📄 সহীহ বুখারীর পরিচ্ছেদ শিরোনাম
ইমাম বুখারী রহ. বিভিন্ন পদ্ধতিতে, ভিন্ন ভিন্ন নামে সহীহ বুখারীর পরিচ্ছেদ শিরোনাম দিয়েছেন।
এক, পরিচ্ছেদ শিরোনামে কোরআনের আয়াত। যেমন: (بَابُ قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ العِلْمِ إِلَّا قَلِيلًا})
দুই, সরাসরি কোরআনের আয়াত দিয়ে পরিচ্ছেদ শুরু। যেমন: বুনী (بَابُ: {فَإِنْ تَابُوا...})
তিন, ভাষাগত বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন। যেমন: (بَابُ مَا جَاءَ فِي قَوْلِ اللهِ تَعَالَى...)
চার, এক আয়াত দিয়ে একাধিক পরিচ্ছেদ শিরোনাম।
পাঁচ, সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসকে শিরোনাম করা। যেমন: (بَابُ قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «بُنِيَ الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ»)
ছয়, হাদীস হওয়ার প্রতি ইশারা না করে হাদীসকে শিরোনাম করা। যেমন: (بَابٌ: مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ)
সাত, হাদীসের শব্দের ব্যাখ্যা দিতে শিরোনাম পরিবর্তন। যেমন: 'সামাত' এর তাফসীর 'নাফর' দ্বারা করা।
আট, নিজস্ব শর্ত অনুযায়ী সহীহ নয় এমন হাদীসকে শিরোনাম করে অন্য রেওয়ায়েত দ্বারা সমর্থন করা।
নয়, সহীহ বুখারীতে বর্ণিত নেই এমন রেওয়ায়েতের সাহায্যে শিরোনাম প্রমাণ করা (যেমন সহীহ মুসলিমের শব্দ 'দালক' ব্যবহার)।
দশ, সংক্ষিপ্ত আকারে শিরোনাম প্রতিষ্ঠিত করা। যেমন হযরত উমর রা. এর গরম পানি ব্যবহারের ঘটনা। ২৩৭
এগারো, সাহাবী বা তাবেয়ীদের উদ্ধৃতি ব্যবহার।
বারো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সরাসরি আমল দ্বারা শিরোনাম।
তের, সরাসরি নিষেধাজ্ঞা সূচক বাণী দ্বারা শিরোনাম।
চৌদ্দ, সরাসরি নির্দেশ দ্বারা শিরোনাম।
পনেরো, নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী অনুমতি দ্বারা শিরোনাম।
ষোল, আমলের ফজিলত বর্ণনা করে শিরোনাম।
সতের, সরাসরি প্রশ্ন দ্বারা পরিচ্ছেদ শিরোনাম।
আঠারো, সাহাবায়ে কেরামের উদ্ধৃতি উল্লেখ।
উনিশ, তাবেয়ীদের উদ্ধৃতির সাহায্যে শরীয়তের আহকাম বর্ণনা।
বিশ, পরিচ্ছেদ শিরোনাম লিখে তাতে নিজের মন্তব্য পেশ করা।
টিকাঃ
২৩৭. ফতহুল বারী (১/২৯৯)
📄 শিরোনাম ব্যতিত পরিচ্ছেদ
ইমাম বুখারী রহ. কখনো কখনো পরিচ্ছেদ শিরোনাম না লিখে, কেবল (বাব) পরিচ্ছেদ দিয়েই হাদীস বর্ণনা করেছেন। এ বিষয়টি নিয়ে কয়েকটি মত পাওয়া যায়।
হাফেয ইবনে হাজার রহ. বলেন, ইমাম বুখারী রহ. সে সমস্ত জায়গাতে পরিচ্ছেদ শিরোনাম প্রণয়নের ইচ্ছে ছিল। কিন্তু তিনি পরবর্তিতে তা করার সময় ও সুযোগ পাননি। ২৩৮
আল্লামা কিরমানী, হাফেয ইবনে হাজার, আল্লামা আইনী, শাহ্ ওলীউল্লাহ প্রমুখের মতে, শিরোনাম ছাড়া পরিচ্ছেদকে পূর্বের পরিচ্ছেদের সাথে দূরত্ব ও পার্থক্য বুঝানোর উদ্দেশ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ এটি পূর্বের পরিচ্ছেদের জন্য 'ফসলের' মত।
শায়খুল হিন্দ মাহমুদুল হাসান দেওবন্দী রহ. এর মতামত হল, শিরোনাম ছাড়া পরিচ্ছেদ কিছু কিছু সময় মেধার প্রখরতা যাচাই এর জন্য হয়। অর্থাৎ পাঠক নিজে যেন একটি শিরোনাম প্রণয়ন করতে পারে। ২৩৯
আট, শিরোনাম ছাড়া পরিচ্ছেদ অনেক সময় বেশি উপকারের জন্য হয়। ২৪০ নয়, এটি পূর্বের মূল আলোচনার দিকে ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত। ২৪১ দশ, পরিবর্তনের ভিত্তিতে এটি প্রণয়ন করা হয়েছে। ২৪২
টিকাঃ
২৩৮. ফতহুল বারী (৬/৫৬১)
২৩৯. তাকরীরে বুখারী (১/১২৬)
২৪০. মুকাদ্দামা লামে' (৩২৯ পৃষ্ঠা)
২৪১. মুকাদ্দামা লামে' (৩৬৭ পৃষ্ঠা)
২৪২. শরহে তারাজিমি আবওয়াবিল বুখারী (১৩ পৃষ্ঠা)
📄 সহীহ বুখারীর শিরোনামে ইমাম বুখারী রহ. এর কর্মপদ্ধতি ও ইচ্ছা
হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী রহ. লিখেন, শিরোনামের ব্যাপারে ইমাম বুখারী রহ. এর কর্মপদ্ধতি হল, যদি পরিচ্ছেদ শিরোনামের সাথে মিল এমন রেওয়ায়েত পান, তবে সেটি যদি সহীহ বুখারীর শর্ত মত হয়, তবে তা নিজের পারিভাষিক ছিগা দ্বারা বর্ণনা করেন। আর যদি শর্তমতে না হয়, তবে যদি দলিলের উপযুক্ত হয় তবে তা তালীকান বা ইরসালান বর্ণনা করেন। আর এ কারনেই বুখারী শরীফে তালিকাত বেশি। ২৪৩
দ্বিতীয়তঃ যদি সে রেওয়ায়েত দলিলের উপযুক্ত না হয়, তবে মিল থাকে (যেমন কোনো মুজতাহিদ একে কিয়াসের উপর প্রাধান্য দিয়েছেন) তবে ইমাম বুখারী রহ. সে রেওয়ায়েতকে পরিচ্ছেদ শিরোনাম বানিয়ে দিতেন। ২৪৪
টিকাঃ
২৪৩. হাদীস শ্রবণ ও বর্ণনার শব্দাবলী উল্লেখ না করে, (ফলান আন ফলান) অমুক থেকে অমুক বর্ণনা করেছেন বলে হাদীস বর্ণনাকে (মুয়ানআন) বলা হয়।
২৪৪. (তালীক) বলা হয়, সকল রাবীদের নাম বাদ দিয়ে 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন' এরূপ বলে হাদীস বর্ণনা করা।
📄 বুখারীতে ছুলাছিয়্যাত রেওয়ায়েত
ছুলাছিয়্যাত (شُبَّيَّات) দ্বারা উদ্দেশ্যে হল, ইমাম বুখারী রহ. এবং হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাঝে রাবীদের মাত্র তিনটি স্তর থাকে। প্রথম- তাবে তাবেয়ী, দ্বিতীয়- তাবেয়ী ও তৃতীয়- সাহাবীদের জামাআত। আর এ ধরনের হাদীস সর্বোচ্চ প্রকারের হাদীস বলে গণ্য করা হয়।
সহীহ বুখারীতে বাইশটি ছুলাছিয়্যাত রেওয়ায়েত রয়েছে। যার মধ্যে বিশটিই হানাফী শায়েখদের থেকে ইমাম বুখারী রহ. রেওয়ায়েত করেছেন। তন্মধ্যে ছয়টি আবু আসেম আন নাবীল জাহ্হাক হানাফী রহ. থেকে। আর তিনটি মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ হানাফী রহ. থেকে এবং এগারোটি মক্কী ইবনে ইবরাহীম হানাফী রহ. থেকে। যাঁরা সকলেই ইমাম আবু হানিফা রহ. এর ছাত্র ছিলেন। বাকী দু'টি খালেদ ইবনে ইয়াহইয়া কূফী রহ. ও ইসাম ইবনে খালেদ হিমসী রহ. থেকে। যাঁরা হানাফী অনুসারী ছিলেন না।