📄 বসরা শহরের ঘটনা
হেজাজ শহরে ছয় বছর অতিক্রম করার পর তিনি বসরায় সফর করার ইচ্ছা করলেন। সে সময় বসরা ইলম, আদব এবং হাদীস প্রচারের অন্যতম শহর ছিল। ইমাম বুখারী রহ. কুফা শহরে পৌঁছে ইমাম আবু আসেম আন নবীল, সাফওয়ান ইবনে ঈসা, মুহাম্মদ ইবনে আরআর। আবুল ওয়ালিদ তিয়াসী, মুহাম্মদ ইবনে সিনান এবং তাঁদের সমকালীন উলামা থেকে উপকার হাসিল করেন।
যেহেতু ইমাম বুখারী রহ. কয়েকবার বসরায় সফর করেছেন। সুতরাং এ ঘটনাটি কোন সফরকালে ঘটেছে, তা উল্লেখ করা সম্ভব নয়। ইমাম বুখারী রহ. এর সাথী হাশেদ ইবনে ইসমাঈল (মৃতঃ ২৬১ হিজরী) বর্ণনা করেন, ইলম অর্জনের সময়কালীন একদা ইমাম বুখারী রহ. বসরার মাশায়েখদের নিকট আগমন করলেন। ধারাবাহিকভাবে ষোল দিন তিনি হাদীস শ্রবণ করলেন। অথচ কোন বিষয়ই তিনি লিপিবদ্ধ করে রাখলেন না। ইমাম সাহেবের সাথীরা বিষয়টি প্রশ্নের উপযোগী মনে করে ইমাম বুখারীকে উক্ত বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। উত্তরে ইমাম সাহেব চুপ করে থাকলেন।
অতঃপর সাথীরা যখন জোর তাগিদ দিতে লাগলেন, তখন তিনি বললেন, আপনাদের লিখিত হাদীসগুলো নিয়ে আসুন। সাথীরা যখন তাদের সংরক্ষিত হাদীসগুলো নিয়ে আসলেন। তখন ইমাম বুখারী রহ. তাঁর হাদীস ভাণ্ডার (হিফয) হতে পনের হাজার (১৫০০০) হাদীস মুখস্থ বর্ণনা করে শুনালেন। উপস্থিত মজলিস ইমাম সাহেবের স্মৃতিশক্তি ও উপস্থাপনা দেখে আশ্চর্য হয়ে গেলেন।
হাশিদ ইবনে ইসমাঈল রহ. আরো বর্ণনা করেন যে, এ ঘটনার পর ইমাম সাহেবের সহপাঠিদের অবস্থা এরূপ ছিল যে, جعلنا نحكم كتبنا من حفظه। আমরা নিজেদের লিখাগুলি ইমাম বুখারীর স্মৃতি (হিফয) থেকে শুদ্ধ করে নিতাম। ৩৮
এ ঘটনা থেকে ইমাম বুখারী রহ. এর স্মরণশক্তির প্রখরতা অনুমান করা যায়। ইলমে হাদীসের এ মহান খিদমত তাঁর স্মরণশক্তির খায়ের ও বরকত থেকেই। এছাড়াও কখনো তিনি বসরার হাদীসগুলি কুফা, শাম, মিশর ও অন্যান্য সফর থেকে ফিরে এসে লিপিবদ্ধ করতেন।
টিকাঃ
৩৮ ফতহুল বারী (১/৪৭৮)
📄 কুফা সফর
পরবর্তীতে তিনি কুফায় কয়েকবার সফর করেন। সেখানে তিনি যাঁদের রেওয়ায়েত অনুসন্ধানের পর নির্ভরযোগ্যতা পেয়েছেন, তাঁদের রেওয়ায়েতই কেবল গ্রহণ করেছেন। ইমাম নববীর বর্ণনা মতে তাঁদের নাম হল, (১) আবদুল্লাহ্ ইবনে মূসা (২) আবু নাঈম (৩) আহমদ ইবনে ইয়াকুব (৪) ইসমাঈল ইবনে আবান (৫) আল হাসান ইবনে রা'বী (৬) খালিদ ইবনে মাখলাদ (৭) সাঈদ ইবনে হাফস (৮) ত্বালাক ইবনে গান্নাম (৯) ওমর ইবনে হাফস (১০) উরওয়াহ (১১) কুবিসাহ ইবনে উকবা (১২) আবু গাসসান। কুফায় এ সমস্ত মাশায়েখ থেকে তিনি ইস্তেফাদা লাভ করেন।
📄 বাগদাদ সফর
খিলাফতে আব্বাসীর রাজধানী ছিল বাগদাদ। রাষ্ট্র পরিচালনার জ্ঞান- প্রজ্ঞার প্রসারই বাগদাদকে ইলমী প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করেছে। প্রত্যেক প্রকারের ইলম পিপাসুরা বাগদাদে আগমন করতেন। বাগদাদ ইলমের প্রাণকেন্দ্র ছিল, একথা উপলব্ধি করার জন্য ইমাম বুখারী রহ. এর এ উক্তিই যথার্থ। ইমাম বুখারী রহ. বলেন,
اترك الناس والعصر العلم وتسير الى خراسان
তুমি কি মনুষ্য, বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় এবং ইলম ছেড়ে খোরাসানের পথে যাত্রা শুরু করছ?
কারো কারো বর্ণনা মতে তিনি বাগদাদে আঠারো বার সফর করেছিলেন।
📄 শাম সফর
ইমাম বুখারী রহ. ইলম অর্জনের লক্ষ্যে শাম দেশেও সফর করেছেন। আর সেখানে তিনি আল্লামা ইউসুফ আল গীরইয়াবী। আবু নসর ইসহাক ইবনে ইব্রাহীম, আদম ইবনে আবী ইয়াস, আবুল ইয়ামান আল হাকীম ইবনে নাফে এবং হাইওয়াহ ইবনে শুরায়হ এর মতো প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিসদের নিকট হতে জ্ঞানের পূর্ণতা লাভ করেন।
টিকাঃ
৩৯ মূল গ্রন্থকার আল্লামা ইউসুফ আল গীরইয়াবী নামে শামের যে শায়েখের কথা উল্লেখ করেছেন, তাঁর বিষয়ে তাহকীক করে আমি যেটুকু জানতে পেরেছি, তা হল, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে ওয়াকীদ ইবনে উসমান আল ফিরইয়াবী। তিনি শামের কিসারিয়াতে বসবাস করতেন। সাওরী, মালিক ইবনে মিগওয়াল, ইসরাঈল, আওযায়ী, ওয়ারকা ইবনে উমর থেকে তিনি হাদীস শ্রবণ করেন এবং ইমাম বুখারী রহ. তাঁর থেকে সহীহ বুখারীর কয়েক জায়গাতে রেওয়ায়েত করেন। সহীহ বুখারীর রিজালদের উপর রচিত আল হিদায়া ওয়াল ইরশাদ গ্রন্থের ২/৬৮৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে,
مُحَمَّد بن يُوسُف بن واقد أبو عبد الله الفريابي سكن قيسارية من الشام سمع النَّوْرِي وَمَالك بن مغول وَإِسْرَائِيلَ وَالْأَوْزَاعِي وورقاء بن عمر رَوَى عَنهُ البُخَارِي فِي (العلم) وغير موضع وَرَوَى عَن إِسْحَاق غير مَنْسُوب عَنهُ فِي (الصَّلَاةِ) مَاتَ في شهر ربيع الأول سنة ٢١٢هـ