📄 শিরোনাম ব্যতিত পরিচ্ছেদ
ইমাম বুখারী রহ. কখনো কখনো পরিচ্ছেদ শিরোনাম না লিখে, কেবল (বাব) পরিচ্ছেদ দিয়েই হাদীস বর্ণনা করেছেন। এ বিষয়টি নিয়ে কয়েকটি মত পাওয়া যায়।
হাফেয ইবনে হাজার রহ. বলেন, ইমাম বুখারী রহ. সে সমস্ত জায়গাতে পরিচ্ছেদ শিরোনাম প্রণয়নের ইচ্ছে ছিল। কিন্তু তিনি পরবর্তিতে তা করার সময় ও সুযোগ পাননি। ২৩৮
আল্লামা কিরমানী, হাফেয ইবনে হাজার, আল্লামা আইনী, শাহ্ ওলীউল্লাহ প্রমুখের মতে, শিরোনাম ছাড়া পরিচ্ছেদকে পূর্বের পরিচ্ছেদের সাথে দূরত্ব ও পার্থক্য বুঝানোর উদ্দেশ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ এটি পূর্বের পরিচ্ছেদের জন্য 'ফসলের' মত।
শায়খুল হিন্দ মাহমুদুল হাসান দেওবন্দী রহ. এর মতামত হল, শিরোনাম ছাড়া পরিচ্ছেদ কিছু কিছু সময় মেধার প্রখরতা যাচাই এর জন্য হয়। অর্থাৎ পাঠক নিজে যেন একটি শিরোনাম প্রণয়ন করতে পারে। ২৩৯
আট, শিরোনাম ছাড়া পরিচ্ছেদ অনেক সময় বেশি উপকারের জন্য হয়। ২৪০ নয়, এটি পূর্বের মূল আলোচনার দিকে ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত। ২৪১ দশ, পরিবর্তনের ভিত্তিতে এটি প্রণয়ন করা হয়েছে। ২৪২
টিকাঃ
২৩৮. ফতহুল বারী (৬/৫৬১)
২৩৯. তাকরীরে বুখারী (১/১২৬)
২৪০. মুকাদ্দামা লামে' (৩২৯ পৃষ্ঠা)
২৪১. মুকাদ্দামা লামে' (৩৬৭ পৃষ্ঠা)
২৪২. শরহে তারাজিমি আবওয়াবিল বুখারী (১৩ পৃষ্ঠা)
📄 সহীহ বুখারীর শিরোনামে ইমাম বুখারী রহ. এর কর্মপদ্ধতি ও ইচ্ছা
হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী রহ. লিখেন, শিরোনামের ব্যাপারে ইমাম বুখারী রহ. এর কর্মপদ্ধতি হল, যদি পরিচ্ছেদ শিরোনামের সাথে মিল এমন রেওয়ায়েত পান, তবে সেটি যদি সহীহ বুখারীর শর্ত মত হয়, তবে তা নিজের পারিভাষিক ছিগা দ্বারা বর্ণনা করেন। আর যদি শর্তমতে না হয়, তবে যদি দলিলের উপযুক্ত হয় তবে তা তালীকান বা ইরসালান বর্ণনা করেন। আর এ কারনেই বুখারী শরীফে তালিকাত বেশি। ২৪৩
দ্বিতীয়তঃ যদি সে রেওয়ায়েত দলিলের উপযুক্ত না হয়, তবে মিল থাকে (যেমন কোনো মুজতাহিদ একে কিয়াসের উপর প্রাধান্য দিয়েছেন) তবে ইমাম বুখারী রহ. সে রেওয়ায়েতকে পরিচ্ছেদ শিরোনাম বানিয়ে দিতেন। ২৪৪
টিকাঃ
২৪৩. হাদীস শ্রবণ ও বর্ণনার শব্দাবলী উল্লেখ না করে, (ফলান আন ফলান) অমুক থেকে অমুক বর্ণনা করেছেন বলে হাদীস বর্ণনাকে (মুয়ানআন) বলা হয়।
২৪৪. (তালীক) বলা হয়, সকল রাবীদের নাম বাদ দিয়ে 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন' এরূপ বলে হাদীস বর্ণনা করা।
📄 বুখারীতে ছুলাছিয়্যাত রেওয়ায়েত
ছুলাছিয়্যাত (شُبَّيَّات) দ্বারা উদ্দেশ্যে হল, ইমাম বুখারী রহ. এবং হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাঝে রাবীদের মাত্র তিনটি স্তর থাকে। প্রথম- তাবে তাবেয়ী, দ্বিতীয়- তাবেয়ী ও তৃতীয়- সাহাবীদের জামাআত। আর এ ধরনের হাদীস সর্বোচ্চ প্রকারের হাদীস বলে গণ্য করা হয়।
সহীহ বুখারীতে বাইশটি ছুলাছিয়্যাত রেওয়ায়েত রয়েছে। যার মধ্যে বিশটিই হানাফী শায়েখদের থেকে ইমাম বুখারী রহ. রেওয়ায়েত করেছেন। তন্মধ্যে ছয়টি আবু আসেম আন নাবীল জাহ্হাক হানাফী রহ. থেকে। আর তিনটি মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ হানাফী রহ. থেকে এবং এগারোটি মক্কী ইবনে ইবরাহীম হানাফী রহ. থেকে। যাঁরা সকলেই ইমাম আবু হানিফা রহ. এর ছাত্র ছিলেন। বাকী দু'টি খালেদ ইবনে ইয়াহইয়া কূফী রহ. ও ইসাম ইবনে খালেদ হিমসী রহ. থেকে। যাঁরা হানাফী অনুসারী ছিলেন না।
📄 ইমাম বুখারী রহ. এর উদ্দেশ্য
ইমাম বুখারী রহ. এর সহীহ বুখারী প্রণয়নের কয়েকটি উদ্দেশ্য এখানে আলোচনা করা হল।
১. কেবল সহীহ হাদীস সংকলন করা।
২. প্রত্যেকটি সহীহ হাদীস থেকে শরীয়তের আহকাম উদ্ঘাটন করা।
৩. শরীয়তের আহকাম উদ্ঘাটন করার পদ্ধতি শিক্ষা দেয়া। যেমন, ইবারতুন নস (عبارة النص), দালালাতুন নস (دلالة النص), ইশারাতুন নস (إشارة النص), ইকতিযাউন নস (اقتضاء النص) ইত্যাদি দ্বারা কিভাবে মাসআলা উদ্ঘাটন হয়, তা শিক্ষা দেয়া।
৪. হাদীস ও ফিকহ্ দু'টিকে একত্র করা। যাতে করে সে সমস্ত লোক জবাব পেয়ে যায়, যারা হাদীস ও ফিকহকে আলাদা ও একটা অপরটার বিপরীদ হিসেবে দেখে।