📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 শিরকের বিরুদ্ধে ইমাম আজম

📄 শিরকের বিরুদ্ধে ইমাম আজম


শিরকের ব্যাপারে ইমাম আজম রহ. থেকে খুব বেশি আলোচনা পাওয়া যায় না। কারণ, তিনি ছিলেন তাবেয়ি-যুগের মানুষ। রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাতে গড়া আলোকিত প্রজন্ম সাহাবায়ে কেরাম রাযি. তখনও পৃথিবীতে তাওহিদের দীপ জ্বেলে প্রোজ্জ্বল করে রেখেছিলেন। মুসলিম উম্মাহর মাঝে বিভিন্ন বিশৃঙ্খলা এবং ঈমানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কাজ প্রকাশ পাচ্ছিল, আকিদাগত নানারকম বিচ্যুতি শুরু হচ্ছিল। কিন্তু সরাসরি শিরক সংঘটনের পরিমাণ ছিল নিতান্তই সীমিত। উম্মাহর সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ তাওহিদের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। শিরকের অস্তিত্ব ছিল একেবারেই বিরল।

যেহেতু আমাদের সালাফে সালেহিনের নীতি ছিল প্রচলিত বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে কথা বলা, বিদ্যমান ফেতনার মোকাবিলা করা, এ জন্য খারেজি, জাহমিয়্যাহ, মুরজিয়া, কাদারিয়্যাহ, মুতাযিলা, শিয়াসহ বিভিন্ন ফিরকার বিরুদ্ধে আমরা ইমামের সংগ্রাম দেখতে পেলেও শিরকের বিরুদ্ধে তাঁর বিশেষ কোনো আলোচনা বা সংগ্রাম দেখতে পাই না। কারণ, মুসলিম উম্মাহ তখন আল্লাহর অনুগ্রহে সেসব শিরক থেকে মুক্ত ছিল, যেগুলো পরবর্তীকালে উম্মাহকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ফেলেছে।

যেহেতু বর্তমান গ্রন্থটি ইমাম আজম রহ.-এর আকিদার ব্যাপারে, এ জন্য আমরা এখানে ইমাম আজমের বক্তব্য এবং সরাসরি সংশ্লিষ্টতার বাইরে লম্বা কোনো আলোচনার সুযোগ দেখি না। তবে উম্মাহর মাঝে যেহেতু শিরকের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে, এ জন্য আল্লাহ তৌফিক দিলে উম্মাহকে সতর্ক করার জন্য আমরা তাওহিদ ও শিরকের উপর স্বতন্ত্র গ্রন্থ প্রণয়নের ইচ্ছা রাখি। এখানে কেবল ইমাম আজম এবং হানাফি আলেমদের বক্তব্যের আলোকে সংক্ষিপ্ত কয়েকটি বিষয় তুলে ধরব, ইনশাআল্লাহ।

শিরকের ভয়াবহতা সম্পর্কে ইমাম বলেন, “শিরক নেক আমল নষ্ট করে দেয়। আল্লাহ বলেন, ۞ مَن يَكْفُرْ بِالْإِيمَانِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ ۞ অর্থ: 'যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কুফর করবে, তার আমল নষ্ট হয়ে যাবে। পরকালে সে হবে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।' [মায়িদা : ৫]¹⁶³⁴

ইমাম আরও বলেন: 'যেভাবে শাহাদাতের মর্যাদা (সকল ইবাদতের মাঝে) সবচেয়ে বেশি, তেমনইভাবে শিরকের গুনাহ সকল গুনাহের চেয়ে মারাত্মক। শিরক সবচেয়ে জঘন্য গুনাহ। কুরআনে এটাকে সবচেয়ে বড় জুলুম বলা হয়েছে: (ইন্নাশ শিরকা লা জুলমুন আজিম) [লুকমান: ১৩]। অন্য কোনো গুনাহকে আল্লাহ 'বড় জুলুম' হিসেবে আখ্যা দেননি। শিরকের ভয়াবহতা বোঝাতে আল্লাহ বলেন, ۞ وَمَن يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَكَأَنَّمَا خَرَّ مِنَ السَّمَاءِ فَتَخْطَفُهُ الطَّيْرُ أَوْ تَهْوِي بِهِ الرِّيحُ فِي مَكَانٍ سَحِيقٍ ۞ অর্থ : 'যে-কেউ আল্লাহর সাথে শরিক করল, সে যেন আকাশ থেকে ছিটকে পড়ল, অতঃপর মৃতভোজী পাখি তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল অথবা বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে কোনো দূরবর্তী স্থানে নিক্ষেপ করল।' [হজ: ৩১] অন্যত্র বলেন, ۞ تَكَادُ السَّمَاوَاتُ يَتَفَطَّرْنَ مِنْهُ وَتَنشَقُّ الْأَرْضُ وَتَخِرُّ الْجِبَالُ هَدًّا * أَن دَعَوْا لِلرَّحْمَنِ وَلَدًا ۞ অর্থ ‘নভোমণ্ডল ফেটে পড়া, ভূপৃষ্ঠ বিদীর্ণ হওয়া আর পর্বতমালা চূর্ণবিচূর্ণ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ কারণে যে, তারা দয়াময় আল্লাহর জন্য সন্তান দাবি করেছে।' [মারইয়াম : ৯০-৯১] হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ কিংবা অন্য কোনো পাপের ক্ষেত্রেও আল্লাহ এমন রোমহর্ষক উদাহরণ দেননি।”¹⁶³⁵

ইমাম নিজস্ব সূত্রে আবু যর রাযি. থেকে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাদিস বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, 'যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা ব্যতীত মৃত্যুবরণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।'¹⁶³⁶ বোঝা গেল, কেউ আল্লাহর সঙ্গে শিরক করে তাওবা ছাড়া মৃত্যুবরণ করলে আল্লাহ তাঁকে কখনোই ক্ষমা করবেন না। সে মুশরিক হিসেবে চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে থাকবে।

টিকাঃ
১৬৩৪. আল-আলিম ওয়াল মুতাআল্লিম (২৬)।
১৬৩৫. প্রাগুক্ত (১৮)।
১৬৩৬. কাশফুল আসার, হারেসি (১/১৫১-১৫২)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00