📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 সহীহ বুখারী রচনার কারণ

📄 সহীহ বুখারী রচনার কারণ


সহীহ বুখারী রচনার কারণ কী ছিল, তা নিয়ে কয়েকটি মতামত পাওয়া যায়। এক, ইমাম বুখারী রহ. এর জীবনী থেকে জানা যায় যে, শুধু দশ বছর বয়স থেকে তাঁর হাদীসে নববী মুখস্থ করার অসীম আগ্রহ সৃষ্টি হয়। আর এ জন্য তিনি বিভিন্ন দেশের সহস্রাধিক মাশায়েখ ও বড় বড় ইমাম থেকে হাদীস গ্রহণ করেন। ২৩ বছর বয়সে ইমাম বুখারী রহ. এর নিকটে ছয় লক্ষ হাদীসের বিশাল ভান্ডার জমা হয়ে যায়। ৩ লাখ মুখস্থ আর তিন লাখ পাণ্ডুলিপিতে। অতঃপর তাঁর মনে বারবার আসতে লাগল যে, সহীহ হাদীসগুলিকে একত্র করে প্রত্যেক বিষয়ে তা সন্নিবেশিত করতে পারলে উম্মাতের অনেক ফায়দা হবে। আর এর ভিত্তিতেই তিনি সহীহ বুখারীর সংকলনের কাজ শুরু করেন।

দুই, ইমাম বুখারী রহ. এর তৎকালীন শায়েখ ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ একদা ছাত্রদের মজলিসে এ আকাঙ্খা প্রকাশ করলেন যে, لَوْ جَمَعْتُمْ كِتَابًا مُخْتَصَرًا لِصَحِيحِ سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ যদি তোমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুনান দিয়ে একটি সহীহ বিশুদ্ধ গ্রন্থ সন্নিবেশিত করতে! ঘটনাক্রমে ইমাম বুখারী রহ. সে মজলিসে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর মনে বিষয়টি গেঁথে গেল এবং সহীহ হাদীস জমা করার কাজ শুরু করে দিলেন। ২১৭

তিন, ইমাম বুখারী রহ. একদা স্বপ্নে দেখলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে দাঁড়িয়ে পাখা দ্বারা বাতাস করছিলেন আর পবিত্র দেহ থেকে মাছি উড়ে উড়ে যাচ্ছিল। স্বপ্ন ব্যাখ্যাকারী বিশেষজ্ঞরা এ স্বপ্নের ব্যাখ্যায় বললেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস থেকে মিথ্যা ও অভিযোগগুলো দূর করবেন। অর্থাৎ হাদীসের ভান্ডার থেকে জাল ও দূর্বল হাদীসগুলো ছেঁটে বের করে দিবেন। অতঃপর তিনি এ ব্যাখ্যা পাওয়ার পর সহীহ বুখারী রচনার কাজ শুরু করলেন।

চার, হাফিয ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বলেন, অধিকাংশ হাদীস বিশারদ যখন সনদ আকারে হাদীস সংকলন করতেন, তাঁদের মধ্যে যাঁরা অধ্যায় ও সনদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে হাদীস লিপিবদ্ধ করতেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন, আবু বকর ইবনে আবী শায়বা রহ.। ইমাম বুখারী রহ. এ সকল সংকলন, বর্ণনাধারা, লিখন ও বিন্যাস পদ্ধতি অবলোকন করেন। তখন তিনি দেখতে পান, ঐ সমস্ত কিতাবে সহীহ ও হাসান হাদীস একই স্তরে বিন্যাস্ত এবং পাশাপাশি অনেক যঈফ হাদীসও বিদ্যমান। তখন ইমাম বুখারী রহ. এর মনে দৃঢ়তার সাথে সাড়া দিল যে, এমন হাদীসের গ্রন্থকে মহামূল্যবান বলা যায় না। ফলে তিনি সহীহ হাদীস সংকলন কাজে আত্মনিয়োগ ও সুদৃঢ় পরিকল্পনা গ্রহণ করলেন। ২১৮

ইমাম বুখারী রহ. সহীহ বুখারী কোথায় বসে রচনা করেছেন তা নিয়ে দুই ধরণের বক্তব্য পাওয়া যায়। প্রথমতঃ রওযায়ে আতহার অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রাওযা মোবারকের পাশে বসে সংকলন করেছেন। আর দ্বিতীয়টি হল, হাতিমে বসে তা সংকলন করেছেন। এখন একটি প্রশ্ন আসে যে, মক্কা-মদীনায় তিনি তো ষোল বছর অবস্থান করেননি; বরং সর্বোচ্চ চার বছর অবস্থান করেছেন। তাহলে তা কিভাবে সম্ভব হয়? তার জবাব এই যে, তিনি রওযায়ে আতহারে বসেই সমস্ত অধ্যায়কে সন্নিবেশিত করেছেন। এরপর যখন যে হাদীস পেয়েছেন, তাকে সে অধ্যায়ে জমা করেছেন।

আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী রহ. বলেন, ইমাম বুখারী রহ. মক্কা, মদীনা, বসরা এবং বুখারা নগরীতে গ্রন্থটির সংকলনের কাজ সম্পন্ন করেছেন। কেননা তিনি দীর্ঘ ষোল বছর এ মহান কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। অতঃপর আল্লামা আইনী রহ. মুহাম্মদ ইবনে আলী রহ. এর বর্ণনা উল্লেখ করেন, তিনি বলেন, আমি ইমাম বুখারীকে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন, আমি আমার জামী গ্রন্থটি নিয়ে বসরায় পাঁচ বছর থেকেছি এবং গ্রন্থ সংকলনের কাজ করেছি। ২১৯

এ প্রসঙ্গে আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বলেন, ইমাম বুখারী রহ. প্রথমে মসজিদুল হারামে বসে তাঁর সহীহ গ্রন্থ সংকলনের সূচনা, বিন্যাস এবং অধ্যায়সমূহ সাজিয়েছেন। অতঃপর স্বদেশ বুখারা ও অন্যান্য স্থানে সফর করে হাদীস সংকলন করেছেন। ২২০

ইমাম ফিরাবরী রহ. বর্ণনা করেন, ইমাম বুখারী রহ. আমাকে বলেছেন যে, আমি সহীহ বুখারীর প্রত্যেকটি হাদীস লিখার পূর্বে গোসল করতাম, দুই রাকাআত নামায আদায় করতাম। এরপর এস্তিখারা করে মনোতুষ্টির পর তা আমার কিতাবে লিপিবদ্ধ করতাম। আর আমি ছয় লক্ষ হাদীস থেকে যাচাই-বাছাই করে সহীহ বুখারী সংকলন করেছি। হযরত শায়খুল হিন্দ বর্ণনা করেন, সহীহ বুখারীর সংকলনের সময়কাল ষোল বছরই তিনি রোযা রাখেন। আর এই রোয়ার বিষয়টি তিনি কাউকে জানতে দিতেন না। ২২১

টিকাঃ
২১৭. সিয়ারু আ'লামীন নুবালা (১২/৪০১)
২১৮. হাদইউস সারী (৭ পৃষ্ঠা)
২১৯. ওমদাতুল কারী (১/০৫)
২২০. ফতহুল বারী (১/৪৮৯)
২২১. ফযলুল বারী (১/৬১)

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 সহীহ বুখারীর হাদীস সংখ্যা

📄 সহীহ বুখারীর হাদীস সংখ্যা


হিসাব নিকাশের দিক থেকে সহীহ বুখারীর হাদীস সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে। ইমাম বুখারী রহ. মূলত ছয় লক্ষ হাদীস থেকে যাচাই-বাছাই ও গবেষণা করে সহীহ বুখারীতে পুনরুল্লেখ, মুয়াল্লিকাত, মুতাবিআতসহ সর্বমোট ৯০৮২টি হাদীস বর্ণনা করেন। পুনরুল্লেখ ব্যতীত ২৭৬১টি হাদীস সহীহ বুখারীতে রয়েছে।

ইমাম নববী রহ. ও হাফিয ইবনুস সালাহ রহ. এর মতে বুখারী শরীফের হাদীস সংখ্যা ৭২৭৫টি এবং পুনরুল্লেখ ব্যাতিত ৪০০০টি। আল্লামা ইবনে হাজার আসকালনী রহ. তিনটি জায়গায় এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন, প্রথমত ফতহুল বারীর ভূমিকায়। দ্বিতীয়তঃ ফতহুল বারী মিসরী ছাপা ১/৮২ পৃষ্ঠায়। তৃতীয়তঃ ফতহুল বারীর উপসংহারে। শেষের দুই জায়গার বর্ণনা মতে বুখারী শরীফের হাদীস সংখ্যা মুয়াল্লিকাত, মুতাবিআত ছাড়া ২৫১৩ টি। মুকাদ্দামা কিস্তালানীতে বর্ণিত আছে, বুখারীর হাদীস সংখ্যা ১২৬০০টি। যে সংখ্যাকে আল্লামা শাহ্ আনোয়ার কাশ্মিরী রহ. প্রাধান্য দেন। ২২২

সহীহ বুখারীতে সংকলিত হাদীসের সংখ্যা নিরূপণে উল্লিখিত মতপার্থক্যের কারণ এই যে, ইমাম বুখারী রহ. এই গ্রন্থ দীর্ঘ ষোল বছর কঠিন পরিশ্রম, ত্যাগ ও সাধনার বিনিময়ে সংকলন করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে গ্রন্থটি সংকলন হলেও পরবর্তিকালে এতে পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংযোজনের কাজ অব্যাহত থাকে। ২২৩

মূলতঃ ইমাম বুখারী রহ. থেকে তাঁর হাদীস গ্রন্থ শ্রবণ করেছেন শত-সহস্র লোক। কিন্তু যাঁদের মাধ্যমে প্রচার ও প্রসার ঘটেছে তাঁরা প্রধানত চারজন। এক, ইবরাহীম ইবনে মাকাল ইবনে হাজ্জাজ আন-নাসাফী রহ.। দুই, হাম্মাদ ইবনে শাকের আন-নাসাফী রহ.। তিন, মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-ফিরাবরী রহ.। চার, আবু তালহা মনসুর ইবনে মুহাম্মদ আল-বাযদাবী রহ.।

বুখারী শরীফের সর্বপ্রধান বর্ণনাকারী আল্লামা ফিরাবরী রহ. সরাসরি ইমাম বুখারী থেকে দু'বার শ্রবণ করেছেন। তাঁর নিকট সংরক্ষিত এ গ্রন্থের কপিতে হাম্মাদ ইবনে শাকের রহ. এর কপি থেকে ২০০টি হাদীস বেশি রয়েছে এবং ইবরাহীম ইবনে মাকাল রহ. এর সংরক্ষিত কপি থেকে ৩০০টি হাদীস বেশি রয়েছে। এতে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, সহীহ বুখারীতে ক্রমশ হাদীসের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। মোটকথা হল, মুসনাদ হাদীস হল-৭৩৯৭টি, তা'লীক সংখ্যা হল- ১৩৪১টি, মুতাবী সংখ্যা হল-৩৪৪টি।

টিকাঃ
২২২. ফযলুল বারী (১/৭১)
২২৩. হাদইউস সারী (৬৫৩ পৃষ্ঠা)

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 ইমাম বুখারী রহ.র অভ্যাস ও সহীহ বুখারীর কিছু বৈশিষ্ট্য

📄 ইমাম বুখারী রহ.র অভ্যাস ও সহীহ বুখারীর কিছু বৈশিষ্ট্য


(১) হযরত গাঙ্গুহী রহ. বলেন, ইমাম বুখারী রহ. তাঁর সহীহ হাদীস গ্রন্থের মধ্যে কোন কারণে রচনাকার্য স্থগিত করলে, তিনি পুনরায় শুরু করার সময় بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ দ্বারা লিখা শুরু করতেন। যার কারণে এ গ্রন্থের মাঝে মাঝে তাসমিয়ার উল্লেখ দেখা যায়।

(২) ইমাম বুখারী রহ. কখনো কখনো বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ না করে حُكِي রُوِيَ শব্দ ব্যবহার করেছেন। আল্লামা ইমাম নববী রহ. এ প্রসঙ্গে বলেন, ইমাম বুখারী রহ. এ ধরণের শব্দ দুর্বল তালিকাতের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন।

(৩) ইমাম বুখারী রহ. তাঁর গ্রন্থে কিছু কিছু স্থানে قَالَ فَلَان বাক্যটি উল্লেখ করেছেন। হাদীস বিশারদগণের মতে, ইমাম বুখারী এ ধরনের শব্দ কেবল সে সব ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন, যেখানে হাদীস সংকলন ও বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর মানহাজের শর্তানুযায়ী হাদীস বর্ণিত হয়নি।

(৪) ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ বুখারীতে অধ্যায় শেষ করার পূর্বে তার ইঙ্গিত দিতেন। অর্থাৎ তিনি কোন অধ্যায় শেষ করার পূর্বে এমন কোন শব্দ ব্যবহার করতেন, যাতে করে বুঝা যেত যে, তিনি এ অধ্যায় শেষ করছেন। যেমন, بَدْءُ الوَحْيِ অধ্যায়ের শেষে فَكَانَ ذَلِكَ آخِرَ شَأْنِ هِرَقْلَ শব্দটি।

(৫) ইমাম বুখারী রহ. কখনো কখনো হুকুম অবতীর্ণ হওয়ার সময়কাল অথবা ঘটনাকে নিদিষ্ট করে অধ্যায় শিরোনাম করেছেন। যেমন, كَيْفَ كَانَ بَدْءُ الحَيْضِ, كَيْفَ فُرِضَتِ الصَّلَاةُ كَيْفَ كَانَ بَدْءُ الوَحْيِ

(৬) কখনো কখনো কোন এক রাবীর হাদীস নিদিষ্ট সময় পর্যন্ত সহীহ ও গ্রহণযোগ্যতা থাকে। অতঃপর সে সময়ের পরে তার রেওয়াতেগুলো দুর্বল ও অগ্রহণযোগ্য হয়ে যায়। যেমন মারওয়ান ইবনে হাকীমের ব্যাপারে প্রসিদ্ধ রয়েছে যে, তার হাকিম (বিচারক) হওয়ার পূর্বের রেওয়ায়েতগুলো গ্রহণযোগ্য।

(৭) সহীহ বুখারীর শুরুর হাদীসের সাথে সর্বশেষ হাদীসের সুপ্ত সম্পর্ক রয়েছে। ইমাম বুখারী রহ. সহীহ বুখারীর শুরুতে إِنَّمَا الْأَعْمَالِ بِالنَّيَّاتِ হাদীসটি রেওয়ায়েত করেছেন। আর সর্বশেষ কিতাবুত তাওহীদের سُبْحَانَ الله وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللهُ الْعَظِيمِ হাদীসটি রেওয়ায়েত করেছেন। দুনো হাদীসের মাঝে গভীর সম্পর্ক হল, আমলের গ্রহণযোগ্যতা পরিছন্ন এবং একনিষ্ঠ নিয়তের মধ্যমেই হয়।

টিকাঃ
২২৪. তালিকাত হল, সনদের প্রথম দিকে রাবীর নাম বাদ পড়লে। অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ গেলে তাকে মুয়াল্লাক বলে। আর এরূপ হওয়াকেই তালিকাত বলে।

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 সহীহ বুখারী প্রণয়নের মহান উদ্দেশ্য

📄 সহীহ বুখারী প্রণয়নের মহান উদ্দেশ্য


হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বলেন, সহীহ বুখারী পুরোটাই যেন বিশুদ্ধতাকে আবশ্যক করে রেখেছে। সেখানে কেবল সহীহ হাদীস নিয়ে আসা হয়েছে। যেমনটি তার নাম থেকেই বুঝা যায়। ইমাম বুখারী রহ. বিশুদ্ধ হাদীস সন্নিবেশ করার পাশাপাশি আরো এমন কিছু জ্ঞান-বিজ্ঞানের সমাহার ঘটিয়েছেন, যা এ গ্রন্থের মর্যাদাকে আরো অধিক উন্নত করেছে। তিনি তাঁর সূক্ষ্ম বুদ্ধিমত্তা ও গভীর জ্ঞানের মাধ্যমে হাদীসের মতন থেকে বহু জ্ঞান ও ফিকহী বিষয়াবলী আহরণ করে বিভিন্ন বাবের শুরুতে সেগুলি সংযোজন করেছেন।

তেমনিভাবে তিনি পবিত্র কোরআনের আয়াতের হুকুমের প্রতি পরিপূর্ণ মনোনিবেশ করেছেন এবং সেখান থেকে তিনি নান্দনিক ও বিরল অর্থের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। শাহ্ ওলীউল্লাহ মুহাদ্দীসে দেহলবী রহ. বলেন, ইমাম বুখারী রহ. এর আসল উদ্দেশ্যে ছিল, হাদীসের সমুদ্র থেকে সহীহ ও গ্রহণযোগ্য হাদীসকে নির্ণয় করা এবং সেখান থেকে ফিকহ, সীরাত ও তাফসীর উদ্‌ঘাটন করা। তিনি হাদীস গ্রহণের যে শর্তারোপ করেছেন, তা তিনি যথাযথভাবে পালন করেছেন। ২২৫

এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ইমাম বুখারী রহ. এর সহীহ বুখারীতে উদ্দেশ্যে ছিল, ইস্তিমবাত বা শরীয়তের হুকুম আহকাম উদ্‌ঘাটনের পদ্ধতি নির্ণয় করা। যার কারণে এ কথা বলা হয় যে, فِقْهُ الْبُخَارِيُّ فِي تَرَاجِمِهِ ইমাম বুখারী রহ.এর জ্ঞান-গরিমা ও বুদ্ধি-চাতুর্য তাঁর গ্রন্থের পরিচ্ছেদ শিরোনামে লুকিয়ে রয়েছে। ২২৬

টিকাঃ
২২৫. হুজ্জাতুল্লাহিল বালীগা (১/১৫)
২২৬. লামে' (২৪ পৃষ্ঠা)

ফন্ট সাইজ
15px
17px