📄 কাউকে আলিমুল গায়েব মনে করা
ইলমে গায়েব হলো অদৃশ্যের জ্ঞান। এটা একমাত্র আল্লাহ তাআলার গুণ। আল্লাহ ছাড়া আসমান ও যমিনের আর কেউ অদৃশ্যের সংবাদ জানে না। ইমাম রহ. বলেন, 'যে ব্যক্তি ওহি ছাড়া অন্তরের খবর জানার দাবি করল, সে যেন আল্লাহর ইলমে ভাগ বসাতে চাইল। এটা বিশাল অপরাধ। পরিণামে কুফর ও জাহান্নাম ছাড়া উপায় নেই।'¹⁶³⁷
গায়েবের জ্ঞান নিজে দাবি করা আর অন্যের ব্যাপারে এ ধরনের আকিদা রাখা দুটোই অমার্জনীয় অপরাধ, দুটোই শিরক। হানাফি মাযহাবের কিতাবসমূহে জোরালোভাবে বলা হয়েছে, যদি কেউ এমন আকিদা রাখে যে, পির-মাশায়েখের রুহ সর্বত্র বিদ্যমান, সবকিছু জানে, অন্যকথায় হাজির-নাজির, তবে এমন ব্যক্তি কাফের হয়ে যাবে। কারণ, জীবিত কিংবা মৃত কোনো মানুষ বা জিন গায়েব সম্পর্কে অবহিত নয়। হ্যাঁ, আল্লাহ চাইলে ওহির মাধ্যমে নবিদের এবং কাশফ-কারামত বা ইলহামের মাধ্যমে ওলিদের কোনো বিষয় জানিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু সেটা একান্তই তাঁর অনুগ্রহ। নবি বা ওলিদের নিজস্ব অর্জন নয়। উপরন্তু সেটা সাময়িক ও ক্ষণস্থায়ী। নবি বা ওলি নিজেও জানেন না কখন তিনি সেই সৌভাগ্য অর্জন করবেন। ফলে নবি বা পিরের ধ্যান করা, সবসময় তিনি দেখছেন এবং সবকিছু জানছেন—এমন আকিদা রাখা শিরক। একইভাবে কোনো জীবিত বা মৃত ব্যক্তির পৃথিবী পরিচালনায় হাত রয়েছে, সে প্রকৃতির মাঝে যা ইচ্ছা করতে পারে—এমন বিশ্বাসও শিরক।¹⁶³⁸
টিকাঃ
১৬৩৭. আল-আলিম ওয়াল মুতাআল্লিম (২২)।
১৬৩৮. দেখুন: আল-বাহরুর রায়েক (৫/২০৯)। মাজমাউল আনহুর (১/৬৯১)।
📄 গাইরুল্লাহর নামে কসম খাওয়া
আল্লাহ তাআলাই একমাত্র শপথের উপযুক্ত। তিনি ছাড়া আর কারও নামে শপথ করা বৈধ নয়। হানাফি মাযহাবের সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের মতে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে শপথ করা হারাম।¹⁶³৯ কেউ কেউ কুফর ও শিরক বলেছেন, বিশেষত যদি শপথের সঙ্গে এমন কোনো আকিদার মিশ্রণ থাকে যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ব্যাপারে রাখা বৈধ নয়।¹⁶⁴⁰ কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থায় আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে কসম খাওয়া, রিয়া তথা লৌকিকতা প্রদর্শন করা ইত্যাদি গুনাহ, যেগুলোকে হাদিসে শিরক বলা হয়েছে, সেগুলোর আক্ষরিক অর্থ উদ্দেশ্য নয়; বরং পাপের ভয়াবহতা বোঝাতে শিরক বলা হয়েছে। এগুলো করলে কেউ মুশরিক হবে না, কিন্তু মারাত্মক গুনাহগার হবে।
টিকাঃ
১৬৩৯. আল-মুহিতুল বুরহানি (৪/২০০৩)।
১৬৪০. আল-বাহরুর রায়েক (৪/৪৮২)।
📄 কবরকেন্দ্রিক শিরক
উম্মতে মুসলিমা কবরকেন্দ্রিক যতটা বিচ্যুতি ও বিপর্যয়ের শিকার হয়েছে, অন্য ক্ষেত্রে খুব কমই হয়েছে। এটা সম্ভবত রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-কে আল্লাহ তাআলা তাঁর জীবদ্দশাতেই জানিয়ে দিয়েছিলেন। এ জন্য তিনি বারবার কবর থেকে মানুষকে সতর্ক করেছেন। বরং ওফাতের কয়েক দিন আগেও তিনি এ ব্যাপারে উম্মাহকে সতর্ক করে গিয়েছেন। জুনদুব রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর ওফাতের পাঁচ দিন আগে আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, 'সাবধান! তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতগুলো তাদের নবি ও সালেহিনের কবরকে সিজদার জায়গা হিসেবে গ্রহণ করত। সাবধান! তোমরা কবরকে সিজদার জায়গায় পরিণত করো না। আমি তোমাদের নিষেধ করছি।'¹⁶⁴¹
সুতরাং কবরের প্রতি সীমাতিরিক্ত ভক্তি প্রদর্শন করা, কবরের চারপাশে তাওয়াফ বা যিকির করা এবং কবরকে চুমু দেওয়া হারাম ও নিষিদ্ধ কাজ। জীবিত পীরের সামনে কিংবা মৃত পিরের মাজারকে সিজদা দেওয়া অত্যন্ত জঘন্য গুনাহ, পৌত্তলিকতার শামিল। কেউ যদি ইবাদত কিংবা ইবাদত-সদৃশ তাযিমপূর্বক এমন সিজদা করে, সে কাফের হয়ে যাবে। এটা আলেমদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত। তবে কেউ যদি জাহেলি পারস্য রীতি অনুযায়ী অভিবাদনপূর্বক সিজদার মতো করে ভূমি চুম্বন করে (যমিন-বুস), তবে কাফের হবে না, কিন্তু শক্ত গুনাহগার হবে। বরং কাসানি, কুহুস্তানিসহ একদল হানাফি আলেম লিখেছেন, সম্মানের উদ্দেশ্যে হোক কিংবা অভিবাদনের উদ্দেশ্যে হোক, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও সামনে সিজদা করা কুফর।¹⁶⁴²
বর্তমান সময়ে বিধান বর্ণনার ক্ষেত্রে শেষোক্ত মতকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। অর্থাৎ, কেউ সিজদা দিয়ে ফেললে ব্যক্তিবিশেষকে কাফের বলার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা হবে, কিন্তু বর্তমানে যেহেতু সিজদা দিয়ে অভিবাদন জানানোর প্রথা নেই, সুতরাং এটাকে ইবাদত এবং ইবাদত-সদৃশ ‘তাযিম’ ধরা হবে, আর সেক্ষেত্রে সবার সর্বসম্মতিক্রমে এটা কুফর ও শিরক বিবেচিত হবে।
টিকাঃ
১৬৪১. মুসলিম (কিতাবুল মাসাজিদ : ৫৩২)।
১৬৪২. রদ্দুল মুহতার (৬/৩৮৩)।
📄 যাদু ও যাদুকরের বিধান
পরিচয়: যাদুর সঙ্গে কুফর ও শিরকের ব্যাপক সংশ্লিষ্টতা আছে। যাদু কার্যকর করার জন্য অধিকাংশ যাদুকরই কুফর ও শিরকে লিপ্ত হয়। এ জন্য ইসলামে যাদু কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। যাদুকরদের বিরুদ্ধে কুরআন ও সুন্নাহর বিধান অত্যন্ত কঠোর।
আহলে সুন্নাতের উলামায়ে কেরামের সকলের মতে, যাদুর অস্তিত্ব আছে। ক্রিয়া ও প্রভাব আছে। মুতাযিলা সেটা দেখতে না পেয়ে যাদু অস্বীকার করেছে। অথচ এটা জীবনের বাস্তবতা; অস্বীকারের সুযোগ নেই। স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (ﷺ) জীবনের শেষ দিকে যাদুর মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, অসুস্থ হয়েছেন। যাদু থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহ তাআলা সুরা ফালাক এবং সুরা নাস অবতীর্ণ করেছেন।¹⁶⁴³
জটিলতা হলো, খোদ ইমাম আজম রহ. থেকেও মুতাযিলাদের বক্তব্যসদৃশ কথা বর্ণনা করা হয়। তিনি মনে করতেন, 'যাদু স্রেফ চোখের ধোঁকা। বাস্তবে এর কোনো প্রভাব নেই!'¹⁶⁴⁴ এখান থেকে কেউ মনে করেছে—ইমাম আজম যাদুর প্রভাব ও প্রকৃতি অস্বীকার করতেন। এমন ধারণা সঠিক নয়। কেউ কেউ ইমামের বক্তব্য আর মুতাযিলাদের বক্তব্য এক ও অভিন্ন মনে করেছে। বাস্তবতা এমন নয়। মুতাযিলারা যাদু বলতে কিছুর অস্তিত্বই স্বীকার করে না। বিপরীতে ইমাম আজম রহ. যাদুর প্রভাব স্বীকার করতেন। তিনি স্রেফ প্রভাবের একটা বিশেষ ধরনকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং এক্ষেত্রে তাঁর কথাই সঠিক। সেটা হলো—ইমাম আজমের মতে—যাদু কোনো বস্তুর মাহিয়্যাত (স্বরূপ)-কে বদলাতে পারে না। এক্ষেত্রে এটার কোনো প্রভাব নেই। ফলে যাদুর মাধ্যমে মানুষকে গাধায় কিংবা গাধাকে মানুষে পরিণত করা সম্ভব নয়। মাটিকে মিষ্টি কিংবা বালুকে চিনিতে পরিণত করা সম্ভব নয়। যেমন—ফেরাউনের যাদুকরদের যাদুর প্রভাবে মুসা আলাইহিস সালামের কাছে তাদের নিক্ষিপ্ত লাঠি ও রশিগুলো সাপ মনে হচ্ছিল। অথচ বাস্তবে সেগুলো সাপে পরিণত হয়নি; লাঠি ও রশিই ছিল। আল্লাহ তাআলা এ বাস্তবতা তুলে ধরে বলেন: ۞ قَالَ بَلْ أَلْقُوا ۖ فَإِذَا حِبَالُهُمْ وَعِصِيُّهُمْ يُخَيَّلُ إِلَيْهِ مِن سِحْرِهِمْ أَنَّهَا تَسْعَىٰ ۞ অর্থ: ‘মুসা বললেন: বরং তোমরাই নিক্ষেপ করো। তাদের যাদুর প্রভাবে হঠাৎ তাঁর মনে হলো, যেন তাদের রশি ও লাঠি ছোটাছুটি করছে।’ [তহা: ৬৬]
তবে বস্তুর গুণাগুণ পরিবর্তন করা সম্ভব। ফলে সুস্থকে অসুস্থ, সুখীকে দুঃখী, ঠান্ডাকে গরম, গরমকে ঠান্ডা—এভাবে ব্যক্তি বা বস্তুর গুণাগুণ পরিবর্তন করা সম্ভব। এক্ষেত্রে যাদু ক্রিয়াশীল। ফলে ইমাম আজম রহ. যাদুকে স্রেফ দৃষ্টিবিভ্রম বলেছেন প্রথম অবস্থার প্রতি লক্ষ করে, বস্তুর 'মাহিয়্যাত' পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যাদুর অক্ষমতা তুলে ধরতে। বস্তুর গুণাগুণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যাদুকে তিনি প্রভাবহীন ও ক্রিয়াশূন্য বলেননি। সেটা বলা সম্ভবও নয়। কারণ, খোদ কুরআনে যাদুর এ ধরনের ক্ষতিকর প্রভাবের কথা বলা হয়েছে [বাকারা : ১০২]। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) যাদুর প্রভাবে অসুস্থ হয়েছেন।
বিধান: আলেমদের সর্বসম্মতিক্রমে যাদু হারাম। কারণ, যাদুকর মূলত বিভিন্ন মিথ্যা, প্রতারণা, জিন ও শয়তানের সহায়তা এবং কুফর ও শিরকের আশ্রয় নিয়ে যাদু করে থাকে। ফলে কেউ এটাকে হালাল মনে করলে সে কাফের হয়ে যাবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, হালাল মনে করা ছাড়া যাদু শেখা ও চর্চার বিধান কী? বিষয়টি মতভেদপূর্ণ। একদল (হানাফি) আলেমের মতে, যাদু শেখা ও চর্চা করাই কুফর। হালাল মনে করা শর্ত নয়। ফলে যেকোনো অবস্থাতে যাদু শিখলে কিংবা চর্চা করলে তাকে হত্যা করা হবে।¹⁶⁴⁵
ইমাম মাতুরিদি রহ. মনে করেন, একবাক্যে যাদুকে কুফর বলা এবং যাদুকরকে হত্যা করা যাবে না, বরং এর প্রকৃতি কী সেটা যাচাই করে নিতে হবে। যদি তাতে ঈমানের মৌলিক বিষয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিছু থাকে, তবে কুফর হবে, নতুবা কুফর হবে না।¹⁶⁴⁶
ইমাম মাতুরিদির বক্তব্যের যৌক্তিকতা আছে। কারণ, যাদু কিছু কথা ও কর্মের সমন্বয়। ফলে উন্মুক্তভাবে কুফর নয়। যদি কুফরের উপাদান থাকে, তবে কুফর। যদি শিরকের উপাদান থাকে, তবে শিরক। নতুবা কবিরা গুনাহ। কামাল ইবনুল হুমাম ইমাম মাতুরিদির উদ্ধৃতিতে বলেন, 'যদি কোনো যাদুকর তার যাদুকে পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা তৈরির কাজে ব্যবহার করে, তবে আকিদাগত কুফর না থাকলেও হত্যা করা হবে। কারণ, এক্ষেত্রে অপরাধ পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা। কিন্তু যদি বিশৃঙ্খলার কাজে ব্যবহার না করে বরং সাধারণ যাদু করে, তবে এককথায় কুফর বলা হবে না। আকিদাগত কুফর থাকলে কাফের। নতুবা কাফের নয়।'¹⁶⁴⁷
কিন্তু অন্য হানাফি ও সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমের বক্তব্য আরও বস্তুনিষ্ঠ ও অধিকতর বাস্তবসম্মত। কারণ, কুফর ও শিরকের উপাদান না থাকলে সেটা মৌলিক ও কার্যকর যাদুর মাঝে পড়ে না; দৃষ্টিবিভ্রম, ভোজবাজি ও চোখের ছলনার নামান্তর হয়। বিপরীতে কার্যকর যাদুর জন্য জিন ও শয়তানের সহায়তা নিতে হয়। অথচ জিন ও শয়তান বিনিময় ছাড়া মানুষকে সহায়তা করে না। ফলে এক্ষেত্রে যাদুকরদের কুফর ও শিরকে লিপ্ত হতে হয়, কুফরি বাক্য উচ্চারণ করতে হয়। জিন-শয়তানদের পূজা দিতে হয়, সিজদা করতে হয়, তাদের নামে পশু বলি দিতে হয়। তাদের কাছে প্রার্থনা (ইস্তিগাসা) করতে হয়। তাদের নির্দেশে কুরআন কারিমকে অপদস্থ করা, পায়খানা ও ময়লার মাঝে ফেলে রাখা, কুরআনের উপর জুতো পায়ে দিয়ে হাঁটাসহ বিভিন্ন কুফর ও শিরকে লিপ্ত হতে হয়। তখনই শয়তান সন্তুষ্ট হয়ে যাদুকরদের সহায়তা করে। এটাই যাদুর প্রকৃত রূপ। এ কারণেই উম্মাহর সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেম যাদুকরদের একবাক্যে কাফের আখ্যা দিয়ে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন।
কুরআন-হাদিসেও যাদু এবং কুফর-শিরকের মাঝে এক গভীর সম্পর্ক চোখে পড়ে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ۞ وَمَا يُعَلِّمانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّى يَقُولَا إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلَا تَكْفُرْ ۞ অর্থ : ‘(হারুত ও মারুত ফেরেশতাদ্বয়) তারা উভয়ই এ কথা না বলে কাউকে (যাদু) শিক্ষা দিত না যে, আমরা পরীক্ষার জন্য (প্রেরিত হয়েছি); কাজেই তুমি (যাদুর মাধ্যমে) কাফের হয়ো না।' [বাকারা: ১০২] উক্ত আয়াতে যাদুকে প্রকারান্তরে 'কুফর' সাব্যস্ত করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) হাদিসে বলেছেন, তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক বিষয় থেকে বেঁচে থাকো। সেগুলো হলো, আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা, যাদু করা, অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা, সুদ খাওয়া, এতিমের সম্পদ ভক্ষণ করা, যুদ্ধের দিন পলায়ন করা এবং সচ্চরিত্র নিষ্কলঙ্ক মুমিন নারীকে অপবাদ দেওয়া।¹⁶⁴⁸ ফলে যাদুর সঙ্গে শিরকের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। বরং কিছু হাদিসে যাদুকে সরাসরি শিরক বলা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, 'রুকা' (নিষিদ্ধ ঝাড়ফুঁক), 'তামায়িম' (ধাতুনির্মিত কবচ), 'তিওয়ালা' (স্বামী/স্ত্রী বশের যাদু) শিরক।¹⁶⁴⁹ উক্ত হাদিসে যাদুকে স্পষ্ট করেই শিরক বলা হয়েছে। সুতরাং যাদুর মাঝে কুফর ও শিরকের উপস্থিতি অনস্বীকার্য বিষয়।
টিকাঃ
১৬৪৩. দেখুন: আল-আকিদাহ আর-রুকনিয়্যাহ (৫৪)। আল-ইতিমাদ ফিল ইতিকাদ (২৭৫-২৭৬)।
১৬৪৪. দেখুন: তাফসিরে ইবনে কাসির (১/২৫৫)।
১৬৪View. ফাতহুল কাদির (৬/৯৯)।
১৬৪৬. দেখুন : আল-ইতিমাদ ফিল ইতিকাদ (২৭৬)। রদ্দুল মুহতার (৪/২৪১)।
১৬৪৭. ফাতহুল কাদির (৬/৯৯)।
১৬৪৮. বুখারি (কিতাবুল ওয়াসায়া: ২৭৬৬)। মুসলিম (কিতাবুল ঈমান : ৮৯)।
১৬৪৯. আবু দাউদ (কিতাবুত তিব্ব: ৩৮৮৩)। ইবনে মাজা (আবওয়াবুত তিব্ব: ৩৫৩০)।