📄 কোরআনের প্রতি আগ্রহ
মুকসিম ইবনে সা'আদ রহ. বর্ণনা করেন, রমজান মাসের শুরু রাত্রিতে ইমাম বুখারী রহ. এর দরবারে ছাত্র, মুহিব্বীন, সাথীরা জমা হতেন এবং ইমাম বুখারী রহ. তারাবীর নামাজে আমাদের ইমামতি করতেন। অতঃপর প্রত্যেক রাকাতে বিশটি করে আয়াত তেলাওয়াত করতেন। এভাবে তারাবীতেই তিনি কোরআন খতম করতেন। তাহাজ্জুতের নামাজে এক তৃতীয়াংশ পাঠ করতেন এবং প্রত্যেক তিনদিনে এক খতম পাঠ করতেন। আবার দিনের বেলা ইফতারের পূর্বে একটি খতম শেষ করতেন এবং বলতেন প্রত্যেক খতমের পর দোয়া কবুল হয়।
ইমাম বুখারী রহ. এর কাতিব আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আবী হাতেম বর্ণনা করেন যে, ইমাম সাহেব তাহাজ্জুতের নামায তের রাকাত আদায় করতেন এবং শেষে এক রাকাত মিলিয়ে বিতির আদায় করতেন।
টিকাঃ
৫৯. ফতহুল বারী (১/৪৮১)
৬০. ফতহুল বারী (১/৪৮১)
📄 নবী মুহাম্মদ সা. এর চুল মোবারকের বরকত
ইমাম বুখারী রহ. এর কাতেব বর্ণনা করেন, ইমাম বুখারী রহ. এর নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কয়েকটি পবিত্র চুল ছিল। যা তিনি নিজ পরিধেয় সম্মানের সাথে রাখতেন।
📄 ইমাম বুখারী রহ. এর কবিতা
হাকেম রহ. স্বীয় ইতিহাস গ্রন্থে ইমাম বুখারী রহ. এর কবিতা উল্লেখ করেন,
اغتنم في الفراغ فضل ركوع * فعسى ان يكون موتك بغتة
كم صحيح رأيت من غير سقم * ذهبت نفسه الصحيحة فلتة
অবসর সময়ে রুকু এবং সিজদাহের ফজিলতকে মূল্যবান মনে কর। কেননা এও হতে পারে যে, আকস্মিক মৃত্যু এসে যেতে পারে। অনেক সুস্থ ও শক্তিবান ব্যক্তি যাদের কোন রোগ ব্যাধি নেই, তাদেরকেও মৃত্যু অস্বাদিত করেছে।
ইমাম বুখারী রহ. যখন হাফেয আবদুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান দারেমী রহ. এর মৃত্যু সংবাদ শুনলেন তখন তিনি এ কবিতা পাঠ করলেন,
ان عشت تفجع بالأحبه كلهم * وبقاء نفسك لا ابالك افجح
তুমি যদি জীবিত থাকতে, তাহলে সমস্ত প্রিয় ব্যক্তির মৃত্যু সংবাদ তোমার তিক্ত লাগে। আর তোমার অনুপস্থিতি তো সে তিক্ততা সবচেয়ে বেশি। এ কবিতাও ইমাম বুখারী পাঠ করেন,
مثل البهائم لاترى اجالها * حتى تساق الى المجاز تنحر
চতুষ্পদ জন্তুর মতো যার মৃত্যুর কোন খবর নেই। তারা এমন করছে যেন তাদেরকে জবেহ করার জন্য জবেহের স্থানে নেয়া হবে না।
خالق الناس بخلق واسع * لا تكن كلبا على الناس تهر
মানুষের সাথে প্রশস্ত মনে আচার ব্যবহার কর। যে কুকুর ঘেউ ঘেউ করে তার মতো হয়ো না। আল্লামা সুবকী রহ. এ কবিতাগুলি আত-তাবাকাতুশ শাফেয়ী গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
টিকাঃ
৬১. হাদইয়ুস সারী (৪৮১ পৃষ্ঠা)
৬২. হাদইয়ুস সারী (৪৮১)
৬৩. বিস্তারিত সীরাতুল বুখারী (১০৩-১০৪ পৃষ্ঠা)
📄 একটি সন্দেহের নিরসন
উলামায়ে মুহাদ্দীসদের লক্ষ হাদিস মুখস্তের ও রেওয়ায়েতের বিষয়ে এ কথার সন্দেহ সৃষ্টি করে যে, হাদীসের বড় বড় কিতাব যেমন কানযুল উম্মাল, মুসনাদে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল, জামেউল উসূল, মাযমাউয যাওয়ায়েদ ইত্যাদি গ্রন্থের সমস্ত হাদীস গণনা করলে বিশ থেকে পঁচিশ হাজারের বেশি হাদীসের সংখ্যা হবে না। এমনকি মাওযু হাদীসগুলিকেও একত্র করলে অর্ধ লাখের বেশি হয় না। তাহলে একলক্ষ, দুইলক্ষ, ছয়লক্ষ হাদীস মুখস্ত ও রেওয়ায়েতের উদ্দেশ্য কি? আর সে হাদীসগুলি কোথায় লিপিবদ্ধ রয়েছে?
উত্তর : উসূলে হাদীস শাস্ত্রে এ কথা সর্বজন স্বীকৃতিপ্রাপ্ত যে, হাদীসের তুরক ও রেওয়ায়েত পরিবর্তন হওয়ার কারণে হাদীসের গণনা বৃদ্ধি পায়। যদিও হাদীসের শব্দাবলী একই রকম হয়। একই হাদীস হাজার জন উস্তাদের কাছ কাছ থেকে শ্রবণ করার দ্বারা তা হাজার হাদীস বলে পরিগণিত হয়। সে ভাবে রেওয়ায়েতকারী সাহাবীর সংখ্যা পরিবর্তন হওয়ায় হাদীসের সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়। আর এদিকে লক্ষ্য রেখেই মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় লক্ষ হাদীস বলা প্রচলিত হয়। আর প্রসিদ্ধ অভিমত হল, ولا مشاحة في الاصطلاح অর্থাৎ পরিভাষায় দ্বিমত করার কোন সুযোগ নেই।