📄 বুখারী শরীফের প্রতি হাদীসের মিথ্যা সম্বন্ধ
গাইরে মুকাল্লিদ হযরতরা সহীহ বুখারীর ব্যাপারে এমন উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছেন যে, নির্দিধায় এমন হাদীসের সম্বন্ধ ইমাম বুখারীর দিকে করেছেন, যা সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়নি।
(এক) মাওলানা মুহাম্মদ ইসমাঈল সালাফী সাহেব রফয়ে ইয়াদাইনের ক্ষেত্রে চার জায়গায় রফয়ে ইয়াদাইনের হাদীস বুখারীর উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন। অথচ বুখারীর মূল রেওয়ায়েতে তিনবার রফয়ে ইয়াদাইনের কথা আছে। ৩২৪
(দুই) মুফতি আবুল বারাকাত আহমদ সাহেব এক প্রশ্নোত্তরে লিখেন, সহীহ বুখারীতে বর্ণনা রয়েছে যে 'বিতির তিন রাকাআত পড়ো না'। অথচ এই হাদীসটি সিহাহ সিত্তাহের কোথাও নেই। ৩২৫
(তিন) হাকেম সাদিক শিয়ালকুটি সাহেব সহীহ বুখারীর উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেন, উত্তম আমল হল নামাজ প্রথম ওয়াক্তে আদায় করা। ৩২৬ ৩২৭ এ ধরণের কোন রেওয়ায়েত বুখারীতে নেই।
(চার) তিনি ইবনে আব্বাস রা. এর উদ্ধৃতি দিয়ে তিন তালাক এক তালাক সাব্যস্ত হওয়ার হাদীস বুখারীর নামে চালিয়ে দিয়েছেন, যা বুখারীতে নেই। ৩২৮
(পাঁচ) সালাতুর রাসূল গ্রন্থে রুকুর দোয়া হিসেবে 'সুবহানা যিল জাবারুত...' উল্লেখ করেছেন যা বুখারী ও মুসলিমে নেই।
(ছয়) আযানের জোড়া শব্দাবলী সম্পর্কিত বর্ণনা বুখারী ও মুসলিমে নেই।
(সাত) তাকবীরের বেজোড় শব্দাবলী সম্পর্কিত বর্ণনা বুখারী ও মুসলিমে নেই।
(আট) আযানের পদ্ধতিতে মাথা ঘুরানো সম্পর্কিত বর্ণনা বুখারী ও মুসলিমে নেই। ৩২৯
( নয়) মাওলানা সানাউল্লাহ আমরতসারী সাহেব লেখেন, সিনার উপর হাত বাঁধার অগণিত রেওয়ায়েত বুখারী ও মুসলিম শরীফে রয়েছে। অথচ এর কোন অস্তিত্বই নেই। ৩৩০
(দশ) ফতোয়া উলামায়ে হাদীস গ্রন্থে দাবি করা হয়েছে রুকুর পরে দোয়ায়ে কুনুত পড়া বুখারী শরীফে বর্ণিত রয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভুল। ৩৩১
(এগারো) মাওলানা হাবীবুর রহমান ইয়াজদানী দাবি করেছেন ইমাম বুখারী রহ. 'আল মাসহু আলাল জাওরাবাইন' নামে অধ্যায় কায়েম করেছেন, যা একেবারেই বানানো। ৩৩২
টিকাঃ
৩২৪. সহীহ বুখারী (৭৩৮)
৩২৫. ফতোয়ায়ে বারাকাতিয়্যা (৪২ পৃষ্ঠা)
৩২৬. সহীহ বুখারী
৩২৭. সাবিলুর রাসূল (২৪৬ পৃষ্ঠা)
৩২৮. সাবিলুর রাসূল (২৬৭ পৃষ্ঠা)
৩২৯. বুখারী ও মুসলিম
৩৩০. ফতোয়ায়ে সানায়িয়্যাহ (১/৪৪৩)
৩৩১. ফতোয়া উলামায়ে হাদীস (৩/২০৬)
৩৩২. খুতুবাতে শহীদুল ইসলাম (১/২৩৪)