📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 ইমাম বুখারী রহ.এর উল্লেখযোগ্য শাগীরদ

📄 ইমাম বুখারী রহ.এর উল্লেখযোগ্য শাগীরদ


ইমাম বুখারী রহ.এর শাগীরদদের তালিকাও অনেক লম্বা। মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল ফিরাবরী রহ. বলেন, ইমাম বুখারী রহ. এর থেকে নব্বই হাজারেরও অধিক ছাত্র জামে সহীহ (সহীহ বুখারী) শ্রবণ করেছেন। ১৮৮

ইমাম বুখারী রহ. এর দরস ব্যাপক ছিল। পৃথিবীর আনাচে কানাচে থেকে তাঁর দরসে ছাত্ররা উপস্থিত হতেন। কখনো তিনি মসজিদে আবার কখনো তিনি নিজগৃহে দরস দিতেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য শাগীরদরা হলেন, হাফেয আবু ঈসা তিরমিযী রহ., আবু আবদুর রহমান নাসায়ী রহ., মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ রহ.সহ আরো অনেকে। যাঁদেরকে হাদীসের রুকনে সিত্তার উল্লেখযোগ্য স্তম্ভ বলা হয়। ১৮৯

আবু যুরআহ রহ., আবু হাতেম রহ., ইবনে খুযাইমাহ রহ., মুহাম্মাদ ইবনে নাসর মারওয়াযী রহ., আবু আবদুল্লাহ আল ফিরাবরী রহ.সহ আরো অনেকে ইমাম বুখারী রহ এর উল্লেখযোগ্য শাগীরদ ছিলেন। যাঁরা পরবর্তীকালে যুগ শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দীস হিসেবে হাদীসে নবুবীর খেদমাত করেছেন। ১৯০

ইমামুল মুহাদ্দীসীন ইমাম বুখারী রহ.এর দরস ছিল, হাদীস, ফিকাহ, তারীখ, তাফসীর, সনদ ও রাবীদের জীবনী গবেষণাগার। আর সেখানে পৃথিবীর আনাচে-কানাচে থেকে ইলম পিপাসুরা উপস্থিত হতেন। এমন একটি দরসের ছাত্র সংখ্যা নির্ণয় করা বাস্তবেই কষ্টসাধ্য ব্যাপার।

টিকাঃ
১৮৮. ইরশাদুস সারী (৩৩ পৃষ্ঠা)
১৮৯. তাহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত (৭৩ পৃষ্ঠা)
১৯০. তাযকিরাতুল হুফ্ফায (২য় খণ্ড)

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 ইমাম বুখারী রহ.এর উল্লেখযোগ্য শাগীরদদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

📄 ইমাম বুখারী রহ.এর উল্লেখযোগ্য শাগীরদদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি


ইমাম বুখারী রহ.এর উল্লেখযোগ্য শাগীরদদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি নিচে তুলে ধরা হলো:

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 ইমাম মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ

📄 ইমাম মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ


ইমাম মুসলিম রহ.এর পাণ্ডিত্য, জ্ঞানের গভীরতা, ফিকহী যোগ্যতা উল্লেখযোগ্য ছিল। ইমাম মুসলিম রহ. ইমাম বুখারী রহ.কে এতোটাই ভালো বাসতেন যে, তিনি ইমাম বুখারী রহ.কে ইমামুল মুহাদ্দীসীন বলে সম্মোধন করতেন। আবার কখনো কখনো তিনি ইমাম বুখারী রহ.এর কপালে চুম্বন করে বলতেন, আপনি আমাকে অনুমতি দিন যে, আমি আপনার পদযুগল চুম্বন করি। ১৯১ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আয যুহলী রহ. থেকে যখন ইমাম বুখারী রহ.এর প্রতি তাঁর অসন্তুষ্টির ঘটনা জানতে পারলেন। আর সে সময় পুরো শহর ইমাম বুখারীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও ইমাম মুসলিম রহ. মাসআলার গভীরে পৌঁছে ইমাম বুখারী রহ.এর সাথেই থাকলেন। ১৯২

এছাড়াও তিনি ইমাম যুহলী থেকে তিনি যতগুলি বর্ণনা লিখেছিলেন, সবগুলি উটের উপর রেখে ফেরত পাঠালেন।

নাম- মুসলিম, উপনাম- আবুল হুসাইন, উপাধি-আসাকির উদ্দীন, ২০২ হিজরী সনে তিনি খোরাসানের ১৯৩ নিশাপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বংশ তালিকা, মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ ইবনে ওয়ারদ ইবনে কুশায আল কুশাইরী। ইমাম মুসলিম রহ. এর সিলসিলা নসব যেহেতু কুশাইরী গোত্র থেকে, সেহেতু ইমাম মুসলিম রহ.কে কুশাইরীও বলা হয়। তিনি আরব বংশজাত ছিলেন। তাঁর পরিবারের আদি বাসস্থান নিশাপুর। শৈশবকাল হতেই তিনি হাদীস শিক্ষায় আত্মনিয়োগ করেন।

হাদীস শিক্ষার উদ্দেশ্যে তৎকালীন মুসলিম জাহানের সবগুলি কেন্দ্রেই তিনি গমন করেন। বিশেষকরে ইরাক, হিজায, শাম, মিশর অঞ্চল ব্যাপকভাবে ভ্রমণ করে তথায় অবস্থানকারী হাদীসের শ্রেষ্ঠ উস্তাদ ও মুহাদ্দীসদের নিকট হতে হাদীস শিক্ষা ও সংগ্রহ করেন। তবে তিনি বাগদাদ কয়েকবার গমন করেন এবং সেখানে হাদীসের পাঠদানও করেন। তিনি সর্বশেষ ২৫৯হিজরী সনে বাগদাদ গিয়েছিলেন।

ইমাম মুসলিম রহ. সর্বপ্রথম ২১৮/৮১৩ হিজরী সনে হাদীসের দরসে বসতে শুরু করেন। তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া নিশাপুরী রহ., আহমদ ইবনে হাম্মল রহ., ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ রহ., আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা আল কানাবী রহ., ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল বুখারী রহ. ছাড়াও আরো অনেকের কাছ থেকে হাদীসের পাঠ গ্রহণ করেন।

ইমাম মুসলিম ছিলেন উলূমে হাদীসের এক বিশাল সাগর। বিশ্বের সকল হাদীস বিশারদ তাঁকে এ বিষয়ে একজন শ্রেষ্ঠ ইমাম বলে ঐকমত্য পোষণ করেন। তাঁর যুগের বড় বড় মুহাদ্দীসগণ তাঁর কাছ থেকে হাদীসের শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তাঁর প্রখ্যাত শাগীরদদের মধ্যে ইমাম আবু হাতেম রাযী রহ., আবু ঈসা তিরমিযী রহ., আবু বকর ইবনে খুযাইমাহ রহ., ইয়াহইয়া ইবনে ছঈদ রহ. আবু আওয়ানা রহ. ছিলেন উল্লেখযোগ্য।

২৫ শে রজব, রোববার দিন মোতাবেক ২৬১ হিজরী সনে নিশাপুরের নাসিরাবাদ শহরে ৫৫ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

টিকাঃ
১৯১. أَبُو حَامِدِ الْأَعْمَشِ يَقُولُ سَمِعت مُسلم بن الحجاج وَجَاء إِلَى مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيلَ فَقَبل بَين عَيْنَيْهِ وَقَالَ دَعْنِي حَتَّى أقبل رجليك يا أستاذ الأستاذين وسيد المحدثين وطبيب الحديث في علله (ফতহুল বারী ১/৪৮৮)
১৯২. এ সমন্ধে ৮ নং টীকায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। (অনুবাদক)
১৯৩. বর্তমান ইরাক।

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী

📄 ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী


ইমাম তিরমিযি রহ. ইমাম বুখারী রহ.এর খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলেন। অনেকের মতে ইমাম তিরমিযি রহ. এর জীবনের বেশির ভাগ সময়ই ইমাম বুখারী রহ.এর হাদীসের পাঠদানে কাটিয়েছেন। কোন কোন মুহাদ্দীস তাঁকে ইমাম বুখারী রহ.এর খলিফা বলেছেন। ইমাম তিরমিযি রহ.এর হাদীসের পাণ্ডিত্য ছিল জগতবিখ্যাত।

নাম-মুহাম্মদ, তাঁর উপনাম ছিল, আবু ঈসা, বংশ তালিকা হল, মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরাহ ইবনে মুসা ইবনে যাহ্হাক আস সুলামি, আল জারির, আল বুগী, আত তিরমিযি। ইমাম তিরমিযির দাদা মারওয়াযি বংশের ছিলেন। তবে কিছু কারণে তিনি তিরমিয শহরে এসে বসবাস শুরু করেন। ইমাম তিরমিযি রহ. এর বংশ তালিকা বনী সালিমে গিয়ে সংযুক্ত হয়। যারা বনী গায়লানের একটি শাখা ছিল। তাঁর পিতার নাম ঈসা এবং তাঁর উপনামও আবু ঈসা।

তিনি আব্বাসীয় খলিফা আল মামুনের শাসনামলে ২০৯ হিজরী সনে উজবেকিস্থানের তিরমিয শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিশ বছর বয়সে হাদীস অধ্যয়ন শুরু করেন। তিনি উল্লেখযোগ্য ইমাম বুখারী রহ., ইমাম মুসলিম রহ., ইমাম আবু দাউদ রহ., কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ., আলী ইবনে হাজার রহ., মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ., থেকে হাদীসের শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি বসরা, কুফা, খুরাসান, হিযাযসহ আরো বেশ কিছু শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র গমন করেন। তাঁর শাগরিদদের তালিকাও বেশ বড়।

কিছু ঐতিহাসিক বর্ণনা করেন, তাঁর জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আল্লাহ ভীরুতার কারণে তাঁর চোখ হতে অনবরত পানি বের হতো। যার কারণে তিনি দৃষ্টিহীন হয়ে গিয়েছিলেন। আবার এ কারণে অনেকে তাঁকে জন্মান্ধও বলতেন। তিনি ২৭৯ হিজরী সনে ইন্তিকাল করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য লিখনীর মধ্যে জামে তিরমিযি ও শামায়েলে তিরমিযি জগত বিখ্যাত।

ফন্ট সাইজ
15px
17px