📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 কিতাবুল্লাহর পর সবচেয়ে সহীহ কিতাব সহীহ বুখারী

📄 কিতাবুল্লাহর পর সবচেয়ে সহীহ কিতাব সহীহ বুখারী


সহীহ বলতে আমরা এমন গ্রন্থকে বুঝি যেখানে কেবল সহীহ হাদীসসমূহ জমা করা হয়েছে। পরিভাষিক জটিলতার কারণে 'আস সিহাহ মুজাররদুহু' (কেবল সহীহ) এর মত পরিভাষা প্রনয়ণের প্রয়োজন পড়েছে। সে দিক থেকে বিবেচনা করলে সর্ব প্রথম রচনা হল, সহীহুল বুখারীই। আর এর ভিত্তিতে সহীহ বুখারীকে 'পবিত্র কালামুল্লাহ পর সব চেয়ে গ্রহণযোগ্য কিতাব' উপাধিতে অলংকৃত করা হয়।

ইমাম শাফেয়ী রহ. এর এ বক্তব্যটি 'আসমানের নীচে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য কিতাব হল, মুয়াত্তা ইমাম মালেক' সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের রচনার অনেক পূর্বের ছিল।

সহীহ বুখারী সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য হওয়ার অর্থ এমন নয় যে, কেবল বুখারী ও মুসলিমের রেওয়ায়েতই সহীহ ও গ্রহণযোগ্য। ইমাম বুখারী রহ. নিজেই বর্ণনা করেন যে, مَا أَدْخَلْتُ فِي كِتَابِي الْجَامِعِ إِلَّا مَا صَحَّ وَتَرَكْتُ مِنَ الصَّحِيحِ حَتَّى لَا يَطُولُ (আমি আমার কিতাবে কেবলই বিশুদ্ধ রেওয়ায়েত একত্র করেছি। তবে আরো অনেক বিশুদ্ধ রেওয়ায়েত আছে, যেগুলি আমি কিতাব লম্বা হওয়ার ভয়ে ছেড়ে দিয়েছি)। ২৬৮

ইমাম মুসলিম রহ. বলেন, নিশ্চয় আমি আমার কিতাবে কেবলই সহীহ রেওয়ায়েত বর্ণনা করেছি। তবে আমি এটা বলছি না যে, অন্যান্য কিতাবগুলোর রেওয়ায়েত দুর্বল। ২৬৯

তৃতীয়তঃ বুখারীর কিছু রেওয়ায়েত রহিত আছে। সুতরাং তার বিপরীত আমল করা বৈধ। হাদীস বিশুদ্ধ হওয়া শুধুই ইজতিহাদী বিষয়, অকাট্য নয়। ২৭০

টিকাঃ
২৬৮. ফতহুল বারী (১/৭)
২৬৯. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১২/৫৭১)
২৭০. লামেউদ দারারী (১/৮৪)

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 বুখারী শরীফের নুসখাসমূহ

📄 বুখারী শরীফের নুসখাসমূহ


আল্লামা কাস্তালানী রহ. বলেন, ইমাম বুখারী রহ. এর প্রিয় ছাত্র আল্লামা ফিরাবরী রহ. বলেন, ইমাম বুখারী রহ. থেকে নব্বই হাজার ছাত্র সহীহ বুখারী শ্রবণ করেছেন। তবে আমি ছাড়া আর কেউ তা বর্ণনা করেনি। ২৭১ এই দাবীর ভিত্তিতে পৃথিবীতে সে নুসখা ছাড়া অন্য কোন নুসখা বিদ্যমান থাকা সম্ভব নয়। তবে হাফেয ইবনে হাজার আসকালনী রহ. বলেন, সহীহ বুখারী আমাদের কাছে পাঁচটি মাধ্যমে পৌঁছে।
১. আল্লামা ফিরাবরী রহ. (মৃত্যুঃ ৩২০হিঃ)
২. আল্লামা আবু ইসহাক ইবরাহীম ইবনে মাকাল আন নাসাফী আল হানাফী রহ. (মৃত্যুঃ ২৯৪হিঃ)
৩. আবু মুহাম্মদ হাম্মাদ ইবনে শাকের আন নাসাফী আল হানাফী রহ. (মৃত্যুঃ ৩১১হিঃ)
৪. আল্লামা আবু তালহা মুনসুর ইবনে মুহাম্মদ আল বাযদাবী রহ. (মৃত্যুঃ ৩২৯হিঃ)
৫. কাযী হুসাইন ইবনে ইসমাঈল আল মুহামিলী রহ. (মৃত্যুঃ ৩৩০হিঃ) ২৭২

ইবনে হাজার আসকালানী রহ. এর মতে আল্লামা ফিরাবরী রহ. এর প্রসিদ্ধ সহীহ বুখারীর নুসখাটি আমাদের কাছে বর্ণনাকারী হল, নয় জন। ২৭৩

টিকাঃ
২৭১. ইরশাদুস সারী (১/৩৯)
২৭২. ইরশাদুস সারী (১/৩৮)
২৭৩. সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৫/১১

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 নুসখায়ে ফিরাবরী প্রসিদ্ধ হবার কারণ

📄 নুসখায়ে ফিরাবরী প্রসিদ্ধ হবার কারণ


‘ফিরাবরা’ (فربر) শব্দটির ‘ফা’ বর্ণের নীচে যের, ‘রা’ এর উপর যবর, ‘বা’ এর উপর জযম। এটি বুখারা শহর থেকে বিশ/পঁচিশ মাইল দূরে অবস্থিত একটি গ্রাম। আল্লামা আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ফিরাবরী রহ. সে শহরে ২৩১ হিজরী সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩২০ হিজরী সনে ইন্তিকাল করেন। যেহেতু ইমাম বুখারী রহ. এর মৃত্যুর পরে তিনি অনেক বছর সহীহ বুখারীর দরস দিয়েছেন এবং প্রত্যেক বছরই অধিক থেকে অধিক ছাত্র সহীহ বুখারী শ্রবণ ও লিপিবদ্ধ করেছেন। এ কারণে এ নুসখাটি বেশি প্রচলিত ও পরিচিতি লাভ করেছে। এছাড়াও নুসখাটি প্রসিদ্ধ হবার কারণ হল, আল্লামা ফিরাবরী রহ. ইমাম বুখারী রহ. থেকে দুইবার বা তিনবার সহীহ বুখারী শ্রবণ করেছেন। ২৭৪

টিকাঃ
২৭৪. তাকরীরে বুখারী শাইখুল হিন্দ রহ. (৫২ পৃষ্ঠা)

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 ফিরাবরীর নুসখাগুলিতে মতানৈক্যের কারণ

📄 ফিরাবরীর নুসখাগুলিতে মতানৈক্যের কারণ


পূর্বের যুগের মুহাদ্দীসগণ ছাত্রদের ইমলা করাতেন অর্থাৎ শব্দ ও ইবারত বলে তা আবার লিখাতেন এবং ছাত্ররাও তা যথাযথ লিখতেন। কিন্তু প্রত্যেক ছাত্রের স্মরণশক্তি ও বুঝশক্তি আলাদা হওয়ার কারণে বিভিন্ন জন বিভিন্নটা লিখার কারণেই মূলত আল্লামা ফারাবারী রহ. এর নুসখার মাঝে মতানৈক্য দেখা দেয়। ফিরাবরী রহ. এর স্বীয় উস্তাদ ইমাম বুখারী রহ. এর সাথে চুড়ান্ত পর্যায়ের ভালবাসার কারণে উভয় কপির রেওয়ায়েতগুলো নিয়ে নিয়েছেন। যা তিনি জানতেন যে, সর্বশেষ কপি এটিই। অপরটি সর্বশেষ কপি নয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px