📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 বুখারী ও মুসলিমের মধ্যে তুলনা

📄 বুখারী ও মুসলিমের মধ্যে তুলনা


সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের মধ্যে কোনটির মর্যাদা বেশি তা নিয়ে উলামাদের তিনটি মত পাওয়া যায়।
(এক) কিছু মুতাআখিরীনের মতে সহীহ এর দৃষ্টিকোন থেকে দু'টিই সমান।
(দুই) আন্দালুসী ও মাগরিবী কিছু আলিম যেমন, ইবনে রুশদ, ইবনে হাযেম রহ. এর মতে সহীহ মুসলিম সহীহ বুখারী থেকে বিশুদ্ধতর ও শ্রেষ্ঠ।
(তিন) সমস্ত মুহাদ্দীসদের নিকটে সহীহ সনদ, আদালতে রিজালের দৃষ্টিকোন থেকে সহীহ বুখারীই মুসলিমের উপর শ্রেষ্ঠ।

সহীহ মুসলিমের ব্যাপারে মাগরিবীদের দলিল হল, হাফিয আবু আলী নিশাপুরী রহ. এর مَا تَحْتَ أَدِيمِ السَّمَاءِ كِتَابُ أَصَحَّ مِنْ كِتَابٍ مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ। এর কয়েকটি জবাব রয়েছে, প্রথমত এই বক্তব্যে থেকে বেশি থেকে বেশি এটুকু প্রমাণিত হয় যে, মুসলিমও সহীহ একটি গ্রন্থ। কারণ শ্রেষ্ঠত্ব সনদের দিক থেকে নয়; বরং সুন্দর বিন্যাসের দিক থেকে। ২৬৬

টিকাঃ
২৬৬. মুকাদ্দামা ফতহুল মুলহিম (২৭০ পৃষ্ঠা)

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 মুসলিমের উপর বুখারীর প্রাধান্যের কারণ

📄 মুসলিমের উপর বুখারীর প্রাধান্যের কারণ


(এক) সেকাহ রাবীর দিক থেকে। অর্থাৎ ইমাম বুখারী রহ. যাঁদের বর্ণনা গ্রহণ করেছেন তাঁদের মধ্যে মাত্র ৮০ জনের ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। পক্ষান্তরে ইমাম মুসলিম রহ. যাঁদের থেকে একা বর্ণনা করেছেন তাঁদের মধ্যে ১৬০ জনের ব্যাপারে সমালোচনা হয়েছে।
(দুই) মুত্তাসিল সনদের দিক থেকে। ইমাম বুখারী রহ. রাবী এবং যার নিকট বর্ণনা করা হয়েছে এ দুজনের মধ্যে কমপক্ষে একবার হলেও সাক্ষাত হওয়া শর্তারোপ করেছেন। পক্ষান্তরে ইমাম মুসলিম রহ. তাঁদের মাঝে কেবল একই সময়কালের হওয়া শর্তারোপ করেছেন। ২৬৭
(তিন) ইমাম বুখারী রহ. দ্বিতীয় তবকা অর্থাৎ শাইখদের সাথে কম সংশ্রবকারীদের থেকে যাচাই করে খুব অল্প পরিমাণ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
(চার) শায ও মুয়াল্লালের দিক থেকে বিবেচনা করলেও সহীহ মুসলিমের উপর সহীহ বুখারীর প্রাধান্য প্রমাণিত হবে।

টিকাঃ
২৬৭. মুকাদ্দামা ফতহুল মুলহিম (২৪০ পৃষ্ঠা)

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 কিতাবুল্লাহর পর সবচেয়ে সহীহ কিতাব সহীহ বুখারী

📄 কিতাবুল্লাহর পর সবচেয়ে সহীহ কিতাব সহীহ বুখারী


সহীহ বলতে আমরা এমন গ্রন্থকে বুঝি যেখানে কেবল সহীহ হাদীসসমূহ জমা করা হয়েছে। পরিভাষিক জটিলতার কারণে 'আস সিহাহ মুজাররদুহু' (কেবল সহীহ) এর মত পরিভাষা প্রনয়ণের প্রয়োজন পড়েছে। সে দিক থেকে বিবেচনা করলে সর্ব প্রথম রচনা হল, সহীহুল বুখারীই। আর এর ভিত্তিতে সহীহ বুখারীকে 'পবিত্র কালামুল্লাহ পর সব চেয়ে গ্রহণযোগ্য কিতাব' উপাধিতে অলংকৃত করা হয়।

ইমাম শাফেয়ী রহ. এর এ বক্তব্যটি 'আসমানের নীচে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য কিতাব হল, মুয়াত্তা ইমাম মালেক' সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের রচনার অনেক পূর্বের ছিল।

সহীহ বুখারী সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য হওয়ার অর্থ এমন নয় যে, কেবল বুখারী ও মুসলিমের রেওয়ায়েতই সহীহ ও গ্রহণযোগ্য। ইমাম বুখারী রহ. নিজেই বর্ণনা করেন যে, مَا أَدْخَلْتُ فِي كِتَابِي الْجَامِعِ إِلَّا مَا صَحَّ وَتَرَكْتُ مِنَ الصَّحِيحِ حَتَّى لَا يَطُولُ (আমি আমার কিতাবে কেবলই বিশুদ্ধ রেওয়ায়েত একত্র করেছি। তবে আরো অনেক বিশুদ্ধ রেওয়ায়েত আছে, যেগুলি আমি কিতাব লম্বা হওয়ার ভয়ে ছেড়ে দিয়েছি)। ২৬৮

ইমাম মুসলিম রহ. বলেন, নিশ্চয় আমি আমার কিতাবে কেবলই সহীহ রেওয়ায়েত বর্ণনা করেছি। তবে আমি এটা বলছি না যে, অন্যান্য কিতাবগুলোর রেওয়ায়েত দুর্বল। ২৬৯

তৃতীয়তঃ বুখারীর কিছু রেওয়ায়েত রহিত আছে। সুতরাং তার বিপরীত আমল করা বৈধ। হাদীস বিশুদ্ধ হওয়া শুধুই ইজতিহাদী বিষয়, অকাট্য নয়। ২৭০

টিকাঃ
২৬৮. ফতহুল বারী (১/৭)
২৬৯. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১২/৫৭১)
২৭০. লামেউদ দারারী (১/৮৪)

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 বুখারী শরীফের নুসখাসমূহ

📄 বুখারী শরীফের নুসখাসমূহ


আল্লামা কাস্তালানী রহ. বলেন, ইমাম বুখারী রহ. এর প্রিয় ছাত্র আল্লামা ফিরাবরী রহ. বলেন, ইমাম বুখারী রহ. থেকে নব্বই হাজার ছাত্র সহীহ বুখারী শ্রবণ করেছেন। তবে আমি ছাড়া আর কেউ তা বর্ণনা করেনি। ২৭১ এই দাবীর ভিত্তিতে পৃথিবীতে সে নুসখা ছাড়া অন্য কোন নুসখা বিদ্যমান থাকা সম্ভব নয়। তবে হাফেয ইবনে হাজার আসকালনী রহ. বলেন, সহীহ বুখারী আমাদের কাছে পাঁচটি মাধ্যমে পৌঁছে।
১. আল্লামা ফিরাবরী রহ. (মৃত্যুঃ ৩২০হিঃ)
২. আল্লামা আবু ইসহাক ইবরাহীম ইবনে মাকাল আন নাসাফী আল হানাফী রহ. (মৃত্যুঃ ২৯৪হিঃ)
৩. আবু মুহাম্মদ হাম্মাদ ইবনে শাকের আন নাসাফী আল হানাফী রহ. (মৃত্যুঃ ৩১১হিঃ)
৪. আল্লামা আবু তালহা মুনসুর ইবনে মুহাম্মদ আল বাযদাবী রহ. (মৃত্যুঃ ৩২৯হিঃ)
৫. কাযী হুসাইন ইবনে ইসমাঈল আল মুহামিলী রহ. (মৃত্যুঃ ৩৩০হিঃ) ২৭২

ইবনে হাজার আসকালানী রহ. এর মতে আল্লামা ফিরাবরী রহ. এর প্রসিদ্ধ সহীহ বুখারীর নুসখাটি আমাদের কাছে বর্ণনাকারী হল, নয় জন। ২৭৩

টিকাঃ
২৭১. ইরশাদুস সারী (১/৩৯)
২৭২. ইরশাদুস সারী (১/৩৮)
২৭৩. সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৫/১১

ফন্ট সাইজ
15px
17px