📄 ইয়াজুজ-মাজুজের আগমন
এটাও কিয়ামতের একটি বড় আলামত। বরং পৃথিবীর এক যুগান্তকারী অভাবনীয় ঘটনা। এমন ঘটনার সাক্ষী পৃথিবী আগে কখনো হয়নি এবং হবেও না। এক অদ্ভুত মানব প্রজাতি গোটা পৃথিবীর বুক দাপিয়ে বেড়াবে। তাদের নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা, অনাচার, ত্রাস আর ধ্বংসে মুহুর্মুহু কম্পিত হবে পৃথিবীর বুক। আবির্ভাবের পর থেকে ধ্বংস হওয়ার আগ পর্যন্ত পৃথিবী তাদের পদভারে ক্লান্ত থাকবে।
ইয়াজুজ-মাজুজ পৃথিবীর চূড়ান্ত লগ্নে জন্ম নেবে এমন নয়, বরং তারা এখনও বিদ্যমান। তারা পৃথিবীতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে বেড়াত। এ জন্য বাদশাহ যুলকারনাইন তাদের সামনে এক বিশাল প্রাচীর নির্মাণ করেন। তারা প্রাচীরের ওপারে বন্দি হয়ে যায়। কিয়ামতের আগে তারা জেগে উঠবে। প্রবল বেগে গোটা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে। আল্লাহ তাআলা তাদের পুরো ঘটনা সংক্ষেপে বলেন, ۞ حَتَّى إِذَا بَلَغَ بَيْنَ السَّدَّيْنِ وَجَدَ مِن دُونِهِمَا قَوْمًا لَّا يَكَادُونَ يَفْقَهُونَ قَوْلًا * قَالُوا يَا ذَا الْقَرْنَيْنِ إِنَّ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ مُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ فَهَلْ نَجْعَلُ لَكَ خَرْجًا عَلَى أَن تَجْعَلَ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمْ سَدًّا * قَالَ مَا مَكَّنِي فِيهِ رَبِّي خَيْرٌ فَأَعِينُونِي بِقُوَّةٍ أَجْعَلْ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُمْ رَدْمًا * ءَاتُونِي زُبَرَ الْحَدِيدِ ۖ حَتَّى إِذَا سَاوَى بَيْنَ الصَّدَفَيْنِ قَالَ انفُخُوا ۖ حَتَّى إِذَا جَعَلَهُ نَارًا قَالَ ءَاتُونِي أُفْرِغْ عَلَيْهِ قِطْرًا * فَمَا اسْتَطَاعُوا أَن يَظْهَرُوهُ وَمَا اسْتَطَاعُوا لَهُ نَقْبًا * قَالَ هَذَا رَحْمَةٌ مِّن رَّبِّي ۖ فَإِذَا جَاءَ وَعْدُ رَبِّي جَعَلَهُ دَكَّاءَ ۖ وَكَانَ وَعْدُ رَبِّي حَقًّا * وَتَرَكْنَا بَعْضَهُمْ يَوْمَئِذٍ يَمُوجُ فِي بَعْضٍ ۖ وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَجَمَعْتَهُمْ جَمْعًا ۞ অর্থ : 'অবশেষে যখন তিনি (যুলকারনাইন) দুই পর্বত প্রাচীরের মধ্যস্থলে পৌঁছলেন, তখন তিনি সেখানে এক জাতিকে পেলেন, যারা তাঁর কথা যেন বুঝতে পারছিল না। তারা বলল, হে যুলকারনাইন, ইয়াজুজ ও মাজুজ এ দেশে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়ায়। আমরা কি আপনাকে কিছু কর দেবো, যার বিনিময়ে আপনি আমাদের ও তাদের মাঝখানে একটি প্রাচীর নির্মাণ করে দেবেন? তিনি বললেন : আমার পালনকর্তা আমাকে যে সামর্থ্য দিয়েছেন তা-ই যথেষ্ট। অতএব, তোমরা আমাকে শ্রম দিয়ে সাহায্য করো। আমি তোমাদের ও তাদের মাঝে একটি সুদৃঢ় প্রাচীর নির্মাণ করে দেবো। তোমরা আমার নিকট লৌহপিণ্ডসমূহ নিয়ে আসো। অতঃপর যখন লৌহস্তূপ দুই পর্বতের সমান হলো, তখন তিনি বললেন, তোমরা হাঁপরে দম দিতে থাকো। যখন তা অগ্নিবৎ উত্তপ্ত হলো তিনি বললেন, তোমরা গলিত তামা আনো, আমি তা ঢেলে দিই এটার উপর। অতঃপর ইয়াজুজ ও মাজুজ প্রাচীরের উপরে আরোহণ করতে পারল না এবং তা ভেদ করতেও সক্ষম হলো না। যুলকারনাইন বললেন : এটা আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ। যখন আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুত সময় আসবে, তখন তিনি একে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেবেন এবং আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুতি সত্য। সেদিন আমি তাদের ছেড়ে দেবো এই অবস্থায় যে, একদল অন্যদলের উপর তরঙ্গের ন্যায় পতিত হবে এবং শিঙায় ফুৎকার দেওয়া হবে। এরপর আমি তাদের সকলকেই একত্র করব।' [কাহাফ : ৯৩-৯৯]
۞ حَتَّى إِذَا فُتِحَتْ يَأْجُوجُ وَمَأْجُوجُ وَهُم مِّن كُلِّ حَدَبٍ يَنسِلُونَ * وَاقْتَرَبَ الْوَعْدُ الْحَقُّ فَإِذَا هِيَ شَاخِصَةٌ أَبْصَارُ الَّذِينَ كَفَرُوا يَا وَيْلَنَا قَدْ كُنَّا فِي غَفْلَةٍ مِّنْ هَذَا بَلْ كُنَّا ظَالِمِينَ ۞ অর্থ : 'অবশেষে যখন ইয়াজুজ ও মাজুজকে মুক্ত করে দেওয়া হবে এবং তাদের প্রতিটি উঁচু ভূমি থেকে আছড়ে পড়তে দেখা যাবে। অমোঘ প্রতিশ্রুত কাল আসন্ন হলে অকস্মাৎ কাফেরদের চোখ স্থির হয়ে যাবে। তারা বলবে, 'হায়! দুর্ভোগ আমাদের! আমরা তো ছিলাম এ বিষয়ে উদাসীন। না, আমরা বরং সীমালঙ্ঘনকারীই ছিলাম।' [আম্বিয়া : ৯৬-৯৭] মোটকথা, ইয়াজুজ-মাজুজের প্রাচীর খুলে দেওয়া হলে তারা বাঁধভাঙা স্রোতের মতো বেরিয়ে আসবে। তাদের সামনে কেউ দাঁড়ানোর হিম্মত পাবে না। তারা পৃথিবীতে ভীষণ নৈরাজ্য ও ধ্বংসযজ্ঞ চালাবে। তখন ঈসা আলাইহিস সালাম মুমিনদের নিয়ে পাহাড়ে আশ্রয় নেবেন। আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করবেন। আল্লাহ ইয়াজুজ-মাজুজকে নিজ কুদরতে ধ্বংস করে দেবেন।¹⁵⁴¹
ইয়াজুজ-মাজুজবিষয়ক আকিদার ক্ষেত্রে অনেক লোক, বিশেষত আকলপূজারীরা, বিভ্রান্তির শিকার হয়েছে। এসব বিষয়কে তারা প্রাচীন রূপকথার অংশ মনে করেছে। মানবিক বিবেক-বুদ্ধির মানদণ্ডে এগুলো মাপতে অক্ষম হয়ে বিভিন্ন যুক্তিতে প্রত্যাখ্যান করার চেষ্টা করেছে। অথচ ইয়াজুজ-মাজুজবিষয়ক আকিদা ইসলামের কিয়ামতের আলামতসম্পর্কিত আকিদার একটি মৌলিক মাসআলা। কুরআন এবং বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। ফলে তাদের অস্তিত্বে সন্দেহ পোষণ কিংবা অস্বীকার করা কুফর। বরং এগুলো চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিশ্বাস করতে হবে। এগুলোতে পূর্ণ ও দৃঢ় ঈমান রাখতে হবে। আমাদের ইমামগণ যুগে যুগে সেটাই করেছেন। প্রত্যেকে তাদের আকিদার কিতাবে এগুলো উল্লেখ করেছেন। যুক্তির দোহাই দিয়ে সন্দেহ করেননি, প্রত্যাখ্যান করেননি। অথচ তারা বর্তমানের মানুষের তুলনায় অনেক বেশি বিদ্বান, সুশিক্ষিত, বুদ্ধিমান ও যুক্তিমান ছিলেন।
আমাদের মনে রাখতে হবে, আল্লাহ তাআলা মানুষকে খুব সামান্য জ্ঞান দান করেছেন [ইসরা : ৮৫]। আল্লাহ মানুষকে অত্যন্ত দুর্বল [নিসা : ২৮] অথচ প্রচণ্ড বিতর্কপ্রবণ ও ঝগড়াটে বানিয়েছেন [কাহাফ : ৫৪]। ফলে নিজের দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতাকে বুঝে কুরআন-সুন্নাহর সামনে আত্মসমর্পণই প্রকৃত বুদ্ধিমানের পরিচয়।
টিকাঃ
১৫৪১. মুসলিম (কিতাবুল ফিতান : ২৯৩৭)। তিরমিযি (আবওয়াবুল ফিতান : ২২৪০)।
📄 ‘দাব্বাতুল আরদ’-এর বহিঃপ্রকাশ
কিয়ামতের আগ মুহূর্তে মাটির গর্ভ থেকে এক বিস্ময়কর প্রাণীর আবির্ভাব ঘটবে, যাকে 'দাব্বাতুল আরদ' বলা হয়। আল্লাহ তাআলা কুরআনে এ প্রাণীর আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ۞ وَإِذَا وَقَعَ الْقَوْلُ عَلَيْهِمْ أَخْرَجْنَا لَهُمْ دَابَّةً مِّنَ الْأَرْضِ تُكَلِّمُهُمْ أَنَّ النَّاسَ كَانُوا بِآيَاتِنَا لَا يُوقِنُونَ ۞ অর্থ: ‘যখন তাদের উপর নির্দেশ (তথা কিয়ামত) সমাগত হবে, তখন আমি তাদের সামনে ভূগর্ভ থেকে একটি জীব (দাব্বাতুল আরদ) নির্গত করব। সে মানুষের সাথে কথা বলবে। এ কারণে যে, মানুষ আমার নিদর্শনসমূহে বিশ্বাস করত না।' [নামল : ৮২]
এ সম্পর্কে আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, “যখন তিন বস্তুর আবির্ভাব ঘটবে, তখন আল্লাহ তাআলা নতুন করে (কোনো কাফেরের) ঈমান কবুল করবেন না। সেগুলো হলো: পশ্চিমাকাশ থেকে সূর্যোদয়, দাজ্জালের আবির্ভাব, 'দাব্বাতুল আরদ'-এর বহিঃপ্রকাশ।”¹⁵৪২
কিন্তু এ প্রাণীর তফসিলি রূপরেখা এবং আবির্ভাবের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমাদের নিশ্চিত জ্ঞান নেই। এ ব্যাপারে যেসব বর্ণনা পেশ করা হয়, সেগুলোও সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত ও চূড়ান্ত নয়। ফলে কুরআন ও বিশুদ্ধ সুন্নাহতে যতটুকু এসেছে, ততটুকুতেই সীমাবদ্ধ থাকা কর্তব্য।
টিকাঃ
১৫৪২. মুসলিম (কিতাবুল ঈমান: ১৫৮)।
📄 পশ্চিমাকাশ থেকে সূর্যোদয়
এটা কিয়ামতের বড় নিদর্শনসমূহের একটি। পৃথিবীর চূড়ান্ত ধ্বংসের কার্যক্রম শুরু হবে এর মাধ্যমে। বৈজ্ঞানিকভাবেও এটা উপলব্ধি করা সম্ভব। বিজ্ঞানীদের ভাষ্যমতে, আমাদের পৃথিবী মহাবিশ্বে টিকে আছে অতীব সূক্ষ্ম এক শৃঙ্খলার উপর। জগতের প্রত্যেকটি বস্তু নিজ নিজ কক্ষপথে সন্তর্পণে ঘুরছে। এখান থেকে একবিন্দু এদিক-সেদিক হয়ে গেলে পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। মহাবিশ্বে মহাবিপর্যয় ঘটবে। এ হিসেবে পশ্চিমাকাশ থেকে সূর্যোদয়ের অর্থ হলো পৃথিবীর উলটো দিকে আবর্তিত হওয়া। পৃথিবীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়া। পৃথিবী ও মহাবিশ্বের বস্তুনিচয়ের শৃঙ্খলা ধ্বংস হয়ে যাওয়া।
ইমাম আজম রহ. মুআবিয়া ইবনে ইসহাক থেকে সাফওয়ান ইবনে আসসাল রাযি. সূত্রে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাদিস বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসুল বলেছেন, 'আল্লাহ তাআলা পূর্ব দিকে তাওবার একটি দরজা খুলেছেন। পাঁচশত বছরের রাস্তার দূরত্ব পরিমাণ সময় এটা খোলা থাকবে। অতঃপর এটা বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং পশ্চিমে খোলা হবে। পশ্চিম দিক থেকে সূর্য ওঠার আগ পর্যন্ত খোলা থাকবে। অতঃপর তিনি কুরআনের এই আয়াত তেলাওয়াত করলেন, ۞ لَا يَنفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِن قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا ۞ অর্থ : 'সেদিন ঈমান তার কোনো উপকার করবে না যে আগে ঈমান আনেনি কিংবা স্বীয় ঈমান অনুযায়ী কোনো সৎকর্ম করেনি।' [আনআম : ১৫৮]¹⁵৪৩
আবু যর গিফারি রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তাকে একদিন জিজ্ঞাসা করলেন, আবু যর, সূর্য ডোবার পরে কোথায় যায় বলতে পারো? তিনি বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ভালো জানেন। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “সূর্য ডোবার পরে আরশের নিচে গিয়ে সিজদা করে। পুনরায় উদিত হওয়ার অনুমতি চায়। তাকে উদিত হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু একটা সময় তাকে অনুমতি দেওয়া হবে না। বরং সূর্যকে বলা হবে, যেদিক থেকে অস্ত গিয়েছ সেদিক থেকে উদিত হও। তখন সূর্য পশ্চিমাকাশ থেকে উদিত হবে। এটাই আল্লাহ তাআলার বাণী : ۞ وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَّهَا ۚ ذَٰلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ ۞ অর্থ : 'সূর্য ভ্রমণ করে তার নির্ধারিত গন্তব্যের দিকে। এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞানীর নির্ধারিত বিষয়' [ইয়াসিন : ৩৮]-এর মর্ম।”¹⁵৪৪
ফলে কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা সূর্যের পশ্চিমাকাশ থেকে উদিত হওয়া সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত আকিদা। কিন্তু এটা ঠিক কখন ঘটবে, কীভাবে ঘটবে এবং পশ্চিমাকাশ থেকে সূর্যোদয়ের পরিণতি কী হবে এ সম্পর্কে আমাদের অনুমান ছাড়া চূড়ান্ত জ্ঞান নেই। এ জন্য এসব বিষয়ে কুরআন-সুন্নাহতে যতটুকু এসেছে ততটুকুতে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। নতুবা চিন্তা ও বিশ্বাসগত বিশৃঙ্খলা সষ্টি হবে। এসব হাদিস রাসুলুল্লাহ (ﷺ) অসংখ্য সাহাবির সামনে বর্ণনা করেছেন। তারা কোনো আপত্তি করেননি। যুগের পর যুগ ইমামগণ এগুলো এভাবে বর্ণনা করেছেন, এগুলোতে বিশ্বাস স্থাপন করেছেন। মানবিক যুক্তির মানদণ্ডে তারা এগুলো যাচাই করতে যাননি। কারণ, আমাদের বিবেক-বুদ্ধি অত্যন্ত সীমিত। ফলে এসব সীমিত উপকরণ দিয়ে এমন বড় বড় গায়েবি বিষয় মাপতে গেলে ভুল ফলাফল প্রদান করবে, যা মানুষকে ক্ষতি ছাড়া কোনো উপকার করবে না। তাই এসব ক্ষেত্রে আত্মসমর্পণের বিকল্প নেই।
টিকাঃ
১৫৪৩. আল-উসুলুল মুনিফাহ (৬১)। হাদিসটি দেখুন: বুখারি (কিতাবু তাফসিরিল কুরআন: ৪৬৩৫)। মুসলিম (কিতাবুল ঈমান : ১৫৭)।
১৫৪৪. বুখারি (কিতাবু বাদয়িল খালক: ৩১৯৯)। মুসলিম (কিতাবুল ঈমান: ১৫৯)।