📄 পরিচ্ছন্নতা
পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা যেহেতু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বৈশিষ্ট্য ছিল। এ কারনে ইমাম বুখারী রহ.ও পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার যথাযথ খেয়াল রাখতেন। এটি বাস্তবতা যে, নিজের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার চেয়ে মসজিদ ইত্যাদির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি বেশি মনোযোগী হওয়া অলী আল্লাহদের বৈশিষ্ট্য। ইমাম বুখারী রহ. তো সাধারণ জীবন-যাপন ও ইলমী মশগুলে থাকতেন। এরপরেও তিনি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি এতোটাই লক্ষ্য রাখতেন যে, বিছানায় এক টুকরো খড়কুটো পড়ে থাকাকেও সহ্য করতেন না।
একদা এক ব্যক্তি মধ্যদরসে তার দাড়ি থেকে এক টুকরো খড় বের করে মসজিদে ফেললেন। অতঃপর ইমাম বোখারী রহ. খড়টি খুঁজে বের করে মসজিদের বাহিরে ফেলে দিলেন। রাবী বলেন যে, যে বস্তু থেকে নিজের দাড়িকে পরিষ্কার করেছে, সে ছোট্ট বস্তুকে মসজিদে ফেলে রাখাকে তিনি সহ্য করেননি।
টিকাঃ
৯৩. তারীখে বাগদাদ (২/১৩)
📄 সহানুভূতি
ইবাদাতের সাথে সম্পর্ক রেখে যে সিফাতে আলিয়া তথা মহৎ গুণের প্রয়োজন, তার মধ্যে অন্যতম হল, সহানুভূতি। ইমাম বুখারী রহ.ও এ মহান গুণে পরিপূর্ণ ছিলেন। একদা এক ভৃত্য অসচেতনতায় ঘরের মধ্যে পা পিছলে পড়ে গেলে ইমাম বুখারী রহ. কেবল এটুকু বলে তিরস্কার করলেন, 'তুমি কেমন করে চলো!' অতঃপর ইমাম বুখারী রহ. মনকে এ তিরস্কারপূর্ণ সতর্কবনীর প্রভাব এভাবে আক্রান্ত করল যে, তিনি ভৃত্যকে মুক্ত করে দিলেন। অর্থাৎ ভাবাবেগের কারণে এ ছোট বাক্যটিও স্বীয় আভিজাত্যের বহির্ভূত মনে করলেন।
📄 শিষ্টাচার
মানবজীবনে এ বৈশিষ্ট্য উপস্থিত না থাকলে মানুষ কখনো উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে না। আর ইমাম বুখারী রহ. এর জীবনে এ বৈশিষ্ট্য পূর্ণরূপে ছিল। একবার ইমাম বুখারী রহ. আবু মা'শার যারীর রহ. কে কোরআন তেলোয়াত করতে শুনলেন, যিনি অন্ধ ছিলেন। তাকে অন্ধের মতো কাজ করতে দেখে ইমাম বুখারী রহ. হেসে ফেললেন। এ অনাকাঙ্খিত হাসিটিও ইমাম বুখারী রহ. সমুচিত মনে করলেন না। অতঃপর তিনি তার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নিলেন।
টিকাঃ
৯৪. তারীখে বাগদাদ (১/২৫)
📄 সাদাসিদে
ইমাম বুখারী রহ. জীবন দাম্ভিকতাহীন একেবারেই সাদাসিদে ছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাত মোতাবেক নিজের কাজ নিজের হাতে করতেন। নিজের কাজের জন্য কাউকেও কষ্ট দেয়া উচিত মনে করতেন না।
মুহাম্মদ ইবনে আবী হাতীম রাহ. বলেন, একদা আমি ইমাম বুখারী রহ. এর সাথে রাত্রি যাপন করার সৌভাগ্য লাভ করলাম। অতঃপর রাত্রিবেলায় আমি ইমাম বুখারী রহ. কে পনের থেকে বিশবার বিছানা থেকে উঠে বাতি জালিয়ে হাদীসের কিতাবগুলোতে প্রয়োজনীয় হাদীসগুলো চিহ্নিত করতে দেখলাম। অতঃপর আমি বললাম, হুজুর! বাতি জালাতে ও হাদীসের কিতাবগুলো বহন করতে আমাকে কেন ডাকলেন না? ইমাম বুখারী রহ. অকৃতিমভাবে বললেন, أَنْتَ شَابٌ فَلَا أحب أن أفسد عَلَيْك نومك তুমি যুবক ছেলে, আমি তোমার ঘুম নষ্ট করতে চাইনি।
ইবনে আবী হাতীম রহ. বলেন, ইমাম বুখারী রহ. ছাত্র বয়সে ইলমে হাদীস অর্জনের লক্ষ্যে আদম ইবনে আবী আইয়াশ রহ. এর নিকট যাওয়ার ইচ্ছে করলেন। অতঃপর সফরকালে খাদ্যসামগ্রী শেষ হয়ে গেলে মানবিক কারণে কাউকে না জানিয়ে কয়েক দিন যাবত ঘাস ও পাতা খেয়ে অতিক্রম করছিলেন। অতঃপর আল্লাহর এক বান্দা এসে কিছু দিনার হাদিয়া দিলে ইমাম বুখারী রহ. তা কবুল করলেন। এমনকি তিনি জানতেও পারলেন না লোকটি কে ছিলেন।
একদা তিনি কয়েকদিন হাদীসের দরসে অনুপস্থিত থাকায় খবর নিয়ে জানা গেল, তিনি ইলম অর্জনের লক্ষ্যে নিজের মানবিক প্রয়োজনে কাপড় বিক্রি করে দিয়েছেন।
একবার তিনি মুসাফিরখানা নির্মাণের লক্ষ্যে মিস্ত্রিকে ইট এবং ইট গাঁথার মসলা প্রস্তুত করে দিচ্ছিলেন। অতঃপর যখন তাকে এমন কষ্টের কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য বলা হল, তখন তিনি উদাসীন্যভাবে বললেন, এটিই আমার জন্য উপকারী। অতঃপর তিনি আবার কাজে মশগুল হয়ে গেলেন। তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মসজিদে নববী নির্মাণে, গাযওয়ায়ে আহযাবের সুন্নাত পালন লক্ষ্যে উদ্দীপনার সাথে কাজ করতে থাকলেন।
টিকাঃ
৯৫. তারীখে বাগদাদ (২/৩২২)
৯৬. হাদইয়ুস সারী (৪৮০ পৃষ্ঠা)
৯৭. তারীখে বাগদাদ (২/১৩)
৯৮. ইমাম বুখারী রহ. (৮০ পৃষ্ঠা)