📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 পশ্চিমাকাশ থেকে সূর্যোদয়

📄 পশ্চিমাকাশ থেকে সূর্যোদয়


এটা কিয়ামতের বড় নিদর্শনসমূহের একটি। পৃথিবীর চূড়ান্ত ধ্বংসের কার্যক্রম শুরু হবে এর মাধ্যমে। বৈজ্ঞানিকভাবেও এটা উপলব্ধি করা সম্ভব। বিজ্ঞানীদের ভাষ্যমতে, আমাদের পৃথিবী মহাবিশ্বে টিকে আছে অতীব সূক্ষ্ম এক শৃঙ্খলার উপর। জগতের প্রত্যেকটি বস্তু নিজ নিজ কক্ষপথে সন্তর্পণে ঘুরছে। এখান থেকে একবিন্দু এদিক-সেদিক হয়ে গেলে পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। মহাবিশ্বে মহাবিপর্যয় ঘটবে। এ হিসেবে পশ্চিমাকাশ থেকে সূর্যোদয়ের অর্থ হলো পৃথিবীর উলটো দিকে আবর্তিত হওয়া। পৃথিবীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়া। পৃথিবী ও মহাবিশ্বের বস্তুনিচয়ের শৃঙ্খলা ধ্বংস হয়ে যাওয়া।

ইমাম আজম রহ. মুআবিয়া ইবনে ইসহাক থেকে সাফওয়ান ইবনে আসসাল রাযি. সূত্রে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাদিস বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসুল বলেছেন, 'আল্লাহ তাআলা পূর্ব দিকে তাওবার একটি দরজা খুলেছেন। পাঁচশত বছরের রাস্তার দূরত্ব পরিমাণ সময় এটা খোলা থাকবে। অতঃপর এটা বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং পশ্চিমে খোলা হবে। পশ্চিম দিক থেকে সূর্য ওঠার আগ পর্যন্ত খোলা থাকবে। অতঃপর তিনি কুরআনের এই আয়াত তেলাওয়াত করলেন, ۞ لَا يَنفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِن قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا ۞ অর্থ : 'সেদিন ঈমান তার কোনো উপকার করবে না যে আগে ঈমান আনেনি কিংবা স্বীয় ঈমান অনুযায়ী কোনো সৎকর্ম করেনি।' [আনআম : ১৫৮]¹⁵৪৩

আবু যর গিফারি রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তাকে একদিন জিজ্ঞাসা করলেন, আবু যর, সূর্য ডোবার পরে কোথায় যায় বলতে পারো? তিনি বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ভালো জানেন। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “সূর্য ডোবার পরে আরশের নিচে গিয়ে সিজদা করে। পুনরায় উদিত হওয়ার অনুমতি চায়। তাকে উদিত হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু একটা সময় তাকে অনুমতি দেওয়া হবে না। বরং সূর্যকে বলা হবে, যেদিক থেকে অস্ত গিয়েছ সেদিক থেকে উদিত হও। তখন সূর্য পশ্চিমাকাশ থেকে উদিত হবে। এটাই আল্লাহ তাআলার বাণী : ۞ وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَّهَا ۚ ذَٰلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ ۞ অর্থ : 'সূর্য ভ্রমণ করে তার নির্ধারিত গন্তব্যের দিকে। এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞানীর নির্ধারিত বিষয়' [ইয়াসিন : ৩৮]-এর মর্ম।”¹⁵৪৪

ফলে কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা সূর্যের পশ্চিমাকাশ থেকে উদিত হওয়া সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত আকিদা। কিন্তু এটা ঠিক কখন ঘটবে, কীভাবে ঘটবে এবং পশ্চিমাকাশ থেকে সূর্যোদয়ের পরিণতি কী হবে এ সম্পর্কে আমাদের অনুমান ছাড়া চূড়ান্ত জ্ঞান নেই। এ জন্য এসব বিষয়ে কুরআন-সুন্নাহতে যতটুকু এসেছে ততটুকুতে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। নতুবা চিন্তা ও বিশ্বাসগত বিশৃঙ্খলা সষ্টি হবে। এসব হাদিস রাসুলুল্লাহ (ﷺ) অসংখ্য সাহাবির সামনে বর্ণনা করেছেন। তারা কোনো আপত্তি করেননি। যুগের পর যুগ ইমামগণ এগুলো এভাবে বর্ণনা করেছেন, এগুলোতে বিশ্বাস স্থাপন করেছেন। মানবিক যুক্তির মানদণ্ডে তারা এগুলো যাচাই করতে যাননি। কারণ, আমাদের বিবেক-বুদ্ধি অত্যন্ত সীমিত। ফলে এসব সীমিত উপকরণ দিয়ে এমন বড় বড় গায়েবি বিষয় মাপতে গেলে ভুল ফলাফল প্রদান করবে, যা মানুষকে ক্ষতি ছাড়া কোনো উপকার করবে না। তাই এসব ক্ষেত্রে আত্মসমর্পণের বিকল্প নেই।

টিকাঃ
১৫৪৩. আল-উসুলুল মুনিফাহ (৬১)। হাদিসটি দেখুন: বুখারি (কিতাবু তাফসিরিল কুরআন: ৪৬৩৫)। মুসলিম (কিতাবুল ঈমান : ১৫৭)।
১৫৪৪. বুখারি (কিতাবু বাদয়িল খালক: ৩১৯৯)। মুসলিম (কিতাবুল ঈমান: ১৫৯)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00