📄 ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী
ইমাম তিরমিযি রহ. ইমাম বুখারী রহ.এর খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলেন। অনেকের মতে ইমাম তিরমিযি রহ. এর জীবনের বেশির ভাগ সময়ই ইমাম বুখারী রহ.এর হাদীসের পাঠদানে কাটিয়েছেন। কোন কোন মুহাদ্দীস তাঁকে ইমাম বুখারী রহ.এর খলিফা বলেছেন। ইমাম তিরমিযি রহ.এর হাদীসের পাণ্ডিত্য ছিল জগতবিখ্যাত।
নাম-মুহাম্মদ, তাঁর উপনাম ছিল, আবু ঈসা, বংশ তালিকা হল, মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরাহ ইবনে মুসা ইবনে যাহ্হাক আস সুলামি, আল জারির, আল বুগী, আত তিরমিযি। ইমাম তিরমিযির দাদা মারওয়াযি বংশের ছিলেন। তবে কিছু কারণে তিনি তিরমিয শহরে এসে বসবাস শুরু করেন। ইমাম তিরমিযি রহ. এর বংশ তালিকা বনী সালিমে গিয়ে সংযুক্ত হয়। যারা বনী গায়লানের একটি শাখা ছিল। তাঁর পিতার নাম ঈসা এবং তাঁর উপনামও আবু ঈসা।
তিনি আব্বাসীয় খলিফা আল মামুনের শাসনামলে ২০৯ হিজরী সনে উজবেকিস্থানের তিরমিয শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিশ বছর বয়সে হাদীস অধ্যয়ন শুরু করেন। তিনি উল্লেখযোগ্য ইমাম বুখারী রহ., ইমাম মুসলিম রহ., ইমাম আবু দাউদ রহ., কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ., আলী ইবনে হাজার রহ., মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ., থেকে হাদীসের শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি বসরা, কুফা, খুরাসান, হিযাযসহ আরো বেশ কিছু শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র গমন করেন। তাঁর শাগরিদদের তালিকাও বেশ বড়।
কিছু ঐতিহাসিক বর্ণনা করেন, তাঁর জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আল্লাহ ভীরুতার কারণে তাঁর চোখ হতে অনবরত পানি বের হতো। যার কারণে তিনি দৃষ্টিহীন হয়ে গিয়েছিলেন। আবার এ কারণে অনেকে তাঁকে জন্মান্ধও বলতেন। তিনি ২৭৯ হিজরী সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য লিখনীর মধ্যে জামে তিরমিযি ও শামায়েলে তিরমিযি জগত বিখ্যাত।
📄 ইমাম নাসায়ী
হাদীসে নববী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মূল স্তম্ভ সিয়াহ সিত্তার মধ্যে অন্যতম ইমাম নাসায়ী রহ. এর সুনানে নাসায়ী। ইমাম নাসায়ী রহ. এ প্রসিদ্ধ হাদীসগ্রন্থটি পৃথিবীর সকল দরসের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত। তিনি ২১৫ হিজরী সনে খুরাসানের উল্লেখযোগ্য নাসা ১৯৪ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। নাম আহমদ, উপনাম আবু আবদুর রহমান, তিনি প্রসিদ্ধ লাভ করেন, ইমাম নাসায়ী হিসেবে। বংশ তালিকা হল, আহমদ ইবনে শুয়াইব ইবনে আলী ইবনে বাহার ইবনে সিনান ইবনে দীনার। প্রাথমিক শিক্ষা নিজ শহরের শেষ করেন। এরপর পনের বছর বয়সে তিনি ২৩০ হিজরী সনে মাতৃভূমি ছেড়ে ইমাম কুতাইবা রহ. এর নিকট গমন করেন। এরপর হিযায, শাম, মিসর ইত্যাদি শহরে ভ্রমণ করে যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দীসীনদের কাছ থেকে হাদীসের পাঠ গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি মিসরে স্থায়ী হাদীসের পাঠদানে আত্মনিয়োগ করেন। কথিত আছে, তিনি মিসর থেকেই প্রসিদ্ধ ও গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেন। তিনি একজন সেকাহ রাবী ছিলেন। সবসময় তাঁর চেহারা ও মুখে আনন্দের ফুলঝুরি থাকতো। তিনি ৩০৩ হিজরী সনে মক্কায় ইন্তিকাল করেন।
টিকাঃ
১৯৪. নাসা বর্তমান তুর্কমেনিস্তানের শাসনাধীন।
📄 ইমাম ফিরাবরী
ইমাম ফিরাবরী রহ. প্রথম ব্যক্তি যিনি ইমামুল মুহাদ্দিসীন ইমাম বুখারী রহ. থেকে সহীহ বুখারী বর্ণনা করেছেন।
নাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে মাতার ইবনে সালেহ ইবনে বাশার আল ফিরাবরী। ২৩১ হিজরী সনে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। হাদীস শাস্ত্রে তাঁর পাণ্ডিত্য ছিল প্রসিদ্ধ। তাঁর কাছ থেকে বুখারী শোনার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে ছাত্ররা এসে ভিড় জমাতেন। সহীহ বুখারীতে কতক জয়গায় কুলা আল ফিরাবরী (ফিরাবরী বলেছেন) উল্লেখ আছে। আর এ কথা যে বিষয়ে উল্লেখ আছে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল, এ বিষয়ে ইমাম বুখারী রহ. ইমাম ফিরাবরী রহ. থেকে উপকৃত হয়েছেন। অথবা সহীহ বুখারীর এ অংশটি অন্য কোন মাধ্যমে ইমাম ফিরাবরী পেয়ে ছিলেন। যা তিনি ইমাম বুখারী রহ. থেকে শুনেননি। তিনি ৩৩০ হিজরী সনে ইন্তিকাল করেন।
📄 ইমাম দারেমী
দারেমী শব্দটি দারেম ইবনে মালেকের দিকে সম্পর্কিত। যিনি বনী তামীমের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ইমাম দারেমী ইমাম বুখারী রহ. এর প্রিয় শিষ্যদের অন্যতম ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে ইমাম বুখারী রহ. এতোটাই কষ্ট পেয়েছিলেন যে, তাঁর মৃত্যু সংবাদ শুনে মাথা নিচু করে ফেলে ছিলেন এবং চোখ দিয়ে অনবরত পানি ঝরছিল। তিনি এভাবে অনেকক্ষণ শোক পালন করলেন। এ ঘটনা থেকেই ইমাম দারেমীর প্রতি ইমাম বুখারী রহ.এর ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ পায়।
ইমাম দারেমী রহ. ১৮১ হিজরী সনে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর নাম আবদুল্লাহ, উপনাম আবু মুহাম্মদ। তাঁর বংশ তালিকা আবদুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে ফযল ইবনে বাহরাম ইবনে আবদুস সামাদ আত তামীমী আত দারেমী।
উলুমে ইসলামীয়্যাহর বড় বড় প্রাণকেন্দ্রে তিনি ভ্রমণ করেন। বিশেষ করে হিযায, মিসর, খুরাসান, ইরাক উল্লেখযোগ্য। শিক্ষকদের তালিকায় ইমাম বুখারী রহ. ছাড়াও ইয়াযিদ ইবনে হারুন রহ., নযর ইবনে শামিল রহ. ছিলেন। তাঁর ছাত্রদের তালিকাও অনেক বড়। মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আয যুহলী রহ., আবু দাউদ রহ., আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ রহ. ছিলেন উল্লেখযোগ্য। সহীহ মুসলিম ও জামে তিরমিযিতেও ইমাম দারেমী রহ.এর রেওয়ায়েত উল্লেখ আছে। তিনি ২৫৫ হিজরী সনে ইহলৌকিক জগত ত্যাগ করেন।