📄 ইবাদত ও সাধনা
ইমাম বুখারী রহ. ইবাদাত করতে, রাত্রি জাগরণ করতে এবং বেশি বেশি নফল নামায আদায় করতে এবং নফল রোজা পালন করতে ভাল বাসতেন। রমযান মাসে তিনি প্রতিদিন এক খতম করে কোরআন তেলাওয়াত করতেন এবং প্রতিদিনই অর্ধরাত্রে উঠে দশপারা করে কোরআন তেলাওয়াত করতেন। সেই সাথে তারাবীহের নামাজেও এক খতম কোরআন তেলাওয়াত করতেন।
আবু বকর ইবনে মুনীর রহ. বর্ণনা করেন, একদা মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল নামায আদায় করছিলেন। অতঃপর নামায শেষ করে নিজের জামা উঠিয়ে শাগীরদকে বললেন, আমার জামার নীচে কী আছে দেখ? অতঃপর শাগীরদ দেখলেন, তার জামার নিচে একটি ভিমরুল জায়গায় জায়গায় ক্ষত সৃষ্টি করেছে। ইবনে মুনীর রহ. ইমাম বুখারী রহ. কে জিজ্ঞেস করলেন, আপনাকে যখন প্রথমবার ভিমরুল দংশন করল, তখন কেন আপনি নামায ছেড়ে দিলেন না? ইমাম বুখারী রহ. জবাবে বললেন, আমি কোরআনের যে আয়াতে কারীমা তিলাওয়াত করছিলাম, তাতে এতোটাই স্বাদ ও উদ্দীপনা অনুভব করছিলাম যে, অন্য কোন কষ্ট অনুভব করা সম্ভবই ছিল না।
ইমাম বুখারী রহ. যখন নামায আদায় করতেন, তখন তিনি নামাজে এভাবে মনোনিবেশ করতেন যে, তিনি দুনিয়ার সকল বিষয় থেকে গাফেল থাকতেন। সুতরাং ইবাদতের প্রতি তার খুশু-খুজু, তন্ময়তা ও নিবিষ্টচিত্তা অনুমান করা আমাদের সাধারণের জন্য অসম্ভব।
টিকাঃ
১০৫. তারীখে বাগদাদ (২/১২)
📄 ইবাদতের প্রতি উদ্দীপনা
ইমাম বুখারী রহ. সমন্ধে যতো বেশিই প্রশংসা করি না কেন, তা বেশি করা হবে এমন না। তিনি তো প্রত্যেক কাজেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পূর্ণরূপে অনুসরণ করতেন। এছাড়াও তিনি সর্বদায় শেষ রাতে তের রাকাত নামায আদায় করতেন। আর রমযান মাসে তা আরো গুরুত্বসহ বেশি বেশি আদায় করতেন।
ইবনে হাজার আসকালানী রহ. ইমাম বুখারী রহ. সম্পর্কে বলেন, كَانَ مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيلَ البُخَارِيّ إِذَا كَانَ أَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ يَجْتَمع إِلَيْهِ أَصْحَابه فيصلى بهم وَيقْرَأ في كل رَكْعَة عشرين آيَةٍ وَكَذَلِكَ إِلَى أَن يختম الْقُرْآن وَكَانَ يقْرَأ في السحر ما بين النّصف إِلَى الثلث من الْقُرْآن فيختم عند السحر في كل ثلاث ليال وَكَانَ يختم بِالنَّهَارِ فِي كل يوم ختمة ويكون ختمه عِنْد الْإِفْطَار كل لَيْلَة وَيَقُول عِند كل ختمة دَعْوَة مستجابة
ইমাম বুখারী রহ. এর সাধারণ নিয়ম ছিল যে, যখন রমযানের প্রথম রাত্রি আসতো, তখন তাঁর দরবারে যারা সমবেত হতেন, তাদেরকে সাথে নিয়ে তিনি প্রতি রাকাআতে বিশটি করে আয়াত পাঠের মধ্যদিয়ে নামায আদায় করতেন। এভাবে তিনি পুরো রমযানে কোরআন খতম করতেন। সেই সাথে সাহরীর সময়ও অর্ধেক অথবা এক তৃতীয়াংশের মাঝামাঝি পরিমাণ কোরআন তেলাওয়াত করতেন। এভাবে তিনি সাহরীর সময়ে তিন রাতে কোরআন খতম করতেন। এছাড়াও তিনি পুরো দিন কোরআন তেলাওয়াত করতেন এবং প্রতিদিন একবার খতম করতেন এবং বলতেন, প্রত্যেক খতমে দোয়া কবুল হয়।
ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বর্ণনা থেকে দুটি বিষয় সামনে আসে। প্রথমতঃ ইমাম বুখারী রহ. রমযানুল মোবারকে তারাবীহের নামায ছাড়াও তাহাজ্জুদের নামায পড়তেন। এর দ্বারা প্রমাণ হয় যে, ইমাম বুখারী রহ. এর নিকট তারাবীহ ও তাহাজ্জুদের মধ্যে পার্থক্য আছে। দু'টি এক নামায নয়; বরং আলাদা নামায। কিন্তু গায়রে মুকাল্লিদ তথা আহলে হাদীস হযরতরা ইমাম বুখারী রহ. এর এই আমল বিরোধী। এ বিষয়ে তাদের উগ্র হঠকারি মতামত এই যে, তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ আলাদা আলাদা নামায় নয়; বরং একই নামায। যেমন- গায়রে মুকাল্লিদদের শায়খুল হাদীস মাওলানা মুহাম্মদ ইসমাঈল সালাফী লিখেন, কিছু লোক তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ আলাদা আলাদা নামায মনে করেন, তবে এটি সঠিক নয়। কেননা এ সমন্ধে কোন দলীলই হাদীসের মধ্যে পাওয়া যায় না। আল্লামা ওহীদুজ্জামান সাহেব লিখেন, শুদ্ধ মতামত তো এটিই যে, তারাবীহ, তাহাজ্জুদ, সালাতুল লাইল একই নামায। হাকীম সাদেক শিয়ালকুঠি সাহেব লিখেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবীদের তারাবীহের নামায বিতিরসহ পড়িয়েছেন এবং এর পরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনোই তাহাজ্জুদ পড়েননি ও বিতিরও পড়েননি। এতে প্রতীয়মান হয় যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রমযান মাসের কিয়ামুল লাইল (তাহাজ্জুত), কিয়ামু রামাযান (তারাবীহ) দ্বারা পরিবর্তন হয়েছে। অর্থৎ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে তাহাজ্জুদ এবং বিতির গায়রে রমযানে (রমযান ছাড়া অন্য মাসে) ঘুম থেকে উঠে শেষ রাতে পড়তেন, রমযান মাসে তিনি সেই তাহাজ্জুদ ও বিতির তারাবীহ নামে ঘুমের পূর্বে এশার নামাযের পর পড়ে নিতেন। প্রায় সমস্ত গায়রে মুকাল্লিদীনদের মতামত ও রায় এমনই, যা ইমাম বুখারী রহ. এর মতামত, রায় ও আমলের সম্পূর্ণ বিরোধী।
দ্বিতীয়তঃ ইমাম বুখারী রহ. রমযান মাসে দিনের বেলায় পুরো কোরআন খতম করতেন। এর দ্বারা প্রমাণিত হয়, ইমাম বুখারী রহ. এর নিকট তিনদিনের কম সময়ে কোরআন খতম করা যায়েজ আছে। যেমন তিনি সহীহ বুখারীতে ২/৭৫৫ একটি বাব কায়েম করে এর প্রমাণ দিয়েছেন। অথচ গায়রে মুকাল্লিদ উলামারা এর কঠোর বিরোধী। তাদের মত হল, তিন দিনের কম সময়ে কোরআন খতম করা মাকরুহ ও খেলাফে আদব। যেমন- আল্লামা অহীদুজ্জামান লিখেন, ভাল উপায় হল, কোরআনের তরজমা বুঝে বুঝে চল্লিশ দিনে অথবা সাতদিনে অথবা তিনদিনে খতম করবে। এর থেকে কম সময়ে কোরআন খতম করা আমাদের আহলে হাদীস মাকরুহ বলেছেন। সেই সাথে আদব ও সম্মানের বিরোধীও হয়। তিনি অন্যত্রে লিখেন, তিন দিনের কম সময়ে কোরআন খতম করা মাকরুহ।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, ইমাম আবু হানীফা রহ. পুরো বছর তাহাজ্জুদের নামাযে প্রতিদিনই এক খতম কোরআন তেলাওয়াত করতেন। এ বিষয়ের উপর গায়রে মুকাল্লিদীন বিদ্রুপ করে বলেন, এটি হাদীস বিরোধী। কিন্তু ইমাম বুখারী রহ. এর বেলায় তারা কিছুই বলেন না। যদিও ইমাম আবু হানিফা রাহ. ও ইমাম বুখারী রহ.এর রায় ও আমল একই, তবে তাদের পার্থক্য করার কারণ কী? এই প্রশ্নটিই পাঠক মহলের কাছে রাখলাম।
টিকাঃ
১০৬. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১১/২৬)
১০৭. (১) ইমাম বুখারী রহ. প্রতি রাকাআতে বিশটি করে আয়াত পড়তেন। (২) আর এভাবে তিনি পবিত্র কোরআন খতম করতেন। এবার এই বর্ণনা অনুযায়ী হিসাব করা যাক। মাস যদি ৩০ দিনে হয়, আর তিনি যদি ৮ রাকাআত পড়েন তাহলে হিসাব দাঁড়ায়, তিনি প্রতিদিন পড়েন, (৮x ২০)=১৬০ আয়াত। ৩০দিনে পড়েন (৩০x১৬০)=৪৮০০ আয়াত। আমরা জানি পবিত্র কোরআনের আয়াত সংখ্যা ৬৬৬৬টি। তাহলে ৮ রাকাআত করে তারাবীহ পড়লে ৪৮০০টি আয়াত পড়া সম্ভব। বাকি ১৮৬৬টি আয়াত পাঠ না করে তিনি কিভাবে পবিত্র কোরআন খতম করতেন? অথচ ৮ রাকাআত তারাবীহ পড়ে কস্মিনকালেও পবিত্র কোরআন খতম করা সম্ভব নয়। সুতরাং এর দ্বারা প্রমাণ হয়, ইমাম বুখারী রহ. স্বয়ং নিজেও ৮ রাকাআত তারাবীহ পড়েননি। এছাড়াও ইমাম বুখারী রহ. স্বীয় গ্রন্থ তারিখুল কাবীর এর ৯/২৩৪ নম্বর হাদীসে তারাবীহ এর বিশ রাকাআতের পক্ষে দলিল পেশ করেছেন। তিনি বর্ণনা করেন, أبو الخضيب قَالَ يحيى بن مُوسَى قَالَ نا جَعْفَر بن عون سَمِعَ أبا الخضيب الجعفي كان سويد بن غفلة يؤمنا في رمضان عشرين ركعة. হযরত আবু খুদাইব রহ. হতে বর্ণিত তিনি বলেন, হযরত সুয়াইদ রা. সব সময় ২০ রাকাআত তারাবীহ নামাজ পড়তেন। -তারীখুল কাবীর (৯/২৮) কিতাবুল কুনা, হাদীস (২৩৪)
১০৮. হাদইয়ুস সারী (৪৮১ পৃষ্ঠা)
১০৯. ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বর্ণনা থেকে দুটি বিষয় সামনে আসে। প্রথমতঃ ইমাম বুখারী রহ. রমযানুল মোবারকে তারাবীহের নামায ছাড়াও তাহাজ্জুদের নামায পড়তেন। এর দ্বারা প্রমাণ হয় যে, ইমাম বুখারী রহ. এর নিকট তারাবীহ ও তাহাজ্জুদের মধ্যে পার্থক্য আছে। দু'টি এক নামায নয়; বরং আলাদা নামায। বুখারী শরীফে বর্ণিত আছে, আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত। তিনি হযরত আয়েশা রা. কে জিজ্ঞাস করলেন, রমযান মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামায কেমন ছিল? হযরত আয়েশা রাঃ বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমযান মাসে ও অন্যান্য মাসে রাতে এগারো রাকাআতের অধিক সালাত আদায় করতেন না। প্রথমে চার রাকাআত পড়তেন। এ চার রাকাআতের সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর না। অতঃপর আরো চার রাকাআত পড়তেন। এ চার রাকাআতের সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর না। অতঃপর তিন রাকাআত আদায় করতেন। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি বিতির সালাত আদায়ের পূর্বে ঘুমিয়ে পড়েন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমার চোখ ঘুমায়, আমার অন্তর ঘুমায় না। -সহীহ বুখারী (৩৫৬৯)। গাইরে মুকাল্লিদ হযরতরা এ হাদীসটি দ্বারা তারাবীহ আট রাকাত হওয়ার শক্তিশালী দলিল পেশ করেন। কিন্তু আসলে এ হাদীসটি তাহাজ্জুদ সম্পর্কে, তারাবীহ সম্পর্কে নয়।...
১১০. রাসূল সাঃ কী নামায (৯৮ পৃষ্ঠা)
১১১. তাইসীরুল বারী (২/৭৭)
১১২. সালাতুর রাসূল (৩৮০ পৃষ্ঠা)
১১৩. তাইসীরুল বারী (৩/১৩১)
১১৪. তাইসীরুল বারী (৬/৫৩৫)
📄 চারিত্রিক মাধুর্য
ইমাম বুখারী রহ. এর চরিত্র ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামের চরিত্রের প্রতিচ্ছবি। তিনি সভ্য, ভদ্র, দয়ার্দ্র ও সহনশীল ছিলেন। তাকওয়া ও পরহেজগারীতে তার কোন উপমা ছিল না। হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ রহ. বলেন, তিনি সল্পভাষী ছিলেন, অন্য লোকের নিকট যা আছে তার প্রতি ঈর্ষা ও লোভ করতেন না এবং অন্যদের কর্মকাণ্ডে আত্মনিয়োগ করতেন না। তার পূর্ণ আত্মনিয়োগ ছিল জ্ঞানের প্রতি ও হাদীস গবেষণার প্রতি।
ইমাম বুখারী রহ. কখনো তার সাথে কৃত অপরাধের প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন না। ইমাম বুখারী রহ. নিশাপুরে অবস্থান কালে 'কুরআন মাখলুক নয়' না বলার কারনে ইমাম বুখারী রহ. এর শায়েখ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া যুহলী নিশাপুরকে তাঁর বিপক্ষে রণাঙ্গন তৈরি করলেন। সেই সাথে ইমাম বুখারী রহ. এর দরসের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন। পরে নিশাপুরের প্রশাসক তাঁকে নিশাপুর ত্যাগে বাধ্য করলেন। এ ঘটনায় ইমাম মুসলিম রহ. এ পরিমাণ রাগান্বিত হলেন যে, মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া থেকে এমলাকৃত (শ্রুত লিপি) সমস্ত হাদীস একটি বাণ্ডিল বানিয়ে তার কাছে ফেরত পাঠালেন। কিন্তু ইমাম বুখারী রহ. নিজে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া এর হাদীসকে পরিত্যাগ করেননি। এমনকি সহীহ বুখারীতেও তার রেওয়ায়েত উল্লেখ করেছেন। তবে সেখানে তিনি তার পুরো নাম উল্লেখ করেননি; বরং তিনি তার দাদার নাম মুহাম্মদ ইবনে খালিদ এর দিকে লক্ষ্য করে মুহাম্মদ ইবনে খালিদ লিখেছেন অথবা কেবল "মুহাম্মদ" লিখেছেন। কেউ এ বিষয়ে ইমাম বুখারী রহ. কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, তিনি আমার উপর "যরাহ" করতেন। আর যদি আমি পরিষ্কারভাবে তার পুরো নাম উল্লেখ করতাম, তাহলে নির্দিষ্ট হয়ে যেতেন। আর মানুষেরা মনে করতেন, আমার 'যরাহ' কারীর আমি 'তা'দিল' করছি। আর এতে করে আমার 'সাদাকাত' ও 'আদালাত' প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যেত। আর তার প্রভাব আমার রেওয়ায়ের উপর পড়ত।
টিকাঃ
১১৫. সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১২/৪৪৮)
📄 জনপ্রিয়তা ও মুসলমানদের লিপ্সা
ইমাম বুখারী রহ. এর জ্ঞানের চরম উৎকর্ষতা, তাকওয়া ও পরহেজগারীর উদাহরণ জনমনে এমন ব্যাপকতা লাভ করে যে, তিনি যেখানে তাশরীফ নিতেন, হাজার হাজার লোকের সমাগম হতো। তিনি যখন ইলমে হাদীসে পরিপূর্ণতা লাভ করে জন্মভূমিতে ফিরে আসার ইচ্ছে পোষণ করলেন, তখন বুখারার আধিবাসীরা তাঁকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য শহরের বাহিরে প্রায় তিন মাইল পর্যন্ত মানুষ জমায়েত হয়েছিল। শহরে ও গ্রামের এমন কোন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন না, যারা সে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। অতঃপর ইমাম বুখারী রহ. কে মাহাত্ম্যপূর্ণভাবে শহরে গ্রহণ করা হলো।
ইমাম বুখারী রহ. বর্ণনা করেন, যখন তিনি নিশাপুর আগমন করলেন, তখন তার অধিবাসীরা শহর থেকে দুই-তিন মাইল সামনে গিয়ে জাঁকজমকপূর্ণভাবে তাঁকে অভ্যর্থনা জানালেন। ইমাম মুসলিম বলেন, এমন মাহাত্মপূর্ণভাবে আমি শহরবাসীদের কোন বাদশাহ বা সাহেবে ইলমকে অভ্যর্থনা জানাতে দেখিনি।
ইউসুফ ইবনে মুসা মারওয়াযী রহ. বর্ণনা করেন, একদা আমি বসরার জামে মসজিদে অবস্থান করছিলাম। এমতাবস্থায় একজন ঘোষক এ ঘোষণা করছিল যে, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল বুখারী এখানে অবস্থান করছেন। অতঃপর আমি বের হয়ে সল্প বয়েসী এক তরুণকে নামায আদায় করতে দেখলাম। তার নামায শেষ হলে শতশত লোক তাকে অভ্যর্থনা জানাতে লাগলেন। কিছু সময় পর ঘোষক আবারো ঘোষণা করতে শুরু করল যে, শহরবাসীর অনুরোধে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল বুখারী আগামীকাল হাদীস বর্ণনা করবেন। অতঃপর সকাল থেকেই মুতাকাল্লিমীন, মুহাদ্দীসীন, হুফ্ফায ও আলিমদের জামাত সমবেত হতে লাগলো। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই হাজার হাজার মানুষ সমবেত হল। অতঃপর ইমাম বুখারী রহ. মিব্বারে উপনীত হলেন এবং বললেন, আমি আপনাদের নিকট কেবল সে সমস্ত হাদীস বর্ণনা করবো, যে হাদীসগুলো বসরাবাসীদের কাছে নেই। অতঃপর তিনি শুরু করলেন,
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ جَبَلَةَ بْنِ أبي روাদ العتكي ببلدكم قَالَ حدثني أبي عَن شُعْبَة عَن مَنْصُورٍ وَغَيْره عَن سالم بن أبي الْجَعْدِ عَن أنس بن مالك أَنَّ أَعْرَابِيًّا جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ الرَّجُلُ يُحِبُّ الْقَوْمَ
হাদীসটি বর্ণনা করার পর তিনি বললেন, হে বসরাবাসী! এ হাদীসটি আপনাদের নিকট 'মুনসুর' মাধ্যমে পৌঁছায়নি; বরং অন্য সনদে পৌঁছেছে। আমি আপনাদের কাছে বিজয়ী হওয়ার জন্য এ হাদীসটি বর্ণনা করিনি; বরং ইলমে হাদীসের ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করার জন্য। ইউসুফ ইবনে মুসা মারওয়াযী রহ. বলেন, এভাবে তিনি হাদীস বর্ণনা করছিলেন এবং বলছিলেন এই সনদে এই হাদীসটি আপনাদের কাছে পৌঁছেনি; বরং অন্য সনদে আপনাদের কাছে পৌঁছেছে।
টিকাঃ
১১৬. আল ফাওয়ায়েদুদ দারারী
১১৭. ফতহুল বারী (১/৪৮৭)