদ্ধতা থাকলে তা উল্লেখ করা হয়েছে। ৫৪৮ (দশ) দীর্ঘ হাদীসের কেবল প্রয়োজনীয় অংশ বর্ণনা করা হয়েছে। (এগারো) সনদে ইযতেরাব বা অস্থিরতা থাকলে তা আলোচনা করা হয়েছে। ৫৪৯ (বার) সনদে মাজহুল রাবীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। ৫৫০ (তের) রাবীর জরাহ তা'দিলে মতবিরোধ উল্লেখ করা হয়েছে। ৫৫১ (চৌদ্দ) তারতিব এবং শিরোনামগুলো অনেক সহজ। (পনের) এ কিতাবের প্রায় সমস্ত হাদীস আমলযোগ্য।

জামে তিরমিযির ব্যাখ্যাগ্রন্থের তালিকাঃ (এক) আরিদাতুল আহওয়াযী: আবু বকর ইবনুল আরাবী রহ.। (দুই) ইমাম বাগবী রহ. এর শরহ। (তিন) আন নাফহুশ শাযী: ইবনে সাইয়িদিন নাস রহ.। (৪) ইবনে রজব হাম্বলী রহ. এর শরহ। (৫) জয়নুদ্দীন ইরাকী রহ. এর শরহ। (৬) সিরাজউদ্দীন বালকীনী রহ. এর শরহ। (৭) জাওয়াইদুত তিরমিযি: ইবনে মুলাক্কিন রহ.। (৮) কুতুল মুগতযী: জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহ.। (৯) সিরাজ আহমদ সারহিন্দী এর শরহ। (১০) আল আরফুশ শাযী: শাহ্ আনোয়ার কাশ্মীরী রহ.। (১১) আল কাওয়াকিব উদ দুরী: রশিদ আহমদ গাঙ্গুহী রহ.। (১২) তুহফাতুল আহওয়াযী: মুহাম্মদ আবদুর রহমান মুবারকপুরী রহ.। (১৩) মাআরিফুস সুনান: মুহাম্মদ ইউসুফ বানুরী রহ.। (১৪) আল কাওয়াকিব উদ দুরী: মুহাম্মদ জাকারিয়া কান্দলবী রহ.।

মৃত্যুঃ ইমাম তিরমিযি রহ. ২৭৯ হিজরীর ১৩ ই রজব ৮ অক্টোবর ৮৯২ খ্রিস্টাব্দে ইন্তিকাল করেন। ৫৫২

টিকাঃ
৫২৬. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৩/২৭১)
৫২৭. তাযকিরাতুল হুফ্ফায (২/২০৯)
৫২৮. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৩/২৭১)
৫২৯. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৩/২৭২)
৫৩০. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৩/২৭৩)
৫৩১. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৩/২৭৩)
৫৩২. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১১/৬৭)
৫৩৩. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৩/২৭৬)
৫৩৪. আল কামেল ফিত তারিখ (৬/৪৭৪)
৫৩৫. তাহযিবুল কামাল (২৬/২৫০)
৫৩৬. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১১/৭৭)
৫৩৭. তাহযিবুত তাহযিব (৯/৩৮৯)
৫৩৮. বুসতানুল মুহাদ্দিসীন (১৮৫)
৫৩৯. তাযকিরাতুল হুফ্ফায (২/১৫৪)
৫৪০. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১১/৬৭)
৫৪১. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৩/২৭৭)
৫৪২. জামে তিরমিযি, হাদিস (৭৭)
৫৪৩. জামে তিরমিযি (১/১৩৩)
৫৪৪. জামে তিরমিযি, হাদীস (৬৯)
৫৪৫. জামে তিরমিযি (১/১২৫)
৫৪৬. জামে তিরমিযি (১/৫৫)
৫৪৭. জামে তিরমিযি (১/৬৩)
৫৪৮. জামে তিরমিযি (১/৫৭)
৫৪৯. জামে তিরমিযি (১/১০)
৫৫০. জামে তিরমিযি (১/৬৭)
৫৫১. জামে তিরমিযি (১/৫৪)
৫৫২. তাহযিবুল কামাল (২৬/২৫২)

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 ইমাম ইবনে মাজাহ

📄 ইমাম ইবনে মাজাহ


ইমাম ইবনে মাজাহ (২০৯ হিজরী থেকে ২৭৩ হিজরী)

নামঃ ইমাম ইবনে মাজাহ। প্রকৃত নাম মুহাম্মাদ। পিতার নাম ইয়াযীদ, উপনাম আবু আবদুল্লাহ। তাঁর বংশধারা হল, আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াযীদ আল কাযবীনী ইবনে মাজাহ আর রাবয়ী। ৫৫৩ ৫৫৪ ‘মাজাহ’ শব্দটি তাঁর পিতার উপাধি। ৫৫৫

জন্মঃ তিনি ২০৯ হিজরী মোতাবেক ৮২৪ খ্রিস্টাব্দে ইরাকের প্রসিদ্ধ শহর কাযবীনে জন্মগ্রহণ করেন।

ইলম আর্জনঃ ২৩০ হিজরী থেকে তিনি হাদীস সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সফর শুরু করেন। ৫৫৬ তিনি খুরাসান, ইরাক, হিজায, মিসর, সিরিয়া ও রায় ভ্রমণ করেন। ৫৫৭ ৫৫৮

উস্তাদগণঃ উল্লেখযোগ্য হলেন আবু বকর ইবনে আবী শায়বা, উসমান ইবনে আবী শায়বা, মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে নুমাইর প্রমুখ। ৫৫৯

ছাত্রবৃন্দঃ উল্লেখযোগ্য হলেন ইবরাহীম ইবনে দীনার, আবু আমর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ মাদীনী, আবুল হাসান আলী ইবনে ইবরাহীম কাত্তান প্রমুখ। ৫৬০

ইমাম ইবনে মাজাহ সম্পর্কে মনীষীদের বক্তব্যঃ (এক) হাফেয আবু ইয়ালা বলেন, ‘তিনি খুবই নির্ভরযোগ্য সর্বসম্মত হাদীসবেত্তা ছিলেন।’ ৫৬১ (দুই) আল্লামা ইবনে কাসীর বলেন, ‘তিনি সুপ্রসিদ্ধ সুনান গ্রন্থ প্রণেতা।’ ৫৬২ (তিন) ইমাম যাহাবী বলেন, ‘তিনি ছিলেন হাদীসের হাফেয এবং সত্যবাদী।’ ৫৬৩ (৪) আল্লামা ইউসুফ আল মিয্যি বলেন, ‘তিনি কল্যাণকামী গ্রন্থপ্রণেতা ছিলেন।’ ৫৬৪ ৫৬৫ (৫) ইবনে খাল্লিকান বলেন, ‘তিনি হাদীসের ইমাম ছিলেন।’ ৫৬৬ (৬) ইমাম যাহাবী বলেন, ‘তিনি সমকালীন যুগে কাযবীনের হাফেযুল হাদীস ছিলেন।’ ৫৬৭ (৭) আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী বলেন, ‘তিনি একজন বিশিষ্ট হাদীস সংরক্ষক ইমাম ছিলেন।’ ৫৬৮ (৮) আল্লামা ইবনুল আসীর বলেন, ‘তিনি একজন বুদ্ধিদীপ্ত আলেম ও ইমাম ছিলেন।’ ৫৬৯

ফিকহী মসলকঃ অনেকে তাঁকে শাফেয়ী বা হাম্বলী মাযহাবের অনুসারী বলেছেন। তবে তিনি ফিকহী মাসআলায় ইমাম শাফেয়ী, আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ. প্রমুখ মনীষীর দিকে ধাবিত ছিলেন।

গ্রন্থাবলী: ১. সুনানে ইবনে মাজাহ। ২. তাফসীরুল কুরআনিল কারীম। ৩. তারীখু মালীহ। ৫৭০

সুনানের বৈশিষ্ট্যঃ (এক) দীর্ঘ ভূমিকা দ্বারা আরম্ভ হয়েছে। (দুই) অপূর্ব ফিকহী তারতীব অনুযায়ী সুবিন্যস্ত। ৫৭১ (তিন) এ গ্রন্থ থেকে ফিকহী মাসআলা সংগ্রহকরণ খুবই সহজসাধ্য। (চার) ইত্তেবায়ে সুন্নাত পরিচ্ছেদ দ্বারা শুরু হয়েছে। (পাঁচ) হাদীস তাকরার বা পুনরাবৃত্তি পরিহার করা হয়েছে। (ছয়) হাদীস বর্ণনা শেষে রাবী সম্পৃক্ত শহরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ৫৭২

সুনানে ইবনে মাজাহ সম্পর্কে আলিমদের বক্তব্যঃ (এক) ইবনে হাজার আসকালানী বলেন, ‘এতে অনেকগুলো অধ্যায় ও দুষ্প্রাপ্য হাদীস রয়েছে।’ ৫৭৩ (দুই) হাফেয ইবনে কাসীর বলেন, ‘এটি উপকারী গ্রন্থ।’ ৫৭৪ (তিন) শাহ আব্দুল আযীয বলেন, ‘সংক্ষিপ্ততা ও পুনরাবৃত্তিহীনতা এই কিতাবের বিশেষত্ব।’ ৫৭৫ (৪) আল্লামা আবুল হাসান সিন্ধী বলেন, ‘তিনি অনেকগুলো অধ্যায়ে এমন সব হাদীস বর্ণনা করেছেন, যা অপর প্রসিদ্ধ পাঁচটি সহীহ গ্রন্থে পাওয়া যায় না।’ ৫৭৬ ৫৭৭

সুনানে ইবনে মাজাহ গ্রন্থে যঈফ হাদীসঃ ইবনে মাজাহ গ্রন্থে অনেকগুলো যঈফ হাদীস রয়েছে বলে মুহাদ্দিসগণ উল্লেখ করেছেন। ৫৭৮ ৫৭৯ ৫৮০ ৫৮১ ৫৮২

ব্যাখ্যাগ্রন্থের তালিকাঃ (১) শরহে সুনানে ইবনে মাজাহ: হাফেয মুগলতায়ী রহ.। (২) আল্লামা ইবনে রজব রহ. এর শরহ। (৩) মা তামাস্সা ইলাইহিল হাজাহ: উমার ইবনে মুলাক্কিন রহ.। (৪) আদ দিবাযা: কামালুদ্দীন মুহাম্মদ রহ.। (৫) বাসিত ইবনে মুহাম্মদ এর শরহ। (৬) মিসবাহুস যুজাজাহ: জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহ.। (৭) ইনজাহুল হাজাহ: আব্দুল গণী দেহলবী রহ.। (৮) হাশিয়া ইবনে মাজাহ: মাওলানা ফখরুল হাসান গাঙ্গুহী রহ.।

মৃত্যুঃ ইবনে মাজাহ রহ. ২৭৩ হিজরী ২২ রামাযান মোতাবেক ৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে সোমবার ইন্তিকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর। ৫৮৩ ৫৮৪

টিকাঃ
৫৫৩. তাযকিরাতুল হুফ্ফায (২/১৫৫)
৫৫৪. বুসতানুল মুহাদ্দিসীন (৩২২ পৃষ্ঠা)
৫৫৫. মুকাদ্দমাতু তুহফাতিল আহওয়াযি (১/১১০)
৫৫৬. আল হাদীস ওয়াল মুহাদ্দিসূন (১/৩৬১)
৫৫৭. তাহযিবুল কামাল (২৭/৪০)
৫৫৮. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৩/২৭৯)
৫৫৯. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৩/২৭৭)
৫৬০. তাহযিবুল কামাল (২৭/৪০)
৫৬১. তাহযিবুল কামাল (২৭/৪১)
৫৬২. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১১/৫২)
৫৬৩. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৩/২৭৮)
৫৬৪. তাহযিবুল কামাল (২৭/৪০)
৫৬৫. তাহযিবুল কামাল (২৭/৪১)
৫৬৬. ওয়াফইয়াতুল আ'ইয়ান (৪/২৭৯)
৫৬৭. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৩/২৭৭)
৫৬৮. তাকরিবুত তাহযিব (১/৫১৪)
৫৬৯. আল কামেল ফিত তারীখ (৬/৪৪৩)
৫৭০. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১১/৫২)
৫৭১. মির'আতুল মাফাতিহ (১/১৮)
৫৭২. সুনানে ইবনে মাজাহ (২/৮৯৭)
৫৭৩. তাহযিবুত তাহযিব (৯/৫৩১)
৫৭৪. নায়লুল আওতার (১/২৪)
৫৭৫. বুস্তানুল মুহাদ্দিসীন (২৪৬ পৃষ্ঠা)
৫৭৬. হাশিয়াতুস সিন্ধী আলা সুনানি ইবনে মাজাহ (১/১৩৮)
৫৭৭. বুস্তানুল মুহাদ্দিসীন (৩৯৭ পৃষ্ঠা)
৫৭৮. তাহযিবুল কামাল (১/১৭৩)
৫৭৯. তাহযিবুত তাহযিব (৯/৫৩০)
৫৮০. তাহযিবুল কামাল (৯/৫৩০)
৫৮১. তাযকিরাতুল হুফ্ফায (২/১৫৫)
৫৮২. মির'আতুল মাফাতীহ (১/১৮)
৫৮৩. তাহযিবুত তাহযিব (৯/৫৩১)
৫৮৪. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৩/২৭৯)

ফন্ট সাইজ
15px
17px