📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 সাদাসিদে

📄 সাদাসিদে


ইমাম বুখারী রহ. জীবন দাম্ভিকতাহীন একেবারেই সাদাসিদে ছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাত মোতাবেক নিজের কাজ নিজের হাতে করতেন। নিজের কাজের জন্য কাউকেও কষ্ট দেয়া উচিত মনে করতেন না।

মুহাম্মদ ইবনে আবী হাতীম রাহ. বলেন, একদা আমি ইমাম বুখারী রহ. এর সাথে রাত্রি যাপন করার সৌভাগ্য লাভ করলাম। অতঃপর রাত্রিবেলায় আমি ইমাম বুখারী রহ. কে পনের থেকে বিশবার বিছানা থেকে উঠে বাতি জালিয়ে হাদীসের কিতাবগুলোতে প্রয়োজনীয় হাদীসগুলো চিহ্নিত করতে দেখলাম। অতঃপর আমি বললাম, হুজুর! বাতি জালাতে ও হাদীসের কিতাবগুলো বহন করতে আমাকে কেন ডাকলেন না? ইমাম বুখারী রহ. অকৃতিমভাবে বললেন, أَنْتَ شَابٌ فَلَا أحب أن أفسد عَلَيْك نومك তুমি যুবক ছেলে, আমি তোমার ঘুম নষ্ট করতে চাইনি।

ইবনে আবী হাতীম রহ. বলেন, ইমাম বুখারী রহ. ছাত্র বয়সে ইলমে হাদীস অর্জনের লক্ষ্যে আদম ইবনে আবী আইয়াশ রহ. এর নিকট যাওয়ার ইচ্ছে করলেন। অতঃপর সফরকালে খাদ্যসামগ্রী শেষ হয়ে গেলে মানবিক কারণে কাউকে না জানিয়ে কয়েক দিন যাবত ঘাস ও পাতা খেয়ে অতিক্রম করছিলেন। অতঃপর আল্লাহর এক বান্দা এসে কিছু দিনার হাদিয়া দিলে ইমাম বুখারী রহ. তা কবুল করলেন। এমনকি তিনি জানতেও পারলেন না লোকটি কে ছিলেন।

একদা তিনি কয়েকদিন হাদীসের দরসে অনুপস্থিত থাকায় খবর নিয়ে জানা গেল, তিনি ইলম অর্জনের লক্ষ্যে নিজের মানবিক প্রয়োজনে কাপড় বিক্রি করে দিয়েছেন।

একবার তিনি মুসাফিরখানা নির্মাণের লক্ষ্যে মিস্ত্রিকে ইট এবং ইট গাঁথার মসলা প্রস্তুত করে দিচ্ছিলেন। অতঃপর যখন তাকে এমন কষ্টের কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য বলা হল, তখন তিনি উদাসীন্যভাবে বললেন, এটিই আমার জন্য উপকারী। অতঃপর তিনি আবার কাজে মশগুল হয়ে গেলেন। তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মসজিদে নববী নির্মাণে, গাযওয়ায়ে আহযাবের সুন্নাত পালন লক্ষ্যে উদ্দীপনার সাথে কাজ করতে থাকলেন।

টিকাঃ
৯৫. তারীখে বাগদাদ (২/৩২২)
৯৬. হাদইয়ুস সারী (৪৮০ পৃষ্ঠা)
৯৭. তারীখে বাগদাদ (২/১৩)
৯৮. ইমাম বুখারী রহ. (৮০ পৃষ্ঠা)

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 পরনিন্দা থেকে বিরত

📄 পরনিন্দা থেকে বিরত


ইমাম বুখারী রহ. পরনিন্দা থেকে বিরত থাকতেন। এ সমন্ধে তিনি বলেন, مَا اغتبت أحدا قط مُنْذُ علمت أن الْغَيْبَة حرام যখন থেকে আমি জানতে পারলাম পরনিন্দা করা হারাম, তখন থেকে আমি আর পরনিন্দা করিনি। তিনি আরো বলেন, কিয়ামতের দিন আমার কোন দুশমন তথা বাদী থাকবে না। ইবনে আবী হাতীম রহ. বললেন, তারীখের ব্যাপারে লোকেরা আপনার উপর নাখোশ, কারণ তাতে পরনিন্দা আছে। ইমাম বুখারী রহ. বললেন, إِنَّمَا روينَا ذَلِكَ رِوَايَة وَلم نَقله من عِنْد أَنْفُسَنَا তারীখে যা কিছু আছে মুতাকাদ্দীমীনদের মতামত, আমার নিজ থেকে কোন কিছুই বর্ণনা করিনি।

টিকাঃ
৯৯. ফতহুল বারী (১/৪৮০)
১০০. হাদইউস সারী (৪৮০ পৃষ্ঠা)

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 হাদীসের প্রতি সম্মান

📄 হাদীসের প্রতি সম্মান


ইমাম বুখারী রহ. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসের প্রতি এমন শ্রদ্ধাশীল ছিলেন যে, তিনি প্রত্যেকটি হাদীস লিখার পূর্বে গোসল করতেন। অতঃপর অযু করে দুই রাকাআত নামাজ আদায় করতেন। তিনি বলেন, ما وضعت في كتاب الصَّحِيحِ حَدِيثًا إِلَّا اغْتَسَلت قبل ذَلِكَ وَصليت رَكْعَتَيْنِ আমি 'কিতাবুস সহীহ'তে এমন কোন হাদীস লিপিবদ্ধ করিনি, যার পূর্বে গোসল ও দুই রাকাআত নামাজ আদায় করিনি।

টিকাঃ
১০১. ফতহুল বারী (১/৪৮৯)

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 সততা, সন্তোষ ও বিনয়

📄 সততা, সন্তোষ ও বিনয়


ইমাম বুখারী রহ. এর স্বভাব ও প্রকৃতি খুবই সাদাসিদা ও পরিশ্রমী ছিল। নিজের সমস্ত কাজ নিজেই করতেন। ধন-সম্পদ ও মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও খাদেম বা ভৃত্যের দ্বারা কাজ করাতেন না। মুহাম্মদ ইবনে আবী হাতেম বর্ণনা করেন, যখন আমি ইমাম বুখারী রহ. এর সাথে সফরে যেতাম, তখন তিনি সবাইকে এক ঘরে আরাম করার জন্য বলতেন। আর তিনি নির্জন কামরাতে অবস্থান করতেন এবং হাদীস অধ্যয়নে মশগুল থাকতেন। কোন কাজেই কারো সাহায্য গ্রহণ করতেন না।

ইমাম বুখারী রহ. নিজের জীবনদশায় কখনো সাধারণ আলিম-উলামাদের মতো কোন বাদশা বা আমীরের বদান্যতা গ্রহণ করার চেষ্টাও করেননি। কয়েকবার এ প্রকার সম্মান ও বদান্যতার সুযোগ আসা সত্ত্বেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। স্বীয় পিতার মিরাসসূত্রে যেটুকু সম্পদ পেয়েছেন, তার প্রতিই তিনি জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অতঃপর সে সম্পদ মুদারাবার ভিত্তিতে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন এবং তার থেকে অর্জিত সম্পদ দ্বারাই জীবন-যাপন করেছেন।

টিকাঃ
১০২. হাদইয়ুস সারী (৪৮১ পৃষ্ঠা)

ফন্ট সাইজ
15px
17px