📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 ইমাম আবু হাতেম রাযী

📄 ইমাম আবু হাতেম রাযী


ইমাম রাযী রহ.কে জরাহ ওয়াত তা'দিলের গ্রহণযোগ্য বড় ইমাম হিসেবে গণনা করা হয়। তিনি ১৯০ হিজরী সনে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ঘটনাবহুল জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস গ্রহণের জন্য সর্বদায় পায়ে হেঁটে সফর করতেন। তিনি নিজে বর্ণনা করেন যে, আমি এক সফরে এক হাজার ফরসখ ১৯৫ পর্যন্ত পায়ে হেঁটে চলার গণনা করেছি। তারপর গণনা ছেড়ে দেই। তিনি বাহরাইন থেকে মিসর, মিসর থেকে রামেলা, রামেলা থেকে তুরতুস এসব জায়গায় পায়ে হেঁটে সফর করেছেন।

বসরায় গিয়ে একবার খরচের টাকা শেষ হয়ে গেলে তিনি তাঁর কাপড় বিক্রি করে দিলেন। এ টাকাও শেষ হয়ে গেলে তিনি কয়েক দিন অভুক্ত থাকলেন। তিনি ইমাম বুখারী রহ. এর সময়কালে বড় মুহাদ্দীস হওয়া সত্ত্বেও ইমাম বুখারী রহ.এর তাহকীক ও গবেষণা দেখে নিজেই এসে ইমাম বুখারী রহ. থেকে ইলমী ফায়দা অর্জন করেন। তিনি ২৭৭ হিজরী সনে ইন্তিকাল করেন।

টিকাঃ
১৯৫. এক ফরসখ সমান তিন মাইল। আর এক হাজার ফরসখ সমান তিন হাজার মাইল। অতঃপর এক কিলোমিটার সমান ০.৬২১২৭১ মাইল। সুতরাং তিন হাজার মাইল সমান ৪৮২৮.০৩১ কিলোমিটার।

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 ইবরাহীম আল হারবী

📄 ইবরাহীম আল হারবী


ইবরাহীম আল হরবী রহ.কে ইলমে লোগাত, আদব, নাহু ও ফিকহের ইমাম বলা হয়। খতীবে বাগদাদ বর্ণনা করেন, তাঁকে লোগাত ও নাহুর ইমাম মানা হয়। আমি পঞ্চাশ বছর ধরে কখনো তাঁর দরসগাহকে শূণ্য দেখিনি। তিনি অত্যন্ত স্বাধীনচেতা মানুষ ছিলেন। তিনি কখনো বাদশা বা সুলতানের হাদীয়া-তোহফার প্রতি সামান্যতম আগ্রহ দেখাননি। তাঁর স্বাধীনচেতা মানসিকতাও তাঁকে ইলমী তাহকীক ও গবেষণা থেকে বিরত রাখতে পারেনি।

সমকালীন মুসলিম খলিফা তাঁকে এক হাজার দিরহাম হাদিয়া পাঠালে তিনি তা ফেরত দিলেন। অতঃপর খলিফা অনুরোধের সাথে দ্বিতীবার পাঠালেন, এবারো তিনি তা গ্রহণ করলেন না। ২৮৫ হিজরী সনের জিলহজ্ব মাসে তিনি ইন্তিকাল করেন। তিনি ইমাম বুখারী রহ.এর দরবারে উপস্থিত হয়ে ইলমী ফায়দা হাসিল করেন।

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 আবু বকর ইবনে আবী আসেম আল হাফেয আল কাবীর

📄 আবু বকর ইবনে আবী আসেম আল হাফেয আল কাবীর


তিনি পঞ্চাশ হাজার হাদীস মুখে বর্ণনা করতেন। স্পেনে কিছুদিন তিনি কাযী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৮০ হিজরী সন তাঁর জন্ম সাল মনে করা হয়। তিনি ২৮৭ হিজরী সনে মৃত্যুবরণ করেন। আবু মূসা মাদানী রহ. তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন। তিনি ইমাম বুখারী রহ.এর দরসে হাজির হয়ে ইলমী ইসতিফাদাহ গ্রহণ করেছেন।

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 ইবনে খুযাইমাহ

📄 ইবনে খুযাইমাহ


ইমাম যাহাবী রহ. তাঁকে ইমামুল আইম্মাহ ও শায়খুল ইসলাম উপাধি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইবনে খুযাইমা হাদীস ও ফিকহের পরিপূরক ছিলেন। তাঁর রচনা সম্পর্কে বলেন, তিনি একশত চোয়াল্লিশটি গ্রন্থ রচনা করেন। ইবনে হিব্বান রহ. বলেন, আমি ইবনে খুযাইমার মতো হাদীস শাস্ত্রে এমন আলিম আর দেখিনি।

ইবনে খুযাইমাহ রহ. ইমাম বুখারী রহ. এর পদ্ধতিতে হাদীস নির্বাচন করে একটি গ্রন্থ রচনা করেন। যা সহীহ ইবনে খুযাইমা নামে পরিচিতি লাভ করে। তবে সহীহ ইবনে খুযাইমাহ এবং সহীহ বুখারীর মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। যেমনটি সূর্য ও চন্দ্রের মাঝে থাকে।

তিনি মেহমানদারী অনেক পছন্দ করতেন। যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ও ফকীহ হয়েও তিনি ইমাম বুখারী রহ এর দরসে উপস্থিত হতেন এবং ইলমী ইস্তিফাদা হাসিল করতেন। হাফিয আয-যাহাবী রহ. তাযকিরাতুল হুফফায গ্রন্থে ইমাম বুখারী রহ.এর ছাত্রদের তালিকায় পঞ্চম স্তরে ইবনে খুযাইমাহ রহ.এর নাম উল্লেখ করেন। তিনি ২২৯ হিজরী সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩১১ হিজরী সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর বংশ তালিকা আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুযাইমাহ ইবনে আল মুগীরাহ ইবনে বকর আস সালামী আন নিশাপুরী।

ফন্ট সাইজ
15px
17px