📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 ব্যক্তিত্ববোধ

📄 ব্যক্তিত্ববোধ


ইমাম বুখারী রহ. এর জীবনে এমন কতক গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেছে, যা অনেক বড় বড় মহামানবদের জীবনীও এসব বৈশিষ্ট্য থেকে ফাঁকা ছিল। তার চারিত্রিক গুণাবলী মধ্যে অতি লজ্জাশীলতা, ধৈর্য্যশীলতা, আত্মসম্মান বোধসম্পন্ন, স্বল্পে তুষ্ট, প্রফুল্লতা, আময়িকতা, জাগ্রত, সচেতনাতা ছিল অন্যতম। আল্লাহ ছাড়া কারো সামনে মাথা নত করাকে তিনি কল্পনাও করতেন না। আর এ মহৎগুণের কারণেই তাঁকে দেশান্তর হতে হয়েছে।

আর যখন ইমাম বুখারী রহ. এর জ্ঞানের ঐশ্বর্য ও প্রতিপত্তির সংবাদ আশপাশ ছড়িয়ে গেল। তখন বুখারার আমীর উমারাগণ তাদের বাচ্চাদের বিশেষভাবে শিক্ষাদানে জন্য ইমাম বুখারীকে এ মর্মে আবেদন জানায় যে, তিনি যেন রাজপ্রাসাদে এসে তাদের বাচ্চাদের বিশেষ তালিম দান করেন। অতঃপর ইমাম বুখারী রহ. তাদের প্রতিউত্তরে বললেন, أَنَا لَا أُذِلُّ الْعِلْمَ وَلَا أَحْمِلُهُ إِلَى أَبْوَابِ النَّاسِ فَإِنْ كَانَتْ لَكَ إِلَى شَيْءٍ مِنْهُ حَاجَةً فَاحْضُرْ فِي مَسْجِدِي أَوْ فِي دَارِي (আমি দরজায় দরজায় গিয়ে ইলমের অবমূল্যায়ন করতে পারব না। যদি কারো ইলমের পিপাসা থাকে তাহলে সে আমার মসজিদে অর্থাৎ দরসে অথবা আমার ঘরে হাজির হবে)।

বুখারার আমীরগণ তাঁর এই আপসহীন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে শহর ত্যাগের নির্দেশ দেয়। অবশেষে ইমাম বুখারী রহ. ইলমের অমর্যাদা থেকে নিজেকে দেশান্তর করাকে বেশি পছন্দ করলেন। এ সম্বন্ধে তিনি বলেন, مَا اسْتَصْغَرْتُ نَفْسِي عِنْدَ أَحَدِ إِلَّا عِنْدَ عَلِيِّ بْنِ الْمَدِينِي (আলী ইবনে মাদীনী ছাড়া আমি কারো নিকট নিজেকে ছোট অনুভব করিনি)।

ইমাম বুখারী রহ. ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে এরূপ কোন কাজকে সমর্থন করতেন না। আর এ কারণেই তার দরবারে আমীর ও প্রশাসকরা আনাগোনা থেকে দূরত্ব বজায় রাখতেন। আর তিনি বাদশাহদের তাঁর কাছে আনাগোনাকে এ পরিমাণ ঘৃণা করতেন যে, সেটি যেন তার চারিত্রিক গুণাবলীর অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছিল। আর তিনি কখনোই আমীর বা বাদশাহদের কাছে নমনীয় ভূমিকায় উপস্থিত হওয়াকে পছন্দ করতেন না। এ সূত্র ধরেই একদা তিনি কাউকে মুদারাবা ভিত্তিক (শ্রম ও মালের অংশীদার ভিত্তিক ব্যবসা) কিছু সম্পদ দিয়েছিল। অতঃপর সে ব্যক্তি পঁচিশ হাজার দিরহাম খিয়ানত করে মূলধনকে ফেরত দিল। অতঃপর ইমাম বুখারী রহ. কে বাদশাহর দরবারে নালিশের মধ্য দিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বলা হলে তিনি বললেন, وَلَن أَبِيعُ دِينِي بِدُنْيَايَ (আমি আমার দ্বীনকে দুনিয়ার বিপরীতে নষ্ট করব না)। অবশেষে তিনি দশ দিরহাম মাসিক উসূলের ভিত্তিতে বিষয়টি নিষ্পত্তি করলেন।

টিকাঃ
৮৯. তারিখে বাগদাদ (২/৩৩)
৯০. তারিখে বাগদাদ (২/১৭)
৯১. ফতহুল বারী (১/৪৭৯)

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 শারীরিক ব্যায়াম/মিতাচার

📄 শারীরিক ব্যায়াম/মিতাচার


শারীরিক ব্যায়াম যেহেতু মানবজীবনে অতি আবাশ্যকীয় কাজ, সেহেতু ইমাম বুখারীও রহ. নিজের শারীরিক উন্নতির প্রতি লক্ষ্য রেখে প্রয়োজন মতো শারীরিক ব্যায়াম করতেন। বিশেষ করে ঘোড়া দৌড়ানো এবং তিরান্দাজীর মধ্যে ইমাম বুখারী রহ. এমন আগ্রহী ছিলেন, এ সমন্ধে মুহাম্মাদ ইবনে আবী হাতেম বলেন, ফَمَا أَعْلَمُ أَنِّي رَأَيْتُهُ فِي طُولِ مَا صَحِبْتُهُ أَخْطَأَ سَهْمُهُ الْهَدَفَ إِلَّا مَرَّتَيْنِ بَلْ كَانَ يُصِيبُ فِي كُلِّ ذَلِكَ وَلَا يَسْبِقُ। আমি ইমাম বুখারী রহ. এর সংস্পর্শে থেকে একথা জানতে পেরেছি যে, কেবল দুইবার ছাড়া তার তীর কখনোই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়নি।

একথা বলা যেতে পারে যে, ইমাম বুখারী রহ. তীরান্দাজীতে এ রকম প্রশিক্ষিত এবং দক্ষ ছিলেন যে, কোন তীর নষ্ট হওয়া ব্যতিরেকে বারবার লক্ষ্যভেদ করতেন।

টিকাঃ
৯২. ফতহুল বারী (১/৪৮০)

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 পরিচ্ছন্নতা

📄 পরিচ্ছন্নতা


পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা যেহেতু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বৈশিষ্ট্য ছিল। এ কারনে ইমাম বুখারী রহ.ও পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার যথাযথ খেয়াল রাখতেন। এটি বাস্তবতা যে, নিজের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার চেয়ে মসজিদ ইত্যাদির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি বেশি মনোযোগী হওয়া অলী আল্লাহদের বৈশিষ্ট্য। ইমাম বুখারী রহ. তো সাধারণ জীবন-যাপন ও ইলমী মশগুলে থাকতেন। এরপরেও তিনি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি এতোটাই লক্ষ্য রাখতেন যে, বিছানায় এক টুকরো খড়কুটো পড়ে থাকাকেও সহ্য করতেন না।

একদা এক ব্যক্তি মধ্যদরসে তার দাড়ি থেকে এক টুকরো খড় বের করে মসজিদে ফেললেন। অতঃপর ইমাম বোখারী রহ. খড়টি খুঁজে বের করে মসজিদের বাহিরে ফেলে দিলেন। রাবী বলেন যে, যে বস্তু থেকে নিজের দাড়িকে পরিষ্কার করেছে, সে ছোট্ট বস্তুকে মসজিদে ফেলে রাখাকে তিনি সহ্য করেননি।

টিকাঃ
৯৩. তারীখে বাগদাদ (২/১৩)

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 সহানুভূতি

📄 সহানুভূতি


ইবাদাতের সাথে সম্পর্ক রেখে যে সিফাতে আলিয়া তথা মহৎ গুণের প্রয়োজন, তার মধ্যে অন্যতম হল, সহানুভূতি। ইমাম বুখারী রহ.ও এ মহান গুণে পরিপূর্ণ ছিলেন। একদা এক ভৃত্য অসচেতনতায় ঘরের মধ্যে পা পিছলে পড়ে গেলে ইমাম বুখারী রহ. কেবল এটুকু বলে তিরস্কার করলেন, 'তুমি কেমন করে চলো!' অতঃপর ইমাম বুখারী রহ. মনকে এ তিরস্কারপূর্ণ সতর্কবনীর প্রভাব এভাবে আক্রান্ত করল যে, তিনি ভৃত্যকে মুক্ত করে দিলেন। অর্থাৎ ভাবাবেগের কারণে এ ছোট বাক্যটিও স্বীয় আভিজাত্যের বহির্ভূত মনে করলেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px