📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 ইমাম বুখারী রহ.এর উল্লেখযোগ্য শাগীরদদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

📄 ইমাম বুখারী রহ.এর উল্লেখযোগ্য শাগীরদদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি


ইমাম বুখারী রহ.এর উল্লেখযোগ্য শাগীরদদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি নিচে তুলে ধরা হলো:

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 ইমাম মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ

📄 ইমাম মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ


ইমাম মুসলিম রহ.এর পাণ্ডিত্য, জ্ঞানের গভীরতা, ফিকহী যোগ্যতা উল্লেখযোগ্য ছিল। ইমাম মুসলিম রহ. ইমাম বুখারী রহ.কে এতোটাই ভালো বাসতেন যে, তিনি ইমাম বুখারী রহ.কে ইমামুল মুহাদ্দীসীন বলে সম্মোধন করতেন। আবার কখনো কখনো তিনি ইমাম বুখারী রহ.এর কপালে চুম্বন করে বলতেন, আপনি আমাকে অনুমতি দিন যে, আমি আপনার পদযুগল চুম্বন করি। ১৯১ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আয যুহলী রহ. থেকে যখন ইমাম বুখারী রহ.এর প্রতি তাঁর অসন্তুষ্টির ঘটনা জানতে পারলেন। আর সে সময় পুরো শহর ইমাম বুখারীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও ইমাম মুসলিম রহ. মাসআলার গভীরে পৌঁছে ইমাম বুখারী রহ.এর সাথেই থাকলেন। ১৯২

এছাড়াও তিনি ইমাম যুহলী থেকে তিনি যতগুলি বর্ণনা লিখেছিলেন, সবগুলি উটের উপর রেখে ফেরত পাঠালেন।

নাম- মুসলিম, উপনাম- আবুল হুসাইন, উপাধি-আসাকির উদ্দীন, ২০২ হিজরী সনে তিনি খোরাসানের ১৯৩ নিশাপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বংশ তালিকা, মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ ইবনে ওয়ারদ ইবনে কুশায আল কুশাইরী। ইমাম মুসলিম রহ. এর সিলসিলা নসব যেহেতু কুশাইরী গোত্র থেকে, সেহেতু ইমাম মুসলিম রহ.কে কুশাইরীও বলা হয়। তিনি আরব বংশজাত ছিলেন। তাঁর পরিবারের আদি বাসস্থান নিশাপুর। শৈশবকাল হতেই তিনি হাদীস শিক্ষায় আত্মনিয়োগ করেন।

হাদীস শিক্ষার উদ্দেশ্যে তৎকালীন মুসলিম জাহানের সবগুলি কেন্দ্রেই তিনি গমন করেন। বিশেষকরে ইরাক, হিজায, শাম, মিশর অঞ্চল ব্যাপকভাবে ভ্রমণ করে তথায় অবস্থানকারী হাদীসের শ্রেষ্ঠ উস্তাদ ও মুহাদ্দীসদের নিকট হতে হাদীস শিক্ষা ও সংগ্রহ করেন। তবে তিনি বাগদাদ কয়েকবার গমন করেন এবং সেখানে হাদীসের পাঠদানও করেন। তিনি সর্বশেষ ২৫৯হিজরী সনে বাগদাদ গিয়েছিলেন।

ইমাম মুসলিম রহ. সর্বপ্রথম ২১৮/৮১৩ হিজরী সনে হাদীসের দরসে বসতে শুরু করেন। তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া নিশাপুরী রহ., আহমদ ইবনে হাম্মল রহ., ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ রহ., আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা আল কানাবী রহ., ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল বুখারী রহ. ছাড়াও আরো অনেকের কাছ থেকে হাদীসের পাঠ গ্রহণ করেন।

ইমাম মুসলিম ছিলেন উলূমে হাদীসের এক বিশাল সাগর। বিশ্বের সকল হাদীস বিশারদ তাঁকে এ বিষয়ে একজন শ্রেষ্ঠ ইমাম বলে ঐকমত্য পোষণ করেন। তাঁর যুগের বড় বড় মুহাদ্দীসগণ তাঁর কাছ থেকে হাদীসের শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তাঁর প্রখ্যাত শাগীরদদের মধ্যে ইমাম আবু হাতেম রাযী রহ., আবু ঈসা তিরমিযী রহ., আবু বকর ইবনে খুযাইমাহ রহ., ইয়াহইয়া ইবনে ছঈদ রহ. আবু আওয়ানা রহ. ছিলেন উল্লেখযোগ্য।

২৫ শে রজব, রোববার দিন মোতাবেক ২৬১ হিজরী সনে নিশাপুরের নাসিরাবাদ শহরে ৫৫ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

টিকাঃ
১৯১. أَبُو حَامِدِ الْأَعْمَشِ يَقُولُ سَمِعت مُسلم بن الحجاج وَجَاء إِلَى مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيلَ فَقَبل بَين عَيْنَيْهِ وَقَالَ دَعْنِي حَتَّى أقبل رجليك يا أستاذ الأستاذين وسيد المحدثين وطبيب الحديث في علله (ফতহুল বারী ১/৪৮৮)
১৯২. এ সমন্ধে ৮ নং টীকায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। (অনুবাদক)
১৯৩. বর্তমান ইরাক।

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী

📄 ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী


ইমাম তিরমিযি রহ. ইমাম বুখারী রহ.এর খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলেন। অনেকের মতে ইমাম তিরমিযি রহ. এর জীবনের বেশির ভাগ সময়ই ইমাম বুখারী রহ.এর হাদীসের পাঠদানে কাটিয়েছেন। কোন কোন মুহাদ্দীস তাঁকে ইমাম বুখারী রহ.এর খলিফা বলেছেন। ইমাম তিরমিযি রহ.এর হাদীসের পাণ্ডিত্য ছিল জগতবিখ্যাত।

নাম-মুহাম্মদ, তাঁর উপনাম ছিল, আবু ঈসা, বংশ তালিকা হল, মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরাহ ইবনে মুসা ইবনে যাহ্হাক আস সুলামি, আল জারির, আল বুগী, আত তিরমিযি। ইমাম তিরমিযির দাদা মারওয়াযি বংশের ছিলেন। তবে কিছু কারণে তিনি তিরমিয শহরে এসে বসবাস শুরু করেন। ইমাম তিরমিযি রহ. এর বংশ তালিকা বনী সালিমে গিয়ে সংযুক্ত হয়। যারা বনী গায়লানের একটি শাখা ছিল। তাঁর পিতার নাম ঈসা এবং তাঁর উপনামও আবু ঈসা।

তিনি আব্বাসীয় খলিফা আল মামুনের শাসনামলে ২০৯ হিজরী সনে উজবেকিস্থানের তিরমিয শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিশ বছর বয়সে হাদীস অধ্যয়ন শুরু করেন। তিনি উল্লেখযোগ্য ইমাম বুখারী রহ., ইমাম মুসলিম রহ., ইমাম আবু দাউদ রহ., কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ., আলী ইবনে হাজার রহ., মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ., থেকে হাদীসের শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি বসরা, কুফা, খুরাসান, হিযাযসহ আরো বেশ কিছু শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র গমন করেন। তাঁর শাগরিদদের তালিকাও বেশ বড়।

কিছু ঐতিহাসিক বর্ণনা করেন, তাঁর জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আল্লাহ ভীরুতার কারণে তাঁর চোখ হতে অনবরত পানি বের হতো। যার কারণে তিনি দৃষ্টিহীন হয়ে গিয়েছিলেন। আবার এ কারণে অনেকে তাঁকে জন্মান্ধও বলতেন। তিনি ২৭৯ হিজরী সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য লিখনীর মধ্যে জামে তিরমিযি ও শামায়েলে তিরমিযি জগত বিখ্যাত।

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 ইমাম নাসায়ী

📄 ইমাম নাসায়ী


হাদীসে নববী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মূল স্তম্ভ সিয়াহ সিত্তার মধ্যে অন্যতম ইমাম নাসায়ী রহ. এর সুনানে নাসায়ী। ইমাম নাসায়ী রহ. এ প্রসিদ্ধ হাদীসগ্রন্থটি পৃথিবীর সকল দরসের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত। তিনি ২১৫ হিজরী সনে খুরাসানের উল্লেখযোগ্য নাসা ১৯৪ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। নাম আহমদ, উপনাম আবু আবদুর রহমান, তিনি প্রসিদ্ধ লাভ করেন, ইমাম নাসায়ী হিসেবে। বংশ তালিকা হল, আহমদ ইবনে শুয়াইব ইবনে আলী ইবনে বাহার ইবনে সিনান ইবনে দীনার। প্রাথমিক শিক্ষা নিজ শহরের শেষ করেন। এরপর পনের বছর বয়সে তিনি ২৩০ হিজরী সনে মাতৃভূমি ছেড়ে ইমাম কুতাইবা রহ. এর নিকট গমন করেন। এরপর হিযায, শাম, মিসর ইত্যাদি শহরে ভ্রমণ করে যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দীসীনদের কাছ থেকে হাদীসের পাঠ গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি মিসরে স্থায়ী হাদীসের পাঠদানে আত্মনিয়োগ করেন। কথিত আছে, তিনি মিসর থেকেই প্রসিদ্ধ ও গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেন। তিনি একজন সেকাহ রাবী ছিলেন। সবসময় তাঁর চেহারা ও মুখে আনন্দের ফুলঝুরি থাকতো। তিনি ৩০৩ হিজরী সনে মক্কায় ইন্তিকাল করেন।

টিকাঃ
১৯৪. নাসা বর্তমান তুর্কমেনিস্তানের শাসনাধীন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px