📄 সহীহ বুখারীর শিরোনামে ইমাম বুখারী রহ. এর কর্মপদ্ধতি ও ইচ্ছা
হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী রহ. লিখেন, শিরোনামের ব্যাপারে ইমাম বুখারী রহ. এর কর্মপদ্ধতি হল, যদি পরিচ্ছেদ শিরোনামের সাথে মিল এমন রেওয়ায়েত পান, তবে সেটি যদি সহীহ বুখারীর শর্ত মত হয়, তবে তা নিজের পারিভাষিক ছিগা দ্বারা বর্ণনা করেন। আর যদি শর্তমতে না হয়, তবে যদি দলিলের উপযুক্ত হয় তবে তা তালীকান বা ইরসালান বর্ণনা করেন। আর এ কারনেই বুখারী শরীফে তালিকাত বেশি। ২৪৩
দ্বিতীয়তঃ যদি সে রেওয়ায়েত দলিলের উপযুক্ত না হয়, তবে মিল থাকে (যেমন কোনো মুজতাহিদ একে কিয়াসের উপর প্রাধান্য দিয়েছেন) তবে ইমাম বুখারী রহ. সে রেওয়ায়েতকে পরিচ্ছেদ শিরোনাম বানিয়ে দিতেন। ২৪৪
টিকাঃ
২৪৩. হাদীস শ্রবণ ও বর্ণনার শব্দাবলী উল্লেখ না করে, (ফলান আন ফলান) অমুক থেকে অমুক বর্ণনা করেছেন বলে হাদীস বর্ণনাকে (মুয়ানআন) বলা হয়।
২৪৪. (তালীক) বলা হয়, সকল রাবীদের নাম বাদ দিয়ে 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন' এরূপ বলে হাদীস বর্ণনা করা।
📄 বুখারীতে ছুলাছিয়্যাত রেওয়ায়েত
ছুলাছিয়্যাত (شُبَّيَّات) দ্বারা উদ্দেশ্যে হল, ইমাম বুখারী রহ. এবং হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাঝে রাবীদের মাত্র তিনটি স্তর থাকে। প্রথম- তাবে তাবেয়ী, দ্বিতীয়- তাবেয়ী ও তৃতীয়- সাহাবীদের জামাআত। আর এ ধরনের হাদীস সর্বোচ্চ প্রকারের হাদীস বলে গণ্য করা হয়।
সহীহ বুখারীতে বাইশটি ছুলাছিয়্যাত রেওয়ায়েত রয়েছে। যার মধ্যে বিশটিই হানাফী শায়েখদের থেকে ইমাম বুখারী রহ. রেওয়ায়েত করেছেন। তন্মধ্যে ছয়টি আবু আসেম আন নাবীল জাহ্হাক হানাফী রহ. থেকে। আর তিনটি মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ হানাফী রহ. থেকে এবং এগারোটি মক্কী ইবনে ইবরাহীম হানাফী রহ. থেকে। যাঁরা সকলেই ইমাম আবু হানিফা রহ. এর ছাত্র ছিলেন। বাকী দু'টি খালেদ ইবনে ইয়াহইয়া কূফী রহ. ও ইসাম ইবনে খালেদ হিমসী রহ. থেকে। যাঁরা হানাফী অনুসারী ছিলেন না।
📄 ইমাম বুখারী রহ. এর উদ্দেশ্য
ইমাম বুখারী রহ. এর সহীহ বুখারী প্রণয়নের কয়েকটি উদ্দেশ্য এখানে আলোচনা করা হল।
১. কেবল সহীহ হাদীস সংকলন করা।
২. প্রত্যেকটি সহীহ হাদীস থেকে শরীয়তের আহকাম উদ্ঘাটন করা।
৩. শরীয়তের আহকাম উদ্ঘাটন করার পদ্ধতি শিক্ষা দেয়া। যেমন, ইবারতুন নস (عبارة النص), দালালাতুন নস (دلالة النص), ইশারাতুন নস (إشارة النص), ইকতিযাউন নস (اقتضاء النص) ইত্যাদি দ্বারা কিভাবে মাসআলা উদ্ঘাটন হয়, তা শিক্ষা দেয়া।
৪. হাদীস ও ফিকহ্ দু'টিকে একত্র করা। যাতে করে সে সমস্ত লোক জবাব পেয়ে যায়, যারা হাদীস ও ফিকহকে আলাদা ও একটা অপরটার বিপরীদ হিসেবে দেখে।
📄 বুখারীর শর্তসমূহ
ইমামদের হাদীস বর্ণনার শর্তসমূহের উপড় স্বতন্ত্র গ্রন্থ রয়েছে। মুহাম্মদ ইবনে তাহের মাকদীসী বলেন, ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম রহ.সহ সিয়াহ সিত্তাহ এর ইমামগণের তাঁদের থেকে বর্ণনার কোন শর্ত উল্লেখ পাওয়া যায়নি; বরং তাদের গ্রন্থগুলো গবেষণা করে শর্তগুলো নির্বাচন করা হয়েছে।
ইমাম বুখারী রহ. ও ইমাম মুসলিমের শর্ত ছিল এই যে, তাঁরা এমন হাদীস সংকলন করেন, যা প্রসিদ্ধ সাহাবী হতে নির্ভরযোগ্য সনদসহ বর্ণিত হয়েছে। প্রত্যেক স্তরে রাবীদের বিশ্বস্ততা ও নির্ভযোগ্যতার ব্যাপারে কোন প্রকার মতানৈক্য নেই এবং সনদটিও অবিচ্ছিন্ন হয়। ২৪৫
যদি সাহাবীর নিকট হতে বর্ণনাকারী দুই বা ততোধিক হন, তবে তা খুবই উত্তম। আর যদি কোন স্তরে মাত্র একজন ব্যক্তি বর্ণনা করেন, তবে শেষ রাবী পর্যন্ত বিশুদ্ধ পরস্পরা পাওয়া গেলে ইমাম বুখারী ও মুসলিম তাঁরা উভয়েই সেই হাদীস সংকলন করেছেন। অবশ্য ইমাম মুসলিম এমন কতিপয় ব্যক্তির হাদীসও সংকলন করেছেন। যাঁদের প্রতি ইমাম বুখারী রহ. এর সন্দেহ হওয়াতে তিনি তাদের হাদীস সংকলন করেননি। কিন্তু ইমাম মুসলিম রহ. সেই সন্দেহ দূর করে তাঁদের হাদীস তাঁর সহীহ গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেছেন। ২৪৬
টিকাঃ
২৪৫. শুরুতুল আইয়িম্মাহ (১ পৃষ্ঠা)
২৪৬. তাদরীবুর রাবী (৪১ পৃষ্ঠা)