📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 মোজার উপর মাসাহ করা

📄 মোজার উপর মাসাহ করা


মোজার উপর মাসাহ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের শিআর তথা পরিচিতিমূলক নিদর্শন। এটায় বিশ্বাস ও আমল তাদের বিভিন্ন বিভ্রান্ত বিদআতি ফিরকা থেকে আলাদা করে। এ কারণে বিষয়টি ফিকহি হওয়া সত্ত্বেও ইমাম আজম রহ.-এর একাধিক গ্রন্থে এ-বিষয়ক আলোচনা এসেছে。

ইমাম আল-ফিকহুল আকবারে বলেন, 'মোজার উপর মাসাহ করা সুন্নাত।'১৭৩৩ আল-ওয়াসিয়্যাহতে বলেন, 'আমরা বিশ্বাস করি, মোজার উপর মাসাহ করা ওয়াজিব। মুকিমের জন্য এক দিন এক রাত। মুসাফিরের জন্য তিন দিন তিন রাত। এমনটাই হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। যে ব্যক্তি এটা অস্বীকার করবে, তার ব্যাপারে কুফরের আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, এ-সংক্রান্ত বিধানের হাদিস মুতাওয়াতিরের কাছাকাছি।'১৭৩৪ ইমাম তহাবি রহ. বলেন, 'আমরা সুন্নাহর আলোকে ঘরে ও সফরে মোজার উপর মাসাহকে জায়েয মনে করি।'১৭৩৫

কেবল ইমাম ইমাম আজম বা তহাবি নন, আহলে সুন্নাতের অধিকাংশ আকিদার গ্রন্থে উক্ত মাসআলাটি বর্ণনা করা হয়। উদ্দেশ্য আহলে সুন্নাতকে রাফেযি, খারেজিসহ বিভিন্ন গোমরাহ ফিরকা থেকে আলাদা করা।

রাফেযি, খারেজিসহ বিভিন্ন ভ্রান্ত সম্প্রদায় মোজার উপর মাসাহ বৈধ মনে করে না; বরং সরাসরি পা মাসাহ করে। ইমাম আবু ইউসুফ থেকে বর্ণিত, 'মোজার উপর মাসাহের বৈধতা অস্বীকারকারী কাফের। কারণ, এটা তাওয়াতুর সূত্রে প্রমাণিত।' হানাফি ফকিহদের মতে, যে ব্যক্তি মোজার উপর মাসাহ অস্বীকার করবে, তার পিছনে নামায পড়া যাবে না।১৭৩৬ কামাল ইবনুল হুমাম লিখেন, 'মোজার উপর মাসাহ অস্বীকারকারীর পিছনে নামায পড়া যাবে না।'১৭৩৭

একটি বর্ণনায় এসেছে, ইমাম আবু হানিফা রহ.-কে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের পরিচয় জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, শাইখাইন তথা আবু বকর ও উমরকে শ্রেষ্ঠ বলা। খাতানাইন (রাসুলুল্লাহ ﷺ)-এর দুই জামাতা তথা উসমান ও আলি)-কে ভালোবাসা। মোজার উপর মাসাহ করা। সৎ-অসৎ প্রত্যেক মুসলমানের পিছনে নামায আদায় করা।১৭৩৮

বস্তুত মোজার উপর মাসাহ সুন্নাহ দ্বারা দিবালোকের মতো সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত। গোমরাহ ছাড়া অন্য কেউ এটাকে অস্বীকার করতে পারে না। এ জন্য কারখি বলেছেন, 'যে ব্যক্তি মোজার উপর মাসাহ অস্বীকার করে, তার ব্যাপারে আমার কুফরির আশঙ্কা হয়। কারণ, এ ব্যাপারে বর্ণিত হাদিস এবং সাহাবিদের বর্ণনা মুতাওয়াতিরের পর্যায়ে।১৭৩৯

টিকাঃ
১৭৩৩. আল-ফিকহুল আকবার (৫)।
১৭৩৪. আল-ওয়াসিয়্যাহ (৫০)।
১৭৩৫. আকিদাহ তহাবিয়্যাহ (২৫)।
১৭৩৬. আল-জাওহারাতুল মুনিফাহ (৭৫-৭৬)।
১৭৩৭. ফাতহুল কাদির (১/৩৫০)।
১৭৩৮. শরহুল ফিকহিল আকবার, মাগনিসাভি (১৪১)।
১৭৩৯. আল-মাবসুত, সারাখসি (১/৯৮)।

📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 সংশয় নিরসন

📄 সংশয় নিরসন


যেমনটা বলা হয়েছে—খারেজি ও শিয়া সম্প্রদায় মোজার উপর মাসাহকে স্বীকার করে না। তাদের মতে, মোজার উপর মাসাহ করা বৈধ নয়। তারা কিছু সাহাবির বক্তব্য দিয়ে দলিল দেয়। যেমন—ইবনে আব্বাসের বক্তব্য, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) সুরা মায়িদা অবতরণের পর থেকে কখনো মাসাহ করেননি! আয়েশা রাযি. বলেন, মোজার উপর মাসাহ করার চেয়ে আমার দুই পা কেটে ফেলা বেশি পছন্দ করি! উক্ত সংশয়ের জবাব হলো, তারা মোজার উপর মাসাহের বৈধতা সম্পর্কে তখন জানতেন না। পরবর্তীকালে যখন জানতে পারেন, তখন সবাই সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের দিকে প্রত্যাবর্তন করেন।১৭৪০

টিকাঃ
১৭৪০. দেখুন: শরহুল ওয়াসিয়্যাহ, বাবিরতি (১১৭-১১৮)।

📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 রমযান মাসে তারাবিহ পড়া সুন্নাত

📄 রমযান মাসে তারাবিহ পড়া সুন্নাত


ইমাম আজম রহ.সহ আহলে সুন্নাতের আলেমদের সর্বসম্মতিক্রমে রমযানের রাতগুলোতে তারাবিহ পড়া সুন্নাত। ইমাম আজম বলেন, 'রমযান মাসের রাতের বেলা তারাবিহ পড়া সুন্নাত।'১৭৪১ তারাবিহের রাকাতসংখ্যা নিয়ে আলেমদের দ্বিমত থাকলেও হাদিস, সাহাবাদের বক্তব্য এবং খুলাফায়ে রাশেদিনের আমলের মাধ্যমে প্রমাণিত বিশুদ্ধতর কথা হলো, তারাবিহর নামায বিশ রাকাত। ইশা ও বিতরের নামায এর বাইরে।

প্রশ্ন আসতে পারে, আকিদার কিতাবে নামাযের ব্যাপারে আলোচনা করার কারণ কী? এটা মূলত আগের মাসআলার মতো রাফেযিদের খণ্ডনে। তারা তারাবিহর নামায অস্বীকার করে। উমর রাযি.-এর প্রতি বিদ্বেষবশত তারাবিহকে বিদআত বলে উমরকেও তারা বিদআতি সাব্যস্ত করতে চায়। কিন্তু উম্মাহর কাছে তাদের এ ষড়যন্ত্র স্পষ্ট। ফলে তাদের বক্তব্য প্রত্যাখ্যাত।

মুহাম্মাদ ইবনুল ফযল বলখি লিখেন, 'তারাবিহর নামায সুন্নাত। শরিয়তে প্রমাণিত। যে এটা অস্বীকার করবে, সে রাফেযি গণ্য হবে।'১৭৪২ সারাখসি লিখেন, 'গোটা উম্মত তারাবিহের বৈধতার ব্যাপারে একমত। রাফেযিরা ছাড়া কোনো আলেম এটাকে অস্বীকার করেনি।'১৭৪৩

টিকাঃ
১৭৪১. আল-ফিকহুল আকবার (৫)।
১৭৪২. আল-ইতিকাদ (১১০)।
১৭৪৩. আল-মাবসুত (২/১৪৩)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00