📄 ইমাম মুসলিম
ইমাম মুসলিম রহ. (২০৬ হিঃ থেকে ২৬১হিঃ)
নামঃ মুসলিম, উপনাম আবুল হুসাইন, উপাধি আসাকির উদ্দীন। পিতার নামঃ আল হাজ্জাজ। তাঁর বংশ তালিকা হল, মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ ইবনে মুসলিম ইবনে ওয়ারদ ইবনে কুশাষ আল কুশাইরী আন নিশাপুরী। ৪০০
জন্মঃ ইমাম মুসলিম রহ. ২০২ হিজরী মুতাবেক ৮১৭ খ্রীষ্টাব্দে খুরাসানের প্রসিদ্ধ শহর নিশাপুর শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ইবনে কাসীর রহ. বলেন, ‘ইমাম শাফিয়ী রহ. এর ইন্তিকালের বছর ইমাম মুসলিম রহ. জন্মগ্রহণ করেন। আর তা হল, ২০৪ হিজরী।’ ৪০১ এ সম্পর্কে হাফিয যাহাবী রহ. বলেন, তিনি ২০৪ হিজরী সনে জন্মগ্রহণ করেন। ৪০২ অধিকাংশ রিজাল শাস্ত্রবিদ ইমাম মুসলিম রহ. এর মৃতকাল ২৬১ হিজরী এবং বয়স ৫৫ বছর বয়স পেয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেছেন। এই হিসেবে তাঁর জন্মকাল ২০৬ হিজরী হওয়াই সঠিক ও অধিক যুক্তিযুক্ত। ইবনুল আসীর এর মতে, তিনি ২০৬ হিজরী সনে জন্ম গ্রহণ করেন। ৪০৩ ইবনে খাল্লিকান ইমাম মুসলিম রহ. এর জন্ম ২০৬ হিজরী সাল উল্লেখ করে বলেন, তিনি ৫৫ বছর হায়াত পেয়ে ছিলেন। সুতরাং তাঁর জন্ম ২০৬ হিজরীতে হয়। ৪০৪ এ দিক থেকে বিবেচনা করলে ২০৬ হিজরী সাল মতটিই অধিক বিশুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য।
ইলম অর্জনঃ ইমাম মুসলিম রহ. এর বাল্যকাল সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায় না। তবে বাল্যকাল থেকেই তিনি অত্যন্ত মেধাবী ও বিদ্যানুরাগী ছিলেন। তিনি ছোট বেলাতেই পবিত্র কুরআন হিফয করেছেন। ইমাম মুসলিম তাঁর পিতা হাজ্জাজ এবং নিশাপুরের অন্যান্য আলিমগণের নিকট থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করেছেন। সে সময়ে নিশাপুর ছিল জ্ঞান চর্চার প্রাণকেন্দ্র। তাঁর ঘরের ও বাইরের পরিবেশ ছিল জ্ঞান অর্জন ও জ্ঞান বিতরণের অনন্য পরিবেশ। তাঁর পিতা ছিলেন একজন হাদীস বিশারদ। ইবনে আসাকির ইমাম মুসলিম রহ. শিষ্য মুহাম্মাদ ইবনে আবদিল-ওয়াহহাব আল ফাররা থেকে বর্ণনা করেন, ‘ইমাম মুসলিমের পিতা হাজ্জাজ ইবনে মুসলিম আমার পিতার অন্যতম শায়েখ ছিলেন।’ ৪০৫
ইমাম মুসলিম রহ. শৈশবে পিতা মাতার স্নেহ-মমতায় প্রতিপালিত হন। শৈশববেই তিনি অসাধারণ মেধাবী, চরিত্রবান ও বিনম্র স্বভাবের বালক হিসাবে সহপাঠী ও সাথীদের মাঝে সুপরিচিত ছিলেন। তিনি কিশোর বয়সেই হাদীস শিক্ষা শুরু করেন। তিনি মাতৃভূমি নিশাপুরেই প্রথম হাদীস শ্রবণ ও সংগ্রহের সূচনা করেন। সাথে সাথে তাফসীর, ইতিহাস ও অন্যান্য ইসলামী বিষয়ও অধ্যয়ন করতে থাকেন। তিনি সর্বপ্রথম ২১৮ হিজরী সনে হাদীসের দারসে উপস্থিত হয়ে হাদীস শ্রবণ করতে আরম্ভ করেন। সে প্রতিষ্ঠানের প্রধান ছিলেন তৎকালীন প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস ইমাম যুহলী। উস্তাদদের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণের পরে সাথে সাথেই তিনি শ্রুত সমস্ত হাদীস লিখে রাখতেন। লেখা শেষে তিনি সহপাঠীদের বৈঠকে হাদীস সমূহ পুনরালোচনা করতেন। ফলে অতি অল্প সময়ে হাদীস শাস্ত্রে বিশেষ জ্ঞান ও পাণ্ডিত্য লাভে সক্ষম হন।
সফরসমূহঃ বাল্যকাল থেকেই ইমাম মুসলিম রহ. মধ্যে তীক্ষ্ম স্মরণশক্তি, বুদ্ধিমত্তা, জ্ঞান অর্জনের স্পৃহা এবং অনুপম চরিত্র মাধুর্য দেখতে পাওয়া যায়। ইসহাক ইবনে মানসূর ইবনে বিহারাম আল কাওসাজ তাঁর সম্পর্কে বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা যতদিন তোমাকে মুসলমানদের জন্য জীবিত রাখবেন, ততদিন আমাদের থেকে কল্যাণ রহিত হবে না।’ ৪০৬ ইমাম মুসলিম রহ. ছিলেন হাদীস শাস্ত্রের একজন বিজ্ঞ ও প্রসিদ্ধ ইমাম এবং হাদীসের হাফিয ও সঙ্কলক। হাদীস সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বিশ্বব্যাপী নানাদেশ ভ্রমণ করেছেন। বিশেষ করে ইসলামী বিশ্বের যেসব শহর ইলমুল হাদীস শিক্ষার জন্য প্রসিদ্ধ ছিল, সেসব শহর তাঁর দীর্ঘ সফরের আওতায় ছিল। তিনি ইরাক, হিজায, শাম ও মিসর সফর করেন এবং হাদীস সংগ্রহ করেন। ৪০৭ হাফেয যাহাবী রহ. বলেন, তিনি ইরাক, মক্কা, মদীনা এবং মিসরের মুহাদ্দীসদের কাছে হাদীস শ্রবণ করেছেন। ৪০৮
হাফেয যাহাবী রহ. বলেন, তিনি সর্বপ্রথম বারো বছর বয়সে হাদীস শ্রবণ করেন হাফিয ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আত তামীমী থেকে। ৪০৯ চৌদ্দ বছর বয়সে ২২০ হিজরী সালে ইমাম মুসলিম রহ. প্রথম সফরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। তিনি বায়তুল্লাহ হজ্জ পালনের উদ্দেশ্যে সে সময় খুরাসান থেকে রওয়ানা হন। এ সফরে তিনি হিজাযের মুহাদ্দীসগণের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করেন। তিনি প্রসিদ্ধ হাদীস বিশারদ ইমাম আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামাহ আল কা'নবী রহ. এর সাথে মক্কায় সাক্ষাত করে তাঁর থেকে হাদীস শ্রবণ করেন। তিনি এ যাত্রায় কুফার হাফিয আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইউনুস এবং অপর একদল মুহাদ্দিস থেকেও হাদীস শ্রবণ করেন। অতঃপর তিনি তাঁর জন্মভূমি খুরাসানের নিশাপুরে প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি তথাকার মুহাদ্দীসগণের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ এবং লিপিবদ্ধ করতে থাকেন। এ ছাড়া তিনি আরো যাঁদের থেকে হাদীস শ্রবণ করেন, তাদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা পেশ করা হল, কুতায়বাহ ইবনে সাঈদ, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ, বিশর ইবনুল হিকাম।
ইমাম বুখারী রহ. নিশাপুরে আগমন করলে ইমাম মুসলিম রহ. তাঁকে উস্তাদ হিসেবে গ্রহণ করেন এবং তাঁর হাদীস বিষয়ক বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার হতে জ্ঞানারোহণ করেন। তিনি রায় এ মুহাম্মাদ ইবনে মিহরান আল জামাল আর রাযী, ইবরাহীম ইবনে মুসা আল ফাররা, আবু গাস্সান মুহাম্মাদ ইবনে আমর আয জুনায়জী আর রাযী রহ. এর নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করেন।
তিনি ইরাকের বাগদাদ, কুফা ও বসরার যে সকল মুহাদ্দিস থেকে হাদীস শ্রবণ করেন, তাঁরা হলেন, আহমদ ইবনে হাম্বল, ওবায়দুল্লাহ ইবনে আমর আল কওয়ারীরী, খালফ ইবনে হিশাম আল-বয়যার, আবদুল্লাহ ইবনে আওন আল খাররায, সুরাইজ ইবনে ইউনুস, সাঈদ ইবনে মুহাম্মাদ আল হারামী, আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামাহ আল কা'নবী, আমর ইবনে হাফস ইবনে গায়াস, আবু গাস্সান মালিক ইবনে ইসমাঈল এবং আহমাদ ইবনে আবদিল্লাহ ইবনে ইউনুস রহ.। সিরিয়ার যে সকল মুহাদ্দিস থেকে হাদীস শ্রবণ করেন, তাঁরা হলেন, মুহাম্মাদ ইবনে খালিদ আস সাকসাকী এবং ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম। ইমাম মুসলিম রহ. হিজাযের ইসমাঈল ইবনে আবী উওয়াইস, আবু মুসয়াব আহমাদ ইবনে আবী বকর আয যুহানী, সাঈদ ইবনে মানসুর, মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আবী ওমার এবং আবদুল জাব্বার ইবনুল আলা থেকে হাদীস শ্রবণ করেন।
তিনি মিসর সফর করে তথাকার মুহাদ্দিস এবং ফকীহগণের নিকট থেকেও হাদীস সংগ্রহ করেন। তিনি সেখানে যে সকল মুহাদ্দিস থেকে হাদীস শ্রবণ করেন তাঁরা হলেন মুহাম্মাদ ইবনে রুমহ আত তুজীবী, ঈসা ইবনে হাম্মাদ, আমর ইবনে সাওওয়াদ, হারমালা ইবনে ইয়াহইয়া, হারুন ইবনে সাঈদ আল আয়লী, মুহাম্মাদ ইবনে সালামাহ আল মুরাদী এবং অন্যান্যদের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করেন।
এ সকল সফরে ইমাম মুসলিম রহ. যুগশ্রেষ্ঠ হাদীস বিশারদগণের সাক্ষাত পেয়েছেন। তাঁদের থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন। তাঁদের সংগৃহীত গ্রন্থ থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং হাদীস লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি হাদীস বিষয়ক বিভিন্ন জ্ঞান সম্পর্কে ওয়াকিফহাল হয়েছেন। এতে তিনি দুর্বল হাদীস থেকে সরল হাদীস পার্থক্য করার প্রভূত জ্ঞান অর্জন করেন। আর এরই ফলশ্রুতিতে ইমাম মুসলিম রহ. হাদীসের মজলিস অনুষ্ঠান, হাদীস লিপিবদ্ধকরণ, শিষ্যদের হাদীসের তা'লীম প্রদান এবং গ্রন্থ প্রণয়নের যথাযথ সামর্থ লাভ করেন। হাদীস অন্বেষণ এবং মুহাদ্দিসগণের শিষ্যত্ব অর্জনের স্পৃহা ইমাম মুসলিম রহ. এর আজীবন ছিল। তিনি কোন কোন শহরে একাধিকবার সফর করেছেন। যেমন বাগদাদ সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি সেখানে একাধিকবার ভ্রমণ করেছেন এবং তথায় হাদীস বর্ণনা করেছেন। হাফিয আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ ইবনে আবদির রহমান আল মিয্যি রহ. তাঁর তাহযীবুল কামাল ফী আস্মাইর রিজাল গ্রন্থে ইমাম মুসলিম রহ. এর শায়খগণের ২১২ জনের একটি তালিকা উল্লেখ করেছেন। ৪১০ হাফিয শামসুদ্দীন আয যাহাবী রহ. তাঁর সিয়ারু আ'লামিন নুবালা গ্রন্থে ইমাম মুসলিম রহ.এর আস সহীহ গ্রন্থের শায়খগণের সংখ্যা ২২০ জন বলে উল্লেখ করেছেন। ৪১১
ছাত্রবৃন্দঃ অতি অল্প সময়ের মধ্যেই ইমাম মুসলিম ইলমে হাদীসে পাণ্ডিত্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ইমাম মুসলিম রহ. এর সুনাম চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই অসংখ্য হাদীস অন্বেষণকারী ব্যক্তি তাঁর সান্নিধ্যে আগমন করেন। সমসাময়িক বরেণ্য বিদ্বানগণও তাঁর শিষ্যত্ব লাভ করতে আসেন। ইমাম মুসলিম রহ. এর উল্লেখযোগ্য কিছু ছাত্রের নামের তালিকা এখানে উল্লেখ করা হলঃ মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা আত তিরমিযী (১টি হাদীস শ্রবণ করেছেন), ইবরাহীম ইবনে ইসহাক আস সায়রাফী, ইবরাহীম ইবনে আবী তালিব, ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাম্যাহ, ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সুফিয়ান আল ফকীহ, আবু হামীদ আহমদ ইবনে হামদুন ইবনে রুস্তুম আল আমাশী, আবুল ফযল আহমদ ইবনে সালামাহ আল হাফিয, আবু হামীদ আহমদ ইবনে আলী ইবনিল হাসান ইবনে হাসনুবিয়্যাহ আল মকরিউ, আবু আমর আহমদ ইবনে নাছর আল খাফ্ফাফ আল হাফিয, আবু আমর আহমদ ইবনুল মুবারক আল মুসতামলি, আবু হামিদ আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আল হাসান ইবনে আশ শারকী, আবু সাঈদ হাতিম ইবনে আহমদ ইবনে মাহমুদ আল কিন্দী আল বুখারী, আল হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে যিয়াদ আল কাব্বানী, আবু ইয়াহইয়া যাকারিয়া ইবনে দাউদ আল খাফ্ফাফ, সাঈদ আমর আল বারযাহ আল হাফিয, সালিহ ইবনে মুহাম্মাদ আল বাগদাদী আল হাফিয, আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে আবদিস সালাম আল খাফ্ফাফ আন নিশাপুরী, আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আল হাসান ইবনে আশ শারকী, আবু আলী আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী আল বালখী আল হাফিয, আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া আস সারখামী আল কাযী, আবদুর রহমান ইবনে আবি হাতিম আর রাযী, আলী ইবনে ইসমাঈল আস সাফফার, আলী ইবনুল হাসান ইবনে আবি ঈসা আল হিলালী, আলী ইবনুল হুসাইন ইবনিল জুনাইদ আর রাযী, আল ফযল ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী আল বালখী, আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুযাইমাহ, আবু হাতিম মাক্কী ইবনে আবদান আত তাহমীমী, আবু মুহাম্মাদ নাসর ইবনে আহমাদ ইবনে নাসর আল হাফিয, ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সায়িদ, আবু আওয়ানাহ আল ইসফিরাইনী। ৪১২
ইমাম মুসলিম রহঃ সম্পর্কে মনীষীদের অভিমতঃ (এক) মুহাম্মাদ ইবনে বাশার আল আবদী রহ. বলেন, ‘পৃথিবীতে হাফিযের সংখ্যা হচ্ছে চারজন, রায় এ আবু যুরয়াহ, নিশাপুরে ইমাম মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ, সমরকান্দে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান দারেমী এবং বুখারাতে ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল বুখারী।’ ৪১৩ (দুই) ইমাম আবদুর রহমান ইবনে আবী হাতিম আর রাযী রহ. বলেন, ‘ইমাম মুসলিম রহ. একজন সিকাহ (বিশ্বস্ত) রাবী। তিনি হাদীসের হাফিযগণের মধ্যে অন্যতম। হাদীস সম্পর্কে তাঁর বিশেষ অভিজ্ঞতা ও পরিচিতি রয়েছে।’ ৪১৪ (তিন) হাফিয মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াকুব আশ শায়বানী আন নিশাপুরী ইবনুল আখরাম রহ. এবং হাফিয মুহাম্মাদ ইবনে আবদিল্লাহ আল হাকিম রহ. বলেন, ‘নিশাপুর শহর তিনজন বিশেষ ব্যক্তিত্বের জন্ম দিয়েছে, মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া, মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ এবং ইবরাহীম ইবনে আবী তালিব।’ ৪১৫ (চার) আহমদ ইবনে সালামাহ রহ. বলেন, ‘আমি আবু যুরয়াহ এবং আবু হাতিমকে দেখেছি যে, হাদীসের অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে তাঁরা তাঁদের যুগের শায়খগণের উপর মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।’ ৪১৬ (পাঁচ) হাফিয আবু বকর আহমদ ইবনে আলী খাতীব আল বাগদাদী রহ. বলেন, ‘মুসলিম রহ. ইমামগণের অন্যতম এবং হাদীসের হাফিযগণের অন্তর্ভূক্ত।’ ৪১৭ (ছয়) মহীউদ্দীন ইবনে শারফ আন নববী রহ. বলেন, ‘হাদীসের ইমামগণের মধ্যে মুসলিম রহ. অন্যতম। তিনি এ বিষয়ের মহান ব্যক্তিগণের মধ্যে একজন মহান ব্যক্তি, হাদীসের হাফিয ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণের অন্তর্ভুক্ত এবং হাদীস অন্বেষণে বিভিন্ন অঞ্চল ও শহরের ইমামগণের নিকট ভ্রমণকারীগণের মধ্যে একজন। হাদীস জগতের অগ্রগামী ব্যক্তি। প্রতিটি যুগে ও কালেই তাঁর কিতাবটি নির্ভরশীল গ্রন্থ।’ ৪১৮ (সাত) আল ইয়াফিয়ী রহ. তাঁর সম্পর্কে বলেন, ‘ইমাম মুসলিম রহ. ছিলেন হাদীসের অন্যতম স্তম্ভস্বরূপ, আস সহীহ ও অন্যান্য গ্রন্থের প্রণেতা। তাঁর গুণাবলী সুপ্রসিদ্ধ এবং তাঁর জীবন চরিত কল্যাণকর।’ ৪১৯ (আট) ইবনে খাল্লিকান রহ. বলেন, ‘ইমাম মুসলিম রহ. হাফিয ইমামগণের মধ্যে অন্যতম এবং বিশিষ্ট মুহাদ্দিসগণের অন্তর্ভুক্ত।’ ৪২০ (নয়) ইবনে খাললদুন রহ. তাঁর সম্পর্কে বলেন, ‘মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আবুল হুসায়ন আল কুশায়রী আন নিশাপুরী রহ. ছিলেন একজন হাফিয, হাদীসের অন্যতম স্তম্ভস্বরূপ এবং আস সহীহ গ্রন্থের সঙ্কলক।’ (দশ) ইবনে তাগরী বারদী রহ. বলেন, ‘মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ ইবনে মুসলিম হাদীসের ইমাম, হাফিয এবং হুজ্জাহ্ ছিলেন। তাঁর উপনাম আবুল হুসায়ন। তিনি ছিলেন নিশাপুরের অধিবাসী এবং আস সহীহ গ্রন্থের প্রণেতা।’ ৪২১
ইমাম মুসলিম রহ. এর ফিকহী মসলকঃ ইমাম মুসলিম কোন মাযহাবের অনুসারী ছিলেন, তা নির্দিষ্ট করে বলা অত্যন্ত কঠিন। আনওয়ার শাহ্ কাশ্মীরী বলেন, ইমাম মুসলিম এর মাযহাব অজ্ঞাত। তিনি বলেন, ‘ইমাম মুসলিম এর মাযহাব সম্পর্কে আমার সঠিক জানা নেই।’ নওয়াব সিদ্দীক হাসান খান তাঁকে শাফেয়ী বলে গণ্য করেছেন। ৪২২ হাজী খলীফাহ্ বলেন, ‘আল-জামেউস সহীহ লি ইমাম মুসলিম আশ শাফেয়ী’। মাওলানা আবদুর রশীদ তাঁকে মালেকী মাযহাবের অনুসারী বলেছেন। কিন্তু طبقات مالكية তে তাঁর উল্লেখ নেই। اليافع الحبنى গ্রন্থকার বলেন, উসূলের ক্ষেত্রে তিনি শাফিয়ী ছিলেন। কেননা এ ব্যাপারে ইমাম শাফিয়ী রহ. এর সাথে মতদ্বৈততা অনেক কম হয়েছে। শায়খ আবদুল লতীফ সিন্ধী বলেন, ইমাম তিরমিযী রহ. ও ইমাম মুসলিম রহ. কে বাহ্যত ইমাম শাফিয়ী রহ. এর মুকাল্লিদ বলে মনে হয়। বস্তুতঃ তারা উভয়েই মুজতাহিদ ছিলেন। আল্লামা তাহের জাযায়েরীর অভিমত হচ্ছে, তিনি কোন নির্দিষ্ট ইমামের মুকাল্লিদ ছিলেন না। তবে ইমাম শাফিয়ী ও অন্যান্য হিজাযের অধিবাসী ইমামগণের মাযহাবের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন।
মুসলিম রহ. এর গ্রন্থাবলীঃ ইমাম মুসলিম রহ. হাদীস শাস্ত্রে তাঁর অনন্য অবদানের জন্য জগত জুড়ে খ্যাতি লাভ করেছেন। তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর অধিকাংশই হাদীসশাস্ত্র সম্পর্কিত। (১) আল মুসনাদুস সহীহ। (২) কিতাবুল আসামী ওয়াল কুনা। এ গ্রন্থে ইমাম মুসলিম রহ. এমন সব রাবীর নাম বর্ণনা করেছেন যাঁরা কুনিয়াত বা উপনামে প্রসিদ্ধ রয়েছেন। (৩) আল মুনফারাদাত ওয়াল ওয়াহ্দান। যে সকল রাবী থেকে শুধু একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। (৪) কিতাবুত তাময়ীয। (৫) তাবাকাত। (৬) আল মুসনাদুল কাবীর আলার রিজাল। (৭) আল জামিউ আলাল আবওয়াব। (৮) আল ইলাল। (৯) আল বুদান। (১০) হাদীসে আমর ইবনে শুয়াইব। (১১) মাশাইখু মালিক। (১২) মাশাইখুস সাওরী। (১৩) মান লাইসা লাহু ইল্লা রাবীন ওয়াহেদ। (১৪) আওহামিল মুহাদ্দিসীন। (১৫) আল মুখাযরামীন। (১৬) আল আফরাদ। (১৭) আল আকরান। (১৮) মাশাইখু শু'বাহ। (১৯) আওলাদুস্ সাহাবাহ। (২০) আফরাদুশ্ শামীইন। (২১) আল ইনতিফা বি ওহুবিস সিবা। (২২) সুওয়ালাতুহু আহমাদ ইবনে হাম্বল। ৪২৩
সহীহ মুসলিম রচনাঃ এ গ্রন্থটি সঙ্কলন করে ইমাম মুসলিম রহ. বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দীস হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। এর প্রসিদ্ধ নাম সহীহ মুসলিম। ইমাম মুসলিম রহ. এর সঙ্কলিত গ্রন্থ সমূহের মধ্যে আস সহীহ সর্বাধিক প্রসিদ্ধ। এটি হাদীস শাস্ত্রের অনবদ্য ও অনন্যসাধারণ একটি গ্রন্থ। স্বয়ং ইমাম মুসলিম (রা) বলেন, ‘আমি আমার এ মুসনাদ গ্রন্থে যা উপস্থাপন করেছি তা দলীল প্রমাণের ভিত্তিতে করেছি। আর এ গ্রন্থে যা সন্নিবেশিত করিনি তাও প্রমাণের ভিত্তিতেই করেছি।’ ৪২৪ সর্বপ্রথম ইমাম বুখারী রহ. এবং ইমাম মুসলিম রহ. সহীহ হাদীস সম্বলিত দু'টি গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। স্বয়ং ইমাম মুসলিম রহ. নিজেই তাঁর সহীহ মুসলিম সম্পর্কে বলেন, ‘হাদীসবিদগণ যদি দু'শত বছর ধরেও হাদীস লিপিবদ্ধ করতে থাকেন, তবুও তাঁদের এই 'মুসনাদ' গ্রন্থটির ওপরই নির্ভর করতে হবে।’ ৪২৫
ইমাম মুসলিম রহ. তাঁর অনবদ্য গ্রন্থ সহীহ মুসলিম সঙ্কলনে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। হাদীসের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কেবল নিজের অভিমত ও দৃষ্টিকোণকেই প্রাধান্য দেননি; বরং তৎকালীন জগদ্বিখ্যাত এবং গ্রহণযোগ্য মুহাদ্দিসগণের অভিমত ও পরামর্শ অনুযায়ী হাদীস লিপিবদ্ধ করেছেন। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘শুধু আমার নিজস্ব অভিমতের ভিত্তিতে বিশুদ্ধতা যাচাইয়ে এ কিতাবে হাদীস সন্নিবেশ করিনি; বরং যে সকল হাদীসের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে সমকালীন মুহাদ্দিসগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন ঐ সকল হাদীসও লিপিবদ্ধ করেছি।’ ৪২৬ মাক্কী ইবনে আবদান বলেন, ‘আমি ইমাম মুসলিম রহ. কে বলতে শুনেছি যে, আমি এ কিতাব (সহীহ মুসলিম) আমার শ্রদ্ধেয় উস্তায প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আবু যুর'আ এর নিকট উপস্থাপন করেছি। অতঃপর যে হাদীসের মধ্যে ত্রুটি আছে বলে তিনি ইঙ্গিত করেছেন, আমি নিঃসঙ্কোচে তা পরিত্যাগ করেছি। আর যে সকল হাদীস বিশুদ্ধ ও ত্রুটিমুক্ত বলে অভিমত পোষণ করেছেন, সে সকল হাদীস আমি এ গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেছি।’ ৪২৭
সহীহ মুসলিমের শর্তঃ (এক) মুত্তাসিলুস সনদ। (দুই) বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য হতে হবে। (তিন) হাদীস বর্ণনাকারী তার ঊর্ধ্বতন বর্ণনাকারীর সমকালীন হওয়া। (চার) বর্ণনাকারীর স্মরণশক্তি প্রখর হওয়া। (পাঁচ) বর্ণিত হাদীসের মতন বা মূল বক্তব্য সবধরনের দোষ-ত্রুটি হতে মুক্ত হওয়ার পরই তিনি সে বর্ণনা গ্রহণ করেছেন।
সহীহ মুসলিম সম্পর্কে মনীষীদের বক্তব্যঃ (এক) হাফেয ইবনে মানদাহ রহ. বলেন, ‘আমি আবু আলী নিশাপুরীকে বলতে শুনেছি যে, এ আকাশের নীচে সহীহ মুসলিমের চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ ইলমে হাদীসের কোন কিতাব নেই।’ ৪২৯ (দুই) হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ বলেন, ‘ইমাম মুসলিম রহ. তাঁর সহীহ মুসলিমের কারণে এত দ্রুততার সাথে এমন মহান সৌভাগ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন যে, এত দ্রুততার সাথে ঐ স্তরে পৌঁছা কারোর পক্ষে সম্ভব নয়।’ ৪৩০ (তিন) হাফেয মুসলিম ইবনে কুরতুবী রহ. বলেন, ‘এরূপ গ্রন্থ কেউ রচনা করতে সক্ষম হয়নি।’ ৪৩১ (চার) আবু সাঈদ ইবনে ইয়াকুব রহ. বলেন, ‘আবদুল্লাহ আয যাগুরীকে যেন স্বপ্নে দেখলাম... তিনি সহীহ মুসলিমের খণ্ডটির দিকে ইশারা করে বললেন, এর বদৌলতে আমি জাহান্নাম থেকে নাজাত পেয়েছি।’ ৪৩২
সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থের তালিকাঃ (এক) المنهاج في شرح صحيح মুসলিম بن الحجاج: হাফেয আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে শরফুন নববী আশ শাফেয়ী রহ. (মৃত্যুঃ ৬৭৬ হিঃ) রচনা করেন। (দুই) العلم بفوائد: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আলী মাজরী রহ. (মৃত্যুঃ ৫৩৬ হিঃ) রচনা করেন। (তিন) اكمال المعلم في شرح মুসলিম: আল্লামা কাযী ইয়ায ইবনে মুসা ইয়াহসুবী মালিকী রহ. (মৃত্যুঃ ৫৪৪হিঃ) রচনা করেন। (৪) اكمال المعلم: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে খলীফা দাশতানী উবাই মালিকী রহ. (মৃত্যুঃ ৮২৭ হিঃ) রচনা করেন। (৫) الديباج على صحيح মুসলিম بن الحجاج: জালালুদ্দীন আব্দুর রহমান ইবনে আবী বকর সুয়ূতী শাফেয়ী রহ. (মৃত্যুঃ ৯১১ হিঃ) রচনা করেন। (৬) السراج الوهاজ: নবাব মুহাম্মদ সিদ্দীক হাসান খান কনৌজী রহ. (মৃত্যুঃ ১৩০৭ হিঃ) রচনা করেন। (৭) فتح الملهم: আল্লামা শাব্বীর আহমদ উসমানী দেওবন্দী হানাফী রহ. রচনা করেন। (৮) المعلم: মাওলানা ওহীদুজ্জামান ইবনে মাসীহুয যামান লাখনৌবী রহ. (মৃত্যুঃ ১৩৩৮হিঃ) রচনা করেন। (৯) شرح صحیح মুসলিম: মোল্লা আলী কারী মাক্কী হানাফী রহ. (মৃত্যুঃ ১০১৬ হিঃ) রচনা করেন। (১০) حاشية السندى: আবুল হাসান নুরুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল হাদী তাতাবী সিন্ধি হানাফী রহ. (মৃত্যুঃ ১১৩৮ হিঃ) রচনা করেন।
মৃত্যুঃ ইমাম মুসলিম রহ. ২৬১ হিজরী সালের রজব মাসের ২৪ তারিখ মোতাবেক ৮৭৫ খ্রিষ্টাব্দের মে মাসের ৬ তারিখ রবিবার সন্ধ্যায় নিশাপুরে ইন্তিকাল করেন। হাফিয আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াকুব রহ. বলেন, ২৬১ হিজরী সালের ২৫ শে রজব তাঁকে দাফন করা হয়। ৪৩৩ ইমাম মুসলিম রহ. এর মৃত্যু সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, একটি হাদীসের মজলিসে তাঁকে একটি হাদীস সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি তাৎক্ষণিক তা চিনতে পারেননি। অতঃপর বাড়িতে এসে হাদীস অন্বেষণে লিপ্ত হলেন এবং খেজুর খেতে থাকলেন। হাদীস অন্বেষণে বিভোর থাকায় তিনি বুঝতে পারেননি কতগুলো খেজুর খেয়ে ফেলেছেন। ফলে বদহজম জনিত পেটের অসুখে তিনি ইন্তিকাল করলেন। ৪৩৪
টিকাঃ
৪০০. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১২/৫৫৮)
৪০১. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১৪/৫৫১)
৪০২. তাযকিরাতুল হুফ্ফায (২/১২৫)
৪০৩. জামেউল উসূল (১/১৮৭)
৪০৪. ওয়াফাইয়াতুল আ'ইয়ান (৫/১৯৫)
৪০৫. তারিখে দামেশক (৫৮/৮৯)
৪০৬. তাযকিরাতুল হুফ্ফায (২/১২৬)
৪০৭. তারীখে বাগদাদ (১৫/১২১)
৪০৮. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১২/৫৫৮)
৪০৯. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১২/৫৫৮)
৪১০. তাহযিবুল কামাল (২৭/৪৯৯-৫০৪)
৪১১. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১২/৫৬১)
৪১২. তাহযিবুল কামাল (২৭/৫০৪)
৪১৩. তাহযিবুল কামাল (২৭/৫০৪)
৪১৪. তারীখে দামেশক (৫৮/৮৭)
৪১৫. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১২/৫৬৫)
৪১৬. তারীখে বাগদাদ (১৫/১২১)
৪১৭. তারীখে বাগদাদ (১৫/১২১)
৪১৮. শরহুন নববী আলা মুসলিম (১/১০)
৪১৯. মির'আতুল যিনান (২/১২৯)
৪২০. ওয়াফইয়াতুল আ'ইয়ান (৫/১৯৫)
৪২১. আন নুযুমুজ জাহেরা (৩/৩৩)
৪২২. আল হিত্তাহ ফি যিকরীস সিহাহীস সিত্তাহ (২২৮ পৃষ্ঠা)
৪২৩. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১২/৫৭৯)
৪২৪. তাযকিরাতুল হুফ্ফায (২/১২৬)
৪২৫. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১২/৫৭৯)
৪২৬. শরহুন নববী আলা মুসলিম (৪/১২২)
৪২৭. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১২/৫৬৮)
৪২৮. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১২/৫৬৭)
৪২৯. তাযকিরাতুল হুফ্ফায (২/১২৬)
৪৩০. তাহযিবুত তাহযিব (১০/১২৭)
৪৩১. হাদইয়ুস সারী (১৩ পৃষ্ঠা)
৪৩২. তাহযিবুল কামাল (২৭/৫০৬)
৪৩৩. তাহযিবুল কামাল (২৭/৫০৭)
৪৩৪. তারীখে বাগদাদ (১৫/১২১)
📄 ইমাম নাসায়ী
ইমাম নাসায়ী রহ. (২১৫হিঃ থেকে ৩০৩হিঃ)
নামঃ ইমাম নাসায়ী রহ. এর নাম আহমাদ, পিতার নাম শোয়াইব। উপাধি আল ইমামুল হাফেয, আল হাফেযুল হুজ্জাহ। উপনাম হল, আবু আব্দুর রহমান। তাঁর নসবনামা হল, আবু আব্দুর রহমান আহমদ ইবনে শোয়াইব ইবনে আলী ইবনে সিনান ইবনে বাহার আল খোরাসানী আন নাসায়ী। ৪৩৫ ৪৩৬
জন্মঃ ইমাম নাসায়ী রহ. ২১৫ হিজরী মুতাবেক ৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে মতান্তরে ২১৪ হিজরীতে খোরাসানের 'নাসা' নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন।
ইলম অর্জনঃ ইমাম নাসায়ী রহ. পনের বছর বয়স পর্যন্ত স্বদেশেই পবিত্র কোরআন হিফয ও প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। ২৩০ হিজরীতে তিনি হাদীসের জ্ঞান অর্জনের জন্য কুতায়বা ইবনে সাঈদের নিকট গমন করেন এবং তাঁর সান্নিধ্যে এক বছর দু'মাস অবস্থান করেন। ৪৩৭ ৪৩৮ তিনি খুরাসান, হিজায, ইরাক, জাযীরা, শাম, মিশর ভ্রমণ করে অনেক বড় বড় শায়েখদের সান্নিধ্য লাভ করেন। ৪৩৯ ৪৪০ ৪৪১ ৪৪২
উস্তাদগণঃ ইমাম নাসায়ী রহ. অসংখ্য মনীষী থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য শিক্ষকের মধ্যে রয়েছেন কুতায়বা ইবনু সাঈদ, ইসহাক ইবনু রাহওয়াই, মুহাম্মাদ ইবনে নযর, আলী ইবনে হাজার, ইউনুস ইবনে আব্দুল আলা, মুহাম্মাদ বিন বাশার, ইমাম আবু দাউদ সিজিস্তানী প্রমুখ। ৪৪৩ ৪৪৪ ৪৪৫
ছাত্রবৃন্দঃ তাঁর ছাত্রদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন, ইবনুস সুন্নী, আহমদ ইবনুল হাসান আর রাযী, আবু জাফর আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ আন নাহবী, আবু জাফর আহমাদ আত তাহাবী প্রমুখ। ৪৪৬ ৪৪৭
চরিত্র ও তাক্বওয়াঃ ইমাম নাসায়ী রহ. নির্মল চরিত্র মাধুর্য্যের অধিকারী মুত্তাকী আল্লাহভীরু মুহাদ্দিস ছিলেন। তিনি একদিন পরপর সারা বছর নফল সিয়াম পালন করতেন। ৪৪৮ ৪৪৯
ইমাম নাসায়ী রহ. সম্পর্কে মনীষীদের মতামতঃ (এক) হাফেয আলী ইবনে উমর বলেন, ‘ইমাম নাসায়ী রহ. সমকালীন মিসরীয় মনীষীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ফকীহ ছিলেন।’ ৪৫০ (দুই) হাফেয যাহাবী রহ. বলেন, ‘হিজরী তৃতীয় শতকের প্রারম্ভে ইমাম নাসায়ী রহ. এর চেয়ে হাদীসের অধিক সংরক্ষক অন্য কেউ ছিল না।’ ৪৫১ ৪৫২ (তিন) ইমাম তাহাবী বলেন, ‘ইমাম আবু আব্দুর রহমান আন নাসায়ী রহ. হাদীস শাস্ত্রের ইমামগণের মধ্যে অন্যতম ইমাম ছিলেন।’ ৪৫৩ (৪) হাফেয আবু আলী আন নীশাপুরী বলেন, ‘আমি স্বদেশে ও বিদেশে চারজন প্রখ্যাত মুহাদ্দিসকে দেখেছি... মিসরে ইমাম নাসায়ী রহ.।’ ৪৫৪ ৪৫৫ (৫) ইমাম দারা কুতনী রহ. বলেন, ‘ইমাম নাসায়ী রহ. তাঁর সময়ের মুহাদ্দিসগণের সকলের উপরে অগ্রগামী ছিলেন।’ ৪৫৬ (৬) মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদ আল বারুদী বলেন, ‘ইলমে হাদীসের তিনি একজন ইমাম বা ইমাম হওয়ার যোগ্য।’ ৪৫৭ (৭) হাফেয আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মানদাহ বলেন, ‘যাঁরা সহীহ হাদীস সংকলন করেছেন... তাঁরা হলেন চার জন... ইমাম আবু আব্দুর রহমান আন নাসায়ী রহ. অন্যতম।’ ৪৫৮ (৮) আবু সাঈদ ইবনে ইউনুস বলেন, ‘ইমাম নাসায়ী রহ. ইলমে হাদীসের ইমাম, নির্ভরযোগ্য, বিশ্বস্ত ও হাফেয ছিলেন।’ ৪৫৯ (৯) আল্লামা তাজ উদ্দীন সুবকী বলেন, ‘ইমাম মুসলিম ও ইমাম নাসায়ীর মধ্যে ইমাম নাসায়ী রহ. অধিক সংরক্ষক ছিলেন।’ ৪৬০ (১০) আবু আবদির রহমান মুহাম্মাদ আস সুলামী বলেন, ‘ইমাম নাসায়ী রহ. এর হাদীস অত্যন্ত সুদৃঢ় ও মুত্তাছিল।’ ৪৬১ (১১) ইমাম হাকেম রহ. বলেন, ‘সুনানে নাসায়ীর মনোহরী কথামালা দেখে মানুষ বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে যায়।’ ৪৬২
ফিকহী মসলকঃ ইমাম নাসাঈ রহ. কোন নির্দিষ্ট মাযহাবের অনুসারী ছিলেন এ ব্যাপারে ওলামায়ে কেরামের মাঝে মতভেদ রয়েছে। অনেকে তাঁকে শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী বলেছেন। ৪৬৩ ৪৬৪ আবার কিছু হানাফী আলেমদের মতে তিনি হাম্বলী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। ৪৬৫
গ্রন্থাবলীঃ ১. আস সুনানুল কুবরা। ২. আস সুনানুস সুগরা। ৩. মুসনাদে আলী রা.। ৪. কিতাবুল আসমা ওয়াল কুনা। ৫. কিতাবুল মুদাল্লিসীন। ৬. কিতাবুয যু'আফা ওয়াল মাতরূকীন। ৭. ফাযায়িলুছ ছাহাবা। ৮. কিতাবুত তাফসীর। ৯. কিতাবুল জুম'আ। ১০. কিতাবুল খাসায়িস। ১১. কিতাবু আমালিল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাতি।
সুনানে নাসায়ী সংকলনঃ ইমাম নাসাঈ রহ. প্রথমে ‘আস সুনানুল কুবরা’ নামে একটি বৃহৎ হাদীসগ্রন্থ সংকলন করেন। অতঃপর একে সংক্ষেপ করে ‘আস-সুনানুস সুগরা’ বা ‘আল মুজতাবা’ সংকলন করেন। ৪৬৬ ৪৬৭ ৪৬৮ ৪৬৯
সুনানে নাসায়ীর সত্যায়ন ও মূল্যায়নঃ ইমাম নাসায়ী রহ. বলেছেন, ‘মুজতাবা তথা সুনানে নাসায়ীতে নির্বাচিত সব হাদীসই সহীহ।’ ৪৭০ ৪৭১ ৪৭২ ৪৭৩ ৪৭৪ ৪৭৫
হাদীছ গ্রহণে ইমাম নাসায়ী রহঃ এর শর্তাবলীঃ ইমাম নাসায়ী রহ. হাদীস গ্রহণের ব্যাপারে বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। ৪৭৬ ৪৭৭ ৪৭৮ ৪৭৯
সুনানে নাসায়ীর বৈশিষ্ট্যঃ (এক) প্রায় তাকরার বা দ্বিরুক্তিমুক্ত। (দুই) হাদীসের দুর্বোধ্য শব্দের ব্যাখ্যা। ৪ ৮০ ৪৮১ (তিন) দীর্ঘ সনদ বিশিষ্ট হাদীসের উল্লেখ। ৪৮২ (চার) ফিকহী বিন্যাস। (পাঁচ) জীবনের সকল দিক সম্পর্কিত হাদীসের সন্নিবেশ। (ছয়) শিরোনাম নির্ধারণ করে হাদীসের ইল্লত (ত্রুটি) বর্ণনা। ৪৮৩ (সাত) অনুচ্ছেদ বিন্যাসে ইমাম বুখারীর ফিকহী ধারা অনুসরণ। (আট) স্বল্পসংখ্যক তা'লীক হাদীস। (নয়) হাদীসের মান ও স্তর বর্ণনা। ৪৮৪ ৪৮৫ ৪৮৬ (দশ) সনদের অবস্থা বর্ণনা। ৪৮৭ ৪৮৮ (এগারো) একাধিক সনদ উল্লেখ। (বার) আহকাম সম্বলিত হাদীস। ৪৮৯ (তের) রাবীর বংশপরিক্রমা উল্লেখ। (চৌদ্দ) কোরআনের আয়াতের উদ্ধৃতি। ৪৯০ (পনের) নাসিখ-মানসূখ দৃষ্টিকোণে অনুচ্ছেদ প্রণয়ন। ৪৯১
ব্যাখ্যাগ্রন্থের তালিকাঃ (এক) জহরুর রবা আলাল মুজতাবা: আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ুতী রহ.। (দুই) উরফু জহরির রবা আলাল মুজতাবা: আলী ইবনে সুলাইমান আত দামনাতী। (তিন) আল ইম'আন ফী শরহি সুনানি আন নাসায়ী: আবুল হাসান আলী ইবনে আবদুল্লাহ আনসারী। (৪) জাওয়াইদুন নাসায়ী: আল্লামা ইবনে মুলাক্কিন রহ.।
শীয়া অপবাদ আরোপঃ ইমাম নাসায়ী রহ. হযরত আলী রা. ও তাঁর পরিবারের প্রশংসায় 'কিতাবুল খাসায়িস' রচনা করেছিলেন। দামেশকে বনী উমাইয়ার পক্ষের কিছু লোক তাঁকে আমীর মুয়াবিয়া রা. সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বিরূপ উত্তর দেননি, তবুও তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। ৪৯২ মূলতঃ ইমাম নাসায়ী রহ. কখনোই শীয়া ছিলেন না। ৪৯৩ ৪৯৪ ৪৯৫ ৪৯৬
মৃত্যু ও দাফনঃ শীয়া অপবাদের অভিযোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মক্কায় বা ফিলিস্তীনে মৃত্যুবরণ করেন। ৪৯৭ হাফেয যাহাবী লিখেছেন, তিনি ৩০৩ হিজরীর সফর মাসের ১৩ তারিখ ফিলিস্তীনে মৃত্যুবরণ করেন। ৪৯৮ ৪৯৯ মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। ৫০০
টিকাঃ
৪৩৫. বুসতানুল মুহাদ্দিসীন (২৪৪)
৪৩৬. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৪/১২৫)
৪৩৭. হায়াতুল মুসান্নিফীন (৬২ পৃষ্ঠা)
৪৩৮. তারিখে বাগদাদ (২/৪৯৮)
৪৩৯. বুস্তানুল মুহাদ্দীসীন পৃষ্ঠা (২৪৪)
৪৪০. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১১/১৪০)
৪৪১. তাহযিবুল কামাল (১/৩২৯)
৪৪২. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৪/১২৭)
৪৪৩. আ'লামুল মুহাদ্দিসীন (২৫২)
৪৪৪. আ'লামুল মুহাদ্দিসীন (২৫২)
৪৪৫. আন নাসায়ী ফি সুনানিল কুবরা (২৩ পৃষ্ঠা)
৪৪৬. রুবাইয়্যাতুল ইমাম আন নাসায়ী (২৫২)
৪৪৭. তাহযিবুল কামাল (১৪/৩২৯)
৪৪৮. তাহযিবুল কামাল (১/৩৩৫)
৪৪৯. মিফতাহুল উলুম ওয়াল ফুনুন (পৃষ্ঠা ৬৬)
৪৫০. তাযকিরাতুল হুফ্ফায (১/৩৩৮)
৪৫১. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১/৮৩)
৪৫২. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৪/১২৭)
৪৫৩. তাহযিবুল কামাল (১/৩৩৩)
৪৫৪. তাহযিবুত তাহযিব (১/৩৭)
৪৫৫. তাহযিবুত তাহযিব (১/৩৭)
৪৫৬. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৪/১৩১)
৪৫৭. তাহযিবুত তাহযিব (১/৩৭)
৪৫৮. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৪/১৩৫)
৪৫৯. তাহযিবুল কামাল (১/৩৪০)
৪৬০. তাহযিবুল কামাল (টিকা-১/৩৪০)
৪৬১. তাহযিবুল কামাল (১/৩৩৪-৩৩৫)
৪৬২. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৪/১৩০)
৪৬৩. বুস্তানুল মুহাদ্দিসীন (২৪৪)
৪৬৪. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৪/১৩০)
৪৬৫. মুকাদ্দামাতু তুহফাতুল আহওয়াযী (১/২৮০)
৪৬৬. আল হাদীস ওয়াল মুহাদ্দীসুন (৪০৯ পৃষ্ঠা)
৪৬৭. তাহযিবুল কামাল (১/১৭২)
৪৬৮. মুকাদ্দামা তুহফাতুল আহওয়ায়ী (১/১০৫)
৪৬৯. আ'লামুল মুহাদ্দিসীন (২৫৯)
৪৭০. আল হাদীস ওয়াল মুহাদ্দীসুন (৪০৯ পৃষ্ঠা)
৪৭১. আ'লামুল মুহাদ্দিসীন (৪০৯)
৪৭২. আল হাদীস ওয়াল মুহাদ্দিসুন (৪১০)
৪৭৩. আল হাদীস ওয়াল মুহাদ্দীসুন (৪১০)
৪৭৪. মুকাদ্দামতু যাহরীর রুবা আলাল মুজতাবা (৪ পৃষ্ঠা)
৪৭৫. আল হাদীস ওয়াল মুহাদ্দীসুন (৪১০ পৃষ্ঠা)
৪৭৬. মুকাদ্দামতু যাহরীর রুবা আলাল মুজতাবা (৩ পৃষ্ঠা)
৪৭৭. আল হাদীস ওয়াল মুহাদ্দীসুন (৪১০পৃষ্ঠা)
৪৭৮. কাশফুয যুনুন (২/১০০৬)
৪৭৯. উম্মাহাতুল কুতুবিল হাদীস (১২৪ পৃষ্ঠা)
৪৮০. সুনানে নাসায়ী (২৪)
৪৮১. সুনানে নাসায়ী (৫৩)
৪৮২. সুনানে নাসায়ী (৯৯৬)
৪৮৩. মুকাদ্দামতু যাহরীর রুবা আলাল মুজতাবা (পৃষ্ঠা ৪)
৪৮৪. সুনানে নাসায়ী (১৭৮২)
৪৮৫. সুনানে নাসায়ী (২১৫১)
৪৮৬. সুনানে নাসায়ী (৩২১৫)
৪৮৭. সুনানে নাসায়ী (৪৩৮)
৪৮৮. সুনানে নাসায়ী (১৩৮০)
৪৮৯. আ'লামুল মুহাদ্দিসীন (২৬৩)
৪৯০. সূরা মায়েদাহ (৫/৬)
৪৯১. আ'লামুল মুহাদ্দিসীন (২৭৩)
৪৯২. বুসতানুল মুহাদ্দিসীন (২৪৫), তাহযিবুত তাহযিব (১/২৮)
৪৯৩. বুসতানুল মুহাদ্দিসীন (২৪৫)
৪৯৪. বুসতানুল মুহাদ্দিসীন (২৪৫)
৪৯৫. রুবাইয়্যাতুল ইমাম আন নাসায়ী (১৮ পৃষ্ঠা)
৪৯৬. রুবাইয়্যাতুল ইমাম আন নাসায়ী (১৮ পৃষ্ঠা)
৪৯৭. বুসতানুল মুহাদ্দিসীন (২৪৫)
৪৯৮. তাযকিরাতুল হুফ্ফায (২/১৯৫)
৪৯৯. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১১/১৪১)
৫০০. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১১/১৪১)
📄 ইমাম আবু দাউদ
ইমাম আবু দাউদ রহ. (২০২হিঃ থেকে ২৭৫হিঃ)
নামঃ আবু দাউদ ইবনুল আশআস আল আযদী আস সিজিস্তানী। তাঁর বংশধারা হল, সুলায়মান ইবনুল আশআস ইবনে ইসহাক ইবনে বাশীর ইবনে সাদ্দাদ ইবনে আমর ইবনে ইমরান। ডাকনাম হল, আবু দাউদ।
জন্মঃ ইমাম আবু দাউদ রহ. ২০২ হিজরী মোতাবেক ৮১৭ খ্রিস্টাব্দে সিজিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন। ৫০১
ইলম অর্জনঃ ইমাম আবু দাউদ রহ. তাঁর নিজ গ্রামেই প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। তিনি হাদীসের জ্ঞান অর্জনের জন্য বসরা, খুরাসান, কূফা, মিসর, সিরিয়া, হিজাজ ইত্যাদি শহরে ভ্রমণ করেন। ৫০২
উস্তাদগণঃ ইমাম আবু দাউদ রহ. প্রায় তিনশত উস্তাদের নিকট হাদীস শ্রবণ করেছেন। উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন, আল কানাবী, আব্দুল্লাহ ইবনে রাযা, সুলাইমান ইবনে হারব, উসমান ইবনে আবী শায়বা, ইয়াহইয়া ইবনে মুঈন প্রমুখ। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. ও তাঁর উস্তাদ ছিলেন।
ছাত্রবৃন্দঃ তাঁর উল্লেখযোগ্য ছাত্ররা হলেন ইমাম তিরমিযি রহ, ইমাম নাসায়ী রহ, আবু আলী লুলুয়ী, আবু সাঈদ ইবনুল আরাবী প্রমুখ। ৫০৩
খোদাভীতিঃ ইমাম আবু দাউদ রহ. একজন আবিদ ও যহিদ ছিলেন। তিনি হাদীসের পাণ্ডুলিপি রাখার সুবিধার জন্য জামার একটি হাত প্রশস্ত তৈরি করেছিলেন। ৫০৪
ফিকহী সৃজনীশক্তিঃ ইমাম আবু দাউদ রহ. এর মধ্যে অগাধ ফিকহী প্রতিভা ছিল। ইমাম গাযালী রহ. বলেছেন, ‘মুজতাহিদদের জন্য শুধু এই একটি কিতাবই (সুনানে আবু দাউদ) যথেষ্ট।’ ৫০৫ ৫০৬
বিরে বুযায়া স্বচক্ষে দেখার বর্ণনাঃ ইমাম আবু দাউদ রহ. সুনানে আবু দাউদে বুযায়া কূপটি স্বচক্ষে দেখার এবং তার প্রস্থ পরিমাপের বর্ণনা দিয়েছেন।
ইমাম আবু দাউদ রহ. সম্পর্কে মনীষীদের মতামতঃ হাফেয মুসা ইবনে হারুন রহ. বলেন, ‘আবু দাউদ রহ. দুনিয়াতে হাদীসের জন্য এবং আখিরাতে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি হয়েছেন।’ ৫০৭ মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আস সাগানী বলেন, ‘হযরত দাউদ আলাইহিস সালামের জন্য লোহাকে যেমন নরম করে দেয়া হয়েছিল, তেমনি আবু দাউদ এর জন্য হাদীসকে সহজ করে দেয়া হয়েছে।’ ৫০৮ ইমাম হাকীম রহ. তাঁকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ইমাম বলেছেন। ৫০৯ ৫১০ হাফেয যাহাবী বলেন, ইমাম আবু দাউদ রহ. তাকওয়া ও আখলাকের দিক থেকে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. এর সাদৃশ্য ছিলেন। ৫১১
সাহল ইবনে আবদুল্লাহ তুসতারী রহ. এর আকস্মিক ঘটনাঃ প্রসিদ্ধ সুফী সাহল ইবনে আবদুল্লাহ তুসতারী ইমাম আবু দাউদ রহ. এর নিকট আবেদন করেছিলেন যে তিনি যেন তাঁর জিহ্বাটি বের করেন, কারণ তা দিয়ে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস বর্ণনা করেন। অতঃপর তিনি সেই জিহ্বায় চুমু দিলেন। ৫১২
ফিকহী মসলকঃ ইমাম আবু দাউদ রহ. এর ফিকহী মসলক নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। অনেকে তাঁকে শাফেয়ী বলেছেন, ৫১৩ ৫১৪ ৫১৫ আবার অনেকে তাঁকে হাম্বলী মাযহাবের অনুসারী হিসেবে গণ্য করেছেন। ৫১৬ সুনানে আবু দাউদ পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে তিনি অনেক ক্ষেত্রে হাম্বলী মাযহাবের মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
গ্রন্থাবলীঃ ১. সুনানে আবু দাউদ। ২. কিতাবুল মারাসীল। ৩. আর রদ্দু আলাল কাদরিয়্যাহ। ৪. আন নাসিখ ওয়াল মানসূখ। ৫. মা তাফাররাদা বিহী আহলুল আমসার। ৬. ফাযায়িলুল আনসার। ৭. মুসনাদে মালিক ইবনে আনাস। ৮. আল মাসাইল। ৯. মারিফাতুল আওকাত। ১০. কিতাবু বাদউল ওহী। ১১. আদ দোয়া। ৫১৭ ১২. ইবতিদা। ৫১৮ ১৩. আখবারুল খাওয়ারিজ। ৫১৯ ১৪. আত তাফারুদু ফিস সুনান। ৫২০ ১৫. দালাইয়েলুল নবুওয়াহ। ৫২১
ইমাম আবু দাউদ রহ. এর নির্ধারিত চারটি হাদীসঃ ইমাম আবু দাউদ রহ. বলেছেন যে একজন মানুষের দ্বীনের ওপর চলার জন্য চারটি হাদীসই যথেষ্ট। ১. নিয়ত অনুযায়ী আমল ২. অনর্থক কথাবার্তা পরিহার ৩. নিজের ভাইয়ের জন্য তা পছন্দ করা যা নিজের জন্য পছন্দ করে ৪. হালাল ও হারাম স্পষ্ট হওয়া এবং এর মাঝে সন্দেহযুক্ত বস্তু থাকা। ৫২২
ইমাম আবু দাউদ রহ. এর হাদীস গ্রহণে শর্তঃ তাঁর শর্ত ছিল এমন বর্ণনাকারীর হাদীস বর্ণনা করা, যাকে বাদ দেওয়ার ওপর ইজমা হয়নি এবং সনদটি মুত্তাসিল হওয়া। ৫২৩
সুনানে আবু দাউদ রচনা ও বৈশিষ্ট্যঃ ইমাম আবু দাউদ রহ. এ গ্রন্থটি প্রণয়ন করে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. এর খিদমতে পেশ করেছিলেন। (এক) এতে বর্ণনাকারীদের মতানৈক্য ও শব্দের পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। (দুই) একই হাদীসের একাধিক সনদ উল্লেখ করা হয়েছে। (তিন) তরজামতুল বাবের মাধ্যমে বিরোধ নিরসনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। (চার) মাতরুক রাবীর হাদীস বর্ণনা করা হয়নি। (পাঁচ) উচ্চ সনদের অধিকারীকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। (ছয়) তরজমাতুল বাব প্রমাণের জন্য সাধারণত একটি রেওয়ায়েত আনা হয়েছে। (সাত) দীর্ঘ হাদীসের প্রয়োজনীয় অংশটুকু বর্ণনা করা হয়েছে। (আট) এতে ফিকহী হাদীসের বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে। ৫২৪
সুনানে আবু দাউদের নুসখাসমূহঃ চারটি নুসখা সবচেয়ে প্রসিদ্ধ—১. আবু আলী মুহাম্মদ লুলুয়ী রহ.। ২. আবু বকর ইবনে দাসাহ রহ.। ৩. হাফেয আবু ঈসা আর রামলী রহ.। ৪. হাফেয আবু সাঈদ ইবনুল আরাবী রহ.।
সুনানে আবু দাউদের ব্যাখ্যাগ্রন্থের তালিকাঃ (এক) মুয়ালিমুস সুনান: ইমাম খাত্তাবী রহ.। (দুই) ইনতিহাউস সুনান: হাফেয শিহাবুদ্দীন রহ.। (তিন) মিরকাতুস সুউদ: আল্লামা সুয়ূতী রহ.। (৪) দারাজাতু মিরকাতিস সুউদ: আলী ইবনে সুলাইমান দিমনাতী। (৫) শরহু সুনানি আবী দাউদ: ইবনুল মুলাক্কিন রহ.। (৬) ওলী উদ্দীন আল ইরাকী রহ. এর শরহ। (৭) শিহাব উদ্দীন আর রামলী এর শরহ। (৮) কুতুবুদ্দীন আল ইয়ামানী এর শরহ। (৯) হাফেয মুগলতাঈ এর শরহ। (১০) তাহযিবুস সুনান: আল্লামা ইবনুল কায়্যিম রহ.। (১১) আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী রহ. এর শরহ। (১২) আল মানহালুল আযবিল মাওরূদ: মাহমুদ মুহাম্মদ খাত্তাব। (১৩) আওনুল মাবুদ: আল্লামা শরফুল হক আযিমাবাদী। (১৪) আত তালীকুল মাহমূদ: ফাখরুল হাসান গাঙ্গুহী। (১৫) বাযলুল মাযহুদ: খলীল আহমদ সাহারানপুরী।
সর্বশেষ বসরায় অবস্থানঃ জীবনের শেষ দিকে তিনি বসরার আমীরের অনুরোধে সেখানে হিজরত করেন। ৫২৫
মৃত্যুঃ ইমাম আবু দাউদ রহ. ২৭৫ হিজরী সনের ১৬ ই শাওয়াল জুমার দিন বসরায় ইন্তিকাল করেন।
টিকাঃ
৫০১. ওয়াফইয়াতুল আ'ইয়ান (২/৪০৫)
৫০২. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৩/২০৪)
৫০৩. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৩/২০৫)
৫০৪. ওয়াফইয়াতুল আ'ইয়ান (২/৪০৪)
৫০৫. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১১/৫৫)
৫০৬. শরহুল ইলমাম (১/৪২)
৫০৭. তাযকিরাতুল হুফ্ফায (২/১২৭)
৫০৮. তাহযিবুত তাহযিব (৪/১৭২)
৫০৯. তাহযিবুত তাহযিব (৪/১৭২)
৫১০. তাহযিবুত তাহযিব (৪/১৭২)
৫১১. তাযকিরাতুল হুফফায (২/১২৮)
৫১২. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৩/২১৩)
৫১৩. বুসতানুল মুহাদ্দিসীন (২৮৮)
৫১৪. যফরুল মুহাসসিলীন (১০২)
৫১৫. আল হিত্তাহ ফি যিকরীস সিহাহীস সিত্তাহ (২২৮)
৫১৬. বুসতানুল মুহাদ্দিসীন (২৮৮)
৫১৭. তাহযিবুত তাহযিব (১/৬)
৫১৮. তাহযিবুত তাহযিব (১/৬)
৫১৯. তাহযিবুত তাহযিব (১/৬)
৫২০. হাদিয়াতুল আরিফীন (১/৩৯০)
৫২১. তাহযিবুত তাহযিব (১/৬)
৫২২. কাশফুয যুনূন (২/১০০৫)
৫২৩. কাশফুল বারী মুকাদ্দামা
৫২৪. কাশফুল বারী বাংলা (১/৩৭২-৩৭৩)
৫২৫. মুয়ালিমুস সুনান (১/৭-৮)
📄 ইমাম তিরমিযি
ইমাম আবু তিরমিযি রহ. (২০৯হিঃ থেকে ২৭৯হিঃ)
নামঃ মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আত তিরমিযি। কুনিয়াতঃ আবু ঈসা। তাঁর বংশধারা হলঃ মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরা ইবনে মুসা ইবনে আয যাহহাক আস সুলামী আয যারীর আল বুগি আত তিরমিযি।
জন্মঃ ইমাম তিরমিযি রহ. ২০৯ হিজরীতে (৮২৪/৮২৫ খ্রিস্টাব্দে) তিরমিয শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
ইলম অর্জনঃ ২০ বছর বয়সে তিনি হাদিস শিক্ষা শুরু করেন। তিনি বুসরা, কুফা, ইরাক, খোরাসান, হিযায সফর করে হাদিস সংগ্রহ করেছেন। ৫২৬ ইমাম তিরমিযি রহ. বিস্ময়কর স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন। জনৈক উস্তাদ তাঁকে পরীক্ষা করার জন্য ৪০টি হাদীস শুনিয়েছিলেন, যা তিনি একবার শুনেই হুবহু শুনিয়ে দিয়েছিলেন। ৫২৭
উস্তাদগণঃ উল্লেখযোগ্য হলেন ইমাম বুখারী রহ, কুতায়বা ইবনে সাঈদ, ইসহাক ইবনে রাহওয়াই প্রমুখ। ৫২৮
ছাত্রবৃন্দঃ উল্লেখযোগ্য হলেন আবু বকর আহমদ ইবনে ইসমাঈল আস সামারকান্দী, হাম্মাদ ইবনে শাকের প্রমুখ। ৫২৯
ইমাম তিরমিযি রহ. সম্পর্কে মনীষীদের মন্তব্যঃ ১. ইবনে হিব্বান বলেন, ‘তিনি হাদীস সংগ্রহকারী ও সংরক্ষকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন।’ ৫৩০ ২. ইমাম হাকিম বলেন, ‘ইমাম বুখারী ইন্তিকালের পর খুরাসানে আবু ঈসা রহ. এর অনুরূপ আর কেউ ছিল না।’ ৫৩১ ৩. আল্লামা আবু ইয়ালা বলেন, ‘তিনি আমানতদারী এবং জ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ ছিলেন।’ ৫৩২ ৪. ইমাম যাহাবী বলেন, ‘জামি গ্রন্থটি তাঁর আমানত ও হিফযের প্রমাণ।’ ৫৩৩ ৫. আল্লামা ইবনে আসীর বলেন, ‘তাঁর জামেউল কাবীর সবচেয়ে অসাধারণ।’ ৫৩৪ ৬. ইবনে খাল্লিকান বলেন, ‘তিনি হাদীসশাস্ত্রের একজন অনুসরণীয় ইমাম।’ ৭. ইমাম মিয্যি বলেন, ‘তিনি মহান ইমামদের একজন।’ ৫৩৫ ৮. হাফেয ইবনে কাসীর বলেন, ‘তিনি সমকালীন মাহাত্ম্যপূর্ণ ইমাম ছিলেন।’ ৫৩৬ ৯. ইমাম বুখারী তাঁকে বলেছিলেন, ‘তুমি যতটুকু আমার থেকে উপকৃত হয়েছ, তার চেয়ে বেশি আমি তোমার থেকে হয়েছি।’ ৫৩৭ ১০. শাহ্ আব্দল আযিয বলেন, ‘তিনি ইমাম বুখারীর প্রকৃত উত্তরাধিকারী ছিলেন।’ ৫৩৮
গ্রন্থাবলীঃ ১. জামে তিরমিযি। ২. আশ শামায়েলুন নাবাবিয়্যাহ। ৩. আল ইলালুল কাবীর। ৪. আল ইলালুস সাগীর। ৫. কিতাবুয যুহুদ। ৬. কিতাবুত তারীখ। ৭. আসমাউস সাহাবা। ৮. কিতাবুল আসমা ওয়াল কুনা। ৯. কিতাবু ফিল আসারীর মাওকুফাহ।
জামে তিরমিযি ও তার বৈশিষ্ট্যঃ ইমাম তিরমিযি রহ. বলেছেন, ‘এই হাদীস গ্রন্থটি যার ঘরে থাকবে, তার ঘরে যেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কথা বলছেন।’ ৫৩৯ ৫৪০ ৫৪১ (এক) এই গ্রন্থটি একই সাথে জামে ও সুনান। (দুই) হাদীসের তাকরার বা পুনরাবৃত্তি নেই। (তিন) ফুকাহায়ে কেরামের মৌলিক প্রমাণাদি সঙ্কলন করা হয়েছে। (চার) ফুকাহায়ে কেরামের মতামত ও মতবিরোধ বর্ণনা করা হয়েছে। ৫৪২ ৫৪৩ (পাঁচ) সাহাবায়ে কেরামদের ফিকহী মতবিরোধ উল্লেখ করা হয়েছে। ৫৪৪ ৫৪৫ (ছয়) কোন বিষয়ে অন্যান্য সাহাবীদের রেওয়ায়েতের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। ৫৪৬ (সাত) প্রতিটি হাদীসের সনদের স্তর উল্লেখ করা হয়েছে। (আট) দুর্বল রাবীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ৫৪৭ (নয়) সনদে গারাবত বা অপ্রসিদ্ধতা থাকলে তা উল্লেখ করা হয়েছে। ৫৪৮ (দশ) দীর্ঘ হাদীসের কেবল প্রয়োজনীয় অংশ বর্ণনা করা হয়েছে। (এগারো) সনদে ইযতেরাব বা অস্থিরতা থাকলে তা আলোচনা করা হয়েছে। ৫৪৯ (বার) সনদে মাজহুল রাবীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। ৫৫০ (তের) রাবীর জরাহ তা'দিলে মতবিরোধ উল্লেখ করা হয়েছে। ৫৫১ (চৌদ্দ) তারতিব এবং শিরোনামগুলো অনেক সহজ। (পনের) এ কিতাবের প্রায় সমস্ত হাদীস আমলযোগ্য।
জামে তিরমিযির ব্যাখ্যাগ্রন্থের তালিকাঃ (এক) আরিদাতুল আহওয়াযী: আবু বকর ইবনুল আরাবী রহ.। (দুই) ইমাম বাগবী রহ. এর শরহ। (তিন) আন নাফহুশ শাযী: ইবনে সাইয়িদিন নাস রহ.। (৪) ইবনে রজব হাম্বলী রহ. এর শরহ। (৫) জয়নুদ্দীন ইরাকী রহ. এর শরহ। (৬) সিরাজউদ্দীন বালকীনী রহ. এর শরহ। (৭) জাওয়াইদুত তিরমিযি: ইবনে মুলাক্কিন রহ.। (৮) কুতুল মুগতযী: জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহ.। (৯) সিরাজ আহমদ সারহিন্দী এর শরহ। (১০) আল আরফুশ শাযী: শাহ্ আনোয়ার কাশ্মীরী রহ.। (১১) আল কাওয়াকিব উদ দুরী: রশিদ আহমদ গাঙ্গুহী রহ.। (১২) তুহফাতুল আহওয়াযী: মুহাম্মদ আবদুর রহমান মুবারকপুরী রহ.। (১৩) মাআরিফুস সুনান: মুহাম্মদ ইউসুফ বানুরী রহ.। (১৪) আল কাওয়াকিব উদ দুরী: মুহাম্মদ জাকারিয়া কান্দলবী রহ.।
মৃত্যুঃ ইমাম তিরমিযি রহ. ২৭৯ হিজরীর ১৩ ই রজব ৮ অক্টোবর ৮৯২ খ্রিস্টাব্দে ইন্তিকাল করেন। ৫৫২
টিকাঃ
৫২৬. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৩/২৭১)
৫২৭. তাযকিরাতুল হুফ্ফায (২/২০৯)
৫২৮. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৩/২৭১)
৫২৯. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৩/২৭২)
৫৩০. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৩/২৭৩)
৫৩১. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৩/২৭৩)
৫৩২. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১১/৬৭)
৫৩৩. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৩/২৭৬)
৫৩৪. আল কামেল ফিত তারিখ (৬/৪৭৪)
৫৩৫. তাহযিবুল কামাল (২৬/২৫০)
৫৩৬. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১১/৭৭)
৫৩৭. তাহযিবুত তাহযিব (৯/৩৮৯)
৫৩৮. বুসতানুল মুহাদ্দিসীন (১৮৫)
৫৩৯. তাযকিরাতুল হুফ্ফায (২/১৫৪)
৫৪০. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১১/৬৭)
৫৪১. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৩/২৭৭)
৫৪২. জামে তিরমিযি, হাদিস (৭৭)
৫৪৩. জামে তিরমিযি (১/১৩৩)
৫৪৪. জামে তিরমিযি, হাদীস (৬৯)
৫৪৫. জামে তিরমিযি (১/১২৫)
৫৪৬. জামে তিরমিযি (১/৫৫)
৫৪৭. জামে তিরমিযি (১/৬৩)
৫৪৮. জামে তিরমিযি (১/৫৭)
৫৪৯. জামে তিরমিযি (১/১০)
৫৫০. জামে তিরমিযি (১/৬৭)
৫৫১. জামে তিরমিযি (১/৫৪)
৫৫২. তাহযিবুল কামাল (২৬/২৫২)