📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 সফরসমূহ

📄 সফরসমূহ


ইমাম বুখারী রহ. ইলম অর্জনের লক্ষ্যে দেশে-বিদেশে সফর করেছেন। যার সংক্ষিপ্ত বিবরণ আমরা এখানে তুলে ধরছি।

আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আবী হাতেম ওয়াররাকের বর্ণনা মতে ইমাম বুখারী রহ. প্রথম সফর করেন ২১০ হিজরীতে। আর হাদীস শ্রবণ শুরু করেন, ২০৪ অথবা ২০৫ হিজরী থেকে। অল্প বয়সে ইমাম বুখারী রহ. স্বীয় মাতৃভূমিতে যে কৃতিত্ব ও অনুকম্পা অর্জন করেছেন, তা বিস্ময়ের সাথে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

২১০ হিজরীতে ইমাম বুখারী রহ. স্বীয় মাতা এবং ভ্রাতার সাথে মক্কা মুয়াজ্জমায় সফর করেন। সে সফরে বড় সহোদর আহমদ ইবনে ইসমাঈলও সাথে ছিলেন। স্বীয় মাতা এবং সহোদর হজ্ব পালন শেষে নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে আসেন এবং ইমাম বুখারী রহ. মক্কা মুকারমায় থেকে যান। হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ভালবাসা ও অন্যান্য দ্বীনি ইলম অর্জনের আকাঙ্খা মাতা ও সহোদরের বিচ্ছেদ তাঁকে বিন্দুমাত্র প্রভাবিত করেনি। অতঃপর তিনি ইলম অর্জনের লক্ষ্যে মক্কা মুকারমার শায়েখদের দরসে হাজির হওয়া আরম্ভ করলেন।৩৭

সে সময়ে মক্কা মুকাররমায় যেসব শায়খদের শিক্ষাকেন্দ্র স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ও মানব সৃষ্টির কেন্দ্রস্থল ছিল এবং যাঁদেরকে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান করা হত, তাঁর মধ্যে (১) ইমাম আবুল ওয়ালিদ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আযরাকী (মৃত্যুঃ ২২৩ হিজরী)। (২) আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে আবদির রহমান (মৃত্যুঃ ২১৩ হিজরী)। (৩) আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর আল হুমায়দী (মৃত্যুঃ ২১৯ হিজরী) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন। ইমাম বুখারী রহ. মক্কা মুকারমার পর ২১২ হিজরী সনে মদীনা মুনাওয়ারাহ সফর করেন। সে সময় মদীনা মুনাওয়ারাহ ইলমে নববীর প্রাণকেন্দ্র ছিল। আর এ কারণেই মদীনায় বহু লোকের আনাগোনা হত।

সে সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শহর মদীনায় যাঁরা ইলমে নববীর আলো ছড়াচ্ছিল তাঁদের মধ্যে (১) ইব্রাহীম ইবনে মানযার ইবনে মুগীরাহ (মৃত্যুঃ ২৩৬হিজরী) (২) ইব্রাহীম ইবনে হামজা (৩) আবদুল আযিয ইবনে আবদুল্লাহ ছিলেন উল্লেখযোগ্য।

হেজাজে অবস্থানকালে তিনি মক্কা ও মদীনা ছাড়াও আরো অন্যান্য শহরে গিয়ে শায়েখদের কাছ থেকে ইলমে হাদীসের জ্ঞান অর্জন করে নিজেকে সমৃদ্ধ করেন।

টিকাঃ
৩৭ তারিখে বাগদাদ (২/৭)

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 বসরা শহরের ঘটনা

📄 বসরা শহরের ঘটনা


হেজাজ শহরে ছয় বছর অতিক্রম করার পর তিনি বসরায় সফর করার ইচ্ছা করলেন। সে সময় বসরা ইলম, আদব এবং হাদীস প্রচারের অন্যতম শহর ছিল। ইমাম বুখারী রহ. কুফা শহরে পৌঁছে ইমাম আবু আসেম আন নবীল, সাফওয়ান ইবনে ঈসা, মুহাম্মদ ইবনে আরআর। আবুল ওয়ালিদ তিয়াসী, মুহাম্মদ ইবনে সিনান এবং তাঁদের সমকালীন উলামা থেকে উপকার হাসিল করেন।

যেহেতু ইমাম বুখারী রহ. কয়েকবার বসরায় সফর করেছেন। সুতরাং এ ঘটনাটি কোন সফরকালে ঘটেছে, তা উল্লেখ করা সম্ভব নয়। ইমাম বুখারী রহ. এর সাথী হাশেদ ইবনে ইসমাঈল (মৃতঃ ২৬১ হিজরী) বর্ণনা করেন, ইলম অর্জনের সময়কালীন একদা ইমাম বুখারী রহ. বসরার মাশায়েখদের নিকট আগমন করলেন। ধারাবাহিকভাবে ষোল দিন তিনি হাদীস শ্রবণ করলেন। অথচ কোন বিষয়ই তিনি লিপিবদ্ধ করে রাখলেন না। ইমাম সাহেবের সাথীরা বিষয়টি প্রশ্নের উপযোগী মনে করে ইমাম বুখারীকে উক্ত বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। উত্তরে ইমাম সাহেব চুপ করে থাকলেন।

অতঃপর সাথীরা যখন জোর তাগিদ দিতে লাগলেন, তখন তিনি বললেন, আপনাদের লিখিত হাদীসগুলো নিয়ে আসুন। সাথীরা যখন তাদের সংরক্ষিত হাদীসগুলো নিয়ে আসলেন। তখন ইমাম বুখারী রহ. তাঁর হাদীস ভাণ্ডার (হিফয) হতে পনের হাজার (১৫০০০) হাদীস মুখস্থ বর্ণনা করে শুনালেন। উপস্থিত মজলিস ইমাম সাহেবের স্মৃতিশক্তি ও উপস্থাপনা দেখে আশ্চর্য হয়ে গেলেন।

হাশিদ ইবনে ইসমাঈল রহ. আরো বর্ণনা করেন যে, এ ঘটনার পর ইমাম সাহেবের সহপাঠিদের অবস্থা এরূপ ছিল যে, جعلنا نحكم كتبنا من حفظه। আমরা নিজেদের লিখাগুলি ইমাম বুখারীর স্মৃতি (হিফয) থেকে শুদ্ধ করে নিতাম। ৩৮

এ ঘটনা থেকে ইমাম বুখারী রহ. এর স্মরণশক্তির প্রখরতা অনুমান করা যায়। ইলমে হাদীসের এ মহান খিদমত তাঁর স্মরণশক্তির খায়ের ও বরকত থেকেই। এছাড়াও কখনো তিনি বসরার হাদীসগুলি কুফা, শাম, মিশর ও অন্যান্য সফর থেকে ফিরে এসে লিপিবদ্ধ করতেন।

টিকাঃ
৩৮ ফতহুল বারী (১/৪৭৮)

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 কুফা সফর

📄 কুফা সফর


পরবর্তীতে তিনি কুফায় কয়েকবার সফর করেন। সেখানে তিনি যাঁদের রেওয়ায়েত অনুসন্ধানের পর নির্ভরযোগ্যতা পেয়েছেন, তাঁদের রেওয়ায়েতই কেবল গ্রহণ করেছেন। ইমাম নববীর বর্ণনা মতে তাঁদের নাম হল, (১) আবদুল্লাহ্ ইবনে মূসা (২) আবু নাঈম (৩) আহমদ ইবনে ইয়াকুব (৪) ইসমাঈল ইবনে আবান (৫) আল হাসান ইবনে রা'বী (৬) খালিদ ইবনে মাখলাদ (৭) সাঈদ ইবনে হাফস (৮) ত্বালাক ইবনে গান্নাম (৯) ওমর ইবনে হাফস (১০) উরওয়াহ (১১) কুবিসাহ ইবনে উকবা (১২) আবু গাসসান। কুফায় এ সমস্ত মাশায়েখ থেকে তিনি ইস্তেফাদা লাভ করেন।

📘 ইমাম বুখারী রহ এর ঈমানদীপ্ত জীবন 📄 বাগদাদ সফর

📄 বাগদাদ সফর


খিলাফতে আব্বাসীর রাজধানী ছিল বাগদাদ। রাষ্ট্র পরিচালনার জ্ঞান- প্রজ্ঞার প্রসারই বাগদাদকে ইলমী প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করেছে। প্রত্যেক প্রকারের ইলম পিপাসুরা বাগদাদে আগমন করতেন। বাগদাদ ইলমের প্রাণকেন্দ্র ছিল, একথা উপলব্ধি করার জন্য ইমাম বুখারী রহ. এর এ উক্তিই যথার্থ। ইমাম বুখারী রহ. বলেন,
اترك الناس والعصر العلم وتسير الى خراسان
তুমি কি মনুষ্য, বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় এবং ইলম ছেড়ে খোরাসানের পথে যাত্রা শুরু করছ?
কারো কারো বর্ণনা মতে তিনি বাগদাদে আঠারো বার সফর করেছিলেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px