📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 কোরআনের জ্ঞানে ইমাম বুখারীর মর্যাদা

📄 কোরআনের জ্ঞানে ইমাম বুখারীর মর্যাদা


ইমাম দারেমী রহ. থেকে একটি রেওয়ায়েত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল এবং বলা হল, ইমাম বুখারী এটিকে সহীহ বলেছেন। ইমাম দরেমী রহ. উত্তরে বললেন, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আমাদের থেকে অধিকতর বিচক্ষণ এবং উত্তম ব্যক্তি। আর মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র জবান দ্বারা যেই বিধি-নিষেধ বর্ণনা করেছেন, তা তিনি যথাযথভাবে বুঝেছেন এবং দিল-মন, কান ও মস্তিষ্ককে একত্র করে কোরআন তেলোওয়াত করেছেন। আর তার দৃষ্টান্তের উপর গবেষণা করেছেন এবং হালাল-হারামের ইলম অর্জন করেছেন।

ইমাম বুখারী রহ. এর কাতেব মুহাম্মদ ইবনে আবু হাতিম বর্ণনা করেন, আমি ইমাম বুখারীকে বলতে শুনেছি যে, আমার এরূপ বিষয়ে জ্ঞান নেই, যা প্রয়োজনীয় এবং কোরআন ও হাদীসে উল্লেখ নেই। আমি বললাম তা কি সম্ভব? ইমাম বুখারী উত্তরে বললেন, হ্যাঁ।

বর্ণনাকারী বলেন, কোরআনের সম্পর্কে গভীর চিন্তা ও গবেষণা করা। তার আয়াত সমূহকে সঠিকভাবে উপলব্ধি করা এবং তার গভীরতায় পৌঁছা। ইমাম বুখারী রহ. এর এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল।

টিকাঃ
৮৭. ফতহুল বারী মুকাদ্দামা (৪৮৫ পৃষ্ঠা)

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 দুনিয়া ত্যাগী

📄 দুনিয়া ত্যাগী


ইমাম বুখারী রহ. এর সম্মানিত পিতা বুযুর্গ, খোদাভীরু ও আল্লাহর আশেক বান্দা ছিলেন। সুতরাং এরূপ পিতার সন্তান কেমন ঈমানদার ও খোদাভীরু হবে তা সহজেই অনুমান করা যায়।

ইমাম বুখারী রহ. কোন সাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন না; বরং তিনি উত্তম ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। যেমনটি আবু সাঈদ বকর ইবনে মুনির বর্ণনা করেন, একদা ইমাম বুখারী কিছু মাল বিক্রয়ের ইচ্ছা করলেন। অতঃপর এক ব্যবসায়ী দল সে সম্পদের মূল্য পাঁচ হাজার দিরহাম নির্ধারণ করতে চাইলেন। ইমাম বুখারী তাদের কাছে বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত দিলেন না। অথচ তা তাদের নিকটেই বিক্রয়ের জন্য টান অনুভব করলেন। আর এ কারণেই যখন অন্য এক ব্যবসায়ী দল তা দশ হাজার মূল্যে তা ক্রয়ের কথা জানালেন, তখন ইমাম বুখারী তাতে অস্বীকৃতি জানালেন এবং বললেন, لَا أُحِبُّ أَنْ أَنْقُضَ نِيَّتِي আমি আমার নিয়্যাত পরিবর্তন পছন্দ করছি না।

তার এমন খোদাভীরুতা, দ্বীনদারী পরহেজগারী ও ব্যক্তিত্ববোধের কারণেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একনিষ্ঠ ও প্রকৃত উত্তরসূরীতে পরিণত হয়েছেন।

টিকাঃ
৮৮. তারিখে বাগদাদ (২/৩২২)

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 ব্যক্তিত্ববোধ

📄 ব্যক্তিত্ববোধ


ইমাম বুখারী রহ. এর জীবনে এমন কতক গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেছে, যা অনেক বড় বড় মহামানবদের জীবনীও এসব বৈশিষ্ট্য থেকে ফাঁকা ছিল। তার চারিত্রিক গুণাবলী মধ্যে অতি লজ্জাশীলতা, ধৈর্য্যশীলতা, আত্মসম্মান বোধসম্পন্ন, স্বল্পে তুষ্ট, প্রফুল্লতা, আময়িকতা, জাগ্রত, সচেতনাতা ছিল অন্যতম। আল্লাহ ছাড়া কারো সামনে মাথা নত করাকে তিনি কল্পনাও করতেন না। আর এ মহৎগুণের কারণেই তাঁকে দেশান্তর হতে হয়েছে।

আর যখন ইমাম বুখারী রহ. এর জ্ঞানের ঐশ্বর্য ও প্রতিপত্তির সংবাদ আশপাশ ছড়িয়ে গেল। তখন বুখারার আমীর উমারাগণ তাদের বাচ্চাদের বিশেষভাবে শিক্ষাদানে জন্য ইমাম বুখারীকে এ মর্মে আবেদন জানায় যে, তিনি যেন রাজপ্রাসাদে এসে তাদের বাচ্চাদের বিশেষ তালিম দান করেন। অতঃপর ইমাম বুখারী রহ. তাদের প্রতিউত্তরে বললেন, أَنَا لَا أُذِلُّ الْعِلْمَ وَلَا أَحْمِلُهُ إِلَى أَبْوَابِ النَّاسِ فَإِنْ كَانَتْ لَكَ إِلَى شَيْءٍ مِنْهُ حَاجَةً فَاحْضُرْ فِي مَسْجِدِي أَوْ فِي دَارِي (আমি দরজায় দরজায় গিয়ে ইলমের অবমূল্যায়ন করতে পারব না। যদি কারো ইলমের পিপাসা থাকে তাহলে সে আমার মসজিদে অর্থাৎ দরসে অথবা আমার ঘরে হাজির হবে)।

বুখারার আমীরগণ তাঁর এই আপসহীন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে শহর ত্যাগের নির্দেশ দেয়। অবশেষে ইমাম বুখারী রহ. ইলমের অমর্যাদা থেকে নিজেকে দেশান্তর করাকে বেশি পছন্দ করলেন। এ সম্বন্ধে তিনি বলেন, مَا اسْتَصْغَرْتُ نَفْسِي عِنْدَ أَحَدِ إِلَّا عِنْدَ عَلِيِّ بْنِ الْمَدِينِي (আলী ইবনে মাদীনী ছাড়া আমি কারো নিকট নিজেকে ছোট অনুভব করিনি)।

ইমাম বুখারী রহ. ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে এরূপ কোন কাজকে সমর্থন করতেন না। আর এ কারণেই তার দরবারে আমীর ও প্রশাসকরা আনাগোনা থেকে দূরত্ব বজায় রাখতেন। আর তিনি বাদশাহদের তাঁর কাছে আনাগোনাকে এ পরিমাণ ঘৃণা করতেন যে, সেটি যেন তার চারিত্রিক গুণাবলীর অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছিল। আর তিনি কখনোই আমীর বা বাদশাহদের কাছে নমনীয় ভূমিকায় উপস্থিত হওয়াকে পছন্দ করতেন না। এ সূত্র ধরেই একদা তিনি কাউকে মুদারাবা ভিত্তিক (শ্রম ও মালের অংশীদার ভিত্তিক ব্যবসা) কিছু সম্পদ দিয়েছিল। অতঃপর সে ব্যক্তি পঁচিশ হাজার দিরহাম খিয়ানত করে মূলধনকে ফেরত দিল। অতঃপর ইমাম বুখারী রহ. কে বাদশাহর দরবারে নালিশের মধ্য দিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বলা হলে তিনি বললেন, وَلَن أَبِيعُ دِينِي بِدُنْيَايَ (আমি আমার দ্বীনকে দুনিয়ার বিপরীতে নষ্ট করব না)। অবশেষে তিনি দশ দিরহাম মাসিক উসূলের ভিত্তিতে বিষয়টি নিষ্পত্তি করলেন।

টিকাঃ
৮৯. তারিখে বাগদাদ (২/৩৩)
৯০. তারিখে বাগদাদ (২/১৭)
৯১. ফতহুল বারী (১/৪৭৯)

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 শারীরিক ব্যায়াম/মিতাচার

📄 শারীরিক ব্যায়াম/মিতাচার


শারীরিক ব্যায়াম যেহেতু মানবজীবনে অতি আবাশ্যকীয় কাজ, সেহেতু ইমাম বুখারীও রহ. নিজের শারীরিক উন্নতির প্রতি লক্ষ্য রেখে প্রয়োজন মতো শারীরিক ব্যায়াম করতেন। বিশেষ করে ঘোড়া দৌড়ানো এবং তিরান্দাজীর মধ্যে ইমাম বুখারী রহ. এমন আগ্রহী ছিলেন, এ সমন্ধে মুহাম্মাদ ইবনে আবী হাতেম বলেন, ফَمَا أَعْلَمُ أَنِّي رَأَيْتُهُ فِي طُولِ مَا صَحِبْتُهُ أَخْطَأَ سَهْمُهُ الْهَدَفَ إِلَّا مَرَّتَيْنِ بَلْ كَانَ يُصِيبُ فِي كُلِّ ذَلِكَ وَلَا يَسْبِقُ। আমি ইমাম বুখারী রহ. এর সংস্পর্শে থেকে একথা জানতে পেরেছি যে, কেবল দুইবার ছাড়া তার তীর কখনোই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়নি।

একথা বলা যেতে পারে যে, ইমাম বুখারী রহ. তীরান্দাজীতে এ রকম প্রশিক্ষিত এবং দক্ষ ছিলেন যে, কোন তীর নষ্ট হওয়া ব্যতিরেকে বারবার লক্ষ্যভেদ করতেন।

টিকাঃ
৯২. ফতহুল বারী (১/৪৮০)

ফন্ট সাইজ
15px
17px