📄 বুখারী শরীফের নুসখাসমূহ
আল্লামা কাস্তালানী রহ. বলেন, ইমাম বুখারী রহ. এর প্রিয় ছাত্র আল্লামা ফিরাবরী রহ. বলেন, ইমাম বুখারী রহ. থেকে নব্বই হাজার ছাত্র সহীহ বুখারী শ্রবণ করেছেন। তবে আমি ছাড়া আর কেউ তা বর্ণনা করেনি। ২৭১ এই দাবীর ভিত্তিতে পৃথিবীতে সে নুসখা ছাড়া অন্য কোন নুসখা বিদ্যমান থাকা সম্ভব নয়। তবে হাফেয ইবনে হাজার আসকালনী রহ. বলেন, সহীহ বুখারী আমাদের কাছে পাঁচটি মাধ্যমে পৌঁছে।
১. আল্লামা ফিরাবরী রহ. (মৃত্যুঃ ৩২০হিঃ)
২. আল্লামা আবু ইসহাক ইবরাহীম ইবনে মাকাল আন নাসাফী আল হানাফী রহ. (মৃত্যুঃ ২৯৪হিঃ)
৩. আবু মুহাম্মদ হাম্মাদ ইবনে শাকের আন নাসাফী আল হানাফী রহ. (মৃত্যুঃ ৩১১হিঃ)
৪. আল্লামা আবু তালহা মুনসুর ইবনে মুহাম্মদ আল বাযদাবী রহ. (মৃত্যুঃ ৩২৯হিঃ)
৫. কাযী হুসাইন ইবনে ইসমাঈল আল মুহামিলী রহ. (মৃত্যুঃ ৩৩০হিঃ) ২৭২
ইবনে হাজার আসকালানী রহ. এর মতে আল্লামা ফিরাবরী রহ. এর প্রসিদ্ধ সহীহ বুখারীর নুসখাটি আমাদের কাছে বর্ণনাকারী হল, নয় জন। ২৭৩
টিকাঃ
২৭১. ইরশাদুস সারী (১/৩৯)
২৭২. ইরশাদুস সারী (১/৩৮)
২৭৩. সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৫/১১
📄 নুসখায়ে ফিরাবরী প্রসিদ্ধ হবার কারণ
‘ফিরাবরা’ (فربر) শব্দটির ‘ফা’ বর্ণের নীচে যের, ‘রা’ এর উপর যবর, ‘বা’ এর উপর জযম। এটি বুখারা শহর থেকে বিশ/পঁচিশ মাইল দূরে অবস্থিত একটি গ্রাম। আল্লামা আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ফিরাবরী রহ. সে শহরে ২৩১ হিজরী সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩২০ হিজরী সনে ইন্তিকাল করেন। যেহেতু ইমাম বুখারী রহ. এর মৃত্যুর পরে তিনি অনেক বছর সহীহ বুখারীর দরস দিয়েছেন এবং প্রত্যেক বছরই অধিক থেকে অধিক ছাত্র সহীহ বুখারী শ্রবণ ও লিপিবদ্ধ করেছেন। এ কারণে এ নুসখাটি বেশি প্রচলিত ও পরিচিতি লাভ করেছে। এছাড়াও নুসখাটি প্রসিদ্ধ হবার কারণ হল, আল্লামা ফিরাবরী রহ. ইমাম বুখারী রহ. থেকে দুইবার বা তিনবার সহীহ বুখারী শ্রবণ করেছেন। ২৭৪
টিকাঃ
২৭৪. তাকরীরে বুখারী শাইখুল হিন্দ রহ. (৫২ পৃষ্ঠা)
📄 ফিরাবরীর নুসখাগুলিতে মতানৈক্যের কারণ
পূর্বের যুগের মুহাদ্দীসগণ ছাত্রদের ইমলা করাতেন অর্থাৎ শব্দ ও ইবারত বলে তা আবার লিখাতেন এবং ছাত্ররাও তা যথাযথ লিখতেন। কিন্তু প্রত্যেক ছাত্রের স্মরণশক্তি ও বুঝশক্তি আলাদা হওয়ার কারণে বিভিন্ন জন বিভিন্নটা লিখার কারণেই মূলত আল্লামা ফারাবারী রহ. এর নুসখার মাঝে মতানৈক্য দেখা দেয়। ফিরাবরী রহ. এর স্বীয় উস্তাদ ইমাম বুখারী রহ. এর সাথে চুড়ান্ত পর্যায়ের ভালবাসার কারণে উভয় কপির রেওয়ায়েতগুলো নিয়ে নিয়েছেন। যা তিনি জানতেন যে, সর্বশেষ কপি এটিই। অপরটি সর্বশেষ কপি নয়।
📄 ইমাম বুখারী রহ. এর চার ইমাম থেকে হাদীস গ্রহণ
ইমাম বুখারী রহ. চার ইমামের মধ্য হতে ইমাম মালেক রহ. এর থেকে সবচেয়ে বেশি রেওয়ায়েত গ্রহণ করেছেন। আর নিজের শায়েখ ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. থেকে কেবল দু'টি রেওয়ায়েত গ্রহণ করেছেন। একটি কিতাবুল মাগাজী অধ্যায়ে আর অন্যটি কিতাবুন নিকাহ অধ্যায়ে। তিনি ইমাম শাফেয়ী রহ. ও ইমাম আবু হানিফা রহ. থেকে কোন রেওয়ায়েত গ্রহণ করেননি এবং ইমাম আবু হানিফা রহ. এর কিছু বক্তব্যেকে তিনি (قَالَ بَعْضُ النَّاسِ) ‘কিছু লোকেরা বলেন’ শিরোনামে উল্লেখ করে অনার্থক নিশানা বানিয়েছেন। তাঁর অন্যান্য গ্রন্থের তুলনায় বুখারী শরীফে তিনি ইমাম আবু হানিফার প্রতি কিছু উদারতা দেখিয়েছেন। কিন্তু তাঁর অন্যান্য গ্রন্থে যেমন, ইমামের পিছনে ক্বেরাতপাঠ, রফয়ে ইয়াদায়েন মত রচনাগুলিতে তিনি তো আক্রমণাত্মক আচরণ করেছেন। যার প্রতিদান স্বীয় ছাত্র ইমাম মুসলিম রহ. সহীহ মুসলিমের মুকাদ্দামায় দিয়েছেন এবং ইমাম তিরমিযি রহ. তাঁর শায়েখ ইমাম বুখারী রহ. থেকে একটি রেওয়ায়েতও গ্রহণ করেননি।