📄 হাদীসের প্রতি সম্মান
ইমাম বুখারী রহ. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসের প্রতি এমন শ্রদ্ধাশীল ছিলেন যে, তিনি প্রত্যেকটি হাদীস লিখার পূর্বে গোসল করতেন। অতঃপর অযু করে দুই রাকাআত নামাজ আদায় করতেন। তিনি বলেন, ما وضعت في كتاب الصَّحِيحِ حَدِيثًا إِلَّا اغْتَسَلت قبل ذَلِكَ وَصليت رَكْعَتَيْنِ আমি 'কিতাবুস সহীহ'তে এমন কোন হাদীস লিপিবদ্ধ করিনি, যার পূর্বে গোসল ও দুই রাকাআত নামাজ আদায় করিনি।
টিকাঃ
১০১. ফতহুল বারী (১/৪৮৯)
📄 সততা, সন্তোষ ও বিনয়
ইমাম বুখারী রহ. এর স্বভাব ও প্রকৃতি খুবই সাদাসিদা ও পরিশ্রমী ছিল। নিজের সমস্ত কাজ নিজেই করতেন। ধন-সম্পদ ও মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও খাদেম বা ভৃত্যের দ্বারা কাজ করাতেন না। মুহাম্মদ ইবনে আবী হাতেম বর্ণনা করেন, যখন আমি ইমাম বুখারী রহ. এর সাথে সফরে যেতাম, তখন তিনি সবাইকে এক ঘরে আরাম করার জন্য বলতেন। আর তিনি নির্জন কামরাতে অবস্থান করতেন এবং হাদীস অধ্যয়নে মশগুল থাকতেন। কোন কাজেই কারো সাহায্য গ্রহণ করতেন না।
ইমাম বুখারী রহ. নিজের জীবনদশায় কখনো সাধারণ আলিম-উলামাদের মতো কোন বাদশা বা আমীরের বদান্যতা গ্রহণ করার চেষ্টাও করেননি। কয়েকবার এ প্রকার সম্মান ও বদান্যতার সুযোগ আসা সত্ত্বেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। স্বীয় পিতার মিরাসসূত্রে যেটুকু সম্পদ পেয়েছেন, তার প্রতিই তিনি জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অতঃপর সে সম্পদ মুদারাবার ভিত্তিতে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন এবং তার থেকে অর্জিত সম্পদ দ্বারাই জীবন-যাপন করেছেন।
টিকাঃ
১০২. হাদইয়ুস সারী (৪৮১ পৃষ্ঠা)
📄 তপশ্চর্যা
আস্বাদনী পৃথিবীর ভোগ-বিলাস থেকে ইমাম বুখারী রহ. অনেক দূরে ছিলেন। ইলমে হাদীসের মশগুলতায় অনেক সময় শুকনো রুটি এমন কি শুকনো ঘাস খেয়েও জীবন অতিবাহিত করেছেন। অনেক দিন কেবল এক বা দুটি বাদাম খেয়েও কাটিয়ে দিয়েছেন।
📄 বদান্যতা
ইমাম বুখারী রহ. সম্পদের দিক থেকে যতনা ধনী ছিলেন, তার চেয়ে আত্মীকভাবে বেশি ধনী ছিলেন। কখনো কখনো তিনি একসাথে তিনশত দিরহাম সদকা করে দিয়েছেন। ইবনে আবী হাতেম বর্ণনা করেন, ইমাম বুখারী রহ. এর মাসিক উপার্জন পাঁচশত দিরহাম ছিল। তিনি পুরোটাই তালিবে ইলমদের জন্য খরচ করে ফেলতেন।