📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 বাগদাদ সফর

📄 বাগদাদ সফর


খিলাফতে আব্বাসীর রাজধানী ছিল বাগদাদ। রাষ্ট্র পরিচালনার জ্ঞান- প্রজ্ঞার প্রসারই বাগদাদকে ইলমী প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করেছে। প্রত্যেক প্রকারের ইলম পিপাসুরা বাগদাদে আগমন করতেন। বাগদাদ ইলমের প্রাণকেন্দ্র ছিল, একথা উপলব্ধি করার জন্য ইমাম বুখারী রহ. এর এ উক্তিই যথার্থ। ইমাম বুখারী রহ. বলেন,
اترك الناس والعصر العلم وتسير الى خراسان
তুমি কি মনুষ্য, বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় এবং ইলম ছেড়ে খোরাসানের পথে যাত্রা শুরু করছ?
কারো কারো বর্ণনা মতে তিনি বাগদাদে আঠারো বার সফর করেছিলেন।

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 শাম সফর

📄 শাম সফর


ইমাম বুখারী রহ. ইলম অর্জনের লক্ষ্যে শাম দেশেও সফর করেছেন। আর সেখানে তিনি আল্লামা ইউসুফ আল গীরইয়াবী। আবু নসর ইসহাক ইবনে ইব্রাহীম, আদম ইবনে আবী ইয়াস, আবুল ইয়ামান আল হাকীম ইবনে নাফে এবং হাইওয়াহ ইবনে শুরায়হ এর মতো প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিসদের নিকট হতে জ্ঞানের পূর্ণতা লাভ করেন।

টিকাঃ
৩৯ মূল গ্রন্থকার আল্লামা ইউসুফ আল গীরইয়াবী নামে শামের যে শায়েখের কথা উল্লেখ করেছেন, তাঁর বিষয়ে তাহকীক করে আমি যেটুকু জানতে পেরেছি, তা হল, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে ওয়াকীদ ইবনে উসমান আল ফিরইয়াবী। তিনি শামের কিসারিয়াতে বসবাস করতেন। সাওরী, মালিক ইবনে মিগওয়াল, ইসরাঈল, আওযায়ী, ওয়ারকা ইবনে উমর থেকে তিনি হাদীস শ্রবণ করেন এবং ইমাম বুখারী রহ. তাঁর থেকে সহীহ বুখারীর কয়েক জায়গাতে রেওয়ায়েত করেন। সহীহ বুখারীর রিজালদের উপর রচিত আল হিদায়া ওয়াল ইরশাদ গ্রন্থের ২/৬৮৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে,
مُحَمَّد بن يُوسُف بن واقد أبو عبد الله الفريابي سكن قيسارية من الشام سمع النَّوْرِي وَمَالك بن مغول وَإِسْرَائِيلَ وَالْأَوْزَاعِي وورقاء بن عمر رَوَى عَنهُ البُخَارِي فِي (العلم) وغير موضع وَرَوَى عَن إِسْحَاق غير مَنْسُوب عَنهُ فِي (الصَّلَاةِ) مَاتَ في شهر ربيع الأول سنة ٢١٢هـ

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 মিসর সফর

📄 মিসর সফর


মিসর সফরে তিনি উসমান ইবনে সালেহ, সাঈদ ইবনে আবি মারইম, আহমদ সালেহ, ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে বুকীর এর মতো প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিসদের নিকট হতে ইলমী পিপাসা নিবারণ করেন।

এ সফরগুলি ছাড়াও তিনি আরব উপদ্বীপে গিয়েও হাদীসের জ্ঞান অর্জন করেন। আর সেখানে আহমদ ইবনে আব্দুল মালেক আল হারানী, আহমদ ইবনে ইয়াজিদ আল হারানী থেকে ইলমী ইসতেফাদা হাসিল করেন।

'খারাসান' হতে আলী ইবনে হাসান ইবনে শাকীক, আবদান, মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল থেকে। 'বলখ' হতে মাক্কী ইবনে ইব্রাহীম, মুহাম্মদ ইবনে আবান, ইয়াহইয়া ইবনে মুসা এবং কুতাইবা থেকে। 'হেরাত' হতে আহমদ ইবনে আবিল ওয়ালীদ আল-হানাফী থেকে। 'নিশাপুর' হতে ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া, বিশর ইবনুল হাকীম, ইসহাক ইবনে রাহওয়াই এবং মুহাম্মদ ইবনে রাফী থেকে। 'রাই' হতে ইব্রাহীম ইবনে মুসা থেকে। 'ওয়াসেত' হতে হাসসান ইবনে হাসসান, সাঈদ ইবনে আবদুল্লাহর মতো বিখ্যাত মুহাদ্দিসদের থেকে হাদীসের জ্ঞান ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করেন। এছাড়াও বুখারার মেহমানখানাগুলি, সমরকান্দ এবং তাশকান্দ ইত্যাদি তো ইমাম বুখারীর নিজ ঘরের মতোই ছিল।

ইমাম বুখারী রহ. এর স্বীয় সফর সংশ্লিষ্ট বিবরণ এরূপ ছিল, قَالَ سهل بن السري قَالَ البُخَارِيّ دخلت إلى الشام ومصر والجزيرة مرَّتَيْنِ وَإِلَى الْبَصْرَة أَربع مَرَّات وأقمت بالحجاز سِتَّة أَعْوَامٍ وَلَا أحصي كم دخلت إِلَى الْكُوفَة وبغداد مَعَ الْمُحدثين। সাহল ইবনে সারী রহ. বলেন, ইমাম বুখারী বলেছেন, আমি শাম, মিসর এবং জাজীরাহ দুইবার সফর করি এবং বসরাতে চারবার। হেজাজে আট বছর অবস্থান করে ইলম অর্জন করি। আর সেই সাথে কুফা এবং বাগদাদও কয়েকবার সফর করি।৪০

খতিবে বাগদাদ ইমাম বুখারী রহ. এর সফরের বর্ণনা করেন, رحل في طلب العلم إلى سائر محدثي الأمصار، وكتب بخراسان، والجبال، ومدن العراق كلها، وبالحجاز، والشام، ومصر। ইমাম বুখারী রহ. ইলম অর্জনের লক্ষ্যে সমস্ত শহরের মুহাদ্দিসদের নিকট সফর করেন খোরাসান, জাবালে খোরাসান এবং ইরাকের সমস্ত শহরেও সফর করেন। সেই সাথে হিযায, শাম ও মিসরে হাদীস লিপিবদ্ধ করতেন। আবার বাগদাদেও কয়েকবার সফর করেন। ৪১

টিকাঃ
৪০ ফতহুল বারী (১/৪৭৮)
৪১ তারীখে বাগদাদ (২/৬)

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 মক্কা ও মদীনা সফর এবং গ্রন্থ রচনা আরম্ভ

📄 মক্কা ও মদীনা সফর এবং গ্রন্থ রচনা আরম্ভ


আঠারো বছর বয়সে ইমাম বুখারী রহ. মাতা এবং সহোদর আহমদ ইবনে ইসমাঈলের সাথে হজ্জ্বের উদ্দেশ্যে পবিত্র হারামাইন উপস্থিত হন। হজ্ব পালন শেষে মাতা এবং ভাই মাতৃভূমিতে ফিরে এলেও ইমাম বুখারী রহ. ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে মদীনায় থেকে যান। আর সে সময়ে তিনি "قضايا الصحابة والتابعين" শিরোনামে একটি কিতাব রচনা করেন। অতঃপর তিনি চাঁদের আলোয় রওযায়ে আতহারের পাশে বসে প্রসিদ্ধ "التاريخ الكبير" গ্রন্থটি রচনা করেন। ইমাম বুখারী রহ. বলেন, আমি ‘তারিখে কবীর’ গ্রন্থে যতজন রাবীর নাম উল্লেখ করেছি প্রত্যেক জনের সমন্ধে কোন না কোন ঘটনা আমার জানা আছে। কিন্তু গ্রন্থটি সংক্ষিপ্ত করার উদ্দেশ্যে সে সমস্ত ঘটনাগুলি উল্লেখ করিনি।

'তারিখে কবীর' গ্রন্থটি রচনার পরেই তা নকলের ধারাবাহিকতা শুরু হয়। মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ফিরয়াবী রহ. বর্ণনা করেন, আমি যখন 'তারিখে কবীর' গ্রন্থ নকল করি, তখন ইমাম বুখারী রহ. এর বয়স এমন ছিল যে, তাঁর দাঁড়ি পর্যন্ত বের হয়নি।

টিকাঃ
৪২. ইরশাদুস সারী (১/৩২)

ফন্ট সাইজ
15px
17px