📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 তপশ্চর্যা

📄 তপশ্চর্যা


আস্বাদনী পৃথিবীর ভোগ-বিলাস থেকে ইমাম বুখারী রহ. অনেক দূরে ছিলেন। ইলমে হাদীসের মশগুলতায় অনেক সময় শুকনো রুটি এমন কি শুকনো ঘাস খেয়েও জীবন অতিবাহিত করেছেন। অনেক দিন কেবল এক বা দুটি বাদাম খেয়েও কাটিয়ে দিয়েছেন।

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 বদান্যতা

📄 বদান্যতা


ইমাম বুখারী রহ. সম্পদের দিক থেকে যতনা ধনী ছিলেন, তার চেয়ে আত্মীকভাবে বেশি ধনী ছিলেন। কখনো কখনো তিনি একসাথে তিনশত দিরহাম সদকা করে দিয়েছেন। ইবনে আবী হাতেম বর্ণনা করেন, ইমাম বুখারী রহ. এর মাসিক উপার্জন পাঁচশত দিরহাম ছিল। তিনি পুরোটাই তালিবে ইলমদের জন্য খরচ করে ফেলতেন।

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 আত্মদান ও মানবতা

📄 আত্মদান ও মানবতা


ইমাম বুখারী রহ. ব্যক্তি জীবন দরিদ্রতার মধ্যে কাটিয়ে দিতেন, কিন্তু তার বদান্যতা ছিল ঈর্ষাণীয়। আল্লামা মোল্লা আলী ইবনে সুলতান আল কারী রহ. বর্ণনা করেন, ইমাম বুখারী রহ. কয়েকদিন পর্যন্ত না খেয়ে অথবা একটি বাদাম খেয়ে কাটিয়ে দিতেন। কিন্তু নিজের পাঁচশত দিরহাম অনায়াসে তোলাবা, মুহাদ্দিসীন, ফকির ও মিসকিনদের জন্য খরচ করে ফেলতেন।

ইমাম বুখারী রহ. আত্মদান ও মানবতার এমন নযীর ছিলেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আস সীয়ারুফী বলেন, একদা ইমাম বুখারী রহ. এর পাশে দিয়ে তার ভৃত্য যাচ্ছিল। অতঃপর দোয়াতের সাথে পা লেগে কালী চারিদিকে ছড়িয়ে গেল। ইমাম বুখারী রহ. তাকে বললেন, তুমি দেখে চলতে পারো না? উত্তরে ভৃত্য বললেন, চলাচলের রাস্তা থাকলে তো দেখে চলতে পারি। অর্থাৎ চারিদিকে কিতাব ছড়িয়ে থাকার দরুন রাস্তা না থাকায় তার চলাচলে অসুবিধে হচ্ছিল। ইমাম বুখারী রহ. ভৃত্যের জবাব শুনে বললেন, যাও আমি তোমাকে আযাদ করে দিলাম। কেউ একজন বললেন, হে আল্লাহর বান্দা! সে আপনার আত্ম মর্যাদায় আঘাত করেছে এবং আপনাকে নাখোশ করেছে আর আপনি তাকে আযাদ করে দিলেন? ইমাম বুখারী রহ. বললেন, فقد أرضيت نَفْسِي بِمَا فعلত আমি তাকে আযাদ করার মধ্যদিয়ে নিজে প্রশান্তি লাভ করেছি।

টিকাঃ
১০৩. মিরকাতুল মাফাতিহ (১/১৫)
১০৪. হাদইয়ুস সারী (৬৭২ পৃষ্ঠা)

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 ইবাদত ও সাধনা

📄 ইবাদত ও সাধনা


ইমাম বুখারী রহ. ইবাদাত করতে, রাত্রি জাগরণ করতে এবং বেশি বেশি নফল নামায আদায় করতে এবং নফল রোজা পালন করতে ভাল বাসতেন। রমযান মাসে তিনি প্রতিদিন এক খতম করে কোরআন তেলাওয়াত করতেন এবং প্রতিদিনই অর্ধরাত্রে উঠে দশপারা করে কোরআন তেলাওয়াত করতেন। সেই সাথে তারাবীহের নামাজেও এক খতম কোরআন তেলাওয়াত করতেন।

আবু বকর ইবনে মুনীর রহ. বর্ণনা করেন, একদা মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল নামায আদায় করছিলেন। অতঃপর নামায শেষ করে নিজের জামা উঠিয়ে শাগীরদকে বললেন, আমার জামার নীচে কী আছে দেখ? অতঃপর শাগীরদ দেখলেন, তার জামার নিচে একটি ভিমরুল জায়গায় জায়গায় ক্ষত সৃষ্টি করেছে। ইবনে মুনীর রহ. ইমাম বুখারী রহ. কে জিজ্ঞেস করলেন, আপনাকে যখন প্রথমবার ভিমরুল দংশন করল, তখন কেন আপনি নামায ছেড়ে দিলেন না? ইমাম বুখারী রহ. জবাবে বললেন, আমি কোরআনের যে আয়াতে কারীমা তিলাওয়াত করছিলাম, তাতে এতোটাই স্বাদ ও উদ্দীপনা অনুভব করছিলাম যে, অন্য কোন কষ্ট অনুভব করা সম্ভবই ছিল না।

ইমাম বুখারী রহ. যখন নামায আদায় করতেন, তখন তিনি নামাজে এভাবে মনোনিবেশ করতেন যে, তিনি দুনিয়ার সকল বিষয় থেকে গাফেল থাকতেন। সুতরাং ইবাদতের প্রতি তার খুশু-খুজু, তন্ময়তা ও নিবিষ্টচিত্তা অনুমান করা আমাদের সাধারণের জন্য অসম্ভব।

টিকাঃ
১০৫. তারীখে বাগদাদ (২/১২)

ফন্ট সাইজ
15px
17px