📄 বিদআতের বিরুদ্ধে ইমাম
ইমাম আজম রহ. বিদআত থেকে শক্তভাবে সতর্ক করেছেন। তিনি নিজস্ব সূত্রে এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর একাধিক হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি (হাম্মাদ → ইবরাহিম → আলকামা → ইবনে মাসউদ সূত্রে) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, 'যে ব্যক্তি ইসলামে নতুন কিছুর উদ্ভাবন করবে, সে ধ্বংস হয়ে যাবে। আর যে কোনো বিদআতের সূচনা করবে, সে গোমরাহ হয়ে যাবে। আর গোমরাহের পরিণতি হলো জাহান্নাম।'¹⁷¹⁶
ইমাম আজম হাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেন, ইবনে মাসউদ রাযি. বলতেন, 'সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাজ হচ্ছে (দ্বীনের মাঝে) নব আবিষ্কৃত বিষয়। প্রত্যেক নব আবিষ্কৃত বিষয় বিদআত। প্রত্যেক বিদআত গোমরাহি। প্রত্যেক গোমরাহির পরিণতি হচ্ছে জাহান্নাম।'¹⁷¹⁷
ইমাম আরও বলেন, 'তোমরা যেসব বস্তু শিখছ এবং মানুষকে শেখাচ্ছ, তন্মধ্যে সবচেয়ে উত্তম (ইলম) হলো সুন্নাহ। মানুষের আবিষ্কৃত বিদআতের মাঝে হেদায়াত নেই। হেদায়াত তো কেবল কুরআন, রাসুলুল্লাহর সুন্নাহ এবং সাহাবায়ে কেরামের পথে। এ ছাড়া সবই দ্বীনের ক্ষেত্রে সংযোজন। বিদআত।¹⁷¹⁸ ইমাম আরও বলেন, 'সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরো। সালাফের অনুসরণ করো। প্রত্যেক নবসৃষ্ট বিষয় থেকে বেঁচে থাকো। কারণ, সেগুলো বিদআত।'¹⁷¹৯
ইমাম আজম মাইমুন ইবনে মিহরান থেকে ইবনে আব্বাস সূত্রে বর্ণনা করেন, একব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসুল, আমাকে আপনি শিক্ষা দিন। তিনি বললেন, 'যাও, কুরআন শেখো।' তাঁকে তিনি তিনবার এ কথা বললেন। অতঃপর চতুর্থবার বললেন, 'বন্ধু হোক কিংবা শত্রু হোক, সত্য যার কাছেই পাও, গ্রহণ করে নাও। কুরআন শেখো। কুরআনের পথে চলো।'¹⁷²⁰
টিকাঃ
১৭১৬. আল-উসুলুল মুনিফাহ (৯)।
১৭১৭. আল-ফিকহুল আবসাত (৫২-৫৩)।
১৭১৮. আর-রিসালাহ (৩৫)।
১৭১৯. যাম্মুল কালাম ওয়া আহলিহি (৫/২০৭)।
১৭২০. আল-ফিকহুল আবসাত (৫২-৫৩)।