📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 সততা, সন্তোষ ও বিনয়

📄 সততা, সন্তোষ ও বিনয়


ইমাম বুখারী রহ. এর স্বভাব ও প্রকৃতি খুবই সাদাসিদা ও পরিশ্রমী ছিল। নিজের সমস্ত কাজ নিজেই করতেন। ধন-সম্পদ ও মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও খাদেম বা ভৃত্যের দ্বারা কাজ করাতেন না। মুহাম্মদ ইবনে আবী হাতেম বর্ণনা করেন, যখন আমি ইমাম বুখারী রহ. এর সাথে সফরে যেতাম, তখন তিনি সবাইকে এক ঘরে আরাম করার জন্য বলতেন। আর তিনি নির্জন কামরাতে অবস্থান করতেন এবং হাদীস অধ্যয়নে মশগুল থাকতেন। কোন কাজেই কারো সাহায্য গ্রহণ করতেন না।

ইমাম বুখারী রহ. নিজের জীবনদশায় কখনো সাধারণ আলিম-উলামাদের মতো কোন বাদশা বা আমীরের বদান্যতা গ্রহণ করার চেষ্টাও করেননি। কয়েকবার এ প্রকার সম্মান ও বদান্যতার সুযোগ আসা সত্ত্বেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। স্বীয় পিতার মিরাসসূত্রে যেটুকু সম্পদ পেয়েছেন, তার প্রতিই তিনি জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অতঃপর সে সম্পদ মুদারাবার ভিত্তিতে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন এবং তার থেকে অর্জিত সম্পদ দ্বারাই জীবন-যাপন করেছেন।

টিকাঃ
১০২. হাদইয়ুস সারী (৪৮১ পৃষ্ঠা)

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 তপশ্চর্যা

📄 তপশ্চর্যা


আস্বাদনী পৃথিবীর ভোগ-বিলাস থেকে ইমাম বুখারী রহ. অনেক দূরে ছিলেন। ইলমে হাদীসের মশগুলতায় অনেক সময় শুকনো রুটি এমন কি শুকনো ঘাস খেয়েও জীবন অতিবাহিত করেছেন। অনেক দিন কেবল এক বা দুটি বাদাম খেয়েও কাটিয়ে দিয়েছেন।

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 বদান্যতা

📄 বদান্যতা


ইমাম বুখারী রহ. সম্পদের দিক থেকে যতনা ধনী ছিলেন, তার চেয়ে আত্মীকভাবে বেশি ধনী ছিলেন। কখনো কখনো তিনি একসাথে তিনশত দিরহাম সদকা করে দিয়েছেন। ইবনে আবী হাতেম বর্ণনা করেন, ইমাম বুখারী রহ. এর মাসিক উপার্জন পাঁচশত দিরহাম ছিল। তিনি পুরোটাই তালিবে ইলমদের জন্য খরচ করে ফেলতেন।

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 আত্মদান ও মানবতা

📄 আত্মদান ও মানবতা


ইমাম বুখারী রহ. ব্যক্তি জীবন দরিদ্রতার মধ্যে কাটিয়ে দিতেন, কিন্তু তার বদান্যতা ছিল ঈর্ষাণীয়। আল্লামা মোল্লা আলী ইবনে সুলতান আল কারী রহ. বর্ণনা করেন, ইমাম বুখারী রহ. কয়েকদিন পর্যন্ত না খেয়ে অথবা একটি বাদাম খেয়ে কাটিয়ে দিতেন। কিন্তু নিজের পাঁচশত দিরহাম অনায়াসে তোলাবা, মুহাদ্দিসীন, ফকির ও মিসকিনদের জন্য খরচ করে ফেলতেন।

ইমাম বুখারী রহ. আত্মদান ও মানবতার এমন নযীর ছিলেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আস সীয়ারুফী বলেন, একদা ইমাম বুখারী রহ. এর পাশে দিয়ে তার ভৃত্য যাচ্ছিল। অতঃপর দোয়াতের সাথে পা লেগে কালী চারিদিকে ছড়িয়ে গেল। ইমাম বুখারী রহ. তাকে বললেন, তুমি দেখে চলতে পারো না? উত্তরে ভৃত্য বললেন, চলাচলের রাস্তা থাকলে তো দেখে চলতে পারি। অর্থাৎ চারিদিকে কিতাব ছড়িয়ে থাকার দরুন রাস্তা না থাকায় তার চলাচলে অসুবিধে হচ্ছিল। ইমাম বুখারী রহ. ভৃত্যের জবাব শুনে বললেন, যাও আমি তোমাকে আযাদ করে দিলাম। কেউ একজন বললেন, হে আল্লাহর বান্দা! সে আপনার আত্ম মর্যাদায় আঘাত করেছে এবং আপনাকে নাখোশ করেছে আর আপনি তাকে আযাদ করে দিলেন? ইমাম বুখারী রহ. বললেন, فقد أرضيت نَفْسِي بِمَا فعلত আমি তাকে আযাদ করার মধ্যদিয়ে নিজে প্রশান্তি লাভ করেছি।

টিকাঃ
১০৩. মিরকাতুল মাফাতিহ (১/১৫)
১০৪. হাদইয়ুস সারী (৬৭২ পৃষ্ঠা)

ফন্ট সাইজ
15px
17px