📄 কারামত
ইমাম বুখারী রহ.কে কবরে দাফনের পর, কবর থেকে মিশক আম্বরের সুঘ্রাণ আসতে থাকে। আশ্চর্যভাবে লোকেরা তাঁর কবরের মাটি সংগ্রহ করতে লাগলো। কবরে মানুষের মাত্রাতিক্ত সমাগমের কারণে রক্ষী নিয়োগ করা হলো। এর পরেও যখন লোক সমাগম নিয়ন্ত্রন করা যাচ্ছিল না, তখন কবরকে হিফাযতের জন্য বাঁশের খাঁচি বানিয়ে কবরকে হিফাযত করা হল। ইমাম বুখারী রহ.এর মৃত্যুর পর এমন কারামত প্রকাশের কারণে তাঁর বিরুদ্ধীবাদীরা ইমাম বুখারী রহ. প্রতি বিদ্বেষ পোষণের কারণে অনুশোচনা করতে লাগলো। ১৮৩
টিকাঃ
১৮৩. হাদইউস সারী (৪৯৩ পৃষ্ঠা) সিয়ারু আ'লামীন নুবালা (১২/৪৬৭)
📄 ইমাম বুখারী রহ.এর কবর জান্নাতের এটি বাগান
একটি হাদীসের মর্মার্থ এমন যে, কবর হল, জান্নাতের একটি বাগান হবে নয়তো জাহান্নামের গহ্বর হবে। শায়খুত তাফসীর, সুলতানুল আরেফীন আল্লামা লাহোরী রহ. বলতেন, যদি অন্তরচক্ষু প্রসারিত হয়, তাহলে কবরের পাশে গেলেই বুঝে আসে কোনটি জান্নাতের বাগান আর কোনটি জাহান্নামের গহ্বর।
ইমাম বুখারী রহ.কে যখন দাফন করা হচ্ছিল, তখন তার কবরে সুগন্ধি দিয়ে ভরপুর ছিলো। যেন কবর দুনিয়াবাসীকে সাক্ষি দিয়ে জানিয়ে দিচ্ছিল যে, এ কবর জান্নাতেরই এটি বাগান। কখনো কখনো জান্নাতের এ সুঘ্রণ এতোটাই প্রবল হয়ে উঠে যে, বরযখের পর্দা ভেদ করে দুনিয়াতে ছড়াতে থাকে। ইমাম বুখারী রহ. এর বেলায়ও তাই ঘটেছিলো। তা অনুভব করেই মানুষ বলতে লাগলো এটি যেন জান্নাতেরই একটি বাগান। আর এ সুঘ্রণ পৃথিবীর কোন সুঘ্রণের সাথেই তো মেলে না। ১৮৪
ইমাম যাহাবী লিখেন যে, আবু আলী গাস্সানী র. বলেছেন যে, ৪৬৪ হিজরী সনের কথা, সে সময় আবুল ফাতাহ সমরকান্দী বালনাসিয়ায় আমাদের কাছে তাশরীফ নিয়েছিলেন। তিনি বলতেন, একবার সমরকান্দে অনাবৃষ্টির কারণে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিলো। লোকেরা বৃষ্টির জন্য দোয়া করলেন। কিন্তু বৃষ্টি হলো না। অতঃপর একজন নেককার ব্যক্তি সমরকান্দের প্রশাসককে পরামর্শ দিলেন যে, আমরা সকলে খরতঙ্গে গিয়ে ইমাম বুখারী রহ.এর কবরের পাশে ইসতিসকার সালাত আদায় করি এবং খরতঙ্গে বৃষ্টির জন্য দোয়া করি। শহরের প্রশাসক পরামর্শটি গ্রহণ করলেন এবং সে অনুযায়ী কাজও করলেন। অতঃপর দেখা গেল আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এমন বৃষ্টি দান করলেন। যার কারণে সমরকান্দের অধিবাসীরা সাত দিনেও খরতঙ্গ থেকে সমরকান্দে ফিরতে পারলেন না। যদিও খরতঙ্গ থেকে সমরকান্দের দূরত্ব মাত্র তিন মাইল ছিলো। ১৮৫
টিকাঃ
১৮৪. খুতুবাতে সফদর (১/৩৯)
১৮৫. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১২/৪৬৯)